📄 পরিচয়
প্র: নবী ও রাসূল বলতে কী বুঝায়?
- আল্লাহ যে কাজ পছন্দ করেন, আল্লাহ যে কথা ভালবাসেন, আমরা সেই কাজ করবো, সেই কথা বলবো; যা আল্লাহর পছন্দ নয়, তা থেকে দূরে থাকবো- এই বিষয়ে আল্লাহর হুকুম যাঁরা আমাদের শুনালেন, তাঁরাই নবী ও রাসূল।
প্র: দুনিয়ায় কতজন নবী ও রাসূল এসেছেন?
- পৃথিবীতে ১ লাখ ২৪ হাজার; মতান্তরে ২ লাখ ২৪ হাজার নবী রাসূল এসেছেন।
প্র: সর্বশেষ নবী কে?
- হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা)।
প্র: ছোটবেলায় রাসূল (সা) কে আল আমিন বলে ডাকা হতো কেন?
- আল আমিন অর্থ বিশ্বস্ত। ছোটবেলায় আমাদের নবীকে আল আমিন বলে ডাকা হতো এজন্য যে, ছোট বেলাতেই তাঁর স্বভাব এবং চাল-চলন খুব ভাল ছিল। তিনি কখনও মিথ্যা কথা বলতেন না, ঝগড়া করতেন না, খারাপ কথা বলতেন না, খারাপ কাজ করতেন না। তিনি ছিলেন খুব বিশ্বাসী। কেউ তাঁকে কোন দামী জিনিস বা টাকা-পয়সা রাখতে দিলে তা তিনি যত্ন করে রাখতেন এবং ঠিকমত তা ফেরত দিতেন। এসব কারণে তাঁকে 'আল আমিন' বলে ডাকা হতো।
প্র: রাসূলের (স) পাঁচটি গুণ কী কী?
১. রাসূল (স) সত্যবাদী ছিলেন;
২. তিনি সকলকে ভালবাসতেন এবং ভাল কাজে সাহায্য করতেন;
৩. তিনি সব ওয়াদা পালন করতেন;
৪. তিনি মিষ্টভাষী ছিলেন;
৫. তিনি সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতেন।
প্র: আল্লাহ সব নবীর কাছেই কি কিতাব পাঠিয়েছেন?
- না; সব নবীর কাছে কিতাব পাঠাননি। কোন কোন নবীর কাছে আল্লাহ তাঁর হুকুম-আহকাম ও বাণী পাঠিয়েছেন। কোন কোন নবীর কাজ ছিল পূর্ববর্তী নবীর শিক্ষাকে প্রচার করা। যাঁদের উপর কিতাব নাযিল করা হয়েছে তাঁদেরকে রাসূল বলা হয়।
প্র: কোন্ রাসূলের কাছে কোন্ কিতাব নাযিল করা হয়েছে?
১. হযরত দাউদ (আ) এর কাছে যাবুর;
২. হযরত মূসা (আ) এর কাছে তাওরাত;
৩. হযরত ঈসা (আ) এর কাছে ইঞ্জিল;
৪. হযরত মুহাম্মদ (স) এর কাছে আল কুরআন।
প্র: নবী কাদেরকে বলা হয়?
- যে সকল মহাপুরুষ আল্লাহর ওহি বা বাণী লাভ করেছেন, তাঁদেরকে নবী বলা হয়।
প্রঃ নবী-রাসূলের কাজ কী কী?
- নবী ও রাসূলগণ আল্লাহর বাণী প্রচার করেছেন। নিজেরা আল্লাহর হুকুম মেনে চলে অন্যদের সামনে আদর্শ স্থাপন করেছেন, অন্যদেরকে আল্লাহর হুকুম মানতে বলেছেন এবং অন্যায় ও খারাপ কাজ বর্জন করতে বলেছেন। তাঁরা সমাজের ভাল লোকদের একত্র করেছেন। যারা নবীদের কথা শোনেনি এবং অন্যায় কাজ চালু রেখে নবীদের বিরোধিতা করেছে, নবীরা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনবোধে জিহাদও করেছেন এবং দুনিয়ায় আল্লাহর হুকুম কায়েম করেছেন।
প্র : আমরা কোন্ নবীর অনুসারী বা উম্মত?
- আমাদের নবী হলেন হযরত মুহাম্মদ (স), তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবী আসবেন না। তিনি শেষ নবী, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। আমরা তাঁরই উম্মত।
প্র: কোন নবীর সময়ে বায়তুল মুকাদ্দাস তৈরি হয় এবং কোন্ নবী পশু-পাখীদের ভাষা বুঝতেন?
- হযরত সুলায়মান (আ)।
প্র: কোন্ নবীর কণ্ঠের মিষ্টি সুরে আল্লাহর বাণী তেলাওয়াত শুনে মাহু মুগ্ধ হয়ে যেতো?
- হযরত দাউদ (আ) এর।
প্র : কোন্ নবীকে তাঁর ভাইয়েরা কূপে ফেলে দেয়?
- হযরত ইউসূফ (আ) কে।
প্রঃ কোন্ নবীর আমল থেকে কোরবানি প্রথা শুরু হয়?
- হযরত ইবরাহীম (আ) এর আমলে।
প্র: কীট-পতঙ্গের নামে কুরআনের কোন্ তিনটি সূরার নামকরণ করা হয়েছে?
১. সূরা নাহল (মৌমাছি); ২. সূরা নামল (পিঁপড়া); ৩. সূরা আন্কাবৃত (মাকড়সা)।
প্রঃ রাসূলগণের সংখ্যা কত?
- ৩১৩ জন।
প্র : রাসূলগণের প্রধান কত জন?
- পাঁচ জন। যেমন: ১. হযরত নুহ (আ); ২. হযরত ইবরাহীম (আ); ৩. হযরত মুসা (আ); ৪. হযরত ঈসা (আ) ৫. সর্বশেষ হযরত মুহাম্মদ (স)।
প্র: খাতনা অবস্থায় কতজন নবীর জন্ম হয়েছে?
- ১৪ জন। যেমন ১. হযরত আদম (আ); ২. হযরত শীষ (আ); ৩. হযরত ইদ্রিস (আ); ৪. হযরত নুহ (আ); ৫. হযরত লুত (আ); ৬. হযরত ইউসুফ (আ); ৭. হযরত মুসা (আ); ৮. হযরত শুয়ায়িব (আ); ৯. হযরত সুলাইমান (আ); ১০. হযরত ইয়াহ্ইয়া (আ); ১১. হযরত ঈসা (আ); ১২. হযরত সালেহ (আ); ১৩. হযরত হুদ (আ); ১৪. হযরত মুহাম্মদ (স)।
প্র: মুখে হাই আসেনা কাদের?
- নবীদের।
প্রঃ স্বপ্নদোষ হয় না কাদের?
- নবীদের।
প্র: কোন্ কোন্ ব্যক্তি নিজেও নবী এবং রাসূলুল্লাহরও সাহাবী ছিলেন?
- ১. হযরত ঈসা (আ); কারণ মিরাজের রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ (স) এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি স্বশরীরেই ঊর্ধ্বজগতে জীবিত আছেন। আর অন্যান্য নবীগণ রূহানী সাক্ষাৎ করেছেন।
২. হযরত খিজির (আ); কারণ কোন কোন বর্ণনায় তার সাক্ষাৎ রাসূলুল্লাহ (স) এর সাথে প্রমাণিত আছে। (আল ঈসাবা; হায়াতে ঈসা (আ))
প্রঃ রাসূল (স) মিরাজে কোন্ সাহাবীর কণ্ঠস্বর এবং কোন্ সাহাবীর পায়ের আওয়াজ শুনতে পান?
- যথাক্রমে হযরত আবু বকর ও বিলাল (রা) এর।
প্র: রাসূল (স) এর সবচেয়ে বড় মুজিযা কোনটি?
- আল কুরআন।
প্র: কখনো কখনো একজন সাহাবীর আকৃতি নিয়ে জিবরাইল (আ) অহী নিয়ে আসতেন, সে সাহাবীর নাম কী?
- দাহিয়াতুল কালবি (রা)।
প্র: 'যাতুন নিতাকাইন' কার উপাধি?
- হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা) এর।
প্রঃ রাসূল (স) কাকে 'কুরআনের ভাষ্যকার' উপাধি দিয়েছেন তাঁর নাম এবং জন্ম ও মৃত্যু তারিখ কত?
- আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) কে, জন্ম হিজরতের তিন বছর পূর্বে ৬২০ খ্রি. আর মৃত্যু ৬৮ হিজরীতে।
প্র : আবু জাহলকে হত্যাকারী কিশোর সাহাবীদ্বয়ের নাম কী?
- হযরত মায়ায ও মুআয (রা)।
প্র : জান্নাতুল বাকী কী?
- সাহাবা ও রাসূল (স) এর স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততিদের সমাধিস্থল।
প্র : তিনজন সাহাবী বাংলাদেশে এসেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়, তাঁদের নাম কী?
- ১. হযরত মামুন (রা); ২. হযরত মুহাইমিন (রা); ৩. হযরত হাসিদ উদ্দিন (রা)।
প্র: একজন সাহাবীর নাম কী যিনি কবি ছিলেন?
- হযরত কাব বিন যুহাইর (রা)।
প্র : রাসূল (স) এর সর্বকনিষ্ঠ সাহাবীর নাম কী?
- হযরত রাকি (রা)।
প্রঃ জুন নুরাইন কার উপাধি ছিল?
- হযরত উসমান (রা) এর।
প্র: আসাদুল্লাহ কার উপাধি?
- হযরত আলী (রা) এর।
প্র: রূহুল্লাহ্ কার উপাধি?
