📄 চার ইমামের সংক্ষিপ্ত জীবনী
এক. ইমাম আবু হানিফা (র)
প্র: ইমাম আবু হানিফার প্রকৃত নাম কী?
- নোমান বিন সাবিত।
প্র: তাঁর উপনাম কী?
- আবু হানিফা।
প্র: তাঁর বংশ তালিকা কী?
- নোমান বিন সাবিত বিন জাওতি বিন মাহ।
প্র: তাঁর নোমান নামটি কার নামানুসারে রাখা হয়?
- আপন পিতামহের নামানুসারে।
প্র: তিনি বাল্যকালে কার খিদমতে উপস্থিত হন?
- হযরত আনাস (র) এর খিদমতে।
প্র: কত বছর বয়সে তিনি বিদ্যার্জনে মনোনিবেশ করেন?
- সতের বছর বয়সে।
প্র: তিনি দশ বছর যাবত কার কাছে মাসয়ালার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা শিক্ষা করেন?
- হযরত হাম্মাদ (র) এর কাছে।
প্র: তার শিক্ষকের সংখ্যা কত?
- ৯৩ জন। মতান্তরে ৪,০০০
প্র: কোন খলিফা কত হিজরীতে তাঁকে কারাগারে আবদ্ধ করেন?
- খলিফা মনসুর, ১৪৪ হিজরীতে।
প্র : ইমাম আবু হানিফা (র) তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন সম্পর্কে কী বলেছেন?
- 'আমি যখন বিদ্যার্জনে ব্রতী হলাম, তখন আমি সকল প্রকার ইলমকে আমার অভিষ্ঠ লক্ষ্যরূপে স্থির করলাম। সুতরাং আমি এক একটি করে প্রত্যেক শাস্ত্র অধ্যয়ন করলাম'।
প্র: কোন গ্রন্থে তাঁর ৮৮০ জন ছাত্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
- মুজামুল মুসান্নিফিন নামক গ্রন্থে।
প্র : পৃথিবীর মুসলিম জনসংখ্যার কত অংশ হানাফি মাযহাবের অনুসারী?
- ৫৭% ভাগ।
প্রঃ তিনি কত সালে কী অবস্থায় কিসের প্রতিক্রিয়ায় ইনতিকাল করেন?
- হিজরী ১৫০ সালে, সিজদারত অবস্থায়, বিষের প্রতিক্রিয়ায়।
প্র: কতবার তাঁর জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়?
- ৬ বার।
প্রঃ কোথায় তাঁকে সমাহিত করা হয়?
- বাগদাদের খায়েজরান নামক কবরস্থানে।
দুই. ইমাম শাফি'ঈ (র)
প্র: ইমাম শাফি'ঈ (র) এর পূর্ণ নাম কী?
- আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস বিন উসমান বিন শাফি'ঈ আল মুত্তালেবি।
প্র: তাঁর নবম পুরুষ কে?
- রাসূল (স) এর ৪র্থ পূর্বপুরুষ আবদে মান্নাফ।
প্রঃ তিনি কোথায় কত হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন?
- ফিলিস্তিনের গাযাহ নামক স্থানে, ১৫০ হিজরীতে।
প্র : কত বছর বয়সে তাঁর পিতা ইনতিকাল করেন?
- মাত্র দুই বছর বয়সে।
প্র: পিতার মৃত্যুর পর তিনি কার কাছে লালিত পালিত হন?
- স্বীয় মাতার কাছে।
প্রঃ কত বছর বয়সে তিনি কুরআন মাজিদ ও মুয়াত্তা মুখস্থ করেন?
- মাত্র দশ বছর বয়সে।
প্র : কত বছর বয়সে শিক্ষক কর্তৃক তিনি ফতোয়া দেয়ার অনুমতি পান?
- মাত্র পনের বছর বয়সে।
প্র: কার শাসনাকালে তিনি নাজরান প্রদেশের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন?
- খলিফা হারুনুর রশিদের শাসনকালে।
প্রঃ কত হিজরীতে তাঁর বিরুদ্ধে আলী (রা) এর বংশের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উত্থাপিত হয়?
