📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 দাড়ি রাখার ফযিলত

📄 দাড়ি রাখার ফযিলত


শুরুতেই তিনটি ঘটনা পর্যালোচনা করা যাক

(১) জায়দ বিন আসলাম, আতা ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে উপস্থিত ছিলেন, এমন সময় একজন লোক এসে হাজির হল যার মাথা এবং দাড়ি উভয়েই কামানো ছিল। আল্লাহর রাসূল (সা) হাত দিয়ে ইশারা করে তাকে চলে যেতে বললেন এবং ইংগিত করলেন যেন সে চুল এবং দাড়ি গজায়। লোকটি কিছুদিন পর তাই করল এবং আবার এসে হাজির হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যদি নোংরা মাথা নিয়ে হাজির হও তার চেয়ে কি এই অবস্থা উত্তম নয়; যেন সে একটি শয়তান (কামানো দাড়ি ও মাথার প্রতি ইংগিত করে) ?" (মালিক, বুক ৫১, হাদীস ৫১।২।৭)

(২) মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগীদের একটি স্বভাব হল দাড়ি কামানোঃ আবু সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, " পূর্বদিক হতে একদল লোক বের হবে যারা কুর'আন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু তা তাদের গলা দিয়ে নামবে না, এবং তারা সেভাবে দীন থেকে বের হয়ে যাবে যেভাবে একটি শিকারকে বিদ্ধ করে তীর বেরিয়ে যায়। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থার উপর ফিরে আসবে না যতক্ষণ না তৃণ হতে নিক্ষিপ্ত তীর নিজেথেকে এসে আবার তৃণে (তীর রাখার বস্তু) আশ্রয় নেয় ! (যা অসম্ভব)।" সাহাবাগণ আরজ করলেন, " তাদেরকে সনাক্ত করার উপায় কি?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, " তাদের চিহ্ন হচ্ছে তাদের দাড়ি কামানোর স্বভাব থাকবে।" (বুখারী, ৯।৬৫১)

(৩) রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন দাড়ি লম্বা করা সরাসরি আল্লাহর নির্দেশঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাড়ি মুণ্ডানোর গুনাহের প্রতি এমন ঘৃণা ছিল যে, কেউ দাড়ি কামানো চেহারার অধিকারী হলে তিনি তার থেকে চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে নিতেন। যখন ইরানের বাদশাহের দূত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হয়েছিল। তখন তাদের দাড়িসমূহ মুণ্ডন করানো এবং গোঁফসমূহ লম্বা ছিল। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, ইয়েমেনের শাসক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট দুজন দূত পাঠলেন। এই শাসক পারস্য সম্রাট কিসরা কর্তৃক নিয়োজিত ছিলেন। যখন লোক দুটো রাসুলুল্লাহ(সা) উপস্থিতিতে আসল, তিনি লক্ষ্য করলেন যে তারা তাদের দাড়ি কামিয়ে ফেলেছে এবং লম্বা-বড় গোঁফ রেখেছে। এই কুৎসিত চেহারা দেখে তিনি তার চেহারা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলেন এবং বললেন, "তোমাদের জন্য দুর্ভোগ! কে তোমাদের এমন করতে বলেছে?" তারা উত্তর করল, "আমাদের প্রভূ (কিসরা) বলেছে।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বলেন, "কিন্তু আমার প্রভু, মহান ও মহিমান্বিত যিনি, তিনি আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি দাড়ি ছেড়ে দেই এবং গোঁফ ছেঁটে রাখি"। [জারির আত তাবারি, ইবন সা'দ, ইবন বিশরান কর্তৃক সংরক্ষিত। আলবানী একে হাসান বলেছেন (ফিকহ উস সিরাহ, আল গাযালী পৃ ৩৫৯)]

তাই আমরা যারা দাড়ি কামিয়ে ফেলেছি তারা কি নিজেদের অবস্থার কথা একবার ভেবে দেখেছি? আমাদের প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি আমাদের মুণ্ডিত চেহারা দেখে আহতবোধ করতেন তখন আমাদের মনের অবস্থা কেমন হত? আর যদি তিনি আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলতেন, "তোমাদের জন্যে দুর্ভোগ, কে তোমাদের এমন করতে বলেছে?" তখন আমাদের জবাব কি হত?

কাজেই যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশের বিরুদ্ধাচারণ করে। অগ্নিপূজকদের প্রভূর নির্দেশের অনুসরণ করে তাদের 'শতবার' এরূপ চিন্তা করা বাঞ্ছনীয় যে, সে কিয়ামত দিবসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে কিরুপে মুখ দেখাবে? আর যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন যে, তোমরা স্বীয় আকৃতি পরিবর্তনের দরুণ আমাদের জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত, তাহলে শাফায়াতের আশা কার থেকে করবে?