- হযরত ঈসা (আ) এর।
প্র : সাইফুল্লাহ্ কার উপাধি এবং অর্থ কী?
- খালিদ বিন ওয়ালিদের; অর্থ আল্লাহর তলোয়ার।
প্র : রাহমাতুল্লিল আলামিন কাকে বলা হয়? কেন?
- হযরত মুহাম্মদ (স) কে; কেননা তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্যে রহমাত স্বরূপ।
প্র: সিরাতুন্নবী শব্দের অর্থ কী?
- নবী চরিত।
প্র: মদীনায় হিজরতের সময় হযরত মুহাম্মদ (স) যে উটে চড়েছিলেন তার নাম কী?
- কাছওয়া।
প্র : রাসূল (স) মদিনায় হিজরতের পর কার মেহমান হন?
- হযরত আবু আইউব আনসারী (রা) এর।
প্র : নবুওয়াত প্রাপ্তির পর হেরা গুহা থেকে ফিরে বিবি খাদিজার (রা) কাছে গেলে তিনি রাসূল (স) কে কী নামে সম্বোধন করেছিলেন?
- আবুল কাসেম বলে।
প্রঃ কে রাসূল (স) এর সর্বশেষ সাহচর্য প্রাপ্তির দাবিদার?
- আবু তোফায়েল আমেরী।
প্র : ক্রমানুসারে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে হযরত উমর (রা) কততম ব্যক্তি?
- ৫১ তম।
প্র : মহানবীর সময়ে ইসলামের প্রথম রক্তপাতের ঘটনার সূত্রপাত করেন কে?
- হারিস (রা)।
প্র: ব্যবসায় সাহায্যের জন্য হযরত খাদিজা (রা) কাকে মহানবীর সাথে দিয়েছিলেন?
- মাইসারা কে।
প্র: হিজরতকালীন সাওর পর্বতের গুহায় অবস্থানকালে কে তাদেরকে খাদ্য সরবরাহ করতেন?
- হযরত আসমা (রা)।
প্রঃ রাসূল (সা) মক্কার বাইরে প্রথমে কোন দেশ সফর করেন?
- তায়েফ।
প্র: হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স) মক্কার বাইরে প্রথমে কোন্ দেশে সফর করেন?
- সিরিয়া।
প্র: মিরাজের সময় জিবরাইল (আ) মুহাম্মদ (সা) কে নিয়ে প্রথম আকাশের একটি দরজায় গিয়ে থামেন, সেই দরজার নাম কী এবং সেখানে কর্তব্যরত ফিরিস্তার নাম কী?
- দরজার নাম পাহারাদারের দরজা ও ফিরিস্তার নাম ইসমাইল।
প্র: যাঁদের পিতা ছিলনা এমন দুইজন নবীর নাম কী?
- হযরত আদম (আ) ও হযরত ঈসা (আ)।
টিকাঃ
১. হয়াতুল হায়ওয়ান পৃ. ৬৯
📄 নবী ও রাসূলের পার্থক্য
নবী
১. নবী শব্দের শাব্দিক অর্থ সংবাদ বাহক।
২. যে মহাপুরুষ আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষকে সুপথ দেখানোর জন্য নতুন কোন আসমানী কিতাব প্রাপ্ত হন না বরং পূর্ববর্তী কোন রাসূলের প্রাপ্ত কিতাব অনুযায়ী তাঁর শরীআতের দিকে লোকদের আহ্বান করেন, তাকে নবী বলে।
৩. নবী শব্দটি সাধারণ অর্থবোধক নবী-রাসূল উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
৪. নবীগণ রাসূল নন।
৫. নবীগণ সাধারণ।
৬. নবীগণ আসমানী কিতাব পাননি।
৭. নবীগণ পূর্ববর্তী রাসূলের কিতাবানুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন।
৮. নবীগণ পূর্ববর্তী রাসূলের শরীআতের প্রচার করেন।
৯. নবীদের প্রচার ক্ষেত্র ছিল সীমিত ও গন্ডীর মধ্যে।
১০. নবীগণ আংশিক জীবন-বিধান পেতেন।
রাসূল
১. রাসূল শব্দের শাব্দিক অর্থ প্রেরিত দূত।
২. যে মহাপুরুষ আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদেরকে পথ দেখানোর জন্য কোন নতুন আসমানী কিতাব প্রাপ্ত হন এবং নতুন শরীআত প্রবর্তন করেন, তাঁকে রাসূল বলে।
৩. রাসূল শব্দটি নির্দিষ্ট অর্থজ্ঞাপক, শুধু নবীর ক্ষেত্রে রাসূল বলা হয় না।
৪. প্রত্যেক রাসূল নবীও বটে।
৫. রাসূলগণ বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।
৬. রাসূলগণ আসমানী কিতাব পেয়েছেন।
৭. রাসূলগণ নিজের উপর অবতীর্ণ কিতাবানুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন।
৮. রাসূলগণ প্রাপ্ত শরীআত প্রচার করেন।
৯. রাসূলগণের প্রচারক্ষেত্র ছিল ব্যাপক ও বিস্তৃত।
১০. রাসূলগণ পূর্ণাঙ্গ জীবন-বিধান পেতেন।
📄 প্রসিদ্ধ নবী-রাসূলদের পরিচিতি
হযরত নুহ (আ)
প্র: হযরত নুহ (আ) কত বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিলেন?
- তার সঠিক কোন তথ্য কোন আসমানি গ্রন্থে উল্লেখ নেই। ঐতিহাসিক এবং পণ্ডিতগণও এ বিষয়ে কোন স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। তবে সে যে হাজার হাজার বছর আগের কথা তাতে কোন সন্দেহ নেই। পাঁচ হাজার বছর আগের ব্যাবিলনিয়ান সুমেরিয়ান সাহিত্যে হযরত নুহ (আ) এর সময়কার সেই ভয়ংকর প্লাবনের কথা উল্লেখ আছে।
প্র: তাঁর কি আর কোন নাম দেওয়া হয়?
- হ্যাঁ; তাঁকে দ্বিতীয় আদম বলা হয়।
প্র: তিনি কি নবুয়াত পেয়েছিলেন?
- হ্যাঁ।
প্রঃ তখন তার বয়স কত?
- ৪০ বছর।
প্র: তিনি কি বিবাহিত ছিলেন?
- হ্যাঁ।
প্র: তাঁর কয় জন পুত্র-কন্যা ছিল?
- চারজন পুত্র ছিল, কন্যার কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না।
প্র: চার পুত্রের নাম কী কী?
- হাম, সাম, ইয়াফিস ও কিনান।
প্র: সেমিটিক জাতি নুহ (আ) এর কোন পুত্রের বংশধারার নাম?
- সাম।
প্রঃ হযরত নুহ (আ) এর সময়কার সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ঘটনা কী?
- বিশ্বব্যাপী প্রলয়ংকর প্লাবন।
প্র : কতদিনের অবিশ্রান্ত ধারায় বৃষ্টির ফলে এই প্লাবন হয়?
- ৪০ দিন ৪০ রাত্রি।
প্র: কেন এই মহাপ্লাবন হয়েছিল?
- সে সময় মানুষের এত অধঃপতন হয়েছিল যে, পৃথিবী বিভিন্নরকম পাপে ডুবে গিয়েছিল। তাই আল্লাহ তাআলা এই মহাধ্বংসাত্মক প্লাবন সৃষ্টি করেছিলেন। প্লাবনে ধ্বংসের পর আল্লাহ তাআলা সকল জীবনের ধারা আবার নতুন করে সৃষ্টি করেছিলেন।
প্র: সেই মহাপ্লাবন থেকে হযরত নুহ (আ) রক্ষা পেয়েছিলেন কিভাবে?
- আল্লাহ তাঁকে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন এই পাপমগ্ন পৃথিবী তিনি প্লাবনে ধ্বংস করে দেবেন এবং তাঁকে আদেশ দিয়েছিলেন বড় একটা জাহাজ নির্মাণ করে পরিবার পরিজনসহ তাতে আশ্রয় নিতে আর সেই জাহাজে প্রত্যেক জীবজন্তুর একজোড়া করে তুলে নিতে, যাতে ধ্বংসের পর বিচিত্র জীবনের ধারা অক্ষুণ্ণ থাকে।
প্র: সেই জাহাজ কত বড় ছিল?
- জাহাজটির দৈর্ঘ্য ছিল ৩০০ হাত, প্রস্থ ছিল ৫০ হাত, আর উচ্চতা ছিল ২০ হাত।
প্র : সেই মহাপ্লাবনে হযরত নুহ (আ) এর পরিবার পরিজনের সকলেই কি বেঁচে গিয়েছিলেন?
- না; তাঁর স্ত্রী এবং পুত্র কিনান অবাধ্য ছিল। তাই তারা দুইজন সেই প্লাবনে ডুবে মারা গিয়েছিল।
প্র: প্লাবনের পানি কত উঁচুতে উঠেছিল?
- সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের মাথাও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
প্র: বন্যায় ভাসতে ভাসতে হযরত নুহ (আ) এর জাহাজ কোথায় গিয়ে থামে?
- ইরাকের উত্তর সীমান্তে টার্কির কাছাকাছি জুদি পর্বতের কাছে।
প্র: কোন অঞ্চলে তিনি ইসলাম প্রচার করতেন?
- বর্তমান ইরাকে।
প্র: তিনি কত বছর বেঁচে ছিলেন?
- ১০৫০ বছর।
প্রঃ হযরত নুহ (আ) এর পর কোন নবীর আবির্ভাব হয়েছিল?
- হযরত হূদ (আ) এর।
হযরত হুদ (আ)
প্র: কোন জাতিকে আলোর পথ দেখাতে আল্লাহ তাআলা হযরত হুদ (আ) কে প্রেরণ করেছিলেন?
