📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 দাড়ি সম্পর্কিত হাদীস সমূহ

📄 দাড়ি সম্পর্কিত হাদীস সমূহ


দাড়ি মুণ্ডন করা কিংবা কর্তন (যখন এক মুঠা থেকে কম) করা হারাম এবং কবীরা গুনাহ। এ সম্পর্কিত হাদীস সমূহঃ

(১) হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "দশটি কাজ প্রকৃতির অন্তর্গত। গোঁফ খাটো করা, দাড়ি বড় করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেয়া, নখ কাটা, আঙ্গুলের গিরাগুলো ঘষে মেজে ধৌত করা, বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা, নাভির নিচের অবাঞ্ছিত লোম মুড়িয়ে ফেলা এবং মলমূত্র ত্যাগের পর পানি ব্যবহার করা।" হাদীস বর্ণণাকারী বলেন, 'দশম কাজটি আমি ভুলে গিয়েছি, তবে আমার ধারণা তা হবে 'কুলি করা'। (মুসলিম, ২,৫১১)

প্রথম হাদীস শরীফ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, গোঁফ কর্তন করা এবং দাড়ি লম্বা করা মানুষের সুস্থ প্রকৃতির চাহিদা। আর গোঁফ লম্বা করা এবং দাড়ি মুণ্ডন করা প্রকৃতির বিপরীত। যে ব্যক্তি এরুপ কর্ম করে সে আল্লাহ তায়ালার প্রকৃতিকে পরিবর্তন করে দেয়। কুরআন মাজীদে আছে অভিশপ্ত শয়তান আল্লাহ তায়ালার সমীপে বলেছিল যে, আমি আদম সন্তানদেরকে পথভ্রষ্ট করবো এবং তাদেরকে হুকুম করবো যে, তারা যাতে আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট প্রকৃতিকে পরিবর্তন করে দেয়। তাফসীরকারদের মতে দাড়ি মুণ্ডন করাও আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিতে পরিবর্তন করার অন্তর্ভুক্ত। কেননা তিনি পুরুষোচিত মুখমণ্ডলকে প্রকৃতিগতভাবে দাড়ি দ্বারা সৌন্দর্য ও ঔজ্জ্বল্য দান করেছেন। কাজেই যে ব্যক্তি দাড়ি মুণ্ডন করে সে শয়তানের ধোকায় পতিত হয়ে কেবল নিজ চেহারাকেই পরিবর্তন করে না; বরং নিজ প্রকৃতিকে ধ্বংস করে দেয়।

ফিতরা হচ্ছে সেই অবস্থা যার উপর চুক্তিবদ্ধ হয়ে আল্লাহর বান্দাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি তাদের প্রকৃতি স্বভাব ঠিক করে দিয়েছেন, এর বাস্তবায়ন, ঝোঁক, প্রবৃত্তি এবং স্বাভাবিকভাবেই তা পছন্দ করে। এর বিপরীতে যা যায় তাকে ফিতরা ঘৃণা করে। তাই যে মানুষ ফিতরা'র বিপরীতে যায় সে তার মানবিক বৈশিষ্ট্য এবং সুস্থ আচরণাবলী হারিয়ে ফেলে।

যে ব্যক্তি সঠিক ফিতরার উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে সে তার চারপাশের পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বদলে যায় না, তার স্বভাব প্রকৃতির উপর স্থির থাকে এবং তা হল যা তার স্বাভাবিক শারীরিক সৌন্দর্যের অংশ নয় তাকে অপছন্দ করা। এবং তার ফিতরা হল স্বাভাবিকভাবেই তার সৃষ্ট বৈশিষ্টের উপর খুশি থাকা, এমনকি যদি কোন আসমানী কিতাবের কোন অংশ তার কাছে নাও পৌঁছে থাকে। আর যখন সেই স্বাভাবিক সুস্থ ফিতরার উপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের মাধ্যমে দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন তখন?

