📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 সামাজিক পরিবর্তনে ধর্মের ভূমিকা

📄 সামাজিক পরিবর্তনে ধর্মের ভূমিকা


প্র: বিখ্যাত ৪ জন মুসলিম সেনাপতির নাম কী কী?
- ১. খালিদ বিন ওয়ালিদ; ২. মুসা বিন নোসায়ের; ৩. তারিক বিন যিয়াদ; ৪. মুহাম্মাদ বিন কাসিম।

প্র: সর্বপ্রথম কোন্ মুসলিম সেনাপতি ভারতীয় উপমহাদেশে প্রেরিত হন?
- মুহাম্মাদ বিন কাসিম।

প্র : মুহাম্মাদ বিন কাসিমের আগমনের সময় সিন্ধু অঞ্চলের রাজার কী নাম ছিল?
- রাজা দাহির।

প্র: মুসলমানদের সিন্ধু বিজয়ের সময় ইরাকের শাসনকর্তার কী নাম ছিল?
- হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।

প্র: পারসিকদের সঙ্গে মুসলমানদের যুদ্ধে রাজা দাহির কাকে সাহায্য করেছিল?
- পারসিকদেরকে।

প্র: হাজ্জাজ বিরোধী বিদ্রোহীদের আশ্রয় কে দেন?
- রাজা দাহির।

প্রঃ হাজ্জাজের উদ্দেশ্যে সিংহলের রাজা কয়টি জাহাজে উপহার সামগ্রী পাঠাচ্ছিলেন?
- ৮টি জাহাজ।

প্র : উপহার সামগ্রীসহ জাহাজগুলো কোথায় লুণ্ঠিত হয়?
- দেবল বন্দরের কাছে।

প্রঃ মুহাম্মাদ বিন কাসিম হাজ্জাজের সম্পর্কে কি ছিল?
- ভ্রাতুষ্পুত্র।

প্র: সিন্ধু অভিযানের প্রাক্কালে মুহাম্মাদ বিন কাসিমের বয়স কত ছিল?
- ১৭ বছর।

প্রঃ যুদ্ধে রাজা দাহিরের কী অবস্থা হয়?
- রাজা দাহির পরাজিত ও নিহত হয়।

প্র: সিন্ধু বিজয়ের পর মুহাম্মাদ বিন কাসিম আর কোন্ স্থান জয় করেন?
- পাঞ্জাবের মুলতান।

প্র : বাংলার মুসলিম রাজত্বের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
- ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খিলজি।

প্রঃ তিনি কোন্ দেশের অধিবাসী ছিলেন?
- আফগানিস্থানের গরমশিরের।

প্র : তাঁর আমলে গজনীর সুলতান কে ছিলেন?
- মুহাম্মাদ ঘোরী।

প্র : তিনি কার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন?
- অযোধ্যার শাসনকর্তা মালিক হুসাম উদ্দিনের।

প্রঃ তিনি প্রথমে কোন্ অঞ্চল জয় করেন?
- বর্তমান বিহার অঞ্চল।

প্র: তাঁর সময়ে বাংলার রাজা কে ছিলেন?
- সেন বংশীয় রাজা লক্ষণ সেন।

প্রঃ তিনি যখন নদীয়া পৌঁছান তখন তার সাথে কয়জন যোদ্ধা ছিল?
- ১৭ জন আশ্বারোহী।

প্রঃ রাজা লক্ষণ সেন কিভাবে আত্মরক্ষা করেন?
- খিড়কির দরজা দিয়ে বেরিয়ে ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের দিকে পালিয়ে গিয়ে।

প্রঃ নদীয়া বিজয়ের পর বখতিয়ার কী করেন?
- উত্তর বঙ্গের দিকে অগ্রসর হন। সেখানে লক্ষণাবতী বা গৌড় নগর দখল করেন।

প্রঃ বখতিয়ার খিলজী কোথায় অসুস্থ হন ও কবে মারা যান?
- দিনাজপুরের দেবকোটে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে।

প্রঃ হযরত শাহজালাল (র) কোথাকার অধিবাসী ছিলেন?
- তুরস্কের।

প্রঃ তিনি কী জন্য বাংলাদেশে আসেন?
- ইসলাম প্রচারের জন্য।

প্রঃ হযরত শাহজালালের (র) সঙ্গে কতজন সঙ্গী ছিলেন?
- ৩১৩ জন।

প্রঃ হযরত শাহজালালের সময়ে বাংলার সুলতান কে ছিলেন?
- শামস উদ্দীন ফিরোজ শাহ।

প্রঃ হযরত শাহজালালের আগমনকালে সিলেটের রাজা কে ছিলেন?
- রাজা গৌড় গোবিন্দ।

প্রঃ রাজা গৌড় গোবিন্দের বিরুদ্ধে কে কে অস্ত্র ধরেন?
- হযরত শাহজালাল (র) ও সেকান্দার গাজী।

