📄 জাহান্নাম/দোযখ
প্র: জাহান্নাম শব্দটি কোন্ ভাষার শব্দ?
- আরবী ভাষার।
প্র: দোযখ শব্দটি কোন্ ভাষার শব্দ?
- ফারসি ভাষার।
প্র: জাহান্নামের সংখ্যা কয়টি ও কী কী?
- ৭টি। ১. হাবিয়া; ২. জাহিম; ৩. সাকার; ৪. সাঈর; ৫. লাজা; ৬. হুতামাহ ও ৭. জাহান্নাম।
📄 ঈমান ও ইসলাম
প্র: ঈমান বলতে কী বুঝায়?
- বিশ্বাস বা প্রত্যয় স্থাপনকে ঈমান বলা হয়।
প্র: মৌলিক ঈমানসমূহ কী কী?
- ১. আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি, ক্ষমতা ও ইখতিয়ারের প্রতি বিশ্বাস; ২. আল্লাহর ফিরিশতাদের উপর বিশ্বাস; ৩. আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস; ৪. আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস; ৫. আখিরাত বা পরকালের প্রতি বিশ্বাস; ৬. তাকদিরের ভাল মন্দের প্রতি বিশ্বাস ও ৭. মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস।
প্র: ইসলামের মূল স্তম্ভ কয়টি ও কী কী?
- ইসলামের মূল স্তম্ভ পাঁচটি। যথা- ১. আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি বিশ্বাস; ২. সালাত কায়েম করা; ৩. যাকাত আদায় করা; ৪. রমযান মাসে রোযা রাখা; ৫. আর্থিক ও দৈহিক সামর্থ্যবান ব্যক্তির হজ্জ পালন করা।
📄 কিয়ামত
প্র: কিয়ামত শব্দের অর্থ কী?
- মহাপ্রলয়।
প্র: এর আলামত বা লক্ষণ কয়টি ও কী কী?
- ২টি। যথা- ১. আলামতে সুগরা বা সাধারণ নিদর্শন; ২. আলামতে কুবরা বা বড় নিদর্শন।
প্র: আলামতে সুগরাগুলো কী কী?
- ইহা নিম্নরূপ:
১. অযোগ্য ব্যক্তি দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করবে;
২. দেশের শাসনকর্তা জাতীয় সম্পদের অপব্যবহার ও অপচয় করবে;
৩. আমানতের খিয়ানত করবে;
৪. পুরুষ লোক স্ত্রী লোকের তাবেদারী করবে;
৫. যাকাত প্রথাকে দণ্ডস্বরূপ মনে করবে;
৬. মাতার অবাধ্য হবে;
৭. পিতাকে পর মনে করবে;
৮. বন্ধু-বান্ধবকে আপন মনে করবে;
৯. পার্থিব সম্পদ ও সম্মান অর্জনের জন্য বিদ্যা শিক্ষা করবে;
১০. যে ব্যক্তি যে কাজের উপযুক্ত নয়, তার উপর সে কাজের দায়িত্ব অর্পণ করা হবে;
১১. মানুষ নেশাপানে মত্ত থাকবে;
১২. মানুষ অত্যাচারের ভয়ে অত্যাচারী ও শোষক ব্যক্তিকে সম্মান করবে;
১৩. সমাজে নাচ-গানের প্রথা ব্যাপকভাবে প্রচলিত হবে;
১৪. সমাজের নেতারা প্রকাশ্যে পাপকার্য করবে;
১৫. সমাজে নানা ধরনের বাদ্য-বাজনার প্রচলন অধিক হবে;
১৬. মসজিদের মধ্যে উচ্চবাক্য ও অশ্লীল কথা বলবে;
১৭. পরবর্তী ব্যক্তিগণ পূর্ববর্তী বিজ্ঞ ফকিহ ও সৎ ব্যক্তিদেরকে মন্দ বলবে;
১৮. মানুষ দুনিয়ার পরিবেশে আকৃষ্ট হবে;
১৯. নতুন নতুন রোগ-ব্যাধি দেখা দিবে;
২০. স্ত্রীলোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, তারা নির্লজ্জভাবে পর্দা ছাড়া চলাফেরা করবে;
২১. দ্বীন জ্ঞান লোপ পাবে অর্থাৎ জ্ঞান থাকবে কিন্তু আমল থাকবে না;
২২. ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে, ইহাকে কেউ গুনাহ বলে মনে করবে না;
২৩. মানুষ মাদক দ্রব্যকে হালাল দ্রব্যের ন্যায় সেবন করবে;
২৪. কখনও অনাবৃষ্টি ও কখনও অতিবৃষ্টি এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে;
২৫. ত্রিশ জন মিথ্যাবাদী নবী বলে দাবি করবে;
২৬. প্রতিটি বস্তুর স্বাদ, ঘ্রাণ ও বরকত হ্রাস পাবে;
২৭. মানুষের লজ্জা ও মায়া-মমতা কমতে থাকবে;
২৮. মানুষ আল কুরআনের সম্মান কম করতে থাকবে;
২৯. মানুষ দাস-দাসীদের সাথে ব্যভিচার করবে;
৩০. মানুষের আয়ু কমে আসবে;
৩১. দুশ্চরিত্র লোকের প্রভাব, প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে, আর সম্মানিত ও চরিত্রবান লোক তাদের হাতে লাঞ্ছিত হবে;
৩২. ধনী ব্যক্তিরা গরীবদের ঘৃণা করবে;
৩৩. মানুষের অন্তর থেকে আল্লাহর ভয় উঠে যাবে;
৩৪. আদব কায়দা হ্রাস পাবে;
৩৫. বাতিল ও বিদআত বৃদ্ধি পাবে;
৩৬. কাফিরগণ মুসলমানের উপর প্রাধান্য বিস্তার করবে;
৩৭. দুনিয়ায় অন্যায়-অত্যাচার বৃদ্ধি পাবে;
৩৮. মিথ্যাবাদী ও প্রতারকগণ বুদ্ধিমান বলে প্রশংসিত হবে।
📄 আলামতে কুবরা
১. হযরত ইমাম মাহদীর (আ) আবির্ভাব;
২. দাজ্জালের আবির্ভাব ও ফিতনা;
৩. হযরত ঈসার (আ) আগমন ও তাঁর কর্তৃক দাজ্জাল বধ;
৪. আকাশে এক প্রকার ধোঁয়া দেখা দেবে এবং ইহা পৃথিবীতে আসবে;
৫. পশ্চিমাকাশে সূর্য উদয় হবে। এ সময় কারো ঈমান বা তাওবা কবুল হবে না;
৬. ইয়াজুজ মাজুজের আগমন এবং তাদের ফিতনা ফাসাদ। তারা খুব শক্তিশালী হবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা স্বীয় কুদরাতে তাদেরকে ধ্বংস করবেন;
৭. দাব্বাতুল আরদ বা অদ্ভুত জন্তু বের হবে। সে মানুষের সাথে কথা বলবে;
৮. দক্ষিণ দিক থেকে বেশ আরামদায়ক বাতাস প্রবাহিত হবে এবং সকল মুসলমান মৃত্যুবরণ করবে;
৯. মুহাররমের দশ তারিখ হযরত ঈসরাফিল (আ) শিঙ্গায় ফুঁক দিবেন। এর বিকট শব্দে সমস্ত লোক মারা যাবে। আকাশ খণ্ড-বিখণ্ড হবে। পাহাড়-পর্বত উড়বে, তারকা বিলুপ্ত হবে, চন্দ্র আলোহীন হবে, চন্দ্র-সূর্য একত্রিত হবে।