📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 কালিমার পরিচয়

📄 কালিমার পরিচয়


১. আল কালিমাতুত তাইয়্যিবাহ
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, মুহাম্মাদ (স) আল্লাহর রাসূল।

২. কালিমা শাহাদাত
আশহাদু আন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু; ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ।
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (স) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

৩. কালিমা তাওহিদ
লা-ইলাহা ইল্লা আনতা ওয়াহিদান লা ছানিয়ালাকা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহি ইমামুল মুত্তাকিনা রাসূলু রাব্বিল আলামিন।
অর্থ: তুমি (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই। তুমি এক, তোমার দ্বিতীয় কেউ নেই, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (স) আল্লাহভীরুদের নেতা ও বিশ্ব প্রতিপালকের রাসূল।

৪. কালিমা তামজিদ
লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা নূরাই ইয়াহদিয়াল্লাহু লিনূরিহী মাই-ইয়াশাউ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহি ইমামুল মুরসালিনা ওয়া খাতামুন নাবিইন।
অর্থ: তুমি (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই। যাকে তোমার ইচ্ছা হয় তাকেই তোমার নূরের দিকে হিদায়াত কর। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (স) রাসূলদের নেতা এবং নবীদের মধ্যে সর্বশেষ নবী।

৫. ঈমানে মুজমাল
আমানতু বিল্লাহি কামা হুয়া বিআস্মাইহি ওয়া ছিফাতিহি ওয়া কাবিলতু জামিআ আহ্কামিহি ওয়া আরকানিহি।
অর্থ: আমি আল্লাহ তাআলার প্রতি, তাঁর সমুদয় নামের প্রতি ও তাঁর যাবতীয় গুণাবলির প্রতি ঈমান আনলাম। আর তাঁর যাবতীয় নির্দেশাবলি মেনে নিলাম।

৬. ঈমানে মুফাস্সাল
আমানতু বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রাসূলিহি ওয়াল ইয়াওমিল আখিরি ওয়াল কাদরি খায়রিহি ওয়া শারিরহি মিনাল্লাহি তাআলা ওয়াল বাছি বাদাল মাউত।
অর্থ: আমি বিশ্বাস করলাম আল্লাহর উপর; তাঁর ফিরিশতাগণের উপর; তাঁর আসমানী কিতাবসমূহের উপর; তাঁর রাসূলগণের উপর; পরকালের উপর এবং অদৃষ্টের ভাল-মন্দের উপর, যা আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে এবং মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়ার প্রতি।

মন্তব্য: প্রত্যেক মুসলমানকে উপরের সাতটি বিষয়ের প্রতি অবশ্যই ঈমান আনতে হবে। যিনি এ সকল বিষয়ের প্রতি বিনা দ্বিধায় দৃঢ়ভাবে ঈমান আনেন, তাকে মুমিন বলা হয়। এগুলোর কোন একটিতে অবিশ্বাস করলে তাকে মুমিন বলা যায় না। ঈমানের সাতটি বিষয়ের প্রতি যাদের বিশ্বাস নেই তারা মুসলমান নয়, তারা কাফির। উপরিউক্ত বিষয়সমূহের প্রতি না দেখে ঈমান আনতে হয় বলে উহাকে 'অদৃশ্য ঈমান' বা ঈমান বিল গায়েব বলা হয়।

📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের পরিচয়

📄 ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের পরিচয়


১. সালাত

প্রঃ সালাত শব্দের অর্থ কী?
- দোয়া করা, প্রার্থনা করা, রহমত, দরূদ, ক্ষমা ইত্যাদি।

প্রঃ সালাতের ওয়াক্ত কয়টি ও কী কী?
- ৫টি। ১. ফজর ২. যুহর ৩. আসর ৪. মাগরিব ও ৫. এশা।

প্রঃ ফজরের সালাত কখন পড়তে হয়?
- সুবহি সাদিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বক্ষণ পর্যন্ত।