প্রঃ সিলেট কবে মুসলমানদের অধিকার আসে?
- ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে।

📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 তাহারাত বা পবিত্রতা

📄 তাহারাত বা পবিত্রতা


তাহারাত শব্দটি আরবী। এর অর্থ পবিত্রতা, পরিষ্কার-পরিছন্নতা। প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সমস্ত প্রকার নাপাকী থেকে পবিত্র হওয়াকে তাহারাত বলে। তাহারাত দুই প্রকার। যথা-

১. বাহ্যিক পবিত্রতা। যেমন- উযু, গোসল ও তায়াম্মুম দ্বারা বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করা।
২. অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা। যেমন- যিকির করে যাবতীয় হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসা ক্রোধ ইত্যাদি খারাপ কাজ থেকে মনকে মুক্ত রাখা।

উযুর সুন্নাতসমূহ:
১. নিয়্যাত করা;
২. বিসমিল্লাহ পড়া;
৩. দুই হাতের কজ্বি পর্যন্ত ধৌত করা;
৪. মিসওয়াক করা;
৫. কুলি করা;
৬. রোযাদার না হলে গড়গড়া করা;
৭. নাকে পানি দেওয়া; (রোযাদার হলে নাকের ছিদ্রে পানি পৌঁছানো যাবে না)
৮. দাড়ি খিলাল করা;
৯. উভয় কান মাসিহ করা;
১০. হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো খিলাল করা;
১১. সমস্ত মাথা একবার মাসিহ করা;
১২. উযুর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা;
১৩. এক অঙ্গ শুকানোর পূর্বে অপর অঙ্গ ধৌত করা।

উযুর মুস্তাহাবসমূহ:
১. কিবলামুখী হয়ে উযু করা;
২. উযুর পানির পাত্র বাম দিকে রাখা;
৩. ডান দিকে থেকে উযু শুরু করা;
৪. সালাতের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে উযু করা;
৫. উযুর সময় কোন কথা না বলা;
৬. উঁচু জায়গায় বসে উযু করা;
৭. কারো কাছে উযুর সাহায্য না চাওয়া;
৮. ঘাড় মাসিহ করা;
৯. বাম হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠ আঙ্গুল দ্বারা নাক পরিষ্কার করা;
১০. উযুর অঙ্গগুলো ভাল করে মর্দন করে সীমার চেয়ে বেশি ধৌত করা;
১১. শুধু বাম হাত দ্বারা উভয় পা ধৌত করা;
১২. উযুর অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করা;
১৩. উযুর নিয়াত মুখে উচ্চারণ করা;
১৪. উযুর শেষে দোয়া পাঠ করা।

অপবিত্র অবস্থায় যে সব কাজ করা নিষেধ

পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। এমন কিছু কাজ আছে যা অপবিত্র অবস্থায়ও করা যায়। আবার এমন কিছু আছে যা অপবিত্র অবস্থায় করা যায় না। আর সেগুলো নিম্নরূপ:
সালাত: সালাত এমন একটি ফরয ইবাদত যা অপবিত্র অবস্থায় আদায় করা যায় না। কেননা সালাতের জন্য পূর্বশর্ত হলো পবিত্রতা অর্জন করা। রাসূল (স) বলেছেন- 'পবিত্রতা সালাতের চাবিস্বরূপ'। তাই সালাত আদায় করার আগে পবিত্রতা হাসিল করতে হবে।

কুরআন স্পর্শ: আল কুরআন সর্বশেষ আসমানী কিতাব। ইহা অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যাবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- 'পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত উহা (কুরআন) স্পর্শ করবে না'। তবে কুরআনে যদি গিলাফ থাকে তবে উযু ছাড়াও স্পর্শ করা যাবে।

মসজিদে প্রবেশ: মসজিদ আল্লাহর ঘর। ইহা অত্যন্ত পবিত্র স্থান। সেখানে অপবিত্র অবস্থায় প্রবেশ করা যায় না।

