📄 ইসলামী সরকার
প্র : ইসলামী সরকারের আয়ের উৎস কী কী?
- ইসলামী সরকারের আয়ের উৎস হচ্ছে- ১. যাকাত; ২. খারাজ; ৩. জিযিয়া; ৪. ফাই; ৫. মালে গনিমাহ; ৬. সাদকাতুল ফিত্র; ৭. বন, খনি, প্রাকৃতিক সম্পদের আয়; ৮. রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প; ৯. দান ও সাহায্য; ১০. প্রশাসনিক আয়; ১১. কর; ও ১২. বিবিধ আয়।
প্র : ইসলামী সরকারের ব্যয়ের খাতগুলো কী কী?
- ইসলামী সরকারের ব্যয়ের খাতগুলো হচ্ছে- ১. দেশ রক্ষা; ২. নির্বাহী বিভাগ; ৩. আইন-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা; ৪. বিচার বিভাগ; ৫. শিক্ষা বিভাগ; ৬. উন্নয়নমূলক ব্যয়; ৭. সামাজিক নিরাপত্তা বিধান ও ৮. বিবিধ ব্যয়।
📄 ইসলামী অর্থনীতি
প্র : ইসলামী অর্থনীতি কাকে বলে?
- সমাজ ও সংস্কৃতির ক্রম বিবর্তনের গতিকে অব্যাহত রেখে মানব জীবনের বুনিয়াদী প্রয়োজন যথাযথ ভাবে পূরণ করার ব্যবস্থা করা এবং সমাজের প্রতিটি ব্যক্তিকে স্বীয় যোগ্যতা ও প্রতিভা অনুযায়ী ব্যক্তি সত্তার ক্রমবিকাশ ও পরিপূর্ণতা অর্জনের অবাধ সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা ইসলামী অর্থনীতির কাম্য।
প্র : ইসলামী অর্থনীতি ও প্রচলিত অর্থনীতির পার্থক্যের বিষয়বস্তু কী কী?
- ১. মানুষ সম্পর্কে ধারণা; ২. মতাদর্শগত পার্থক্য; ৩. অগ্রাধিকার নির্ণয়ের নীতিমালা; ৪. তথ্য ও নীতি প্রসঙ্গ; ৫. অর্থ; ৬. কার্যক্ষেত্র; ৭. বিনিময় ও হস্তান্তর।
প্র : ইসলামী মালিকানা তত্ত্বে মালিকানার ব্যাপারে ইসলামী শরীআতের বিধি-নিষেধসমূহ কী কী?
- ১. সামাজিক অসুবিধার সৃষ্টি না করে সম্পদের পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করা; ২. যাকাত প্রদান করা; ৩. সম্পদের কল্যাণকর ব্যবহার; ৪. সুদ থেকে বিরত থাকা; ৫. ব্যবসায়-বাণিজ্যে অসদুপায় অবলম্বন না করা; ৬. একচেটিয়া কারবার ও মওজুদদারী থেকে দূরে থাকা; ৭. আইনানুগ দখল স্বত্ব; ৮. যথার্থ উপকার।
প্র: ইসলামী অর্থনীতিতে শ্রম কাকে বলে?
- মানবতার কল্যাণ, নৈতিক উন্নয়ন, সৃষ্টির সেরা ও উৎপাদন কর্মে নিয়োজিত সকল প্রকার শারীরিক মানসিক শক্তিকে শ্রম বলে।
প্র : নূন্যতম মজুরী নির্ধারণে ইসলামী মূলনীতি কী কী?
- ১. মানবীয় মর্যাদাবোধ ও ভ্রাতৃত্ব বোধ; ২. উৎপাদনের ক্ষেত্রে শ্রমিকের অবদানের একটি যুক্তি সঙ্গত অংশ মজুরী হিসেবে প্রদান; ৩. কাজের বোঝা ও পরিবেশ অনুকূল ও যুক্তি সঙ্গত হতে হবে।
প্র : ইসলামী অর্থনীতিতে সংগঠন কাকে বলে?