- ১৮৪ হিজরীতে।
প্রঃ সরকারি পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর তিনি কোথায় গমন করেন?
- ইরাকে।
প্রঃ তিনি কত বছর মিশরে অবস্থান করেন?
- সুদীর্ঘ ছয় বছর।
প্রঃ তাঁর ফিক্হ কত প্রকার ও কী কী?
- দুই প্রকার। যথা- ১. পুরাতন মাযহাবের ফিক্হ, যা ইরাকে থাকাকালীন সময় সম্পাদনা করেন; ২. নতুন মাযহাবের ফিক্হ যা মিশরে থাকাকালীন সময় সম্পাদনা করেন।
প্রঃ তাঁর প্রণীত প্রসিদ্ধ কিতাবের নাম কী?
- ক. রিসালাতু ফি আদিল্লাতিল আহকাম, খ. কিতাবুল উম্মি, গ. ইখতিলাফুল হাদীস।
প্রঃ তিনি কত হিজরীতে কোথায় ইনতিকাল করেন?
- ২০৪ হিজরীতে, মিশরে।
তিন. ইমাম মালিক ইবনু আনাস (র)
প্রঃ ইমাম মালিক (র) কত হিজরীতে কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
- ৯৩ হিজরীতে, মদিনায়।
প্রঃ তাঁর পূর্বপুরুষগণ কোন্ দেশের অধিবাসী ছিলেন?
- ইয়ামেনের।
প্রঃ তাঁর পিতার নাম কী?
- আনাস (রা)।
প্রঃ তাঁর পিতামহের নাম কী?
- আবু আমের (রা)।
প্রঃ তাঁর পিতামহ কি রাসূল (স) এর সাহাবী ছিলেন?
- হ্যাঁ; সাহাবী ছিলেন। যিনি বদর যুদ্ধ ব্যতীত সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রঃ তিনি কার কাছে হাদীস শাস্ত্র শিক্ষা করেন?
- আবদুর রহমান ইবনু হরমুয এর কাছে।
প্রঃ তিনি কার কাছে ফিক্হ শাস্ত্র শিক্ষা করেন?
- হিজাজের প্রসিদ্ধ ফকিহ রবিয়াতুর রায় এর কাছে।
প্র : তিনি সারা জীবন কোথায় অবস্থান করেছিলেন?
- পবিত্র মদিনায়।
প্রঃ তিনি কোথায় বসে জ্ঞানচর্চা করতেন?
- মসজিদে নববিতে বসে।
প্র: তাঁর রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থটির নাম কী?
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক।
প্র : এটি কোন বিষয় সংক্রান্ত গ্রন্থ?
- হাদীস সংক্রান্ত।
প্রঃ তিনি কত বছর শিক্ষকতা ও ফতোয়ার কাজে লিপ্ত ছিলেন?
- ৫০ বছর।
প্র: কারা তাঁর ফতোয়া ও উত্তরগুলোকে একত্রিত করেন?
- তাঁর শিষ্যগণ।
প্র: শিষ্যদের এই একত্রিত সংকলনকে কী বলে?
- ফিক্হে মালিকি।
প্র: তাঁর অন্যতম শিষ্য কে কে ছিলেন?
- ১. ইবনু ওহাব; ২. ইবনু কাসিম; ৩. আশহাব বিন ইয়াহইয়া; ৪. ইবনু আবদুল হাকিম প্রমুখ।
প্র ৪ কোন্ খলিফার সাথে কোন্ ব্যাপারে তাঁর মতদ্বন্দ্ব ছিল?
- খলিফা মনসুরের সাথে, তালাকের ব্যাপারে।
প্র: তিনি হিজরী কত সালে কোথায় ইনতিকাল করেন?
- হিজরী ১৭৯ সালে, মদিনায়।
চার. ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (র)
প্র : ইমাম আহমদের পূর্ণ নাম কী?
- আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল বিন হেলাল।
প্রঃ তিনি হিজরী কত সালে কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
- হিজরী ১৬৪ সালে, বাগদাদে।
প্রঃ কত বছর বয়সে তাঁর পিতৃবিয়োগ ঘটে?
