📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগীদের একটি স্বভাব হল দাড়ি কামানো

📄 মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগীদের একটি স্বভাব হল দাড়ি কামানো


আবু সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, " পূর্বদিক হতে একদল লোক বের হবে যারা কুর'আন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু তা তাদের গলা দিয়ে নামবে না, এবং তারা সেভাবে দীন থেকে বের হয়ে যাবে যেভাবে একটি শিকারকে বিদ্ধ করে তীর বেরিয়ে যায়। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থার উপর ফিরে আসবে না যতক্ষণ না তৃণ হতে নিক্ষিপ্ত তীর নিজেথেকে এসে আবার তৃণে (তীর রাখার বস্তু) আশ্রয় নেয় ! (যা অসম্ভব)।" সাহাবাগণ আরজ করলেন, " তাদেরকে সনাক্ত করার উপায় কি?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, " তাদের চিহ্ন হচ্ছে তাদের দাড়ি কামানোর স্বভাব থাকবে।" (বুখারী, ৯।৬৫১)

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন দাড়ি লম্বা করা সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ

📄 রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন দাড়ি লম্বা করা সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাড়ি মুণ্ডানোর গুনাহের প্রতি এমন ঘৃণা ছিল যে, কেউ দাড়ি কামানো চেহারার অধিকারী হলে তিনি তার থেকে চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে নিতেন। যখন ইরানের বাদশাহের দূত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হয়েছিল। তখন তাদের দাড়িসমূহ মুণ্ডন করানো এবং গোঁফসমূহ লম্বা ছিল। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, ইয়েমেনের শাসক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট দুজন দূত পাঠলেন। এই শাসক পারস্য সম্রাট কিসরা কর্তৃক নিয়োজিত ছিলেন। যখন লোক দুটো রাসুলুল্লাহ(সা) উপস্থিতিতে আসল, তিনি লক্ষ্য করলেন যে তারা তাদের দাড়ি কামিয়ে ফেলেছে এবং লম্বা-বড় গোঁফ রেখেছে। এই কুৎসিত চেহারা দেখে তিনি তার চেহারা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলেন এবং বললেন, "তোমাদের জন্য দুর্ভোগ! কে তোমাদের এমন করতে বলেছে?" তারা উত্তর করল, "আমাদের প্রভূ (কিসরা) বলেছে।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বলেন, "কিন্তু আমার প্রভু, মহান ও মহিমান্বিত যিনি, তিনি আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি দাড়ি ছেড়ে দেই এবং গোঁফ ছেঁটে রাখি"। [জারির আত তাবারি, ইবন সা'দ, ইবন বিশরান কর্তৃক সংরক্ষিত। আলবানী একে হাসান বলেছেন (ফিকহ উস সিরাহ, আল গাযালী পৃ ৩৫৯)]

তাই আমরা যারা দাড়ি কামিয়ে ফেলেছি তারা কি নিজেদের অবস্থার কথা একবার ভেবে দেখেছি? আমাদের প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি আমাদের মুণ্ডিত চেহারা দেখে আহতবোধ করতেন তখন আমাদের মনের অবস্থা কেমন হত? আর যদি তিনি আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলতেন, "তোমাদের জন্যে দুর্ভোগ, কে তোমাদের এমন করতে বলেছে?" তখন আমাদের জবাব কি হত?

কাজেই যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশের বিরুদ্ধাচারণ করে। অগ্নিপূজকদের প্রভূর নির্দেশের অনুসরণ করে তাদের 'শতবার' এরূপ চিন্তা করা বাঞ্ছনীয় যে, সে কিয়ামত দিবসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে কিরুপে মুখ দেখাবে? আর যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন যে, তোমরা স্বীয় আকৃতি পরিবর্তনের দরুণ আমাদের জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত, তাহলে শাফায়াতের আশা কার থেকে করবে?

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 দাড়ি সকল নবীদের সুন্নাহ

📄 দাড়ি সকল নবীদের সুন্নাহ


যা উপরে ব্যাখা করা হয়েছে তা হচ্ছে সকল নবীগণের সুন্নাত। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে বলেন, "যখন ইব্রাহীমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন.. " (সূরা বাকারাহ ১২৪)

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি সহীহ সনদে ব্যাখা করেন, আল্লাহ তায়ালা যে সকল কালিমাত এর দ্বারা ইবরাহীম আলাইহি সালামের পরীক্ষা নিয়েছিলেন, সেগুলো ছিল ফিতরার স্বাভাবিক গুণাবলীসমূহ।

কুরআন মাজিদের সুস্পষ্ট বর্ণনা হতে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, নবী হারুন আলাইহি সালামের দাড়ি ছিল দীর্ঘ এবং লম্বা। মূসা আলাইহি সালামের সাথে তাঁর ভাই হারুন আলাইহি সালামের কথোপকথনের উল্লেখ এভাবে এসেছে, " সে (হারুন) বলল, তিনি বললেনঃ হে আমার জননী-তনয়, আমার ও মাথার চুল ধরে আকর্ষণ করো না; " (সূরা ত্বহা ৯৪)