কাবা শরীফ তাওয়াফ করা: কাবা শরীফ পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর। এটি আল্লাহর সীমাহীন কুদরতের নিদর্শন। অপবিত্র অবস্থায় তা তাওয়াফ করা যায় না।

তায়াম্মুম ভঙ্গের কারণসমূহ: যে সকল কারণে উযু ভঙ্গ হয়, সে সকল কারণে তায়াম্মুমও ভঙ্গ হয়। যথা-
১. উযু ভঙ্গের কারণ সমূহের কোন একটি কারণ পাওয়া গেলে;
২. উযু করার মত পানি পাওয়া গেলে;
৩. যে সকল কারণে তায়াম্মুম করা জায়িয, তা দূর হলে;
৪. তায়াম্মুম করার পর যদি পানি পাওয়া যায় কিন্তু অন্য কোন কারণে সে পানি ব্যবহার করতে না পারলে ঐ তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়ে যাবে। এ অবস্থায় নতুন করে তায়াম্মুম করতে হবে।

গোসল
গোসল শব্দটি আরবী। অর্থ ধৌত করা। শরীআতের পরিভাষায় পবিত্রতা বা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দেয়ার নাম গোসল। ইহা চার প্রকার। যথা-
ফরষ: যে গোসল স্ত্রী সহবাস, স্বপ্ন দোষ এবং স্ত্রী লোকের হায়েয ও নিফাসের রক্ত বন্ধ হওয়ার পর করতে হয়।
ওয়াজিব: যেমন মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ানো।
সুন্নাত: যেমন শুক্রবার, আরাফার দিন ও উভয় ঈদে গোসল করা।
মুস্তাহাব: যেমন শবে বরাত ও শবে কদরের রাত্রে ইবাদত-বন্দেগী করার জন্য গোসল করা।

গোসল ফরয হওয়ার কারণসমূহ: গোসল ফরয হওয়ার কারণ ৪টি। যথা-
১. স্ত্রী সহবাস করা;
২. স্বপ্নদোষ হওয়া;
৩. হায়িয হওয়া;
৪. নিফাস হওয়া।

উল্লেখ্য যে, শেষের কারণ দুইটি স্ত্রী লোকের জন্য নির্দিষ্ট। আর স্ত্রী লোকের হায়িয ও নিফাসের রক্ত বন্ধ হলে গোসল করা ফরয।

পেশাব ও পায়খানা করার নিয়ম: পেশাব ও পায়খানা মানুষের এমন এক প্রয়োজন যা আল্লাহ প্রদত্ত। ইহারও কিছু নিয়ম-নীতি রয়েছে। যেমন-
ক. পায়খানায় বাম পা দিয়ে নিম্নের দোয়াটি পাঠ করবে- 'হে প্রভু! পিশাচ পিশাচিনীর অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি'।
খ. কিবলাকে সামনে বা পিছনে রেখে না বসা।
গ. রাস্তা, পানির গর্ত ও ফলবান বৃক্ষের নিচে পেশাব-পায়খানা না করা।
ঘ. সতর ঢেকে রাখা।
ঙ. পেশাবের শেষে ঢিলা নেয়া। (পরে পানি নেয়া উত্তম) আর পায়খানা শেষে ঢিলা নেয়া এবং পরে পানি নেয়া।
চ. পেশাব ও পায়খানা থেকে ডান পা দিয়ে বের হওয়ার সময় নিচের দোয়াটি পড়া- 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমার থেকে কষ্টকর বস্তু বের করে নিয়ে আমাকে শান্তি দিয়েছেন'।

সালাতের সুন্নাতসমূহ:
১. তাকবিরে তাহরিমার সময় পুরুষের কান পর্যন্ত ও স্ত্রীলোকের কাঁধ পর্যন্ত দুই হাত উঠানো;
২. ইমাম শব্দ করে এবং মুক্তাদীর আস্তে তাকবির বলবে;
৩. সানা পাঠ করা;
৪. আউযুবিল্লাহ পড়া;
৫. বিসমিল্লাহ পড়া;
৬. আস্তে আস্তে আমিন বলা;
৭. ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে পুরুষের নাভীর নিচে এবং স্ত্রীলোকের বুকের উপর রাখা;
৮. রুকুতে উভয় হাত দ্বারা হাঁটু ধরা এবং হাতের আঙ্গুল ফাঁক রাখা;
৯. রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময় ইমামের সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ ও মুক্তাদী রাব্বানা লাকাল হামদ বলা;
১০. রুকু ও সিজদায় যাওয়া এবং উঠার সময় তাকবির বলা;
১১. রুকু ও সিজদায় কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়া;
১২. সিজদার সময় দুইহাতের মাঝখানে কপাল রাখা;
১৩. সিজদায় দুই হাতের তালু, হাঁটু, নাক ও কপাল জমিনে রাখা;
১৪. বসার সময় পুরুষের ডান পা খাড়া রেখে বাম পা বিছিয়ে বসা, আর স্ত্রীলোকের দুই পা ডান দিকে বের করে বসা;
১৫. তাশাহুদের পর দুরূদ ও দোয়া মাসূরা পড়া;
১৬. বসা অবস্থায় উভয় হাত হাঁটুর উপর রাখা;
১৭. তিন ও চার রাকাআত বিশিষ্ট সালাতে প্রথম দুই রাকাআতের পরের রাকাআত গুলোতে সূরা ফাতিহা পড়া, ইত্যাদি।