প্রঃ যুহরের সালাত কখন পড়তে হয়?
- সূর্য যখন উপর থেকে একটু পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ে তখন থেকে কোন বস্তুর ছায়া আসলের দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।

প্রঃ আসরের সালাত কখন পড়তে হয়?
- যুহরের সালাতের পর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।

প্রঃ মাগরিব এর সালাত কখন পড়তে হয়?
- সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে পশ্চিমাকাশে লালিমা (শাফাক) বিরাজ করা পর্যন্ত।

প্র : এশার সালাত কখন পড়তে হয়?
- সন্ধ্যার পর পশ্চিমাকাশের লালিমা (শাফাক) কেটে যাওয়ার পর থেকে ভোর পর্যন্ত। (তবে মধ্যরাতের পূর্বে উত্তম সময়)।

প্র : সালাতের ওয়াজিব ও সুন্নাত কতটি?
- ওয়াজিব ১৪ টি ও সুন্নাত ১০ টি।

প্র: জুমআর সালাতের হুকুম কী?
- ফরযে আইন।

প্র: জুমআর সালাতে ফরয কত রাকআত?
- দুই রাকআত।

প্র : জুমআর সালাত কাদের উপর ফরয নয়?
- নাবালেগ, রুগ্ন, পাগল, অন্ধ, মুসাফির, ক্রীতদাস, খোঁড়া ও স্ত্রীলোক।

প্রঃ কোন সালাতের পরিবর্তে জুমআর সালাত পড়তে হয়?
- যুহরের সালাতের পরিবর্তে।

প্রঃ ঈদে কত রাকআত সালাত পড়তে হয়?
- দুই রাকআত।

প্র: ঈদুল ফিতরের সালাত কোন মাসের কত তারিখে পড়তে হয়?
- শাওয়াল মাসের ১ তারিখে।

প্র : ঈদুল আযহার সালাত কোন মাসের কত তারিখে পড়তে হয়?
- যিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে।

প্র: জানাযার সালাত কখন পড়তে হয়?
- মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পূর্বে।

প্র: কোন কোন সময়ে সালাত পড়া নিষেধ?
- ১. সূর্যোদয়ের সময়; ২. সূর্য যখন ঠিক মাথার উপরে থাকে ও ৩. সূর্যাস্তের সময়।

প্র: সালাত পড়ার জন্যে আল্লাহ আল কুরআনে কতবার তাগিদ দিয়েছেন?
- ৮২ বার।

প্র: সালাত ইসলামের কততম স্তম্ভ?
- দ্বিতীয়।

প্র: কেন হঠাৎ রাসূল (সা) কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে সালাত আদায় করলেন?
- আল্লাহর আদেশে।

প্র: আমরা কাকে কিবলা করে সালাত আদায় করি?
- কাবা শরীফকে।

প্র: কাবা শরীফ কার উম্মাতের জন্যে চিরকাল কিবলা হয়ে থাকবে?
- হযরত মুহাম্মাদ (স) এর।

প্র: মিরাজ রজনীতে প্রথম পর্যায়ে রাসূল (স) কোথায় সালাত আদায় করেন?
- বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদে।

প্র: কোন স্থানে দুই ওয়াক্ত সালাতের জন্য একবার আযান দেয়া হয়?
- আরাফাত প্রান্তরে।