- মাত্র দুই বছর বয়সে।
প্র: এরপর তিনি কোথায় লালিত-পালিত হন?
- তাঁর মাতার কাছে।
প্র: কত বছর বয়সে তিনি হাদীস অধ্যয়নে আত্মনিয়োগ করেন?
- ১৬ বছর বয়সে।
প্র: কত সালে তিনি খালকে কুরআন-এর মতবিরোধ করেন?
- ২১২ হিজরী সালে।
প্র: কত হিজরী সালে তিনি প্রথম মক্কায় গমন করেন?
- ১৮৭ সালে।
প্র: প্রথমত তিনি কোন্ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন?
- শাফি'ঈ মাযহাবের।
প্র: কার শাসনকালে তাঁকে জেল ও বেত্রাঘাত ভোগ করতে হয়?
- খলিফা মুতাসিম বিল্লাহর আমলে।
প্র: তিনি কত হিজরীতে কত বছর বয়সে কোন্ শহরে ইনতিকাল করেন?
- ২৪১ হিজরী ১২ রবিউল আউয়াল, ৭৭ বছর বয়সে, বাগদাদ শহরে ইনতিকাল করেন।
📄 মাযহাব পরিচিতি
ক্রম. নাম প্রতিষ্ঠাতা জন্ম মৃত্যু
১. হানাফি মাযহাব ইমাম আবু হানিফা ৮০ হি. ১৫০ হি.
২. শাফি'ঈ মাযহাব ইমাম শাফি'ঈ ১৫০ হি. ২০৪ হি.
৩. মালিকি মাযহাব ইমাম মালিক ৯৫ হি. ১৭৯ হি.
৪. হাম্বলি মাযহাব ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল ১৬৪ হি. ২৪১ হি.
📄 সামাজিক পরিবর্তনে ধর্মের ভূমিকা
প্র: বিখ্যাত ৪ জন মুসলিম সেনাপতির নাম কী কী?
- ১. খালিদ বিন ওয়ালিদ; ২. মুসা বিন নোসায়ের; ৩. তারিক বিন যিয়াদ; ৪. মুহাম্মাদ বিন কাসিম।
প্র: সর্বপ্রথম কোন্ মুসলিম সেনাপতি ভারতীয় উপমহাদেশে প্রেরিত হন?
- মুহাম্মাদ বিন কাসিম।
প্র : মুহাম্মাদ বিন কাসিমের আগমনের সময় সিন্ধু অঞ্চলের রাজার কী নাম ছিল?
- রাজা দাহির।
প্র: মুসলমানদের সিন্ধু বিজয়ের সময় ইরাকের শাসনকর্তার কী নাম ছিল?
- হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।
প্র: পারসিকদের সঙ্গে মুসলমানদের যুদ্ধে রাজা দাহির কাকে সাহায্য করেছিল?
- পারসিকদেরকে।
প্র: হাজ্জাজ বিরোধী বিদ্রোহীদের আশ্রয় কে দেন?
- রাজা দাহির।
প্রঃ হাজ্জাজের উদ্দেশ্যে সিংহলের রাজা কয়টি জাহাজে উপহার সামগ্রী পাঠাচ্ছিলেন?
- ৮টি জাহাজ।
প্র : উপহার সামগ্রীসহ জাহাজগুলো কোথায় লুণ্ঠিত হয়?
- দেবল বন্দরের কাছে।
প্রঃ মুহাম্মাদ বিন কাসিম হাজ্জাজের সম্পর্কে কি ছিল?
- ভ্রাতুষ্পুত্র।
প্র: সিন্ধু অভিযানের প্রাক্কালে মুহাম্মাদ বিন কাসিমের বয়স কত ছিল?
- ১৭ বছর।
প্রঃ যুদ্ধে রাজা দাহিরের কী অবস্থা হয়?
- রাজা দাহির পরাজিত ও নিহত হয়।
প্র: সিন্ধু বিজয়ের পর মুহাম্মাদ বিন কাসিম আর কোন্ স্থান জয় করেন?
