📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 পরিচয়

📄 পরিচয়


প্র: ইসলামী রাষ্ট্র কাকে বলে?
- কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী পরিচালিত রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্র বলে।

প্র: ইসলামী রাষ্ট্রে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক কে?
- মহান আল্লাহ তাআলা।

প্র : সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে আল্লাহ কুরআনে কী ঘোষণা করেছেন?
- সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর জন্য।

প্র : আল্লাহ মানব গোষ্ঠীকে কোন্ বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন?
- আল্লাহ প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী।

প্র: ইসলামী রাষ্ট্রে নাগরিক কারা?
- মুসলিম ও অমুসলিমগণ।

প্র: ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমদের কর্তব্য কী?
- পূর্ণ আনুগত্য স্বীকার করা ও আইন-কানুন মেনে চলা।

প্র: ইসলামী রাষ্ট্রের গঠন প্রণালী কী?
১. ইসলামী রাষ্ট্রে একজন রাষ্ট্র প্রধান বা আমির থাকবেন;
২. রাষ্ট্র প্রধান জন সাধারণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন;
৩. রাষ্ট্র প্রধানকে সকল কাজে সহায়তা করার জন্য এবং পরামর্শ দেয়ার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মজলিসে শূরা বা উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে;
৪. রাষ্ট্র প্রধান বা উপদেষ্টা পরিষদ যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে তা ইসলামী বিধি মুতাবিক কুরআন ও হাদীস ভিত্তিক হতে হবে।

প্র: ইসলামী রাষ্ট্র প্রধান ও মজলিসে শূরার সদস্যদের যোগ্যতা কী হতে হবে?
- যে সমস্ত ব্যক্তি ইসলামী আইনগত ও চারিত্রিক গুণাবলিতে পরিপূর্ণ জন সাধারণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত, তারাই ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান ও মজলিসে শূরার সদস্য পদ লাভ করতে পারবে।

প্র: ইসলামী রাষ্ট্র প্রধান মজলিসে শূরার সদস্যদের কী কী গুণ থাকতে হবে?
- ক. আইনগত গুণাবলি। যেমন- ১. মুসলমান হওয়া; ২. পুরুষ হওয়া; ৩. প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ ও বিবেকবান হওয়া; ৪. স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া ইত্যাদি।
খ. নৈতিক বা চারিত্রিক গুণাবলি। যেমন- ১. আল্লাহভীরু হওয়া; ২. আমানতদার হওয়া; ৩. ন্যায় বিচারক হওয়া; ৪. আল্লাহর স্মরণকারী হওয়া; ৫. বিদআতের পরিপন্থী না হওয়া; ৬. পদলোভহীন হওয়া; ৭. জ্ঞানী ও স্বাস্থ্যবান হওয়া।

প্র: ইসলামের দৃষ্টিতে নাগরিক কাকে বলে?
- যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের আনুগত্য প্রকাশ করে স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রে বসবাস করে, রাষ্ট্রের কল্যাণ করে এবং রাষ্ট্রের প্রদেয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার পূর্ণ মাত্রায় ভোগ করে তাকে নাগরিক বলে।

প্র : ইসলামী রাষ্ট্রে নাগরিক কয় ভাগে বিভক্ত ও কী কী?
- ২ ভাগে। যেমন- ১. মুসলিম নাগরিক; ২. জিম্মী বা অমুসলিম নাগরিক।

প্র : ইসলামের দৃষ্টিতে মুসলিম নাগরিকের অধিকারগুলো কী কী?
- ১. জীবন রক্ষণের অধিকার; ২. সম্পদের অধিকার; ৩. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার; ৪. ধর্মীয় স্বাধীনতা; ৫. মান-সম্মানের অধিকার; ৬. মত ও বাক স্বাধীনতা; ৭. অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ; ৮. একতাবদ্ধ; ৯. সামাজিক নিরাপত্তা; ১০. সভা-সমিতির অধিকার; ১১. সংঘবদ্ধ হবার অধিকার; ১২. শিক্ষা লাভের অধিকার; ১৩. চাকুরির ব্যবস্থা; ১৪. জীবন যাত্রার মৌলিক অধিকার; ১৫. সাক্ষ্যের অধিকার ইত্যাদি।

প্র: ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের কী কী অধিকার রয়েছে?
১. ধর্মীয় স্বাধীনতা; ২. জীবন রক্ষণের ব্যবস্থা; ৩. মান-সম্মানের অধিকার; ৪. সম্পদের অধিকার; ৫. মানবিক অধিকার; ৬. শিক্ষার অধিকার; ৭. চাকুরির সুযোগ; ৮. আইনের অধিকার ইত্যাদি।