জামাআত
জামাআত শব্দটি আরবী। অর্থ একত্রিত করা, জমা করা। শরীআতের পরিভাষায় ফরয সালাতসমূহ নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হয়ে আদায় করাকে জামাআত বলে। ফরয সালাত জামাআতের সাথে আদায় করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। কিন্তু ওয়াজিবের মর্যাদা রাখে। বিনা ওযরে জামাআত ছেড়ে দিলে জামাআতে সালাতের সাওয়াব পাওয়া যায় না; তবে ফরয আদায় হয়ে যাবে।

জামাআতের সাথে সালাত আদায় করার বহু ফযীলত রয়েছে। যেমন- রাসূল (স) ইরশাদ করেছেন- 'কোন ব্যক্তির একাকী সালাতের চেয়ে জামাআতের সাথে সালাতে ২৭ গুণ সওয়াব বেশি'। (তিরমিযী)

সালাতুল জুমআ শব্দটি আরবী। অর্থ একত্রিত হওয়ার সালাত। শরীআতের পরিভাষায়- জুমাবার (শুক্রবার) যুহর সালাতের পরিবর্তে জামাআত ও খুতবাসহ দুই রাকআত সালাত আদায় করাকে সালাতুল জুমআ বা জুমআর সালাত বলে। যে ব্যক্তি জুমআর সালাত আদায় করবে, সে ব্যক্তির ঐ দিনের যুহরের সালাত আদায় করতে হবে না। জুমআর বেশ কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যেমন-মুকিম হওয়া, স্বাধীন হওয়া, সুস্থ হওয়া, সুস্থ জ্ঞান সম্পন্ন হওয়া, পুরুষ হওয়া, প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়া। উল্লেখ্য যে, মুসাফির, দাস, রুগী, পাগল, স্ত্রীলোক ও নাবালেগের উপর জুমআর সালাত আদায় করা ফরয নয়। জুমআর সালাত কেউ অস্বীকার করলে কাফির ও বেঈমান হয়ে যাবে। শরীআতের কোন ওযর ছাড়া এ সালাত পরিত্যাগকারী ফাসিক হবে।

সালাতুল ঈদাইন: ইহা বছরে একবার আসে। শাওয়াল মাসের ১ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়, যাকে ঈদুল ফিতর বলে। আর যিলহজ্জ মাসের ১০ম দিনকে ঈদুল আযহা বা কোরবানির খুশীর দিন বলে।

বিতর: এ শব্দটি আরবী। শরীআতের পরিভাষায় এশার সালাতের তিন রাকআত সালাতকে সালাতুল বিতর বা বিতরের সালাত বলে। এই সালাত আদায় করা ওয়াজিব। ইহা সুহি সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত আদায় করা যায়। কোন কারণে আদায় করতে না পারলে কাযা করতে হবে। রমযান মাসে বিতরের সালাত জামাআতের সাথে পড়তে হয়।

সালাতুল তারাভিহ: এ শব্দটি আরবী। তারাভিহ শব্দের অর্থ হলো- আরাম বা বিশ্রাম করা। আর শরীআতের পরিভাষায়- রমযান মাসে ইশার সালাতের পরে বিশ রাকআত সুন্নাত সালাতকে তারাভিহ বলে। এই সালাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ, রোযা না রাখলেও এ সালাত আদায় করতে হবে। পুরুষদের জন্য জামাআতের সাথে পড়া সুন্নাত, আর মহিলারা ঘরে বসে একাকী বা জামাআতের সাথে পড়তে পারে।