আস-সুয়ুতি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "ফিতরার ব্যাপারে সর্বোত্তম যে ব্যাখা প্রণয়ন করা হয়েছে তা হল, এটি সেই পুরোনো সুন্নাহ যা সকল নবীগণ অনুসরণ করেছেন এবং যা নাযিলকৃত আইনের সাথে মিলে যায়, এটা নির্দেশ করে সেই অবস্থার উপর যার উপর আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে।" অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত করার উদ্দেশ্যেই আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

যেহেতু হযরতে আম্বিয়া আলাইহি সালামের প্রকৃতিই সঠিক মানবিক প্রকৃতির মাপকাঠি সেহেতু ফিতরা তথা প্রকৃতি দ্বারা মর্ম আম্বিয়া আলাইহি সালাম এর ফিতরা এবং তাদের সুন্নাত।

(২) হযরত আব্দুল্লাহ ইবন ওমর(রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে রিওয়ায়ত করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন যে," তোমরা গোঁফসমূহ কর্তন কর এবং দাড়িসমূহ লম্বা কর।" (মুসলিম ২, ৫০৭)

দ্বিতীয় হাদীস শরীফে গোঁফ কাটা এবং দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ওয়াজিব এবং এর বিপরীত করা হারাম। কাজেই এই দৃষ্টিতেও দাড়ি সংরক্ষণ করা ওয়াজিব এবং তা মুণ্ডন করা হারাম।

(৩) অন্য রিওয়ায়েতে বর্ণিত আছে যে, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোঁফসমূহ কর্তন করার এবং দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ দিয়েছেন"। (মুসলিম, ৫০৮)

(৪) হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, "তোমরা গোঁফগুলো কর্তন কর এবং দাড়ি ছেড়ে দাও (অর্থাৎ বড় করো)। তোমরা অগ্নিপূজকদের বিপরীত কর"। [(মুসলিম ২,৫১০]

তৃতীয় ও চতুর্থ হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে যে, গোঁফসমূহ কর্তন করা এবং দাড়ি সংরক্ষণ করা মুসলমানদের চিত্র। আর এর বিপরীত গোঁফসমূহ লম্বা করা এবং দাড়ি মুণ্ডন করা অগ্নিউপাসক ও মুশরিকদের চিহ্ন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় উম্মতকে মুসলমানদের চিহ্ন তথা রীতিনীতি অবলম্বন করতে এবং অগ্নিউপাসকদের চিহ্ন তথা রীতিনীতির বিপরীত করতে তাকিদ করেছেন। ইসলামী রীতিনীতিকে পরিত্যাগ করে অপর কোন পথভ্রষ্ট জাতির রীতিনীতি অবলম্বন করা হারাম। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইরশাদ রয়েছে,
"যে ব্যক্তি অপর কোন সম্প্রদায়ের (ধর্মীয় রীতিনীতির) সাথে সাদৃশ্যতা স্থাপন করে, সে ব্যক্তি ঐ অপর সম্প্রদায়েরই একজন বলে পরিগণিত হবে।"

সুতরাং যে ব্যক্তি দাড়ি মুণ্ডন করায় সে মুসলমানদের রীতিনীতি বর্জন করতঃ কাফিরদের রীতিনীতি অবলম্বন করে। অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাফিরদের (ধর্মীয় রীতিনীতির) বিপরীত করতে হুকুম দিয়েছেন। কাজেই তাকে নবী করীম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শাস্তির প্রতিজ্ঞার বিষয়টি ভয় করা বাঞ্ছনীয়, যাতে কিয়ামত দিবসে তার হাশরও সেই বিধর্মী সম্প্রদায়ের সাথে না হয়। (নাউযুবিল্লাহ)

(৫) হযরত যায়েদ বিন আকরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, "যে ব্যক্তি স্বীয় গোঁফ ছাটবে না সে আমাদের দলভুক্ত নহে।" (তিরমিযি, সহীহ)

পঞ্চম হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে যে, যে ব্যক্তি গোঁফ কর্তন করে না সে আমাদের দলভুক্ত নহে। প্রকাশ্য যে, এই হুকুমই দাড়ি মুন্ডন করানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কাজেই ইহা ঐ সকল লোকদের জন্যে খুব কঠিন শাস্তির প্রতিজ্ঞা, যারা কেবল প্রবৃত্তির অভিলাষ কিংবা শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়ে দাড়ি মুন্ডন করায়। আর এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে স্বীয় জামাত থেকে বহিষ্কারের কথা ঘোষনা দিয়েছেন। এমন কোন মুসলমান আছে কি, যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সামান্যতম সম্পর্কও রাখে অথচ সে উক্ত ধমককে ভয় না করতে পারে ?