- আদ জাতিকে।
প্র: কুরআনে হুদ (আ) এর নাম কতবার উল্লেখ আছে?
- ৭ বার।
প্র: আদ জাতি কোন দেশে বসবাস করত?
- ইয়ামানের কাছাকাছি অঞ্চলে।
প্র: আদ জাতির লোকেরা কেমন ছিল?
- অত্যন্ত গর্বিত, ঔদ্ধত আর পাপীষ্ঠ ছিল। তারা এত গর্বিত আর পাপীষ্ঠ ছিল যে, তাদেরই একজন নিজেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলে দাবি করে এবং একটা নকল জান্নাত পর্যন্ত সৃষ্টি করে।
প্র: নকল জান্নাত কে তৈরি করেন?
- শাদ্দাদ। সেজন্যই তার উপর আল্লাহর গযব নেমে আসে এবং অভিশপ্ত শাদ্দাদ ধ্বংস হয়ে যায়। মহা অহংকারের সঙ্গে আল্লাহ সেজে যখন সে তার তৈরি নকল জান্নাতে প্রবেশ করতে যায় তখনই তার মৃত্যু হয়।
প্রঃ হযরত হুদ (আ) এর প্রতি আদ জাতির কেউ কী ঈমান এনেছিল?
- অল্প কয়েকজন। সারা দেশ তাঁর আহ্বানকে উপেক্ষা করে পাপে ডুবে ছিল। আর এই আদ জাতির উপর আল্লাহ তাআলার গযব নেমে এসেছিল। তিনি তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।
প্রঃ আল্লাহ কিভাবে তাদেরকে ধ্বংস করেন?
- প্রথমে সারা দেশে হয়েছিল অনাবৃষ্টি। তারপর আটদিন সাতরাত ধরে প্রচন্ড বেগে ঝড়-তুফান হয়। তাতেই তাদের পাহাড়ের মত মজবুত পাথরের ঘরবাড়ি- যা তারা ভাবত কখনো ধ্বংস হবে না, সবকিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। প্রত্নতত্ত্ববিদরা আজ তাদের ধ্বংস চিহ্ন বালি খুঁড়ে বের করছেন।
প্রঃ শুধু হুদ (আ) রক্ষা পেয়েছিলেন?
- হ্যাঁ।
প্রঃ সেই ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেশে তিনি কি একাই থাকতেন?
- না; আদ জাতি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর তিনি কাছাকাছি হাযরা মাউত অঞ্চলের কোন এক শহরে চলে যান।
প্রঃ তিনি কতদিন জীবিত ছিলেন?
- জানা যায় না; তবে সেই শহরেই তাঁর মৃত্যু হয় এটুকু জানা আছে।
হযরত ইদ্রিস (আ)
প্রঃ কুরআন শরীফের কোন কোন সুরায় হযরত ইদ্রিস (আ) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
- সূরা মারইয়ামে- ১ বার, সূরা আম্বিয়ায়- ১ বার।
প্রঃ আল্লাহ তাআলা হযরত ইদ্রিস (আ) কে তাঁর বিশেষ কোন্ অনুগ্রহের কথা বলেছিলেন?
- আল্লাহ তাআলা তাঁকে বলেছিলেন, সারা বিশ্বের মানুষ প্রতিদিন যত পূণ্য অর্জন করবে, আমি তোমায় একাকেই তার সমপরিমাণ পূণ্য দান করব।
প্রঃ আল্লাহ তাআলা তাঁকে কোন্ দেশে প্রেরণ করেছিলেন?
- মিসরের কাছের কোন দেশে।
প্রঃ তাঁর বিশেষ কী কী গুণ ছিল?
- তিনি তখনকার সময়ের অনেক ভাষা জানতেন। বাহাত্তরটির কম নয়। আর কম করে দু'শোটি নগর পত্তন করেছিলেন। সর্বপ্রথম জ্যোতির্বিদ্যার প্রবর্তন তিনিই করেন। নবীদের মধ্যে তাঁর কাছেই সর্বপ্রথম ঔষধ সম্পর্কে ওহি নাযিল হয়।
প্র: তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি কী?
- জ্ঞান হচ্ছে আত্মার খাদ্য।
প্র: আর কী কী মহৎ কাজ তাঁকে চিরমহিমান্বিত করে রেখেছে?
- মানুষকে তিনিই প্রথম অক্ষর জ্ঞান দান করেছিলেন। সভ্যতা, নাগরিকতা এবং বলতে গেলে রাজনীতিও প্রথম শুরু তাঁর হাতেই।
প্র: তিনি কত বছর জীবিত ছিলেন?
- ৫৮ বছর।
প্র: ফিরিশতা আব্রাইল কোথায় তাঁর রুহ কবজ করেছিলেন?
- চতুর্থ আকাশে।
হযরত সালেহ (আ:)
প্র: হযরত সালেহ (আ:) কত বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিলেন?
- জানা যায়নি। তবে তিনি হযরত হুদ (আ:) এর কিছু পরে এসেছিলেন।
প্র: কোন জাতির মধ্যে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে প্রেরণ করেছিলেন?
- সামুদ জাতি। কুরআন শরীফে সামুদের কথা উল্লেখ আছে।
প্র: এদের দেশ কোথায় ছিল?
- সে যুগে মক্কা থেকে সিরিয়া যাবার পথে একটি বিস্তীর্ণ প্রান্তরের জুড়ে সামুদ জাতির ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ত।
প্র: সে যুগের কোন অভিশপ্ত জাতির সঙ্গে সামুদ জাতি বংশসূত্রে জড়িত ছিল?
- আদ জাতির। তাই সামুদকে দ্বিতীয় আদও বলা হয়।
প্র: কুরআন শরীফে নাকাউল্লাহ বা আল্লাহর উষ্ট্রীর কথা বলা হয়েছে, সেটি কোনটি?
- সামুদ জাতি হযরত সালেহ (আ:) কে আল্লাহর নবী হিসেবে বিশ্বাস করত না। শেষে তারা বলল, আপনি নবীত্বের নিদর্শন হিসেবে পাহাড়ের পাথর থেকে একটি উট বের করে আনুন, তাহলে আপনাকে আমরা নবী বলে মেনে নেব। হযরত সালেহ (আ:) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন। আল্লাহর অনুগ্রহে তিনি পাহাড় থেকে একটা উট বের করলেন। সেই অলৌকিক উটকে বলা হয়েছে নাকাউল্লাহ বা আল্লাহর উষ্ট্রী।
প্র: হযরত সালেহ (আ:) আল্লাহর সেই উষ্ট্রীর সম্পর্কে সামুদদের কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?
- যেন তারা তাকে হত্যা না করে। কারণ সেটি স্বয়ং আল্লাহর উষ্ট্রী।
প্র: তারা কি তাঁর কথা শুনেছিল?
- না; তারা উটটিকে হত্যা করেছিল। কারণ তাদের বেশির ভাগই ছিল অবিশ্বাসী ও পাপী।
প্রঃ সে পাপের শাস্তি কি তাদের পেতে হয়েছিল?
- হ্যাঁ; সেই অভিশপ্ত পাপিষ্ঠ জাতির উপরেও আদ জাতির মতই আল্লাহ তাআলার গযব নেমে এসেছিল। তিনদিনের মধ্যে তাদের সবকিছু ধ্বংস হয়ে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছিল। সেই প্রচন্ড ধ্বংসলীলার ভিতর থেকে শুধু বেঁচে গিয়েছিলেন হযরত সালেহ (আ) এবং কয়েকজন পুণ্যবান ব্যক্তি।
হযরত ইবরাহীম (আ)
প্র : হযরত ইবরাহীম (আ) কোন্ দেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
- সে কালের ব্যাবিলনিয়া-সুমেরিয়ায়, বর্তমান ইরাক। সুমেরিয়ায় উর-নগরে তাঁর জন্ম হয়।
প্র : কুরআন শরীফে তাঁর নাম কতটি সূরা ও আয়াতে এসেছে?
- ২৫টি সূরায়, ৬৩টি আয়াতে।
প্র: তাঁর পিতার নাম কী?
- আযর, সে পেশায় কুমার ছিল দেব-দেবীর মূর্তি তৈরি করে বিক্রয় করত।
প্র: তাঁর মায়ের নাম কী?
- আদনা।
প্র: তারা কি মূর্তিপূজক ছিল?
- শুধু তারা কেন, তাদের সমগ্র জাতিই বিভিন্ন দেব-দেবীর ও নক্ষত্রের পূজা করত।
প্র: তখন ব্যাবিলনিয়ার সিংহাসনে কোন সম্রাট ছিল?
- নমরূদ।
প্র: হযরত ইবরাহীম (আ) কে কী আর কিছু বলা হয়?
- আবুল আম্বিয়া বা নবীদের পিতা বলা হয়। তাঁকে খলিলুল্লাহও বলা হয়।
প্র: খলিলুল্লাহর অর্থ কী?
- আল্লাহর বন্ধু।
প্র: হযরত ইবরাহীম (আ) কি নমরূদকে আল্লাহ বলে মেনে নিয়েছিলেন?
- না; তিনি তাঁর মাতা-পিতা এবং জাতির মত মূর্তিপূজা করতেন না। তিনি সর্বশক্তিমান এক আল্লাহর উপাসনা করতেন এবং আল্লাহর মনোনীত ইসলাম ধর্ম প্রচার করতেন। নমরূদ তাই তাঁকে জ্বলন্ত আগুনে ফেলে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল।
প্র : নমরূদ হযরত ইবরাহীম (আ) কে জ্বলন্ত আগুনে ফেলার পর কী ঘটেছিল?
- আগুনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কুদরাতে সে আগুন ফুলবাগানে পরিণত হয়েছিল।
প্র : শয়তান নমরূদের মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল?