সালাতুয জানাযাহ: জানাযাহ শব্দটি আরবী। অর্থ লাশ, মৃতদেহ রাখার খাট। শরীআতের পরিভাষায়- মৃতব্যক্তিকে কবর দেয়ার পূর্বে তাকে সামনে রেখে যে সালাত আদায় করা হয়, তাকে সালাতুয জানাযাহ বলে। এই সালাত আদায় করা ফরযে কিফায়া। কতিপয় লোক আদায় করলে সকলে দায়িত্বমুক্ত হবে, আর কেউ আদায় না করলে সকলেই গুনাহগার হবে।

টিকাঃ
'. ঢিলার পরিবর্তে এখন টয়লেট পেপার ব্যবহার করা বৈধ।

📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 আহক্মাতের পরিচিতি

📄 আহক্মাতের পরিচিতি


ফরয: ফরয শব্দটি আরবী। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- নির্ধারণ করা, বিধিবদ্ধ করা, পরিমাণ ইত্যাদি। পরিভাষায়- মহান আল্লাহর হুকুম-আহকামকে ফরয বলে। যেমন- সালাত, সাওম, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি আদায় করা। ফরয দুই ভাগে বিভক্ত। যথা- ফরযে আইন: যে কাজগুলো সকলের জন্য পালন করা জরুরি, তাকে ফরযে আইন বলে। যেমন- সালাত আদায় করা, পর্দা করা।

ফরযে কিফায়া: যে কাজগুলো কিছুসংখ্যক লোক আদায় করলেই সমাজের সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়, তাকে ফরযে কিফায়া বলে। যেমন- জানাযার সালাত ও জিহাদ করা। ফরয কাজ অস্বীকার করা কুফরি। আর পালন না করা ফাসেকি। উল্লেখ্য যে, ফরযে কিফায়া কেউ আদায় করলে সকলেই দায়িত্বমুক্ত হবে কিন্তু কেউ আদায় না করলে সকলেই পাপী হবে।

ওয়াজিব: ওয়াজিব শব্দটি আরবী। অর্থ আবশ্যক, জরুরি। পরিভাষায়- যে কাজ করা জরুরি না করলে পাপী হতে হয়; তবে ফরযের মত নয়, তাকে ওয়াজিব বলে। যেমন- বিতর ও দুই ঈদের সালাত এবং সদকায়ে ফিতর। ওয়াজিব কাজগুলো আদায় করা আবশ্যক এবং আদায় না করলে গুনাহগার হতে হয়। ইহা অস্বীকার করা কুফরি না, তবে গোমরাহী এবং পালন না করা ফাসেকি।

সুন্নাত: সুন্নাত শব্দটি আরবী। অর্থ রীতি-নীতি, পদ্ধতি, আদর্শ, পথ ইত্যাদি। পরিভাষায়- যে সকল কাজ রাসূল (স) অধিকাংশ সময় নিজে করেছেন, তবে মাঝে মধ্যে পরিত্যাগও করেছেন, সেগুলোকে সুন্নাত বলে। যেমন- সালাতুল ফজরের পর দুই রাকআত সুন্নাত, উমরাহ হজ্জ আদায় করা ইত্যাদি। এই কাজ ফরয ও ওয়াজিবের মত আবশ্যক নয়। এ জাতীয় কাজ অস্বীকার করা ফাসেকির অন্তর্ভুক্ত। এর কোন কাযা নেই।

মুস্তাহাব: এ শব্দটি আরবী। অর্থ পছন্দনীয়। ইসলামী শরীআত যে কাজগুলো ভাল বলে পছন্দ করেছে, পরিভাষায় সে কাজগুলোকে মুস্তাহাব বলে। যেমন- যুহর, মাগরিব ও এশার সালাতের পর দুই রাকআত নফল সালাত আদায় করা। এ জাতীয় কাজে সাওয়াব পাওয়া যায়, তবে না করলেও কোন পাপ হয় না।

হালাল: এ শব্দটি আরবী। অর্থ বৈধ বা সিদ্ধ। ইসলামী শরীআত যে কাজগুলোকে বৈধ হিসেবে ঘোষণা করেছে, তাকে হালাল বলে। যেমন- উট, দুম্বা, গরু, ছাগলের গোস্ত খাওয়া এবং দুধ পান করা। হালাল জিনিসকে হারাম মনে করে পরিত্যাগ করা কুফরির শামিল। তবে, সাধারণভাবে হালাল কাজ না করলেও কোন গুনাহ নেই।

