📄 রাসূল (স)-এর ইনতিকাল
১. ১১শ হিজরীর ৩০ সফর শেষ বুধবার রাসূলুল্লাহ (স) জ্বর ও মাথার বেদনায় আক্রান্ত হন।
২. পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ১ রবিউল আউয়াল রোমকদের বিরুদ্ধে অভিযান পাঠাবার জন্যে উসামা ইবনু যায়েদ (রা) এর মাথায় নিজ হাতে সেনাপতিত্বের পাগড়ী বেঁধে দেন। ঐ দিন তিনি খুবই অসুস্থ ছিলেন।
৩. অসুখের ৪র্থ দিনে ৩ রবিউল আউয়াল সঙ্গীদের নিয়ে গোরস্থানে বাকিউল গারকাদ-এ শেষবারের মত কবর জিয়ারত করেন। তিনি বলেন, "আমাকে আদেশ করা হয়েছে যারা মারা গেছে তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে"। ঐ সময় তিনি হযরত মাইমুনার (রা) ঘরে ছিলেন। তিনি তাঁর সকল সহধর্মীনীদের ডেকে আয়েশা (রা) এর ঘরে তাঁর পরিচর্যার অনুমতি নিলেন।
৪. ৭ রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম বুধবার তিনি এক বক্তৃতায় মুহাজির ও আনসারদের নসিহাত করেন।
৫. পরের দিন ৮ রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার রোগ খুব বেড়ে যায় এবং তিনি কিছু লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন কিন্তু লেখা আর হয়ে উঠেনি।
৬. ১১ রবিউল আউয়াল রবিবার রাসূল (স) এর চাচা আব্বাস (রা) তাঁকে 'লাদুদ' নামক ঔষধ সেবন করান। একটু হুঁশ হলে তিনি এতে রাগ প্রকাশ করেন।
৭. ১২ রবিউল আউয়াল রবিবার ভোরে রাসূল (স) আয়েশা (রা) এর হুজুরার পর্দা সরিয়ে দেখলেন মুসলমানগণ হযরত আবু বকর (রা) এর পিছনে ফজরের নামাজ আদায় করছে। এতে তিনি খুশী হয়ে একটু হাসলেন।
৮. ১২ রবিউল আউয়াল দিনের শেষভাগে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার সময় 'হে আল্লাহ! হে আমার পরম বন্ধু' এই বলে ৬৩ বছর বয়সে মহানবী (স) ৬৩২ খ্রি. ৭ জুন সোমবার ইনতিকাল করেন। ইন্না লিল্লাহে অইন্না ইলাইহে রাজিউন। তাঁর মোট জীবনকাল ২২,৩৩০ দিন ৬ ঘণ্টার মত।
৯. মদিনায় অবস্থান : ১০ বছর।
১০. গোছল: হযরত আলী, হযরত আব্বাস, আব্বাসের দুই ছেলে ফজল ও কুছাম, উসামা বিন যায়েদ (রা) গোছল করালেন। হযরত (স) এর মুক্ত গোলাম শুকরান পানি ঢাললেন। হযরত (স) কে কাপড় পরিহিত অবস্থায় গোছল করান হয়। তিনি চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ইনতিকাল করেন।
১১. হযরত আলী (রা) কে সম্বোধন ও শেষ সতর্কবাণী 'সাবধান! তোমাদের দাস- দাসীদের প্রতি নির্মম হবে না'।
১২. হযরত আয়েশা (রা) এর কোলে শেষ বাণী- 'সাবধান! সালাত। সালাত! তোমাদের দাস-দাসী গরীব মানুষ'।
১৩. ইনতিকালের সময় রাসূলুল্লাহ (স) এর কাছে মাত্র সাত দিরহাম ছিল। তাও তিনি গরীবদের মধ্যে বিতরণ করে দেন।
১৪. মহানবীর (স) জানাযার সালাত। ১৩ রবিউল আউয়াল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সম্পন্ন করে বুধবার মাঝরাতে তাঁর প্রিয় শহর মদিনার বুকে আয়েশা (রা) এর ঘরে (যেখানে তিনি ইনতিকাল করেন পরবর্তীকালে মসজিদে নববির সম্প্রসারণের ফলে রওজা মুবারক মসজিদে ভিতরে পড়ে যায়) রাসূল (স) কে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য যে, রাসূল (স) এর জানাযার সালাতে কেউ ইমামতি করেননি। আলী, ফজল, কুছাম এবং শুকরান (রা) কবরে নেমে লাশ রাখেন। হযরত বিলাল (রা) কবরে পানি ছিটান।