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 মাথা ও দাড়ি কামানো এক ব্যক্তির হাদীস

📄 মাথা ও দাড়ি কামানো এক ব্যক্তির হাদীস


জায়দ বিন আসলাম, আতা ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে উপস্থিত ছিলেন, এমন সময় একজন লোক এসে হাজির হল যার মাথা এবং দাড়ি উভয়েই কামানো ছিল। আল্লাহর রাসূল (সা) হাত দিয়ে ইশারা করে তাকে চলে যেতে বললেন এবং ইংগিত করলেন যেন সে চুল এবং দাড়ি গজায়। লোকটি কিছুদিন পর তাই করল এবং আবার এসে হাজির হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যদি নোংরা মাথা নিয়ে হাজির হও তার চেয়ে কি এই অবস্থা উত্তম নয়; যেন সে একটি শয়তান (কামানো দাড়ি ও মাথার প্রতি ইংগিত করে) ?" (মালিক, বুক ৫১, হাদীস ৫১।২।৭)

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগীদের একটি স্বভাব হল দাড়ি কামানো

📄 মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগীদের একটি স্বভাব হল দাড়ি কামানো


আবু সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, " পূর্বদিক হতে একদল লোক বের হবে যারা কুর'আন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু তা তাদের গলা দিয়ে নামবে না, এবং তারা সেভাবে দীন থেকে বের হয়ে যাবে যেভাবে একটি শিকারকে বিদ্ধ করে তীর বেরিয়ে যায়। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থার উপর ফিরে আসবে না যতক্ষণ না তৃণ হতে নিক্ষিপ্ত তীর নিজেথেকে এসে আবার তৃণে (তীর রাখার বস্তু) আশ্রয় নেয় ! (যা অসম্ভব)।" সাহাবাগণ আরজ করলেন, " তাদেরকে সনাক্ত করার উপায় কি?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, " তাদের চিহ্ন হচ্ছে তাদের দাড়ি কামানোর স্বভাব থাকবে।" (বুখারী, ৯।৬৫১)

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন দাড়ি লম্বা করা সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ

📄 রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন দাড়ি লম্বা করা সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাড়ি মুণ্ডানোর গুনাহের প্রতি এমন ঘৃণা ছিল যে, কেউ দাড়ি কামানো চেহারার অধিকারী হলে তিনি তার থেকে চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে নিতেন। যখন ইরানের বাদশাহের দূত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হয়েছিল। তখন তাদের দাড়িসমূহ মুণ্ডন করানো এবং গোঁফসমূহ লম্বা ছিল। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, ইয়েমেনের শাসক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট দুজন দূত পাঠলেন। এই শাসক পারস্য সম্রাট কিসরা কর্তৃক নিয়োজিত ছিলেন। যখন লোক দুটো রাসুলুল্লাহ(সা) উপস্থিতিতে আসল, তিনি লক্ষ্য করলেন যে তারা তাদের দাড়ি কামিয়ে ফেলেছে এবং লম্বা-বড় গোঁফ রেখেছে। এই কুৎসিত চেহারা দেখে তিনি তার চেহারা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলেন এবং বললেন, "তোমাদের জন্য দুর্ভোগ! কে তোমাদের এমন করতে বলেছে?" তারা উত্তর করল, "আমাদের প্রভূ (কিসরা) বলেছে।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বলেন, "কিন্তু আমার প্রভু, মহান ও মহিমান্বিত যিনি, তিনি আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি দাড়ি ছেড়ে দেই এবং গোঁফ ছেঁটে রাখি"। [জারির আত তাবারি, ইবন সা'দ, ইবন বিশরান কর্তৃক সংরক্ষিত। আলবানী একে হাসান বলেছেন (ফিকহ উস সিরাহ, আল গাযালী পৃ ৩৫৯)]

তাই আমরা যারা দাড়ি কামিয়ে ফেলেছি তারা কি নিজেদের অবস্থার কথা একবার ভেবে দেখেছি? আমাদের প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি আমাদের মুণ্ডিত চেহারা দেখে আহতবোধ করতেন তখন আমাদের মনের অবস্থা কেমন হত? আর যদি তিনি আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলতেন, "তোমাদের জন্যে দুর্ভোগ, কে তোমাদের এমন করতে বলেছে?" তখন আমাদের জবাব কি হত?

কাজেই যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশের বিরুদ্ধাচারণ করে। অগ্নিপূজকদের প্রভূর নির্দেশের অনুসরণ করে তাদের 'শতবার' এরূপ চিন্তা করা বাঞ্ছনীয় যে, সে কিয়ামত দিবসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে কিরুপে মুখ দেখাবে? আর যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন যে, তোমরা স্বীয় আকৃতি পরিবর্তনের দরুণ আমাদের জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত, তাহলে শাফায়াতের আশা কার থেকে করবে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00