- অহঙ্কারে মত্ত হয়ে মহা আস্ফালনে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে তুচ্ছ একটি মশার কামড়ে তার মৃত্যু হয়।
প্র : হযরত ইবরাহীম (আ) কি বিবাহিত ছিলেন?
- হ্যাঁ; তাঁর দুই স্ত্রী ছিলেন।
প্র : স্ত্রীদের নাম কী কী?
- সারা এবং হাজেরা (আ)।
প্র : তাঁর পুত্রদের নাম কী কী?
- ইসমাইল, ইসহাক আর মিদয়ান।
প্র : নমরূদের আগুন থেকে বেঁচে তিনি কি ব্যাবিলনিয়াতেই থেকে গিয়েছিলেন?
- না; স্ত্রী সারা এবং ভ্রাতুষ্পুত্র লুত (আ) কে সাথে নিয়ে ব্যাবিলনিয়া ত্যাগ করে ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিম দিকে কোথাও চলে গিয়েছিলেন। তারপর কোন প্রয়োজনে মিসরে গিয়েছিলেন এবং মিসরের অত্যাচারী ফেরাউনের প্রসাদে অবস্থান করেছিলেন।
প্র : কোন কারণে ফেরাউনের কাছে কি তিনি কারো পরিচয় গোপন করতে বাধ্য হয়েছিলেন?
- হ্যাঁ; স্ত্রীর পরিচয়।
প্র : কী পরিচয় দিয়েছিলেন?
- স্ত্রীকে নিজের বোন হিসেবে পরিচয় দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
প্র : এতে কি কোন দোষ হয়নি?
- না; স্ত্রীকে দ্বীনী বোনও বলা চলে। তাছাড়া এমনিতেও আত্মীয়তার দিক থেকে তাঁরা অনেক দূর সম্পর্কের ভাই-বোন ছিলেন।
প্র : মা হাজেরা কে ছিলেন?
- মিসরের সেই অত্যাচারী ফেরাউনের কন্যা। হযরত ইবরাহীম (আ) এবং সারা নিঃসন্তান ছিলেন। তাই ফেরাউন তার কন্যাকে তাঁকে উপহার দিয়েছিল। রাজকন্যা হাজেরাকে পরে তিনি বিবাহ করেছিলেন।
প্র : হযরত ইবরাহীম (আ) কত বছর পর্যন্ত নিঃসন্তান ছিলেন?
- ৮৬ বছর বয়স পর্যন্ত।
প্র : প্রথম পুত্র হযরত ইসমাইল (আ) তাঁর কত বছর বয়সে জন্মগ্রহণ করেন?
- ৮৬ বছর বয়সে।
প্র : ইসমাইল (আ) এর মা কে?
- হাজেরা (আ)।
প্র : দ্বিতীয় পুত্র ইসহাক (আ) এর যখন জন্ম হয় তখন হযরত ইবরাহীম (আ) এর বয়স কত?
- ১০০ বছর।
প্র: ইসহাক (আ) এর মা কে?
- প্রথম স্ত্রী সারা।
প্র : হযরত ইবরাহীম (আ) মা হাজেরা আর শিশু ইসমাইলকে কেন মরুভূমিতে নির্বাসিত করে এসেছিলেন?
- সারা মা হাজেরার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন। তাঁর উপর নানারকম জ্বালাতন শুরু করেন। তাই শেষ পর্যন্ত আল্লাহর আদেশে হযরত ইবরাহীম (আ) মা হাজেরা আর শিশু ইসমাইলকে মরুভূমিতে নির্বাসিত করে আসেন।
প্র: কোন্ জনমানবহীন মরুভূমিতে?
- মক্কায়; সে যুগে জায়গাটার নাম ছিল বাক্কা।
প্রঃ হাজেরা (আ) এর কোনো পবিত্র স্মৃতি কি আজও আমরা স্মরণ এবং অনুসরণ করি, যেটা ধর্মের একটা পবিত্র অঙ্গ?
- হ্যাঁ; সেই জ্বলন্ত মরুভূমিতে কোথাও পানি ছিল না। শিশু ইসমাইল পানির অভাবে মারা যাচ্ছিলেন। সেই সময় নিরুপায় মা হাজেরা শিশুকে বালুতে শুইয়ে রেখে পানির জন্য আকুল হয়ে আল্লাহর কাছে বুক ফাটা প্রার্থনা নিয়ে নিকটবর্তী সাফা এবং মারওয়া পর্বতের মাঝে পাগলের মত সাতবার দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন। এই হৃদয়বিদারক করুণ ঘটনাকে স্মরণ করেই হাজীগণ হজ্জের সময় সাফা মারওয়ায় সায়ী করেন বা সাতবার দৌড়ান।
প্র: শিশু ইসমাইলের পায়ের ছোঁয়ায় কোন অলৌকিক কাণ্ড ঘটে?
- যমযম কূপের সৃষ্টি হয়। মা হাজেরা পানির জন্যে পাগলের মত সাফা মারওয়ায় ছুটাছুটি করতে করতে এক সময় নিরাশ হয়ে ফিরে এসে অবাক হয়ে দেখেন শিশু ইসমাইলের পায়ের আঘাতে মরুভূমি ফেটে পানির নহর বইছে।
প্রঃ কে কাবা ঘর পুনঃনির্মাণ করেন?
- পুত্র ইসমাইলকে সাথে নিয়ে হযরত ইবরাহীম (আ)। হযরত নুহ (আ) এর প্লাবনের সময় এবং আরও নানান প্রাকৃতিক কারণে হযরত আদম (আ) প্রতিষ্ঠিত কাবা ঘর প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তাই আল্লাহর আদেশে হযরত ইবরাহীম (আ) পুত্র ইসমাইল (আ) কে সঙ্গে নিয়ে কাবা ঘর পুনঃনির্মাণ করেন। তারপর আল্লাহর আদেশেই তিনি মানুষকে আল্লাহর পবিত্র ঘরে অর্থাৎ কাবাঘরে আসার জন্য আহ্বান জানান। সেই থেকেই হজ্জের শুরু।
প্র: কাবা যখন তিনি নতুন করে তোলেন তখন তাঁর এবং ইসমাইল (আ) এর বয়স কত?
- হযরত ইসমাইল (আ) এর ২০ এবং হযরত ইবরাহীম (আ) এর ১০৬ বছর।
প্র : কাবা শরীফে হযরত ইবরাহীম (আ) এর কোন স্মৃতিচিহ্ন আছে কি?
- আছে; যে পাথরের উপর দাঁড়িয়ে তিনি কাবা শরীফ নির্মাণ কাজ করতেন সেই পাথরে তাঁর পবিত্র পায়ের ছাপ পড়ে গিয়েছিল। তাঁর পবিত্র পায়ের ছাপ পড়া পাথরটি আজও আছে। কাবা শরীফের সেই স্থানটির নাম মাকামে ইবরাহীম।
প্রঃ পুত্র ইসমাইল (আ) এবং ইসহাক (আ) এর ভিতর কাকে তিনি আল্লাহর আদেশে পেয়ে কোরবানি দিতে গিয়েছিলেন?
- ইসমাইল (আ) কে। তাঁর এই পুত্র কোরবানি দিতে যাওয়াকে অনুসরণ করেই হজ্জের সময় কোরবানি প্রথা পালিত হয়।
প্রঃ কোথায় তাঁকে কোরবানি দিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল?
- মক্কার নিকটবর্তী একটি পাহাড়ে।
প্র : তাওহীদে বিশ্বাসী মানুষকে হযরত ইবরাহীম (আ) কী নামে অভিহিত করেছিলেন?
- মুসলিম।
প্র : কত বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়?
- ১৭৫ বছর বয়সে।
প্র : হযরত ইবরাহীম (আ) কে সমাহিত করা হয় কোন পর্বতে?
- খালিলিয়া পর্বতে; এই পর্বত জেরুজালেমের কাছে খালিলিয়া শহরে।
প্রঃ মা হাজেরা (আ) এর কবর কোথায় অবস্থিত?
- কাবা শরীফ চত্বরে।
প্র : সারার মাযার কোথায় অবস্থিত?
- জেরুজালেমে হযরত সুলাইমান (আ) নির্মিত বায়তুল মুকাদ্দাসে।
হযরত ইসমাইল (আ)
প্র : আল্লাহ-প্রেমের পরীক্ষা হিসেবে হযরত ইবরাহীম (আ) যখন পুত্র ইসমাইল (আ) কে কোরবানি দিতে গিয়েছিলেন তখন বালক ইসমাইল (আ) এর বয়স কত ছিল?
- নয় বছর; মতান্তরে তের বছর।
প্র: তাঁকে কোরবানি করতে এবং তিনিও স্বেচ্ছায় কোরবানি হতে গিয়েছিলেন বলে তাঁকে আর একটি কী নামে অভিহিত করা হয়?
- যবিহুল্লাহ; এর অর্থ আল্লাহর নামে উৎসর্গীত।
প্র: তিনি কত বছর জীবিত ছিলেন?
- ১৩০ বছর।
প্র: কোথায় তাঁর মৃত্যু হয়?
- প্যালেস্টাইনে; সুতরাং তাঁর কবরও প্যালেস্টাইনে আছে।
প্র: ইসমাইল (আ) কোন বংশে বিবাহ করেছিলেন?
- মক্কার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জুরহুম বংশে। এই বংশের মুযাম ইবনু আমর জুরহুমী একজন অতি মর্যাদাবান লোক ছিলেন। হযরত ইসমাইল (আ) তাঁর কন্যাকেই বিবাহ করেছিলেন।
প্র: তাঁর পুত্র-সন্তানের সংখ্যা কত?