- পাঞ্জাবের মুলতান।
প্র : বাংলার মুসলিম রাজত্বের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
- ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খিলজি।
প্রঃ তিনি কোন্ দেশের অধিবাসী ছিলেন?
- আফগানিস্থানের গরমশিরের।
প্র : তাঁর আমলে গজনীর সুলতান কে ছিলেন?
- মুহাম্মাদ ঘোরী।
প্র : তিনি কার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন?
- অযোধ্যার শাসনকর্তা মালিক হুসাম উদ্দিনের।
প্রঃ তিনি প্রথমে কোন্ অঞ্চল জয় করেন?
- বর্তমান বিহার অঞ্চল।
প্র: তাঁর সময়ে বাংলার রাজা কে ছিলেন?
- সেন বংশীয় রাজা লক্ষণ সেন।
প্রঃ তিনি যখন নদীয়া পৌঁছান তখন তার সাথে কয়জন যোদ্ধা ছিল?
- ১৭ জন আশ্বারোহী।
প্রঃ রাজা লক্ষণ সেন কিভাবে আত্মরক্ষা করেন?
- খিড়কির দরজা দিয়ে বেরিয়ে ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের দিকে পালিয়ে গিয়ে।
প্রঃ নদীয়া বিজয়ের পর বখতিয়ার কী করেন?
- উত্তর বঙ্গের দিকে অগ্রসর হন। সেখানে লক্ষণাবতী বা গৌড় নগর দখল করেন।
প্রঃ বখতিয়ার খিলজী কোথায় অসুস্থ হন ও কবে মারা যান?
- দিনাজপুরের দেবকোটে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে।
প্রঃ হযরত শাহজালাল (র) কোথাকার অধিবাসী ছিলেন?
- তুরস্কের।
প্রঃ তিনি কী জন্য বাংলাদেশে আসেন?
- ইসলাম প্রচারের জন্য।
প্রঃ হযরত শাহজালালের (র) সঙ্গে কতজন সঙ্গী ছিলেন?
- ৩১৩ জন।
প্রঃ হযরত শাহজালালের সময়ে বাংলার সুলতান কে ছিলেন?
- শামস উদ্দীন ফিরোজ শাহ।
প্রঃ হযরত শাহজালালের আগমনকালে সিলেটের রাজা কে ছিলেন?
- রাজা গৌড় গোবিন্দ।
প্রঃ রাজা গৌড় গোবিন্দের বিরুদ্ধে কে কে অস্ত্র ধরেন?
- হযরত শাহজালাল (র) ও সেকান্দার গাজী।
প্রঃ সিলেট কবে মুসলমানদের অধিকার আসে?
- ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে।
📄 তাহারাত বা পবিত্রতা
তাহারাত শব্দটি আরবী। এর অর্থ পবিত্রতা, পরিষ্কার-পরিছন্নতা। প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সমস্ত প্রকার নাপাকী থেকে পবিত্র হওয়াকে তাহারাত বলে। তাহারাত দুই প্রকার। যথা-
১. বাহ্যিক পবিত্রতা। যেমন- উযু, গোসল ও তায়াম্মুম দ্বারা বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করা।
২. অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা। যেমন- যিকির করে যাবতীয় হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসা ক্রোধ ইত্যাদি খারাপ কাজ থেকে মনকে মুক্ত রাখা।
উযুর সুন্নাতসমূহ:
১. নিয়্যাত করা;
২. বিসমিল্লাহ পড়া;
৩. দুই হাতের কজ্বি পর্যন্ত ধৌত করা;
৪. মিসওয়াক করা;
৫. কুলি করা;
৬. রোযাদার না হলে গড়গড়া করা;
৭. নাকে পানি দেওয়া; (রোযাদার হলে নাকের ছিদ্রে পানি পৌঁছানো যাবে না)
৮. দাড়ি খিলাল করা;
৯. উভয় কান মাসিহ করা;
১০. হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো খিলাল করা;
১১. সমস্ত মাথা একবার মাসিহ করা;