যদি তাঁর দাড়ি মুণ্ডনকৃত হতো কিংবা খুব ছোট ছোট হত তাহলে মুসা আলাইহি সালাম তা হাত দিয়ে ধরতে পারতেন না! সূরা আন'আমে ইবরাহীম আলাইহি সালাম ও হারুন আলাইহি সালাম সহ বেশ কয়েকজন আম্বিয়া আলাইহি সালামের নাম উল্লেখ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, "এরা এমন ছিল, যাদেরকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেছিলেন। অতএব, আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন।" (আন'আম ৯০)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আদেশ করেছিলেন তাঁর পূর্বের আম্বিয়া আলাইহি সালামের দেখানো পথের অনুসরণ করতে এবং এটা আমাদের উপরেও বর্তায়। কারণ যার অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে তাকে আদেশ করার অর্থ হল বাকি অনুসরণকারীদেরও সেই একই আদেশ করা। আল্লাহ মহামহিম আল কুর'আনে বলেন,
"তোমাদের জন্যে অবশ্যই আল্লাহর রাসূলের মাঝে (অনুকরণযোগ্য) উত্তম আদর্শ রয়েছে, (আদর্শ রয়েছে) এমন প্রতিটি ব্যক্তির জন্যে, যে আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ পেতে আগ্রহী এবং যে পরকালের(মুক্তির) আশা করে" (আল আহযাব ২১)

স্বাভাবিকভাবেই দাড়ি রাখার আদেশও এরকমই একটি আদেশ যা পূর্ণ করার জন্য নবীদেরকে এবং তাদের উম্মতকে আদেশ করা হয়েছে। এ হিসেবে মর্মার্থ এই হবে যে, গোঁফসমূহ কর্তন করা এবং দাড়ি লম্বা করা এক লক্ষ চব্বিশ হাজার আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এর সম্মত সুন্নাত। আর তাঁরা সেই পবিত্র জামায়াত যাদের অনুকরণের জন্য আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (তথা উম্মতকে) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, "এরা এমন ছিল, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা পথ প্রদর্শন করেছিলেন। কাজেই আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন।" (সূরা আনআম-৯০)

এই জন্যেই যে ব্যক্তি দাড়ি মুণ্ডন করে সে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এর প্রকৃতির বিরোধীতা করে। উক্ত হাদীস শরীফে যেন সতর্ক করা হয়েছে যে, দাড়ি মুণ্ডন করা তিনটি গুনাহের সমষ্টি।
* মানবিক প্রকৃতির বিপরীত করা
* শয়তানের প্ররোচনায় আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট প্রকৃতিকে পরিবর্তন করা
* আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এর বিরোধিতা

অতএব, সহজেই বোঝা গেল দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম।

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 পৌরুষ

📄 পৌরুষ


আল্লাহ নারী-পুরুষকে সুন্দরতম আকৃতি দান করেছেন এবং উভয়ের মাঝেই সৌন্দর্যোপরকণ হিসেবে চুল দান করেছেন সমানভাবে, কিছুক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে, যেমন দাড়ি এবং গোঁফ। নারী পুরুষের পোশাক দান করার পর বাহ্যিকভাবে তাদেরকে আলাদা করার জন্য এই পার্থক্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন পুরুষের জন্য নারীদের পোশাক পরিধানের চেয়েও অধিক লজ্জাকর হল দাড়ি কামিয়ে ফেলা, কারণ সুন্দরভাবে ভদ্র শালীন পোশাকে সুসজ্জিত হবার পর বাহ্যিক যে পার্থক্য সর্বপ্রথমে ফুটে উঠে তা হল মুখাবয়ব। আল্লাহ সুবহানাহা ওয়া তায়ালা নিজে সমস্ত সৌন্দর্যের অধিকারী, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন, তাই তিনি নারী ও পুরুষকে সেই সকল সৌন্দর্যপকরণ দান করেছেন যা কিনা তাদের স্বভাবগত প্রকৃতি তথা ফিতরা'র সাথে মানানসই।

ইসলাম নারীদেরকে স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যা তাদের সৌন্দর্য বর্ধনে সহায়ক অপরদিকে পুরুষদের জন্যে তা হারাম করেছে কেননা তা পৌরুষের সাথে বেমানান। অনুরূপ, কোন নারীর জন্য এটা সুদর্শনীয় নয় যে তার গোঁফ কিংবা দাড়ি থাকবে। এটা তার সম্মান, মর্যাদা ও সৌন্দর্যের হানি ঘটায় যা পুরুষের বিপরীত।

পরম করুণাময়ের বান্দাগণের একটি দুয়া হল, "তুমি আমাদের পরহেযগার লোকদের ইমাম বানিয়ে দাও" (আল ফুরকান ৭৪)

কিছু আলেমগণ উক্ত আয়াতের ব্যাখায় বলেছেন, "আমাদের পূর্বসূরীদের (যারা ছিল তাকওয়া অবলম্বনকারী) তাদের অনুসারী বানাও যাতে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ভালো দৃষ্টান্ত রেখে যেতে পারি।" এমন কোন একটিও বর্ণনা নেই যেখানে সালফে সালেহীনগণের(সাহাবাগণ, তাবেয়ীগণ এবং যারা সরল পথের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন) একজনও নেই যিনি তাঁর দাড়ি কামিয়েছেন, কেননা এই কাজটি একটি হারাম কাজ। যদি এটি কোন ভাল কাজ হতো তাহলে তারাই সর্বাগ্রে তা সম্পাদন করতেন! কেননা, এমন কোন ভাল কাজ নেই যা করতে তারা একে অন্যের আগে প্রতিযোগিতা করেননি। 'মারাতিবুল ইজমা' নামক গ্রন্থে ইমাম ইবন হাজম রাহিলাহুল্লাহ বলেন, "তারা (সালফে সালেহীনগণ) একমত হয়েছেন যে, পুরো দাড়ি কামিয়ে ফেলা হচ্ছে মুথলা (আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি ঘটানো) (ফলে) এর অনুমতি নেই।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00