- ১২ জন।
প্র: তাঁর পুত্রদের নাম কী?
- নাবেত, কাইযার, আযরাল, মীশ, মাসমা, মাশী, দাম, আযর, তীম, ইয়াতুর, নাবাশ এবং কাইয়ুম।
প্র: ইসমাইল (আ) এর বংশধর কারা?
- তাঁর বংশধররা আরবে মুস্তায়রাযা নামে অভিহিত। অধিকাংশ আরববাসীই হযরত ইসমাইল (আ) এর পুত্র কাইযার ইবনু ইসমাইলের বংশধর। অর্থাৎ হযরত ইসমাইল (আ) এর বংশধর। রাসূলুল্লাহর (স.) ইসমাইল বংশেরই অধঃস্তন বংশধর।
প্র : হযরত ইবরাহীম (আ) এর পবিত্র কাবা ঘরের মুতাওয়াল্লী কে ছিলেন?
- তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র নাবেত।
প্র : তাঁর মৃত্যুর পর কে ছিলেন?
- তাঁর মৃত্যুর পর নাবেতের মাতামহ এই পদ লাভ করেছিলেন। এভাবেই কাবা ঘরের কর্তৃত্বভার ইসমাইলী বংশের হাত থেকে অন্য বংশের হাতে অনেক দিনের জন্য চলে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে কুসাই ইবনু কেলাব নামে একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি আবার ইসমাইলী বংশের হাতে কাবার কর্তৃত্বভার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
হযরত লুত (আ)
প্র: হযরত লুত (আ) এর সঙ্গে হযরত ইবরাহীম (আ) এর সম্পর্ক কী?
- তিনি হযরত ইবরাহীম (আ) এর ভ্রাতুষ্পুত্র ছিলেন।
প্রঃ কুরআন শরীফে তাঁর নাম আছে কি?
- হ্যাঁ; কুরআন শরীফে ২৭ বার তাঁর নাম এসেছে।
প্রঃ তিনি কার কাছে মানুষ হয়েছিলেন?
- হযরত ইবরাহীম (আ) এর কাছে। সেই পৌত্তলিকতার যুগে ছোট থেকেই তিনি হযরত ইবরাহীম (আ) এর কাছ থেকে এক আল্লাহর উপাসনার আলো পেয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি আল্লাহর নির্বাচিত নবীও ছিলেন।
প্র: কোন্ জাতির মধ্যে তিনি ইসলাম প্রচার করতেন?
- পাপিষ্ঠ সামুদ জাতির মধ্যে।
প্র: সামুদ জাতি পাপিষ্ঠ কেন?
- এমন কোন পাপ ছিল না যা তারা করত না এবং তাদের সবচেয়ে বড় পাপ ছিল তারা এক আল্লাহতে বিশ্বাস করত না এবং তারা সমকামী ছিল।
প্র: এই অভিশপ্ত জাতিকে আল্লাহ কী করেছিলেন?
- পাপের শান্তি হিসেবে আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।
প্র: কিভাবে গযব নেমে আসে?
- তাদের গোটা দেশ উল্টে ফেলে সাগরে পরিণত করে দেওয়া হয়েছিল।
প্র: সেই সাগরের নাম কী?
- মৃত সাগর (Dead Sea) বা লুত সাগর।
প্র: কোথায় সেই সাগর?
- জেরুজালেম এবং জর্ডান নদীর মধ্যভাগে। সম্ভবত এই সেই অঞ্চল, বাইবেলে যাকে সডোম-গমোরাহ বলা হয়েছে।
প্র: এই ধ্বংসকাণ্ড থেকে হযরত লুত-পরিবারের সকলে কি রক্ষা পেয়েছিলেন?
- না; তাঁর স্ত্রী রক্ষা পায়নি। কারণ সে অবাধ্য এবং অবিশ্বাসী ছিল।
প্র: হযরত লুত (আ) কি ফিরিস্তাদের দেখা পেয়েছিলেন?
- হ্যাঁ ফিরিস্তারা সুন্দর বালকের ছদ্মবেশে হযরত লুত (আ) এর ঘরে অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন।
প্র: হযরত লুত (আ) কত বছর জীবিত ছিলেন?
- জানা যায়নি।
হযরত ইসহাক (আ)
প্র: হযরত ইসহাক (আ) এর কথা কুরআন শরীফে কতবার এসেছে?
- ১৭ বার।
প্র: তাঁর স্ত্রীর নাম কী?
- রাফকা।
প্র: তাঁর ক'জন সন্তান ছিল?
- দুই পুত্র সন্তান ছিল।
প্র: তাদের নাম কী?
- ইসৌ এবং ইয়াকুব (আ), ইয়াকুব (আ) একজন নবী ছিলেন।
প্র: হযরত ইসহাকের বংশধর কারা?
- ইয়াহুদিরা।
হযরত ইয়াকুব ও হযরত ইউসুফ (আ)
প্রঃ হযরত ইয়াকুবের (আ) আসল নাম কী?
- ইসরাইল (আ); তাঁর নাম অনুসারেই ইয়াহুদিদের ইসরাইল বলা হয়।
প্রঃ কুরআন শরীফে কতটি স্থানে তাঁর নাম এসেছে?
- ১০ টি।
প্র: ইসরাইল শব্দের অর্থ কী?
- আল্লাহর বান্দা।
প্র: তাঁর পুত্রের সংখ্যা কত ছিল?
- ১২ জন।
প্রঃ পুত্রদের মধ্যে কেউ কি নবী ছিলেন?
- হ্যাঁ; হযরত ইউসুফ (আ)।
প্রঃ হযরত ইয়াকুব (আ) কোন্ দেশে ইসলাম প্রচার করতেন?
- কিনান দেশে।
প্র : কুরআন শরীফে একজন ছাড়া আর কোনো নবীর নামে দীর্ঘ সূরা নেই, সেই একজন কে?
- হযরত ইউসুফ (আ)।
প্র : শৈশবে তিনি কী স্বপ্ন দেখেছিলেন?
- চাঁদ, সূর্য এবং এগারটি নক্ষত্র তাঁকে সিজদা করছে।
প্রঃ কুরআন শরীফে আহসানুল কাসাস কাকে বলা হয়েছে?
- হযরত ইউসুফের (আ) জীবনের ঘটনাকে। আহসানুল কাসাস মানে- 'সুন্দর কাহিনী'।
প্রঃ কুরআন শরীফে হযরত ইউসুফের (আ) নাম কতবার এসেছে?
- ২৬ বার।
প্রঃ ছেলেমানুষ হযরত ইউসুফ (আ) কূপে পড়ে গিয়েছিলেন কেমন করে?
- তাঁর ভাইদের চক্রান্তে। তাঁর পিতা তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসতেন। সেই হিংসায় তাঁরা কূপে ফেলে দিয়ে তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তারপর তারা ঘরে ফিরে গিয়ে পিতা অর্থাৎ হযরত ইয়াকুব (আ) কে মিথ্যা কথা বলেছিল যে, হযরত ইউসুফকে (আ) মাঠ থেকে একটা নেকড়ে বাঘে খেয়ে ফেলেছে।
প্রঃ কূপ থেকে কি তিনি উদ্ধার পেয়েছিলেন?
- হ্যাঁ; একদল সওদাগর তাঁকে কূপ থেকে তুলে মিসরে নিয়ে যায়। মিসরে গিয়ে ঘটনাচক্রে তিনি ফেরাউনের প্রাসাদে আশ্রয় পান।
প্রঃ ফেরাউনের প্রাসাদ থেকে তিনি কারাগারে আশ্রয় পান কেমন করে?
- যুলায়খার ষড়যন্ত্রে।
প্রঃ তিনি কারাগার থেকে শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছিলেন কি?
- হ্যাঁ।
প্রঃ হযরত ইউসুফের সঙ্গে কি তাঁর অন্ধ পিতার আর মিলন হয়েছিল?
- হ্যাঁ; তিনি মিসর থেকে কিনানে ফিরে এসেছিলেন। তখন পিতাপুত্রে মিলন হয়েছিল।
প্রঃ তিনিতো অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, তাহলে হারানো পুত্রের মুখ কী তিনি দেখতে পেয়েছিলেন?
- হ্যাঁ; পেয়েছিলেন।
প্রঃ হযরত ইয়াকুব (আ) কিভাবে অন্ধচোখের দৃষ্টি ফিরে পেয়েছিলেন?
- হযরত ইউসুফ (আ) এর জামার পবিত্র ছোঁয়ায় অলৌকিকভাবে তিনি অন্ধচোখের দৃষ্টি ফিরে পেয়েছিলেন।
প্রঃ হযরত ইউসুফ (আ) কত বছর বেঁচে ছিলেন?
- ১১০ বছর।
প্রঃ বর্তমানে তাঁর কবর কোথায় আছে?
- প্যালেস্টাইনে।
হযরত শুআইব (আ)
প্রঃ হযরত শুআইব (আ) কাদের নবী ছিলেন?
- মাদায়েন অঞ্চলে হযরত ইবরাহিমের (আ) তৃতীয় পুত্র মিদয়নের নাম অনুসারে মিদয়ন নামে একটি গোত্রের উদ্ভব হয়। তিনি সেই গোত্রের নবী ছিলেন।
প্রঃ মাদায়েন কোথায়?
- হেজায সীমান্তে।
প্র: তিনি কোন বংশের লোক?
- মিদয়ন বংশের।
প্র: মিদয়ন কাবিলাও কি পৌত্তলিক ছিল?
- হ্যাঁ; তিনি তাদেরও পৌত্তলকতা ত্যাগ করে এক আল্লাহর উপাসনার পথে আসতে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
প্র: তারা কি পৌত্তলিকতা ত্যাগ করেছিল?