হারাম: এ শব্দটি আরবী। অবৈধ, নিষিদ্ধ, ইসলামী শরীআত যে সকল কাজ করতে বা সে জাতীয় বস্তু পানাহার করতে নিষেধ করেছেন, সেগুলোকে হারাম বলে। যেমন- যিনা করা, চুরি করা, সুদ খাওয়া ইত্যাদি। যে সকল বস্তু নাপাক তা পানাহার করাও হারাম। এ জাতীয় কাজ করা কবিরা গুনাহ ও ফাসেকি। তবে হারামকে হালাল বলে বিশ্বাস করা কুফরি। আর জীবন বাঁচানোর জন্য হারাম বস্তুরও পানাহার করা জায়িয। কেননা ফিক্হ শাস্ত্রে একটি নিয়ম আছে যে, 'প্রয়োজন পরিত্যাজ্য বিষয়কেও জায়িয করে দেয়'।

মাকরূহ: এ শব্দটি আরবী। অর্থ অপছন্দনীয়। ইসলামী শরীআতের দৃষ্টিতে যে কাজগুলো অপছন্দনীয়, সেগুলোকে মাকরূহ বলে। যেমন- অন্ধ, ফাসিক ও বিদআতি লোকের ইমামতি করা, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানাহার করা। আর মাকরূহ দুই প্রকার। যথা-

১. মাকরূহে তাহরিমি: যে কাজগুলো হারাম না হলেও হারামের কাছাকাছি, সে কাজগুলোকে মাকরূহে তাহরিমি বলে। যেমন- ঈদগাহ ও কবর স্থানে পেশাব- পায়খানা করা, মসজিদে বসে অপ্রয়োজনীয় আলাপ আলোচনা করা। এ কাজগুলো গুনাহের কাজ, তবে এ কাজগুলোকে বৈধ মনে করা ফাসেকি।
২. মাকরূহে তানযিহ: যে কাজগুলো হালালের কাছাকাছি; তবে হালালও নয়, তাকে মাকরূহে তানযিহ বলে। যেমন- পশুর গলায় ঘণ্টা বেঁধে দেয়া। এ জাতীয় কাজে যদিও কম গুণাহ হয় তবুও এমন কাজ থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

মুবাহ: এ শব্দটি আরবী। অর্থ বৈধ কাজ। ইসলামী শরীআত যে সমস্ত কাজকে বৈধ হিসেবে অভিহিত করেছে, তাকে মুবাহ বলে। যেমন- কৃষিকাজ করা, ক্রয়-বিক্রয় করা ইত্যাদি।

মুবাহ কাজ হালাল কাজের মতই। তবে হালালকে মুবাহ করা কুফরি। কিন্তু মুবাহকে হারাম জানা কুফরি নয়। এ জাতীয় কাজ করলে কোন সওয়াব নেই এবং না করলেও কোন গুনাহ নেই।

সুন্নাত: সুন্নাত শব্দটি আরবী। অর্থ- নিয়ম, পদ্ধতি, পথ, নমুনা, চরিত ইত্যাদি। ইসলামী শরীআতের পরিভাষায় রাসূল (স) এর কথা, কাজ ও মৌন সমর্থনকে সুন্নাত বলে।

অথবা, যে কাজটি রাসূল (স) স্বয়ং নিজে করেছেন এবং উম্মাতদেরও তা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, তাকে সুন্নাত বলে।

সুন্নাত দুই প্রকার। যথা- ১. সুন্নাতে মুআক্কাদাহ; ২. সুন্নাতে যায়েদাহ।

১. সুন্নাতে মুআক্কাদাহ যে সমস্ত কাজ রাসূল (স) সর্বদা পালন করতেন এবং অন্যদেরকেও তা পালন করার জন্য আদেশ দিতেন, তাকে সুন্নাতে মুআক্কাদাহ বলে। যেমন- ফজরের সালাতের পূর্বে দুই রাকআত, যুহরের সালাতের পূর্বে চার রাকআত ও পরে দুই রাকআত সুন্নাত, মাগরিবের ফরয সালাতের পর দুই রাকআত এবং এশার সালাতের পর দুই রাকআত সুন্নাত সমূহ আদায় করা।
২. সুন্নাতে যায়েদাহ যে সমস্ত কাজ রাসূল (স) কখনও করতেন, আবার কখনও পরিত্যাগ করতেন, তাকে সুন্নাতে যায়েদাহ বলে। যেমন- আসর ও এশার সালাতের পূর্বে চার রাকআত সুন্নাত সালাত আদায় করা।

