📄 হিজরী সালের কথা
প্রঃ হিজরী সাল কেন প্রচলিত হয়?
- বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঘটনাকে স্মরণ রাখার জন্য।
প্রঃ হযরত মুহাম্মদ (স) কবে হিজরত করেন?
- ১২ রবিউল আউয়াল, সোমবার; ২৪ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রি.।
প্রঃ কোন দিনকে হিজরতের পঞ্চম দিন বলা হয়?
- খ্রিস্টানদের সাথে সন্ধিপত্রের দিনকে।
প্রঃ হযরত মুহাম্মদ (স) কোন্ দিন থেকে নতুন সাল গণনার নির্দেশ দেন?
- মদিনায় উপস্থিত হওয়ার দিন থেকে।
প্রঃ মুসলমানদের জন্য পৃথক সাল গণনার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে কবে গৃহীত হয়?
- ১৭/১৮ হিজরীর জমাদিউল আউয়াল মাসের ১০ তারিখে (হযরত উমর (রা)- এর খিলাফতের ৪র্থ বছরে)।
প্রঃ কার পরামর্শে হিজরত' থেকে নতুন সাল গণনা রীতির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়?
- ৪র্থ খলিফা আলী (রা)-এর পরামর্শে।
প্রঃ মুহাররম মাসের নাম প্রস্তাব করেন কে?
- হযরত উসমান (রা)।
প্রঃ কত হিজরী থেকে প্রাচীন আরবীয় সনে প্রচলিত মূলমাস (অতিরিক্ত মাস) হিজরী সনে রহিত হয়?
- একাদশ হিজরী থেকে।
প্রঃ মুহাম্মদীয় সন হিজরী শুরু হয় কবে থেকে?
- ১ মুহাররম থেকে; ১২ রবিউল আউয়াল থেকে নয়।
প্রঃ ইসলামী সাল হিজরীর শেষ বা দ্বাদশ মাস কোন্টি?
- যুলহিজ্জা।
প্রঃ নবী করিম (সা)-এর হিজরতের কতদিন আগে থেকে হিজরী গণনা রীতি এবং পদ্ধতির প্রবর্তন ও প্রচলন হয়েছে?
- দু'মাস আটদিন আগে থেকে।
প্রঃ কোন্ দিনে হযরত মুহাম্মদ (সা) হিজরত করেন এবং কোন্দিন থেকে হিজরী সন গণনা শুরু হয়?
- যথাক্রমে সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রি., শুক্রবার ১৬ জুলাই, ৬২২ খ্রি.।
প্রঃ মক্কা ত্যাগের পূর্বে প্রিয় জন্মভূমিকে লক্ষ্য করে সুগভীর মমতায় হযরত মুহাম্মদ (সা) কী বলেছিলেন?
- মক্কা! আমার জন্মভূমি মক্কা! আমি তোমায় ভালবাসি। কিন্তু তোমার সন্তানগণ আমাকে তোমার ক্রোড়ে থাকতে দিল না। বাধ্য হয়েই তাই তোমাকে ছেড়ে চললাম। বিদায়।
📄 হিজরী সালের মাসগুলোর নাম ও অর্থ
ক্রম. নাম অর্থ
১. মুহাররম পবিত্রমাস, নিষিদ্ধ মাস।
২. সফর ভ্রমণ মাস।
৩. রবিউল আউয়াল প্রথম বসন্ত মাস।
৪. রবিউল আখির শেষ বসন্ত মাস।
৫. জমাদিউল উলা প্রথম শুকনো মাস।
৬. জমাদিউল উখরা শেষ শুকনো মাস।
৭. রজব সম্মানের মাস।
৮. শাবান সবুজের মাস।
৯. রামাদান কৃচ্ছতাসাধনার মাস, পাপ ভস্মীভূত হওয়ার মাস।
১০. শাওয়াল সংযোগকারী মাস।
১১. যুলক্বাদ বিশ্রান্তির মাস।
১২. যুলহিজ্জা হজ্জের মাস।
📄 মুহাররম মাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
* হযরত আদম (আ) সৃষ্টি হন।
* আকাশ, পৃথিবী, কলম সৃষ্টি হয়।
* হযরত নুহ (আ)-এর নৌকা জুদি পর্বতে আশ্রয় নিয়েছিল।
* হযরত মুসা (আ) ও তাঁর অনুচরগণকে ফিরাউনের অত্যাচার থেকে আল্লাহ্ তাআলা মুক্ত করেন এবং ফিরাউনকে সদলবলে ধ্বংস করেছিলেন।
* হযরত ইবরাহিম (আ)-কে খলিল উপাধি দান করা হয়।
* হযরত দাউদ (আ)-এর ভুল ক্ষমা করা হয়।
* হযরত সুলায়মান (আ) রাজত্ব ফিরে পেয়েছিলেন।
* হযরত আইউব (আ) কঠিন পীড়া থেকে আরোগ্য ও অব্যাহতি লাভ করেন।
* হযরত ইউনুস (আ) ৪০ দিন পর মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ করেন।
* হযরত ইয়াকুব (আ) ৪০ বছর বিচ্ছেদের পর পুত্র হযরত ইউসুফ (আ)-এর দর্শন লাভ করেন।
* হযরত ঈসা (আ) ইয়াহুদিদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।
* হযরত ঈসা (আ)-কে জীবিত অবস্থায় আকাশে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
* কোহে-তুরে আল্লাহ্ তাআলার কথোপকথন হয় হযরত মুসা (আ) এর সাথে।
* রোযা ওয়াজিব হয়েছিল। (রমযানের রোযা ফরয হওয়ার পূর্বেই)।
* কাবা শরীফকে সাজানো হয়েছিল।
* হযরত হুসাইন (রা) কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন।
* আশুরা পালিত হয়।
* হাশর বসবে।
* কিয়ামত হবে।
📄 তিন ভাষায় সাত দিনের নাম
বাংলা সাত দিনের নাম শুক্র, শনি, রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতি।
ইংরেজী সাত দিনের নাম স্যাটারডে, সানডে, মানডে, টিউসডে, ওয়েন্সডে, থার্সডে ও ফ্রাইডে।
আরবী সাত দিনের নাম ইয়াওমুস সাব্ত, ইয়াওমুল আহাদ, ইয়াওমুল ইসনাইন, ইয়াওমুস সালাসা, ইয়াওমুল আরবায়া, ইয়াওমুল খামিস ও ইয়াওমুল জুমআ।