- না; তারা তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি।
প্র: এই অবাধ্যতার জন্য আল্লাহ কি তাদের শাস্তি থেকে রেহাই দিয়েছিলেন?
- না; আল্লাহর গযবে তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
প্র: আল্লাহ কিভাবে তাদের ধ্বংস করেছিলেন?
- ভূমিকম্প এবং আকাশ থেকে অগ্নিবর্ষণ করে ধ্বংস করেছিলেন।
প্র: হযরত শুআইব (আ) এর একটা বড় গুণ কী ছিল?
- তিনি মস্তবড় বাগ্মী ছিলেন।
প্র : তাঁর মৃত্যু হয়েছিল কোথায়?
- হাযরা মাউতে।
হযরত মুসা (আ)
প্র: হযরত মুসা (আ) এর জন্মস্থান কোথায়?
- মিসরে।
প্র: কত বছর আগে?
- সম্ভবত চার হাজার বছর আগে।
প্রঃ মিসরে তখন কে রাজত্ব করত?
- ফেরাউন দ্বিতীয় র্যামেসিস।
প্রঃ কুরআন শরীফে হযরত মুসা (আ) এর নাম কতবার এসেছে?
- ১৩৬ বার।
প্র: তাঁর পিতা-মাতার নাম কী?
- পিতার নাম ইমরান, মাতার নাম ইউকাবুদ।
প্রঃ হযরত মুসা (আ) এর আসমানি গ্রন্থের নাম কী?
- তাওরাত।
প্রঃ কোন্ বংশে তাঁর জন্ম হয়?
- ইসরাইল বংশে।
প্র: তাঁর জন্মের সময় মিসরে কী ধরনের পরিবেশ বিরাজ করছিল?
- অত্যাচারী ফেরাউন আদেশ জারি করেছিল ইয়াহুদি অর্থাৎ ইসরাইলীদের ঘরে যেসব শিশু জন্মাচ্ছে এবং জন্মাবে তাদের হত্যা করে ফেলতে হবে। সেই ভয়ঙ্কর পরিবেশের মধ্যে তাঁর জন্ম হয়।
প্র: ফেরাউন কেন এই আদেশ জারি করেছিলেন?
- জ্যোতিষীরা ভবিষ্যৎবাণী করেছিল শিঘ্রই মিসরের ইসরাইলীদের ঘরে এমন শিশু জন্ম নেবে, বড় হয়ে যিনি ফেরাউনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে দারুণ এক বিদ্রোহ ঘটিয়ে উৎপীড়িত ইয়াহুদিদের মিসর থেকে উদ্ধার করবেন এবং ফেরাউনের পতন ঘটাবেন। তাই ফেরাউন সদ্যজাত ইয়াহুদি শিশুদের হত্যার আদেশ দিয়েছিলেন।
প্র: শিশু মুসা তাহলে বেঁচে গেলেন কেমন করে?
- জন্মের পরই তাঁর মা গোপনে তাঁকে ছোট্ট একটা নৌকায় করে নীল নদে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। ফেরাউনের বোন একটি শিশুকে ভেসে যেতে দেখে গোপনে তাঁকে নদী থেকে প্রাসাদে তুলে এনেছিলেন। আল্লাহর কী অসীম লীলা! যে ইসরাইলী শিশুর ভয়ে ফেরাউন এত ভীত, সে জানতও না যে, সেই শিশু তারই প্রাসাদে তার বোনের হাতে বড় হচ্ছে।
প্র: তাঁর নাম মুসা কে রেখেছিল?
- ফেরাউনের বোন; পানি থেকে তাঁকে তিনি পেয়েছিলেন বলে তিনি তাঁর নাম রেখেছিলেন মুসা। মুসা শব্দের অর্থ পানি থেকে যে এসেছে।
প্র: ফেরাউনের বোন তাঁকে নদী থেকে তুলে নেয়ার সময় কে তাকে দেখতে পেয়েছিল?
- মুসা (আ) এর বোন মারইয়াম। তিনি ছুটে গিয়ে মাকে খবরটা দেন। তাঁর মা ফেরাউনের বোনের কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় গোপন রেখে শিশু মুসার ধাত্রীর কাজ নেন। এভাবে তিনি আসলে তাঁর মায়ের কাছেই বড় হতে থাকেন।
প্র: ফেরাউনের প্রাসাদে তিনি কত বছর পর্যন্ত ছিলেন?
- সঠিক বলা যায় না। তবে তিনি বেশ বড় হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ তরুণ যুবক বয়স পর্যন্ত ছিলেন। ফেরাউনের লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে তিনি প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।
প্র: ফেরাউনের প্রাসাদ থেকে তারপর তিনি কোথায় গেলেন?
- মিসরের কোথাও নয়, একদিন গোপনে তাঁকে মিসর ছেড়েই চলে যেতে হয়েছিল।
প্র: কোথায় এবং কেন গিয়েছিলেন?
- মাদায়েনে। বড় হয়ে তিনি জানতে পেরেছিলেন প্রাসাদে মানুষ হলেও তিনি মিসরীয় নন, তিনি আসলে বনি ইসরাইলেরই একজন। আর ওই ধাত্রী আসলে ছিল তাঁর মা। তাঁর চোখে পড়ত সারা মিসর জুড়ে মিসরবাসীদের হাতে বনি ইসরাইল অর্থাৎ ইসরাইলীরা পশুর মত লাঞ্ছিত, উৎপীড়িত। এদেখে তিনি মনে মনে খুবই কষ্ট পেতেন। একদিন তিনি দেখতে পেলেন একজন মিসরবাসী একজন ইয়াহুদির উপর পাশবিক অত্যাচার চালাচ্ছে। এ অন্যায় তাঁর সহ্য হল না। তাঁর শরীরে ছিল দারুণ শক্তি। তিনি সেই মিসরবাসীকে এমন জোরে এক চড় মারলেন যে সেই এক চড়েই তার মৃত্যু হল। একজন মিসরবাসীকে হত্যা করার অপরাধে ফেরাউন তাঁকে হত্যা করার নির্দেশ দিল। তাই তাঁকে গোপনে মিসর ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল।
প্র: তাঁর স্ত্রীর নাম কী?
- সারা।
প্র: তাঁকে কালিমুল্লাহ বলা হয় কেন?
- কারণ তিনিই একমাত্র নবী যিনি আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলেন।
প্র: কোথায় তিনি আল্লাহর দর্শন পেয়েছিলেন?
- তূর পর্বতে। তূর পর্বতে আল্লাহ তাআলা নূর হয়ে জ্বলে উঠে তাঁকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ এই তূর পর্বতেই তিনি নবুওয়াত প্রাপ্ত হয়েছিলেন।
প্র: আল্লাহ তাআলা তাঁকে কী আদেশ করেছিলেন?
- মিসরে গিয়ে ফেরাউনের কবল থেকে নির্যাতিত বনি ইসরাইলকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতে এবং সেই অহঙ্কারী ও পৌত্তলিক ফেরাউনকে এক আল্লাহর উপাসনার পথে আনতে।
প্র: তিনি কি একাই মিসরে গিয়েছিলেন?
- না; তাঁর কথায় জড়তা ছিল। তাই তাঁর কথা ফেরাউনকে বুঝিয়ে বলার জন্য আল্লাহর অনুমতি নিয়ে তাঁর বড় ভাই হযরত হারুন (আ) কে নিয়ে গিয়েছিলেন।
প্র: আল্লাহর কুদরাতে ফেরাউনের সম্মুখে তাঁর কোন জিনিস সাপে পরিণত হয়েছিল?
- তাঁর আছা বা লাঠি।
প্র: ফেরাউন তাঁর কথা শুনেছিল?
- না; কিছুতেই তার সুমতি হয়নি। সে আলোর পথে আসতে চায়নি। অহঙ্কারে সে এক আল্লাহকেও স্বীকার করেনি, তাঁকেও নবী বলে মেনে নেয়নি। সে নিজেকেই আল্লাহ বলেছিল।
প্র: ফেরাউন ও তার দলবলের উপর আল্লাহর কী কী আযাব এসেছিল?
- দেশ ছেয়ে দুর্ভিক্ষ, তুফান, ফলমূল নষ্ট, পঙ্গপাল, উকুন আর ব্যাঙের উৎপাত এবং রক্তধারা। কিন্তু তবুও ফেরাউনের দর্পচূর্ণ হয়নি। সে আল্লাহ এবং নবীকে অস্বীকার করেছিল।
প্র: হযরত মুসা (আ) কি শেষ পর্যন্ত বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের মিসর থেকে উদ্ধার করতে পেরেছিলেন?
- হ্যাঁ; মুসা (আ) চল্লিশ হাজার বনি ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে লোহিত সাগরের তীরে এসে দাঁড়ালেন। ফেরাউন আর তার দলবল তাঁদের পিছনে তাড়া করে আসছিল। সেই সময় মুসা (আ) তাঁর আছা বা লাঠি সাগরের পানিতে ছোঁয়াতেই আল্লাহর কুদরাতে লোহিত সাগরের পানি দুইপাশে সরে গিয়ে তাঁদের জন্য পথ করে দিল। তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে সাগরের ওপারে পৌঁছে গেলেন। ফেরাউনও তার দলবল নিয়ে তাড়া করে সেই পথে নেমে কিছু দূর যেতেই সাগরের পানি আবার এক হয়ে গেল এবং তারা ডুবে মরল।
প্র: বনি ইসরাইলীদের নিয়ে তিনি কোথায় এলেন?