প্র : ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিকের কর্তব্য কী?
১. আনুগত্য স্বীকার; ২. সৎকাজে সহযোগিতা; ৩. বিশৃংখলা হতে মুক্ত; ৪. স্বাধীনতা রক্ষা; ৫. কর ও খাজনা প্রদান; ৬. পদে নিযুক্তি; ৭. বেআইনী কাজ হতে বিরত থাকা।

📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 ইসলামী সরকার

📄 ইসলামী সরকার


প্র : ইসলামী সরকারের আয়ের উৎস কী কী?
- ইসলামী সরকারের আয়ের উৎস হচ্ছে- ১. যাকাত; ২. খারাজ; ৩. জিযিয়া; ৪. ফাই; ৫. মালে গনিমাহ; ৬. সাদকাতুল ফিত্র; ৭. বন, খনি, প্রাকৃতিক সম্পদের আয়; ৮. রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প; ৯. দান ও সাহায্য; ১০. প্রশাসনিক আয়; ১১. কর; ও ১২. বিবিধ আয়।

প্র : ইসলামী সরকারের ব্যয়ের খাতগুলো কী কী?
- ইসলামী সরকারের ব্যয়ের খাতগুলো হচ্ছে- ১. দেশ রক্ষা; ২. নির্বাহী বিভাগ; ৩. আইন-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা; ৪. বিচার বিভাগ; ৫. শিক্ষা বিভাগ; ৬. উন্নয়নমূলক ব্যয়; ৭. সামাজিক নিরাপত্তা বিধান ও ৮. বিবিধ ব্যয়।

📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 ইসলামী অর্থনীতি

📄 ইসলামী অর্থনীতি


প্র : ইসলামী অর্থনীতি কাকে বলে?
- সমাজ ও সংস্কৃতির ক্রম বিবর্তনের গতিকে অব্যাহত রেখে মানব জীবনের বুনিয়াদী প্রয়োজন যথাযথ ভাবে পূরণ করার ব্যবস্থা করা এবং সমাজের প্রতিটি ব্যক্তিকে স্বীয় যোগ্যতা ও প্রতিভা অনুযায়ী ব্যক্তি সত্তার ক্রমবিকাশ ও পরিপূর্ণতা অর্জনের অবাধ সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা ইসলামী অর্থনীতির কাম্য।

প্র : ইসলামী অর্থনীতি ও প্রচলিত অর্থনীতির পার্থক্যের বিষয়বস্তু কী কী?
- ১. মানুষ সম্পর্কে ধারণা; ২. মতাদর্শগত পার্থক্য; ৩. অগ্রাধিকার নির্ণয়ের নীতিমালা; ৪. তথ্য ও নীতি প্রসঙ্গ; ৫. অর্থ; ৬. কার্যক্ষেত্র; ৭. বিনিময় ও হস্তান্তর।

প্র : ইসলামী মালিকানা তত্ত্বে মালিকানার ব্যাপারে ইসলামী শরীআতের বিধি-নিষেধসমূহ কী কী?
- ১. সামাজিক অসুবিধার সৃষ্টি না করে সম্পদের পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করা; ২. যাকাত প্রদান করা; ৩. সম্পদের কল্যাণকর ব্যবহার; ৪. সুদ থেকে বিরত থাকা; ৫. ব্যবসায়-বাণিজ্যে অসদুপায় অবলম্বন না করা; ৬. একচেটিয়া কারবার ও মওজুদদারী থেকে দূরে থাকা; ৭. আইনানুগ দখল স্বত্ব; ৮. যথার্থ উপকার।

প্র: ইসলামী অর্থনীতিতে শ্রম কাকে বলে?
- মানবতার কল্যাণ, নৈতিক উন্নয়ন, সৃষ্টির সেরা ও উৎপাদন কর্মে নিয়োজিত সকল প্রকার শারীরিক মানসিক শক্তিকে শ্রম বলে।

প্র : নূন্যতম মজুরী নির্ধারণে ইসলামী মূলনীতি কী কী?
- ১. মানবীয় মর্যাদাবোধ ও ভ্রাতৃত্ব বোধ; ২. উৎপাদনের ক্ষেত্রে শ্রমিকের অবদানের একটি যুক্তি সঙ্গত অংশ মজুরী হিসেবে প্রদান; ৩. কাজের বোঝা ও পরিবেশ অনুকূল ও যুক্তি সঙ্গত হতে হবে।