বিদআত: বিদআত অর্থ নতুন ভাবে বা পূর্বের নমুনা ছাড়া কিছু হওয়া। এ জন্যেই আল্লাহকে বাদীউন বলা হয়। কেননা তিনি এ পৃথিবীর সব কিছু পূর্বের কোনরূপ নমুনা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। ইসলামী শরীআতের পরিভাষায়, যে কাজ রাসূল (স) ও তাঁর সাহাবীগণ করেননি এবং তাঁদের যুগে ছিলও না বরং তাঁদের ইনতিকালের পর সৃষ্টি হয়েছে, তাকে বিদআত বলে।

কেউ কেউ বলেছেন- যে জিনিস নতুন আবিষ্কৃত হয়েছে এবং পূর্ববর্তী যুগেও উহার কোন উদাহরণ ছিল না, তাকে বিদআত বলে।

বিদআত দুইভাগে বিভক্ত। যথা-

১. বিদআতে হাসানাহ ও ২. বিদআতে সাইয়্যিয়াহ।

বিদআতে হাসানাহ: যে বিদআত রাসূল (স) এর সুন্নাত বিরোধী নয় বরং এর দ্বারা ইসলামের অনেক উপকার সাধিত হয়; তাকে বিদআতে হাসানাহ বলে। যেমন- ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য ধর্মীয় বই পুস্তক প্রণয়ন করা, সভা-সমিতি করা, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা।
বিদআতে সাইয়্যিয়াহ যে বিদআতে রাসূল (স) এর সুন্নাত বিরোধী, ইসলামের জন্য ক্ষতিকর ও মানুষের চরিত্র বিনষ্টকারী, তাকে বিদআতে সায়্যিয়াহ বলে। যেমন- অশ্লীল ছবি, গান-বাজনা, খারাপ নাটক ইত্যাদি।

শিক: শির্ক শব্দটি আরবী। অর্থ অংশীবাদ, বহু ঈশ্বরবাদ, অনেক দেবোপাসনা। ইসলামী শরীআতের পরিভাষায়- আল্লাহ তাআলার সত্তা ও তাঁর সিফাত বা গুণাবলির সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করাকে শিক্ বলে। শিক্ দুই প্রকার। যাথা- ১. শিকে জলি ও ২. শিরকে খফি।

শিরকে জলি: যদি কেউ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর ইবাদত করে, তাকে শিকে জলি বলে।
শিরকে খফি: যদি কেউ অসাবধানতা বশত কাউকে আল্লাহ পাকের কোন গুণ বা শক্তির সাথে তুলনা করে, তাকে শিরকে খফি বলে।

কুফর: কুফর শব্দটি আরবী। অর্থ আবৃত করা, গোপন করা, ঢেকে রাখা, আচ্ছাদন করা, অকৃতজ্ঞ হওয়া। এজন্য যারা আল্লাহর বাণী কুরআনকে অস্বীকার করে সত্যকে গোপন করে রাখে তাদেরকে কাফির বলে। শরীআতের পরিভাষায়- মহান আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে অবিশ্বাস ও অস্বীকার করাকে কুফর বলে।

অথবা, রাসূল (স) যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, তার কোন একটিকে অস্বীকার করাকে কুফর বলে।

নিফাক: নিফাক শব্দটি আরবী। অর্থ দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করা। কুফরি গোপন করে নিজেকে মুমিন বলে প্রকাশ করা, কপটতা ইত্যাদি। ইসলামী শরীআতের পরিভাষায়- সামাজিক সুযোগ সুবিধা আদায় করার লক্ষ্যে ইসলাম ও রাসূল (স) এর প্রতি বাহ্যিক আনুগত্য প্রদর্শন করা এবং মনে কুফরি ভাব গোপন রাখাকে নিফাক বলে।

আখিরাত: আখিরাত শব্দটি আরবী। অর্থ পরবর্তী বা পরকাল। অর্থাৎ এর দ্বারা দুনিয়ার পরবর্তীকাল তথা পরকালীন জীবনকে বুঝানো হয়।

হাশর: হাশর শব্দটি আরবী। অর্থ একত্রিকরণ, জামায়েত করা। আল্লাহ তাআলার এ সৃষ্টিজগত ক্ষণস্থায়ী। এ পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। তারপর সমস্ত মানুষকে জীবিত করা হবে এবং সকলকে কৃতকর্মের হিসাব দেওয়ার জন্য এক জায়গায় একত্রিত করা হবে। এই একত্রকরণকে হাশর বলে।