১২. উযুর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা;
১৩. এক অঙ্গ শুকানোর পূর্বে অপর অঙ্গ ধৌত করা।
উযুর মুস্তাহাবসমূহ:
১. কিবলামুখী হয়ে উযু করা;
২. উযুর পানির পাত্র বাম দিকে রাখা;
৩. ডান দিকে থেকে উযু শুরু করা;
৪. সালাতের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে উযু করা;
৫. উযুর সময় কোন কথা না বলা;
৬. উঁচু জায়গায় বসে উযু করা;
৭. কারো কাছে উযুর সাহায্য না চাওয়া;
৮. ঘাড় মাসিহ করা;
৯. বাম হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠ আঙ্গুল দ্বারা নাক পরিষ্কার করা;
১০. উযুর অঙ্গগুলো ভাল করে মর্দন করে সীমার চেয়ে বেশি ধৌত করা;
১১. শুধু বাম হাত দ্বারা উভয় পা ধৌত করা;
১২. উযুর অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করা;
১৩. উযুর নিয়াত মুখে উচ্চারণ করা;
১৪. উযুর শেষে দোয়া পাঠ করা।
অপবিত্র অবস্থায় যে সব কাজ করা নিষেধ
পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। এমন কিছু কাজ আছে যা অপবিত্র অবস্থায়ও করা যায়। আবার এমন কিছু আছে যা অপবিত্র অবস্থায় করা যায় না। আর সেগুলো নিম্নরূপ:
সালাত: সালাত এমন একটি ফরয ইবাদত যা অপবিত্র অবস্থায় আদায় করা যায় না। কেননা সালাতের জন্য পূর্বশর্ত হলো পবিত্রতা অর্জন করা। রাসূল (স) বলেছেন- 'পবিত্রতা সালাতের চাবিস্বরূপ'। তাই সালাত আদায় করার আগে পবিত্রতা হাসিল করতে হবে।
কুরআন স্পর্শ: আল কুরআন সর্বশেষ আসমানী কিতাব। ইহা অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যাবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- 'পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত উহা (কুরআন) স্পর্শ করবে না'। তবে কুরআনে যদি গিলাফ থাকে তবে উযু ছাড়াও স্পর্শ করা যাবে।
মসজিদে প্রবেশ: মসজিদ আল্লাহর ঘর। ইহা অত্যন্ত পবিত্র স্থান। সেখানে অপবিত্র অবস্থায় প্রবেশ করা যায় না।
কাবা শরীফ তাওয়াফ করা: কাবা শরীফ পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর। এটি আল্লাহর সীমাহীন কুদরতের নিদর্শন। অপবিত্র অবস্থায় তা তাওয়াফ করা যায় না।
তায়াম্মুম ভঙ্গের কারণসমূহ: যে সকল কারণে উযু ভঙ্গ হয়, সে সকল কারণে তায়াম্মুমও ভঙ্গ হয়। যথা-
১. উযু ভঙ্গের কারণ সমূহের কোন একটি কারণ পাওয়া গেলে;
২. উযু করার মত পানি পাওয়া গেলে;
৩. যে সকল কারণে তায়াম্মুম করা জায়িয, তা দূর হলে;
৪. তায়াম্মুম করার পর যদি পানি পাওয়া যায় কিন্তু অন্য কোন কারণে সে পানি ব্যবহার করতে না পারলে ঐ তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়ে যাবে। এ অবস্থায় নতুন করে তায়াম্মুম করতে হবে।
গোসল
গোসল শব্দটি আরবী। অর্থ ধৌত করা। শরীআতের পরিভাষায় পবিত্রতা বা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দেয়ার নাম গোসল। ইহা চার প্রকার। যথা-