এই পঞ্চম হাদীস শরীফ থেকে এও প্রতীয়মান হয় যে, গোঁফ লম্বা করা, দাড়ি মুণ্ডন করানো এবং কর্তন করা হারাম ও কবীরা গুনাহ। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবীরা গুনাহের উপরেই এই ধরণের শাস্তির প্রতিজ্ঞা করতে পারেন যে, "এরূপকারী আমাদের দলভুক্ত নহে"।

(৬) হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালার ভর্ৎসনা ঐ সব পুরুষদের উপর যারা মহিলাদের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে এবং ঐ সব মহিলাদের উপর যারা পুরুষদের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে।" (বুখারী: ২/৮৭৪)

ষষ্ঠ হাদীস শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন ঐসব পুরুষদের উপর যারা মহিলাদের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে এবং ঐ সব মহিলাদের উপর যারা পুরুষদের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে।

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 দাড়ি রাখার ফযিলত

📄 দাড়ি রাখার ফযিলত


শুরুতেই তিনটি ঘটনা পর্যালোচনা করা যাক

(১) জায়দ বিন আসলাম, আতা ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে উপস্থিত ছিলেন, এমন সময় একজন লোক এসে হাজির হল যার মাথা এবং দাড়ি উভয়েই কামানো ছিল। আল্লাহর রাসূল (সা) হাত দিয়ে ইশারা করে তাকে চলে যেতে বললেন এবং ইংগিত করলেন যেন সে চুল এবং দাড়ি গজায়। লোকটি কিছুদিন পর তাই করল এবং আবার এসে হাজির হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যদি নোংরা মাথা নিয়ে হাজির হও তার চেয়ে কি এই অবস্থা উত্তম নয়; যেন সে একটি শয়তান (কামানো দাড়ি ও মাথার প্রতি ইংগিত করে) ?" (মালিক, বুক ৫১, হাদীস ৫১।২।৭)

(২) মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগীদের একটি স্বভাব হল দাড়ি কামানোঃ আবু সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, " পূর্বদিক হতে একদল লোক বের হবে যারা কুর'আন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু তা তাদের গলা দিয়ে নামবে না, এবং তারা সেভাবে দীন থেকে বের হয়ে যাবে যেভাবে একটি শিকারকে বিদ্ধ করে তীর বেরিয়ে যায়। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থার উপর ফিরে আসবে না যতক্ষণ না তৃণ হতে নিক্ষিপ্ত তীর নিজেথেকে এসে আবার তৃণে (তীর রাখার বস্তু) আশ্রয় নেয় ! (যা অসম্ভব)।" সাহাবাগণ আরজ করলেন, " তাদেরকে সনাক্ত করার উপায় কি?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, " তাদের চিহ্ন হচ্ছে তাদের দাড়ি কামানোর স্বভাব থাকবে।" (বুখারী, ৯।৬৫১)