প্র : কত বছর বয়স থেকে সালাত আদায় করা জরুরি?
- দশ বছর বয়স থেকে।

প্রঃ সালাত আদায় না করা কোন ধরনের গুনাহ?
- সালাত আদায় না করা কবিরা গুনাহ।

প্রঃ কী কী কারণে সালাত ভঙ্গ হয়?
- ১৪টি কারণে সালাত ভঙ্গ হয়। যথা- ১. সালাতের মধ্যে কথা বললে; ২. ইচ্ছাপূর্বক কাউকে সালাম দিলে; ৩. সালামের জবাব দিলে; ৪. আহ্, উহ্ ইত্যাদি শব্দ উচ্চারণ করলে; ৫. দুঃখের কারণে কাঁদলে; ৬. ইচ্ছাপূর্বক কাশি দিলে; ৭. হাঁচির উত্তর দিলে; ৮. দুঃখ বা সুখের সংবাদ শুনে কোনরূপ দোয়া পড়লে; ৯. নিজের ঈমাম ছাড়া অন্য কাউকে লোকমা দিলে; ১০. সালাতের মধ্যে দেখে দেখে কুরআন পড়লে; ১১. নাপাক জায়গায় সিজদা দিলে; ১২. সালাতের মধ্যে পার্থিব কোন জিনিস আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে; ১৩. পানাহার করলে ও ১৪. এমন কোন কাজ করলে যাতে সালাতরত অবস্থা বুঝা যায় না।

প্র : অযুর ফরয কয়টি ও কী কী?
- অযুর ফরয ৪ টি। ১. মুখমণ্ডল ধৌত করা; ২. কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করা; ৩. মাথা মাসিহ করা ও ৪. গাঁট পর্যন্ত দুই পা ধৌত করা।

প্রঃ সালাতের ফরয কয়টি ও কী কী?
- সালাতের ফরয ১৩টি। বাইরে ৬টি, যথা- ১. শরীর পাক হওয়া; ২. কাপড় পাক হওয়া; ৩. জায়গা পাক হওয়া; ৪. সতর ঢাকা; ৫. কিবলামুখী হওয়া; ৬. সালাতের নিয়্যাত করা।
ভিতরে ৭টি, যথা- ১. তাকবিরে তাহরিমা বলা; ২. দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা; ৩. আল কুরআনের কোন সূরা বা আয়াত পড়া; ৪. রুকু করা; ৫. সিজদা করা; ৬. শেষ বৈঠক করা এবং ৭. সালাম ফিরানো।

প্র: সফর বা ভ্রমণকালীন সালাতকে কী বলে?
- কসর সালাত।

প্রঃ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নাম ও রাকআতের সংখ্যাগুলো কী কী?
১. ফজর : ফজরের ফরয সালাত ২ রাকআত;
২. যোহর : যোহরের ফরয সালাত ৪ রাকআত;
৩. আসর : আসরের ফরয সালাত ৪ রাকআত;
৪. মাগরিব : মাগরিবের ফরয সালাত ৩ রাকআত;
৫. এশা : এশার ফরয সালাত ৪ রাকআত।

প্র : কখন থেকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয হয়?
- নবুওয়াতের দশম বছর থেকে।

প্র: মুসলমানগণ কোন দিকে মুখ করে সালাত আদায় করে?
- কাবার দিকে মুখ করে।

প্র : কত বছর বয়স থেকে একজন মুসলিম বালক-বালিকাকে অবশ্যই সালাত ও রোযা সম্পর্কে জানতে হয়?
- সালাতের জন্য ৭ বছর এবং রোযার জন্য ৯ বছর।

আযান ও ইকামত
আযান শব্দটি আরবী। এর অর্থ- জানিয়ে দেয়া, সংবাদ দেয়া, ঘোষণা দেয়া, শুনিয়ে দেয়া ইত্যাদি। শরীআতের পরিভাষায়- সালাতের সময় নির্দিষ্ট কতগুলো শব্দ দ্বারা নির্দিষ্ট নিয়মে উচ্চস্বরে সালাত আদায়ের জন্য আহ্বান করাকে আযান বলে। আর ইকামত শব্দটিও আরবী। এর অর্থ- প্রতিষ্ঠিত করা, কায়িম করা, ইকামত বলা ইত্যাদি। ইসলামী শরীআতের পরিভাষায়- ইসলাম অনুমোদিত বিশেষ বাক্য উচ্চারণের দ্বারা মানুষকে সালাতের জামায়াত শুরু হওয়ার সংবাদ প্রদান করাকে ইকামত বলে। ফরয সালাতের জন্য ইকামত বলা সুন্নতে মুআক্কাদাহ।