ফরষ: যে গোসল স্ত্রী সহবাস, স্বপ্ন দোষ এবং স্ত্রী লোকের হায়েয ও নিফাসের রক্ত বন্ধ হওয়ার পর করতে হয়।
ওয়াজিব: যেমন মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ানো।
সুন্নাত: যেমন শুক্রবার, আরাফার দিন ও উভয় ঈদে গোসল করা।
মুস্তাহাব: যেমন শবে বরাত ও শবে কদরের রাত্রে ইবাদত-বন্দেগী করার জন্য গোসল করা।
গোসল ফরয হওয়ার কারণসমূহ: গোসল ফরয হওয়ার কারণ ৪টি। যথা-
১. স্ত্রী সহবাস করা;
২. স্বপ্নদোষ হওয়া;
৩. হায়িয হওয়া;
৪. নিফাস হওয়া।
উল্লেখ্য যে, শেষের কারণ দুইটি স্ত্রী লোকের জন্য নির্দিষ্ট। আর স্ত্রী লোকের হায়িয ও নিফাসের রক্ত বন্ধ হলে গোসল করা ফরয।
পেশাব ও পায়খানা করার নিয়ম: পেশাব ও পায়খানা মানুষের এমন এক প্রয়োজন যা আল্লাহ প্রদত্ত। ইহারও কিছু নিয়ম-নীতি রয়েছে। যেমন-
ক. পায়খানায় বাম পা দিয়ে নিম্নের দোয়াটি পাঠ করবে- 'হে প্রভু! পিশাচ পিশাচিনীর অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি'।
খ. কিবলাকে সামনে বা পিছনে রেখে না বসা।
গ. রাস্তা, পানির গর্ত ও ফলবান বৃক্ষের নিচে পেশাব-পায়খানা না করা।
ঘ. সতর ঢেকে রাখা।
ঙ. পেশাবের শেষে ঢিলা নেয়া। (পরে পানি নেয়া উত্তম) আর পায়খানা শেষে ঢিলা নেয়া এবং পরে পানি নেয়া।
চ. পেশাব ও পায়খানা থেকে ডান পা দিয়ে বের হওয়ার সময় নিচের দোয়াটি পড়া- 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমার থেকে কষ্টকর বস্তু বের করে নিয়ে আমাকে শান্তি দিয়েছেন'।
সালাতের সুন্নাতসমূহ:
১. তাকবিরে তাহরিমার সময় পুরুষের কান পর্যন্ত ও স্ত্রীলোকের কাঁধ পর্যন্ত দুই হাত উঠানো;
২. ইমাম শব্দ করে এবং মুক্তাদীর আস্তে তাকবির বলবে;
৩. সানা পাঠ করা;
৪. আউযুবিল্লাহ পড়া;
৫. বিসমিল্লাহ পড়া;
৬. আস্তে আস্তে আমিন বলা;
৭. ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে পুরুষের নাভীর নিচে এবং স্ত্রীলোকের বুকের উপর রাখা;
৮. রুকুতে উভয় হাত দ্বারা হাঁটু ধরা এবং হাতের আঙ্গুল ফাঁক রাখা;
৯. রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময় ইমামের সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ ও মুক্তাদী রাব্বানা লাকাল হামদ বলা;
১০. রুকু ও সিজদায় যাওয়া এবং উঠার সময় তাকবির বলা;
১১. রুকু ও সিজদায় কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়া;
১২. সিজদার সময় দুইহাতের মাঝখানে কপাল রাখা;
১৩. সিজদায় দুই হাতের তালু, হাঁটু, নাক ও কপাল জমিনে রাখা;
১৪. বসার সময় পুরুষের ডান পা খাড়া রেখে বাম পা বিছিয়ে বসা, আর স্ত্রীলোকের দুই পা ডান দিকে বের করে বসা;
১৫. তাশাহুদের পর দুরূদ ও দোয়া মাসূরা পড়া;
১৬. বসা অবস্থায় উভয় হাত হাঁটুর উপর রাখা;
১৭. তিন ও চার রাকাআত বিশিষ্ট সালাতে প্রথম দুই রাকাআতের পরের রাকাআত গুলোতে সূরা ফাতিহা পড়া, ইত্যাদি।
জামাআত