(৩) রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন দাড়ি লম্বা করা সরাসরি আল্লাহর নির্দেশঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাড়ি মুণ্ডানোর গুনাহের প্রতি এমন ঘৃণা ছিল যে, কেউ দাড়ি কামানো চেহারার অধিকারী হলে তিনি তার থেকে চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে নিতেন। যখন ইরানের বাদশাহের দূত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হয়েছিল। তখন তাদের দাড়িসমূহ মুণ্ডন করানো এবং গোঁফসমূহ লম্বা ছিল। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, ইয়েমেনের শাসক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট দুজন দূত পাঠলেন। এই শাসক পারস্য সম্রাট কিসরা কর্তৃক নিয়োজিত ছিলেন। যখন লোক দুটো রাসুলুল্লাহ(সা) উপস্থিতিতে আসল, তিনি লক্ষ্য করলেন যে তারা তাদের দাড়ি কামিয়ে ফেলেছে এবং লম্বা-বড় গোঁফ রেখেছে। এই কুৎসিত চেহারা দেখে তিনি তার চেহারা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলেন এবং বললেন, "তোমাদের জন্য দুর্ভোগ! কে তোমাদের এমন করতে বলেছে?" তারা উত্তর করল, "আমাদের প্রভূ (কিসরা) বলেছে।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বলেন, "কিন্তু আমার প্রভু, মহান ও মহিমান্বিত যিনি, তিনি আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি দাড়ি ছেড়ে দেই এবং গোঁফ ছেঁটে রাখি"। [জারির আত তাবারি, ইবন সা'দ, ইবন বিশরান কর্তৃক সংরক্ষিত। আলবানী একে হাসান বলেছেন (ফিকহ উস সিরাহ, আল গাযালী পৃ ৩৫৯)]

তাই আমরা যারা দাড়ি কামিয়ে ফেলেছি তারা কি নিজেদের অবস্থার কথা একবার ভেবে দেখেছি? আমাদের প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি আমাদের মুণ্ডিত চেহারা দেখে আহতবোধ করতেন তখন আমাদের মনের অবস্থা কেমন হত? আর যদি তিনি আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলতেন, "তোমাদের জন্যে দুর্ভোগ, কে তোমাদের এমন করতে বলেছে?" তখন আমাদের জবাব কি হত?

কাজেই যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশের বিরুদ্ধাচারণ করে। অগ্নিপূজকদের প্রভূর নির্দেশের অনুসরণ করে তাদের 'শতবার' এরূপ চিন্তা করা বাঞ্ছনীয় যে, সে কিয়ামত দিবসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে কিরুপে মুখ দেখাবে? আর যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন যে, তোমরা স্বীয় আকৃতি পরিবর্তনের দরুণ আমাদের জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত, তাহলে শাফায়াতের আশা কার থেকে করবে?

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 মাথা ও দাড়ি কামানো এক ব্যক্তির হাদীস

📄 মাথা ও দাড়ি কামানো এক ব্যক্তির হাদীস


জায়দ বিন আসলাম, আতা ইবন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে উপস্থিত ছিলেন, এমন সময় একজন লোক এসে হাজির হল যার মাথা এবং দাড়ি উভয়েই কামানো ছিল। আল্লাহর রাসূল (সা) হাত দিয়ে ইশারা করে তাকে চলে যেতে বললেন এবং ইংগিত করলেন যেন সে চুল এবং দাড়ি গজায়। লোকটি কিছুদিন পর তাই করল এবং আবার এসে হাজির হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যদি নোংরা মাথা নিয়ে হাজির হও তার চেয়ে কি এই অবস্থা উত্তম নয়; যেন সে একটি শয়তান (কামানো দাড়ি ও মাথার প্রতি ইংগিত করে) ?" (মালিক, বুক ৫১, হাদীস ৫১।২।৭)

📘 ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদা > 📄 মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগীদের একটি স্বভাব হল দাড়ি কামানো

📄 মুরতাদ তথা ধর্মত্যাগীদের একটি স্বভাব হল দাড়ি কামানো


আবু সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, " পূর্বদিক হতে একদল লোক বের হবে যারা কুর'আন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু তা তাদের গলা দিয়ে নামবে না, এবং তারা সেভাবে দীন থেকে বের হয়ে যাবে যেভাবে একটি শিকারকে বিদ্ধ করে তীর বেরিয়ে যায়। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থার উপর ফিরে আসবে না যতক্ষণ না তৃণ হতে নিক্ষিপ্ত তীর নিজেথেকে এসে আবার তৃণে (তীর রাখার বস্তু) আশ্রয় নেয় ! (যা অসম্ভব)।" সাহাবাগণ আরজ করলেন, " তাদেরকে সনাক্ত করার উপায় কি?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, " তাদের চিহ্ন হচ্ছে তাদের দাড়ি কামানোর স্বভাব থাকবে।" (বুখারী, ৯।৬৫১)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00