২. সাওম-রোযা

প্র : সাওম শব্দের অর্থ কী?
- বিরত থাকা।

প্র : সাওম কত প্রকার ও কী কী?
- ৬ প্রকার। যথা- ১. ফরয; ২. ওয়াজিব; ৩. সুন্নত; ৪. নফল; ৫. মাকরূহ ও ৬. হারাম।

প্র : কোন মাসে রোযা রাখা ফরয?
- রমযান মাসে।

প্র : রোযা কতদিন ফরয?
- পূর্ণ রমযান মাস। (৩০ বা ২৯ দিন, চাঁদ অনুযায়ী)

প্র : রমযানের ফরয রোযা অস্বীকার করলে কী হয়?
- কাফির হতে হয়।

প্র : বিনা ওযরে এ রোযা ত্যাগ করলে কী হবে?
- ফাসিক হতে হবে।

প্র : কোন কোন রোযা ওয়াজিব?
- মান্নত ও কাফফারার রোযা।

প্র : কোন কোন রোযা সুন্নত?
- যে সকল রোযা নবী (স) স্বয়ং রেখেছেন এবং অন্যকে রাখতে বলেছেন। যেমন- আশুরা, ইয়াওমে আরাফা, আইয়ামে বিয়াযের সাওম।

প্র : কোন কোন রোযা নফল?
- ১. শাওয়াল মাসের ৬টি ২. সোমবার ও বৃহস্পতিবারের, ৩. শাবানের ১৪ ও ১৫ তারিখের রোযা, ৪. জিলহজ্জ মাসের প্রথম আট দিন। এ ছাড়া ফরয ওয়াজিব বাদে সকল প্রকার সাওম নফল।

প্র : কোন কোন রোযা রাখা মাকরূহ?
- ১. শুধু শনি অথবা রবিবার; ২. শুধু আশুরার দিন; ৩. স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে; ৪. কোন দিন বাদ না দিয়ে ক্রমাগত রোযা রাখা।

প্র : বছরে কয় দিন রোযা রাখা হারাম?
- পাঁচ দিন। যেমন- ১. ঈদুল ফিতরের দিন; ২. ঈদুল আযহার দিন ও ৩. আইয়ামে তাশরিক বা যিলহজ্জ মাসের ১১,১২,১৩ তারিখ রোযা রাখা হারাম।

প্র : রোযার শর্ত কয়টি ও কী কী?
- দুইটি। যথা- ১. রোযা সহিহ হওয়া ও ২. রোযা ওয়াজিব হওয়া।

প্র : রোযা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত কয়টি ও কী কী?
- ৪টি। যেমন- ১. মুসলিম হওয়া; ২. বালিগ হওয়া; ৩. রোযা ফরয হওয়া সম্পর্কে জানা ও ৪. সক্ষম হওয়া।

প্র: রোযা সহিহ হওয়ার শর্ত কয়টি ও কী কী?
- ৩টি। যেমন- ১. মুসলমান হওয়া; ২. মহিলাদের হায়িয নিফাস থেকে পবিত্র হওয়া ও ৩. নিয়াত করা।

প্রঃ রোযার মধ্যে কোন তিনটি বিষয় থেকে বিরত থাকা ফরয?
- ১. কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকা; ২. কিছু পান করা থেকে বিরত থাকা ও ৩. যৌনবাসনা পূর্ণ করা থেকে বিরত থাকা।

প্র : কী কী কারণে রোযা না রাখার অনুমতি রয়েছে?
- ১. সফর; ২. রোগ; ৩. গর্ভধারণ; ৪. স্তন্যদান; ৫. ক্ষুধা তৃষ্ণার প্রাবল্য; ৬. বার্ধক্য ও দুর্বলতা; ৭. জীবন নাশের ভয়; ৮. জিহাদ; ৯. বেহুঁশ হওয়া ও ১০. মস্তিষ্ক বিকৃতি।