- সিনাই প্রান্তরে; এত কষ্ট করে তাদের তিনি উদ্ধার করে আনলেন, কিন্তু সেখানে নির্বিঘ্নে পৌঁছে বনি ইসরাইলীরা তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। মিসরে থেকে তারা পৌত্তলিক হয়ে গিয়েছিল। সে স্বভাব তারা ছাড়তে পারলনা, ছাড়তে চাইলও না। সামেরী নামে একজনের প্ররোচণায় তারা আবার গরুর মূর্তি বানিয়ে তার পূজা শুরু করে দিল। তখন মুসা (আ) তাদের অভিশাপ করলেন এবং তাদের ত্যাগ করে চলে গেলেন।
প্র: কোথায় গেলেন?
- শেষ পর্যন্ত তিনি কোথায় গেলেন, কোথায় তাঁর মৃত্যু হলো সে সব চির রহস্যাবৃত।
প্র: তাঁর ধর্ম কী ছিল?
- তাঁর ধর্ম ছিল হযরত ইবরাহীম (আ) এর ধর্ম। অর্থাৎ ইসলাম।
প্র: তিনি কি হজ্জ করেছিলেন?
- হ্যাঁ; আজ হাজীরা যে ইহরাম বাঁধেন তা তাঁকে অনুসরণ করেই। তিনি ওই রকম দু'খণ্ড কাপড় পড়ে হজ্জ করেছিলেন।
প্রঃ তিনি কত বছর জীবিত ছিলেন?
- আনুমানিক ১১০ বছর।
প্রঃ মুসা (আ) এর পরে বনি ইসরাইলকে পরিচালনা করেছিলেন কে?
- তাঁর ভাই হযরত হারুন (আ) এবং তাঁর বোন মারইয়ামের স্বামী কালেব ইবনু ইউহান্না।
হযরত ইউনুস (আ)
প্র: হযরত ইউনুস (আ) কত বছর বয়সে নবুওয়াত পেয়েছিলেন?
- ২৮ বছর বয়সে।
প্র : কুরআন শরীফে কতটি সূরায় তাঁর কথা পাওয়া যায়?
- ৬টি সূরায়।
প্রঃ কোন্ দেশে তাঁকে নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়?
- নিনাওয়ায়।
প্রঃ তাঁর পিতার নাম কী?
- মাত্তা।
প্র: নিনাওয়ায় তাঁকে কেন নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছিল?
- নিনাওয়াবাসীরা আকণ্ঠ পাপে ডুবে ছিল। অনাচার, ব্যভিচার, পৌত্তলিকতাই ছিল তাদের জীবনবিধান। তাদের আল্লাহর আলোকিত পথে আনতে তাঁকে নবী হিসেবে সেখানে পাঠানো হয়েছিল কিন্তু তারা অবাধ্যতা করেছিল। তাই তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন তাদের উপর আযাব বর্ষণ করে ধ্বংস করে দিতে।
প্র: আল্লাহ কি তাঁর দোয়া কবুল করেছিলেন?
- হ্যাঁ; আল্লাহ নিনাওয়ার ওপর আকাশ থেকে আগুন বর্ষণ করেছিলেন।
প্রঃ আল্লাহর আদেশে হযরত ইউনুস (আ) এর জীবনে কোন অলৌকিক কাণ্ড ঘটেছিল?
- একটি মাছ তাঁকে গিলে ফেলেছিল, সেই মাছের পেটে তিনি ৪০ দিন ছিলেন।
প্র : তিনি কিভাবে মাছের পেট থেকে নিষ্কৃতি পান?
- একটি দোয়া পড়ে, সেই দোয়ার নাম দোয়া ইউনুস।
প্র : মাছের পেট থেকে নিষ্কৃতি পাবার পর তাঁর শরীরের অবস্থা কী রকম হয়েছিল?
- সদ্যজাত পবিত্র শিশুর মতো।
হযরত দাউদ (আ)
প্র: হযরত দাউদ (আ) এর উপর কোন্ আসমানি কিতাব নাযিল হয়েছিল?
- যাবুর।
প্র: কোন্ পথভ্রষ্ট জাতিকে আলোকিত করে তোলার জন্য তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন?
- বনি ইসরাইলকে।
প্র: কুরআন শরীফে কি তাঁর নাম উচ্চারিত হয়েছে? কতটি জায়গায়?
- হ্যাঁ; ১৬টি জায়গায়।
প্র: তিনি কোন্ অন্যায়কারীকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাথর মেরে হত্যা করেছিলেন?
- জালুতকে।
প্র: আল্লাহ তাআলা তাঁকে কোন্ অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছিলেন?
- তাঁর হাতের ছোঁয়ায় কঠিন লোহা মোমের মত নরম হয়ে যেত।
প্র: রাজা হয়েও তিনি হাতের কাজ করে জীবিকা অর্জন করতেন, কী সেই কাজ?
- লোহার বর্ম তৈরি করে বিক্রয় করতেন।
প্র: আর কোন কোন অলৌকিক ক্ষমতা আল্লাহ তাআলা তাঁকে দান করেছিলেন?
- পাখির ভাষা, গাছপালার ভাষা এবং পাহাড়ের ভাষা তিনি বুঝতেন। পাখিরা তাঁর কাছে আসত। তিনি যখন এক আল্লাহর উপাসনা করতেন, পাহাড় গাছপালা, পশুপাখিরাও তাঁর সঙ্গে উপাসনায় যোগ দিত।
প্র: তাঁর সময় দেশের রাজা ছিলেন কে?
- তালুত; তাঁর বীরত্ব দেখে রাজা তালুত তাঁর কন্যার সঙ্গে তাঁর বিবাহ দিয়েছিলেন। তালুতের পর তিনিই দেশের রাজা হন। অর্থাৎ হযরত দাউদ (আ) একই সঙ্গে রাজা ও নবী ছিলেন।
প্র: নবী হিসেবে তিনি কী সফল হয়েছিলেন?
- অভিশপ্ত পথভ্রষ্ট বনি ইসরাইলকে তিনি অনেকখানি আলোকের পথে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। দেশে তিনি এক আল্লাহর উপাসনা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
প্র: তাঁর কবর কোথায় অবস্থিত?
- জেরুজালেমে।
প্র: আল্লাহ তাঁকে নবীত্ব এবং রাজত্ব ছাড়াও আর কোন্ শ্রেষ্ঠ সম্পদ দান করেছিলেন?
- একটি পুত্ররত্ন; তাঁর নাম হযরত সুলাইমান (আ), তিনিও নবী ছিলেন।
হযরত সুলাইমান (আ)
প্র : হযরত সুলাইমান (আ) কত খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেমের রাজা হন?
- ৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে।
প্র : তাঁর রাজত্বের মেয়াদ কত বছর ছিল?
- ৩৭ বছর।
প্র : কুরআন শরীফে কতবার তাঁর নামের উল্লেখ আছে?
- ১৬ বার।
প্র : তিনি কি শুধুই মানুষের রাজা ছিলেন?
- না; তিনি পশুপাখি ইত্যাদিরও রাজা ছিলেন।
প্র : তাঁর আর কী ক্ষমতা ছিল?
- পশুপাখি এবং জ্বিন তাঁর বশীভূত ছিল। বাতাসকে তিনি ইচ্ছামত পরিচালিত করতেন।
প্র : কী হিসেবে তিনি ইতিহাসে সুপ্রসিদ্ধ?
- ন্যায়বিচারক হিসেবে।
প্র : সে যুগের কোন্ পৌত্তলিক রাণী তাঁর উপর ঈমান এনেছিলেন এবং তাঁকে বিবাহ করেছিলেন?
- সাবার রাণী- রাণী বিলকিস। ইয়ামানের কাছে ছিল সাবা দেশ।
প্র : তিনি কী কোন্ আসমানি কিতাব প্রাপ্ত হয়েছিলেন?
- না; তবে আল্লাহর ওহি পেয়েছিলেন।
প্র : আল্লাহ কী সর্বদাই তাঁর ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন?
- না; একবার তিনি সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যাপারে কোন একটি সংকল্পের আগে ইন্শাআল্লাহ বলেননি। সেজন্য আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয়ে সেবার তাঁর সংকল্প সফল করেননি। আল্লাহ তাঁকে পূর্ণ সন্তান না দিয়ে কেবল একটি ধড়ের জন্ম দিয়েছিলেন।
প্র : কোন একজন নবী পৃথিবীর সমস্ত জীবজন্তকে নিমন্ত্রণ করে খাইয়েছিলেন, তিনি কে?
- হযরত সুলাইমান (আ)।
প্র : পিপঁড়ে-সর্দার কোন নবীকে দাওয়াত করেছিলেন?
- হযরত সুলাইমান (আ) কে।
প্র : তাঁর জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ কীর্তি কী?
- বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণ।
প্র : এই বিশাল এবং আশ্চর্য সুন্দর মসজিদ তিনি কিভাবে গড়ে তোলেন?
- জ্বিনদের সাহায্যে। কিন্তু তিনি নিজে লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে পরিদর্শন করতেন। এই পরিদর্শনের সময় লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়ানো অবস্থাতেই একদিন অকস্মাৎ তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু কেউ সে কথা বুঝতে পারেনি। জ্বিনরাও না। আগে বুঝতে পারলে বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণরত জ্বিনরা কাজে ফাঁকি দিত, তাই আল্লাহর কুদরাতে মৃত্যুর পরেও তিনি এক বছর সেই একইভাবে লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক বছর পর তাঁর লাঠির ঘুণপোকারা সকলকে জানিয়েছে যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
প্র : কত খ্রিস্ট পূর্বে তাঁর মৃত্যু হয়?
- ৯৭৪ খ্রিস্ট পূর্বে।
হযরত ঈসা (আ)
প্রঃ হযরত ঈসা (আ) এর পিতার নাম কী?