পুলসিরাত: পুলসিরাতকে আরবীতে সিরাত বলে। এর অর্থ রাস্তা বা সেতু। কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে সমস্ত মানুষ একত্রিত হবে। আর দোযখের উপর দিয়ে একটি দীর্ঘ পুল থাকবে। যে পুল অতিক্রম করে জান্নাতে যেতে হবে, তাকে পুলসিরাত বলে।

মিযান: মিযান শব্দটি আরবী। অর্থ পরিমাপ বা মাপার যন্ত্র। আল্লাহ তাআলা হাশরের মাঠে সমস্ত জ্বিন ইনসানকে হাজির করে সকলের আমল পরিমাপ করবেন। যার নেকীর পাল্লা ভারী হবে, তাকে মহাসুখের স্থান জান্নাত দান করবেন। আর যার নেকীর পাল্লা হালকা হবে, তাকে চির কষ্টের স্থান জাহান্নামে ফেলা হবে।

জান্নাত: জান্নাত শব্দটি আরবী। অর্থ আবৃত করা, আচ্ছাদন করা। সুতরাং জান্নাতের অর্থ হলো- বৃক্ষপত্র দ্বারা আবৃত স্থান। যাকে আমরা বাগান বলে থাকি। বাংলা ভাষায় একে স্বর্গ আর উর্দুতে বেহিস্ত বলে। জান্নাতের সংখ্যা আটটি। যথা
১. জান্নাতুল আদন; ২. জান্নাতুল খুল্দ; ৩. জান্নাতুন নাঈম; ৪. জান্নাতুল মাওয়া; ৫. দারুস্ সালাম; ৬. দারুল কারার; ৭. দারুল মাকাম ও ৮. জান্নাতুল ফিরদাউস।

জাহান্নাম : জাহান্নাম শব্দটি আরবী। বাংলায় একে নরক বলে। ইহা দোযখের সর্বোচ্চ স্তরের নাম। জাহান্নামের ৭টি স্তর রয়েছে। যথা- ১. জাহান্নাম; ২. লাজা; ৩. হুতামাহ্; ৪. সাঈর; ৫. সাকার; ৬. জাহিম ও ৭. হাবিয়া।

উল্লেখ্য যে, জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়টি সত্য। উভয়টি এখনও মওজুদ আছে। এ সম্পর্কে কুরআনের অনেক আয়াত ও রাসূল (স)-এর বহু হাদীস বিদ্যমান। তাই আল্লাহ যে জান্নাত ও জাহান্নাম তৈরি করে রেখেছেন, এর উপর প্রতিটি মুসলমানের ঈমান রাখতে হবে। অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই।

তাকদীর
তাকদির শব্দটি আরবী। অর্থ- নির্ধারণ, ক্ষমতা বা শক্তি। শরীআতের পরিভাষায় তাকদির হলো- ভাগ্য বা মহান আল্লাহর নির্ধারণ।

আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টির আগেই তার তাকদিরকে নির্ধারণ করে রেখেছেন।

তাই মানুষের জীবন ভাল-মন্দ যা কিছু হয়, তা পূর্ব নির্ধারিত ভাগ্য অনুযায়ী হয়। আল্লাহ তাআলা যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তা হবেই। কেননা এ মর্মে রাসূল (স) ইরশাদ করেছেন- 'আল্লাহ তাআলা যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তা হবেই'।

তাকদিরে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে একটি অন্যতম বিষয়। ইহা ঈমানের অঙ্গ। কোন ব্যক্তি তাকদিরকে অস্বীকার করে ঈমানদার হওয়ার দাবি করতে পারে না।

তাকদির দুই প্রকার। যথা- ১. মুবাররম বা অকাট্য; ২. মুয়াল্লাকা বা ঝুলন্ত।

প্রথম প্রকার তাকদির কখনও পরিবর্তন হয় না। তবে দ্বিতীয় প্রকার তাকদির মানুষের কর্ম দ্বারা পরিবর্তন হতে পারে। যেমন হাদীস শরীফে এসেছে- 'তাকদির পরিবর্তন হয় না, তবে দোয়া দ্বারা পরিবর্তন হয়। অতএব, এ কথা বুঝতে হবে যে, তাকদিরের উপর মানুষের কোন হাত নেই। যার তকদিরে যা আছে তা হবেই এর কোন পরিবর্তন হয়না। এ কথায় প্রতিটি মুসলমানের পূর্ণ ঈমান রাখতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00