প্র: ইতিকাফের সময় কী কী কাজ করা মুস্তাহাব?
- ১. যিকির করা; দ্বীনের মাসআলা-মাসায়িল ও ইলম-কালামের উপর চিন্তা- ভাবনা করা; ২. কুরআন তিলাওয়াত ও তা নিয়ে চিন্তা করা; ৩. দরূদ শরীফ ও অন্যান্য যিকির করা; ৪. দ্বীন সম্পর্কে পড়াশুনা ও পড়ানো; ৫. ওয়ায ও প্রচার করা ও ৬. দ্বীন সম্পর্কিত বই আলোচনায় লিপ্ত থাকা।

প্র: রোযা রাখা সম্পর্কে আয়াতটি কোন সূরার কত নং আয়াত?
- সূরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াত।

প্র: অসুস্থ এবং মুসাফিরের জন্য রোযা রাখার বিধান কী?
- রমযান মাসের পর রোযা রাখবে।

প্র: রোযার চন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার একটি সুবিধা কী?
- সকল ঋতুতে রোযা রাখা যায়।

রোযার ফজিলত
রোযার ফযিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন হাদীসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- 'রোযা আমার জন্যে আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব'। রোযা পালন করলে দিনের বেলায় মুখ থেকে যে গন্ধ আসে তাও আল্লাহর কাছে খুব প্রিয়। এ প্রসঙ্গে রাসূল (স) বলেছেন- 'রোযা পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের চেয়ে বেশি সুগন্ধিময়'। রাসূল (স) আরো বলেছেন- 'রোযা ঢাল স্বরূপ'।

রোযা ভঙ্গের কারণসমূহ: সাওম বা রোযা ভঙ্গের কারণগুলো নিম্নরূপ। যথা-
১. অনিচ্ছাকৃত নাক বা মুখ দিয়ে পানি প্রবেশ করলে;
২. জোরপূর্বক পানাহার করলে;
৩. রাত বাকী আছে ভেবে সাহরি খেলে;
৪. ইচ্ছাকৃত বমি গিলে ফেললে;
৫. পোশাব পায়খানার রাস্তা দিয়ে ঔষধ বা অন্য কিছু প্রবেশ করালে;
৬. সূর্যাস্ত হওয়ার আগেই ইফতার করলে;
৭. ভুলক্রমে পানাহার করার পর রোযা ভঙ্গ হয়েছে বলে পানাহার করলে;
৮. ঘুম ও বেহুঁশ অবস্থায় সহবাস করলে;
৯. দাঁতের মধ্যে থেকে বুট পরিমাণ কোন কিছু বের করে গিলে ফেললে;
১০. রোযা ও ইফতারের নিয়‍্যাত না করলে।

ফিতরা
ফিতরা শব্দটি আরবী। অর্থ খোলা বা ভাঙ্গা। শরীআতের পরিভাষায়- এক মাস সিয়াম সাধনার পর যে সদকা প্রদান করা হয়, তাকে ফিতরা বলে। এ জাতীয় সদকা প্রদান করা ওয়াজিব। রোযা পালন করার সময়কার ভুল-ত্রুটির প্রতিবিধান করার জন্য এ সদকা ওয়াজিব করা হয়েছে। সদকায়ে ফিতর প্রত্যেক মুসলমান তার পরিবার পরিজন ও নাবালেগ শিশু সকলের পক্ষ থেকে আদায় করতে হবে। এর পরিমাণ হচ্ছে- মাথা পিছু অর্ধ সা গম বা এক সা খেজুর অথবা যব। ফিতরায় গমের হিসেবে অর্ধ সা গমের মূল্য দিয়ে দিলেও জায়িয হবে। ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে গমনের পূর্বে ফিতরা প্রদান করাই উত্তম। তবে, পরে আদায় করলেও চলবে। আর যে সকল ক্ষেত্রে যাকাত দেয়া যায়, সে সকল ক্ষেত্রে ফিতরাও দেয়া যায়।