- তাঁর পিতা ছিলেন না; আল্লাহর কুদরাতে অলৌকিক উপায়ে তাঁর জন্ম। আল্লাহর লীলা বোঝা যায় না। কুরআন শরীফে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'তিনি যখন কোন কিছু সৃষ্টি করতে ইচ্ছে করেন হও বললেই তা হয়ে যায়'।
প্র: তাঁর মাতার নাম কী?
- মারইয়াম (আ)
প্রঃ তিনি কি কুমারী ছিলেন?
- হ্যাঁ।
প্র : হযরত ঈসা (আ) কত বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিলেন?
- দুই হাজার বছর আগে।
প্রঃ তিনি ঠিক কোন্ নবীর আগে এসেছিলেন?
- পৃথিবীর শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স) এর আগে।
প্র : যখন তিনি নবুওয়াত প্রাপ্ত হন তখন তাঁর বয়স কত?
- ৩০ বছর; এবং এই ৩০/৩১ বছর বয়সেই তাঁর পৃথিবীর জীবন শেষ হয়ে যায়।
প্রঃ তাঁর কী কোন উপাধি আছে?
- রূহুল্লাহ বা আল্লাহর রূহ।
প্র: মাতা মারইয়াম (আ) তাঁকে সরাইখানার আস্তাবলে জন্ম দিয়েছিলেন একথা কি ঠিক?
- না; ঠিক না।
প্র: মাতা মারইয়াম (আ) কোথায় তাঁকে জন্ম দিয়েছিলেন?
- তাঁর জন্মের কিছুদিন আগে মাতা মারইয়াম (আ) কিছুদিন জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাসে ছিলেন। তারপর তিনি তাঁকে জেরুজালেমের এক নির্জন প্রান্তরে এক খেজুর গাছের তলায় জন্ম দেন।
প্র: মাতা এবং পুত্র সেই খেজুর গাছের তলায় কতদিন অবস্থান করেন?
- ৪০ দিন; খেজুর আর ঝর্ণার পানিই ছিল মাতা মারইয়ামের (আ) খাদ্য।
প্র: কাদেরকে আল্লাহর পথে আনতে তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন?
- বনি ইসরাইলকে।
প্র: তাঁর শিষ্যের সংখ্যা কত ছিল?
- ১২ জন।
প্র: কারা তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল?
- বনি ইসরাইল তথা ইয়াহুদিরা; তাঁর শিষ্য জুডাস ইসকেরিয়ট বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁকে রোমানদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল।
প্রঃ ইয়াহুদিরা তাঁর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল কেন? আর রোমানরাই বা তাঁকে হত্যা করতে চাইছিল কেন?
- মিথ্যা এবং অন্যায়ের অন্ধকারে তিনি সত্যের আলো জ্বালাতে চাইছিলেন বলে। মানুষকে ন্যায় এবং সত্যের পথে চলতে বলছিলেন বলে। দেব-দেবীর রাজ্যে এক আল্লাহর উপাসনার কথা বলছিলেন বলে। তখন বেথেলহেম, জেরুজালেম সর্বত্র রোমান শাসন ছিল।
প্রঃ রোমানরা কী তাঁকে হত্যা করতে পেরেছিল?
- না; তারা তাঁকে হত্যা করার জন্য ক্রুশে চাপিয়েছিল। সেই সময় আল্লাহ তাঁকে আসমানে তুলে নিয়েছিলেন। তাঁর পরিবর্তে আসলে তারা অন্য লোককে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছিল। কিন্তু তারা তা বুঝতে পারেনি। অর্থাৎ হযরত ঈসার (আ) মৃত্যুই হয়নি।
প্র : কুরআন শরীফে হযরত ঈসা (আ) এর নাম কতবার দেখতে পাওয়া যায়?
- ৩৩ বার।
প্র: আল্লাহ তাঁকে কোন অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছিলেন?
- তিনি মৃত প্রাণীকে বাঁচিয়ে তুলতে পারতেন। মাটির তৈরি পাখিকে জীবন্তকরে তুলতে পারতেন। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় অন্ধ দৃষ্টি ফিরে পেত, কুষ্ঠরোগী রোগমুক্ত হত। অবশ্য এসবই তাঁর মাধ্যমে আল্লাহর আদেশে হত।
প্র: তাঁর আসমানি গ্রন্থের নাম কী?
- ইনজিল।
প্রঃ হযরত ঈসা (আ) এখন কোন্ আসমানে আছেন?
- চতুর্থ আসমানে।
প্র : তিনি কি আবার পৃথিবীতে আসবেন?
- হ্যাঁ; কিয়ামতের সময়।
প্রঃ সেদিন তিনি কার উম্মাত হয়ে আসবেন?
- হযরত মুহাম্মদ (স) এর উম্মাত হয়ে আসবেন।
প্রঃ সেদিন তিনি কোথায় অবতরণ করবেন?
- জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাসে।
প্রঃ আল্লাহ তাআলা তাঁর মাতা মারইয়ামকে (আ) কী কী বিশেষ সম্মানে মহিমান্বিতা করেছেন?
- নবীদের মাতাদের মধ্যে একমাত্র মারইয়ামের (আ) নামেই কুরআন শরীফে একটি সূরা আছে। তিনিই একমাত্র মহিয়সী নারী যাঁর কাছে হযরত জিবরাইল (আ) এর মাধ্যমে আল্লাহর ওহি আসত। তাঁর নামের শেষে আলাইহিস সালাম লেখা হয়।
প্রঃ ইয়াহুদি এবং রোমানদের শত্রুতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উদ্দেশে মাতা মারইয়াম শিশু ঈসাকে নিয়ে গোপনে কোন্ দেশে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন?
- মিসরে।
প্রঃ কত বছরের বালক হলে হযরত ঈসাকে নিয়ে মাতা মারইয়াম (আ) আবার বায়তুল মুকাদ্দাসে ফিরে আসেন?
- সম্ভবত ১৩ বছর বয়সে।
প্রঃ খ্রিস্টান এবং মুসলিমদের ভিতরে হযরত ঈসা (আ) কে নিয়ে কিছু মতপার্থক্য আছে কী?
- হ্যাঁ; খ্রিস্টানরা বলে হযরত ঈসা আল্লাহর পুত্র এবং তিনিই আল্লাহ। ইসলামী বিশ্বাস মতে অন্যান্য নবীদের মতই হযরত ঈসাও আল্লাহর একজন নবী।
📄 অন্যান্য নবীদের পরিচয়
প্রঃ হযরত আইয়ুব (আ) এর নাম কুরআন শরীফের কয়টি জায়গায় উল্লেখিত হয়েছে এবং কয়টি সূরায় তাঁর কথা পাওয়া যায়?
- দুই জায়গায় তার নাম পাওয়া যায় এবং চারটি সূরায় তাঁর কথা আলোচিত হয়েছে।
প্রঃ কত বছর তিনি জীবিত ছিলেন?
- ৭৩ বছর।
প্রঃ হযরত দানিয়েল (আ) কে কী জ্যোর্তিবিজ্ঞানী বলা চলে?
- হ্যাঁ; তিনি চাঁদের পরিক্রমণ পথ এবং রাশিচক্র নির্ণয় করেন।
প্রঃ হযরত যুলকিফর (আ) এর নাম কুরআন শরীফের কোন সূরায় পাওয়া যায়?
- সূরা আম্বিয়া এবং সূরা সোয়াদে।
প্রঃ কোন নবী মৃত অবস্থায় থাকার পর পুনরায় বেঁচে উঠেছিলেন?
- হযরত উযায়ের (আ)। একশো বছর মৃত অবস্থায় থাকার পর তিনি আবার বেঁচে উঠেছিলেন। কুরআন শরীফে এক জায়গায় তাঁর নাম উল্লেখিত হয়েছে।
প্র: হযরত যাকারিয়া (আ) কোন্ নবীর বংশধর?
- হযরত সুলাইমান (আ) এর। কুরআন শরীফের চারটি সূরায় তিনি আলোচিত। মাত্র এক জায়গায় তাঁর নাম উল্লেখিত হয়েছে।
প্রঃ তাঁর স্ত্রীর নাম কী?
- ঈসা বা আল্ ইয়াশা।
প্র: তাঁদের পুত্রের নাম কী?
- ইয়াহইয়া।
প্র : হযরত ইয়াহইয়া (আ) কী কুরআন শরীফে আলোচিত হয়েছেন?
- হ্যাঁ; চারটি সূরায়।
প্র : হযরত খিজির (আ) কোন অলৌকিক কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন?
- তাঁর দোয়ার ফলে হাজার হাজার মৃত মানুষ জীবন লাভ করেছিল।
প্র: হযরত দাউদ (আ) এর আগে কোন নবীর আবির্ভাব হয়েছিল?
- হযরত শামুয়েল (আ) এর।
প্র : কোন্ নবী প্রত্যেক বছর হজ্জ করেন?
- হযরত খিযির (আ)। তবে তিনি নবী ছিলেন কিনা তা নিয়ে মত পার্থক্য আছে।
প্র: নবীদের মধ্যে কে কে অবিবাহিত ছিলেন?
- হযরত ইয়াহইয়া (আ) এবং হযরত ঈসা (আ)।
প্র : কোন্ মহিলা নবী ছিলেন কী?
- বিষয়টি মতানৈক্যপূর্ণ। কয়েকজন পণ্ডিত ব্যক্তি এবং শাস্ত্রবিদের মতে প্রথম মানবী এবং মানবজাতির প্রথম মাতা হযরত হাওয়া, হযরত ইবরাহীম (আ) এর পত্নীদ্বয় মাতা সারা এবং মাতা হাজেরা, হযরত মুসা (আ) এর জননী ইউকাবুদ, ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়া এবং হযরত ঈসা (আ) এর মাতা মারইয়াম (আ) নবী ছিলেন।