জামাআত শব্দটি আরবী। অর্থ একত্রিত করা, জমা করা। শরীআতের পরিভাষায় ফরয সালাতসমূহ নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হয়ে আদায় করাকে জামাআত বলে। ফরয সালাত জামাআতের সাথে আদায় করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। কিন্তু ওয়াজিবের মর্যাদা রাখে। বিনা ওযরে জামাআত ছেড়ে দিলে জামাআতে সালাতের সাওয়াব পাওয়া যায় না; তবে ফরয আদায় হয়ে যাবে।
জামাআতের সাথে সালাত আদায় করার বহু ফযীলত রয়েছে। যেমন- রাসূল (স) ইরশাদ করেছেন- 'কোন ব্যক্তির একাকী সালাতের চেয়ে জামাআতের সাথে সালাতে ২৭ গুণ সওয়াব বেশি'। (তিরমিযী)
সালাতুল জুমআ শব্দটি আরবী। অর্থ একত্রিত হওয়ার সালাত। শরীআতের পরিভাষায়- জুমাবার (শুক্রবার) যুহর সালাতের পরিবর্তে জামাআত ও খুতবাসহ দুই রাকআত সালাত আদায় করাকে সালাতুল জুমআ বা জুমআর সালাত বলে। যে ব্যক্তি জুমআর সালাত আদায় করবে, সে ব্যক্তির ঐ দিনের যুহরের সালাত আদায় করতে হবে না। জুমআর বেশ কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যেমন-মুকিম হওয়া, স্বাধীন হওয়া, সুস্থ হওয়া, সুস্থ জ্ঞান সম্পন্ন হওয়া, পুরুষ হওয়া, প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়া। উল্লেখ্য যে, মুসাফির, দাস, রুগী, পাগল, স্ত্রীলোক ও নাবালেগের উপর জুমআর সালাত আদায় করা ফরয নয়। জুমআর সালাত কেউ অস্বীকার করলে কাফির ও বেঈমান হয়ে যাবে। শরীআতের কোন ওযর ছাড়া এ সালাত পরিত্যাগকারী ফাসিক হবে।
সালাতুল ঈদাইন: ইহা বছরে একবার আসে। শাওয়াল মাসের ১ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়, যাকে ঈদুল ফিতর বলে। আর যিলহজ্জ মাসের ১০ম দিনকে ঈদুল আযহা বা কোরবানির খুশীর দিন বলে।
বিতর: এ শব্দটি আরবী। শরীআতের পরিভাষায় এশার সালাতের তিন রাকআত সালাতকে সালাতুল বিতর বা বিতরের সালাত বলে। এই সালাত আদায় করা ওয়াজিব। ইহা সুহি সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত আদায় করা যায়। কোন কারণে আদায় করতে না পারলে কাযা করতে হবে। রমযান মাসে বিতরের সালাত জামাআতের সাথে পড়তে হয়।
সালাতুল তারাভিহ: এ শব্দটি আরবী। তারাভিহ শব্দের অর্থ হলো- আরাম বা বিশ্রাম করা। আর শরীআতের পরিভাষায়- রমযান মাসে ইশার সালাতের পরে বিশ রাকআত সুন্নাত সালাতকে তারাভিহ বলে। এই সালাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ, রোযা না রাখলেও এ সালাত আদায় করতে হবে। পুরুষদের জন্য জামাআতের সাথে পড়া সুন্নাত, আর মহিলারা ঘরে বসে একাকী বা জামাআতের সাথে পড়তে পারে।
সালাতুয জানাযাহ: জানাযাহ শব্দটি আরবী। অর্থ লাশ, মৃতদেহ রাখার খাট। শরীআতের পরিভাষায়- মৃতব্যক্তিকে কবর দেয়ার পূর্বে তাকে সামনে রেখে যে সালাত আদায় করা হয়, তাকে সালাতুয জানাযাহ বলে। এই সালাত আদায় করা ফরযে কিফায়া। কতিপয় লোক আদায় করলে সকলে দায়িত্বমুক্ত হবে, আর কেউ আদায় না করলে সকলেই গুনাহগার হবে।
টিকাঃ
'. ঢিলার পরিবর্তে এখন টয়লেট পেপার ব্যবহার করা বৈধ।