ইতিকাফ
ইতিকাফ শব্দের শাব্দিক অর্থ আবদ্ধ করা, আটক রাখা। রোযা অবস্থায় নিয়াত সহকারে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়। ইতিকাফ তিন প্রকার। যথা- ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল।
১. ওয়াজিব ইতিকাফ হচ্ছে মান্নতের ইতিকাফ। চাই কোন শর্তের সাথে সংযুক্ত করুক বা না করুক সর্বাবস্থায় মান্নত অনুযায়ী ইতিকাফ আদায় করা ওয়াজিব।
২. রমযান শেষে ১০ দিনের ইতিকাফ সুন্নত। রমযান মাসের ২০ তারিখে সূর্য অস্তের পূর্ব থেকে শাওয়াল চাঁদ দেখার সন্ধ্যা পর্যন্ত ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া।
৩. ওয়াজিব ও সুন্নত ব্যতীত যেকোন সময় ইতিকাফ করা نفل। ইতিকাফে দিনের সাথে রাতও শামিল।

৩. যাকাত

প্র: যাকাত শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
- আরবী ভাষার।

প্রঃ যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
- বৃদ্ধি পাওয়া, পবিত্র ও বিশুদ্ধ হওয়া।

প্র: কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে যাকাত দিতে হয়?
- কমপক্ষে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য অথবা সমপরিমাণ মূল্যের সম্পদ পূর্ণ এক বছর সঞ্চিত থাকলে যাকাত দিতে হয়।

প্র: যাকাতের পরিমাণ কত?
- শতকরা আড়াই টাকা। (চল্লিশ ভাগের এক ভাগ)

প্রঃ যাকাত আদায়ের শর্ত কী?
- নিয়্যাত করা।

প্র: গরুর যাকাতে নিসাব কয়টি?
- ত্রিশটি গরু।

প্র: ছাগলের যাকাতের নিসাব কয়টি?
- চল্লিশটি ছাগল।

প্র : স্বর্ণের যাকাতের নিসাব কত?
- বিশ মিসকাল।

প্র: রৌপ্যর যাকাতের নিসাব কত?
- ২০০ দিরহাম।

প্রঃ যাকাতের ব্যয় ক্ষেত্র কয়টি?
- ৮টি।

প্রঃ সেচের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলের উশর কত?
- বিশ ভাগের এক ভাগ।

প্রঃ কোন কোন মালের উপর যাকাত ওয়াজিব নয়?
- ১. বসবাসের ঘর; ২. পরিধেয় বস্ত্র; ৩. ঘরের আসবাব পত্র; ৪. আরোহণের প্রাণী; ৫. সেবার দাস ও ৬. ব্যবহারিক অস্ত্র।

প্র : এগুলোর উপর যাকাত ওয়াজিব না হওয়ার কারণ কী?
- এগুলো মৌলিক প্রয়োজনীয় বস্তুগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো বৃদ্ধিও পায় না।

প্র: কয়টি শর্ত সাপেক্ষে গরুর যাকাত দিতে হয়? সেগুলো কী কী?
- ৩টি। যেমন- ১. কমপক্ষে ৩০ টি গরু হওয়া;
২. বন জঙ্গলে চরে ঘাস খাওয়া;
৩. একজনের মালিকানায় থাকা।

প্র: ইসলামী শরীআতের নীতিমালা অনুযায়ী কয়টি খাতে যাকাতের মাল প্রদান করা নিষিদ্ধ?
- দশটি খাতে। যথা-
১. জিম্মীকে প্রদান করা;
২. মসজিদ নির্মাণ করা;
৩. ধনী লোককে যাকাত দেয়া;
৪. কাফনের কাপড় খরিদ করা;
৫. আযাদ করার মনোভাবে দাস-দাসী ক্রয় করা;
৬. পিতা, দাদা, ছেলে, নাতী ইত্যাদিকে প্রদান করা;
৭. স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে দেওয়া;
৮. নিজ গোলামকে দেওয়া;
৯. হাশেমী বংশের লোক ও তাদের গোলামকে যাকাত দেওয়া;
১০. এক শহর হতে অন্য শহরে হস্তান্তর করা।

৪. হজ্জ

প্রঃ হজ্জ শব্দের আভিধানিক অর্থ কী?
- ইচ্ছা করা, সংকল্প করা।

প্রঃ হজ্জের সময় কখন?
- যিলহজ্জ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ।