প্র : ইসলামী অর্থনীতিতে সংগঠন কাকে বলে?
- ব্যবসায়ে লাভ-ক্ষতিতে কোন প্রকার ঝুঁকিবহন না করে উৎপাদনের অন্যান্য উপাদানকে একত্রিত করে উৎপাদন কার্য সমাধা করা এবং ব্যবসায় পরিচালনা করাকে সংগঠন বলে।

প্র: ইসলামী অর্থনীতিতে সংগঠকের কার্যাবলি কী কী?
- ১. ব্যবসায়ে উদ্যোগ গ্রহণ; ২. মূলধন সংগ্রহ; ৩. উৎপাদনের বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয় সাধন; ৪. বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ; ৫. ব্যবসায়ের নীতি ও প্রকৃতি নির্ধারণ; ৬. আয় বন্টন দায়িত্ব; ৭. নতুনত্ব প্রবর্তন; ৯. বাজারজাত করণ; ৯. তত্ত্বাবধান দায়িত্ব ও ১০. লাভ-লোকসানের দায়- দায়িত্ব গ্রহণ করা।

প্র: ইসলামী অর্থনীতিতে চাহিদার ব্যাপারে ইসলামের মূলনীতি কী?
- ১. হালাল দ্রব্যের চাহিদা; ২. অপচয় ও বিলাসজনিত চাহিদা; ৩. ক্ষতিকর ও হারাম দ্রব্যের চাহিদা; ৪. উপার্জন ও চাহিদা।

টিকাঃ
১. ইসলামি অর্থনীতি, মো. নূরুল ইসলাম।

📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 ইসলামের বিশেষ রাত ও দিন

📄 ইসলামের বিশেষ রাত ও দিন


১. শব-ই-কাদর: ২৭ রমযান। এই তারিখে মহাগ্রন্থ আল কুরআন অবতীর্ণ হয়। এ রাতের মর্যাদা হাজার রাতের চেয়েও বেশি।

২. শব-ই-বারাত: ১৫ শাবান, ভাগ্যরজনী। এই তারিখে মহান রাব্বুল আলামীন নর-নারীর ভাগ্য বন্টন করে থাকেন বলে কথিত আছে। মুসলমানগণ এই রাতে দান খয়রাত করেন এবং সারারাত ইবাদত বন্দেগী করে অতিবাহিত করেন।

৩. শব-ই-মিরাজ: ২৭ রজব। এই তারিখে রাতে মহানবী (স) মহান রাব্বুল আলামীনের সাক্ষাৎ লাভ করেন।

৪. ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহম: এই দিবসে বড়পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানী (র) মৃত্যুবরণ করেন।

৫. ফাতিহা-ই-দোয়াজদাহম: এই দিবসে মহানবী (স) জন্মগ্রহণ করেন এবং এই দিবসেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

৬. জুম'আতুল বিদা: রমজান মাসের শেষ শুক্রবার।

৭. আখেরি চাহার সোম্বা: মাহানবী (স) দীর্ঘ রোগ ভোগের পর এই দিনে আরোগ্য লাভ করেন এবং সে উপলক্ষে গোসল করেন।

৮. ঈদুল ফিতর: রমযানের রোযা পালন শেষে যে ঈদ আসে তাকে, ঈদুল ফিতর বলে।

৯. ঈদুল আযহা: জিলহজ্জ মাসের দশ তারিখ যে ঈদ হয়, তাকে ঈদুল আযহা বলে। ঈদুল আযহায় পশু কোরবানি করা হয় বলে একে কোরবানির ঈদও বলা হয়।

১০. ঈদে মিলাদুন্নবী: মহানবী (স) এর জন্ম দিবসকে ঈদে মিলাদুন্নবী বলে। মহানবী (স) ৫৭০ সালের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন।

১১. সিরাতুন্নবী (স): এইদিনে মহানবী (স) এর সিরাত তথা জীবন মৃত্যু সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

১২. জুম'আ: সপ্তাহে একদিন অর্থাৎ শুক্রবার দিন জুম'আর নামায আদায় করতে হয়।

১৩. বদর দিবস: ইসলামের সর্বপ্রথম যুদ্ধ বদরের যুদ্ধ। এতে মুসলমানদের বিজয় সূচিত হয়। এ যুদ্ধে শাহাদাত প্রাপ্ত শহীদদের স্মরণে এ দিবস পালিত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00