- ব্যবসায়ে লাভ-ক্ষতিতে কোন প্রকার ঝুঁকিবহন না করে উৎপাদনের অন্যান্য উপাদানকে একত্রিত করে উৎপাদন কার্য সমাধা করা এবং ব্যবসায় পরিচালনা করাকে সংগঠন বলে।
প্র: ইসলামী অর্থনীতিতে সংগঠকের কার্যাবলি কী কী?
- ১. ব্যবসায়ে উদ্যোগ গ্রহণ; ২. মূলধন সংগ্রহ; ৩. উৎপাদনের বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয় সাধন; ৪. বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ; ৫. ব্যবসায়ের নীতি ও প্রকৃতি নির্ধারণ; ৬. আয় বন্টন দায়িত্ব; ৭. নতুনত্ব প্রবর্তন; ৯. বাজারজাত করণ; ৯. তত্ত্বাবধান দায়িত্ব ও ১০. লাভ-লোকসানের দায়- দায়িত্ব গ্রহণ করা।
প্র: ইসলামী অর্থনীতিতে চাহিদার ব্যাপারে ইসলামের মূলনীতি কী?
- ১. হালাল দ্রব্যের চাহিদা; ২. অপচয় ও বিলাসজনিত চাহিদা; ৩. ক্ষতিকর ও হারাম দ্রব্যের চাহিদা; ৪. উপার্জন ও চাহিদা।
টিকাঃ
১. ইসলামি অর্থনীতি, মো. নূরুল ইসলাম।
📄 ইসলামের বিশেষ রাত ও দিন
১. শব-ই-কাদর: ২৭ রমযান। এই তারিখে মহাগ্রন্থ আল কুরআন অবতীর্ণ হয়। এ রাতের মর্যাদা হাজার রাতের চেয়েও বেশি।
২. শব-ই-বারাত: ১৫ শাবান, ভাগ্যরজনী। এই তারিখে মহান রাব্বুল আলামীন নর-নারীর ভাগ্য বন্টন করে থাকেন বলে কথিত আছে। মুসলমানগণ এই রাতে দান খয়রাত করেন এবং সারারাত ইবাদত বন্দেগী করে অতিবাহিত করেন।
৩. শব-ই-মিরাজ: ২৭ রজব। এই তারিখে রাতে মহানবী (স) মহান রাব্বুল আলামীনের সাক্ষাৎ লাভ করেন।
৪. ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম: এই দিবসে বড়পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানী (র) মৃত্যুবরণ করেন।
৫. ফাতিহা-ই-দোয়াজদাহম: এই দিবসে মহানবী (স) জন্মগ্রহণ করেন এবং এই দিবসেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
৬. জুম'আতুল বিদা: রমজান মাসের শেষ শুক্রবার।
৭. আখেরি চাহার সোম্বা: মাহানবী (স) দীর্ঘ রোগ ভোগের পর এই দিনে আরোগ্য লাভ করেন এবং সে উপলক্ষে গোসল করেন।
৮. ঈদুল ফিতর: রমযানের রোযা পালন শেষে যে ঈদ আসে তাকে, ঈদুল ফিতর বলে।
৯. ঈদুল আযহা: জিলহজ্জ মাসের দশ তারিখ যে ঈদ হয়, তাকে ঈদুল আযহা বলে। ঈদুল আযহায় পশু কোরবানি করা হয় বলে একে কোরবানির ঈদও বলা হয়।
১০. ঈদে মিলাদুন্নবী: মহানবী (স) এর জন্ম দিবসকে ঈদে মিলাদুন্নবী বলে। মহানবী (স) ৫৭০ সালের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন।
১১. সিরাতুন্নবী (স): এইদিনে মহানবী (স) এর সিরাত তথা জীবন মৃত্যু সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
১২. জুম'আ: সপ্তাহে একদিন অর্থাৎ শুক্রবার দিন জুম'আর নামায আদায় করতে হয়।
১৩. বদর দিবস: ইসলামের সর্বপ্রথম যুদ্ধ বদরের যুদ্ধ। এতে মুসলমানদের বিজয় সূচিত হয়। এ যুদ্ধে শাহাদাত প্রাপ্ত শহীদদের স্মরণে এ দিবস পালিত হয়।