প্র: হজ্জ কাদের ওপর ফরয?
- প্রত্যেক সুস্থ্য মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ্জ করা ফরয।

প্র: হজ্জের ফরয কয়টি ও কী কী?
- ৩টি। যথা- ১. ইহরাম বাঁধা; ২. আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা ও ৩. বায়তুল্লাহকে যিয়ারত করা।

প্রঃ হজ্জের সময় কোন কোন পর্বতের মধ্যে কতবার দৌড়াতে হয়?
- সাফা ও মারওয়া পর্বতের মধ্যে সাতবার দৌড়াতে হয়।

প্রঃ হজ্জের সময় কোথায় কোরবানি দিতে হয়?
- মিনায়।

প্র: হজ্জের প্রথম কাজ কী?
- ইহরাম বাঁধা।

প্র : ইহরামের শাব্দিক অর্থ কী?
- হারাম করে নেয়া।

প্র : বহিরাগত হাজীরা সাধারণত কোন হজ্জ পালন করেন?
- তামাত্তু হজ্জ।

প্র: হাজীরা পাথর নিক্ষেপ করেন কোথায়?
- জামরাতুল আকাবায়।

প্রঃ সাফা ও মারওয়ার মধ্যখানের উপত্যকা অতিক্রম করার সময় চিহ্নিত স্থানে হাজীরা কী করেন?
- জোর কদমে চলেন।

প্র : ইহরাম থেকে হাজীদের মুক্তি লাভ হয় কোন তারিখে?
- ১০ জিলহজ্জ তারিখে।

প্রঃ উমরা কী?
- উমরা হলো হজ্জের অনুরূপ ছোট হজ্জ। এতে কাবা শরীফের তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার সায়ী করতে হয়।

প্রঃ উমরা হজ্জের কয়টি কাজ?
- দুইটি।

প্র: উমরার জন্যে কোন নির্দিষ্ট তারিখ আছে কী?
- না; তবে জিলহজ্জ মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত এই পাঁচ দিন উমরা করা যায় না।

প্রঃ ইহরামকারীকে কী বলা হয়?
- মুহরিম বলা হয়।

প্র: মিকাত অর্থ কী?
- নির্দিষ্ট স্থান বা সময়।

প্রঃ কোন স্থানকে মিকাত বলে?
- হজ্জের জন্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থান থেকে যে ইহ্রাম বাঁধা হয় সেই স্থানকে মিকাত বলে।

প্রঃ হজ্জের মিকাত কয়টি?
- ৫টি।

প্রঃ বিনা ইহরামে মিকাত অতিক্রম করা কি জায়িয?
- না; হজ্জ ও উমরা আদায়কারীদের জন্য বিনা ইহরাামে মিকাত অতিক্রম করা জায়িয নয়।

প্রঃ বিনা ইহরামে মক্কা শরীফে প্রবেশ করা যায় কি?
- না; যায় না।

প্রঃ বিমানের হজ্জযাত্রীগণ কি স্ব-গৃহ হতে ইহরাম বাঁধতে পারেন?
- হ্যাঁ; তবে যারা জিদ্দা পৌঁছে সর্বপ্রথম মদিনা শরীফ যিয়ারতে যাবে তারা বিনা ইহ্রামে মদিনা যিয়ারত করে মদিনাবাসীদের ন্যায় যুলহুলাইফা থেকে ইহ্রাম বাঁধবে।

প্রঃ তালবিয়াহ্ কাকে বলে?
- ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক লা-শারিকা লাকা লাব্বাইকা ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক লা শারিকা লাকা' বলে আল্লাহর দরবারে হাজিরী ঘোষণাকে তালবিয়াহ্ বলে।

প্রঃ তাওয়াফ কয় প্রকার ও কী কী?
- তাওয়াফ প্রধানত চার প্রকার। যথা- তাওয়াফে কুদুম, তাওয়াফে যিয়ারত, তাওয়াফে বিদা ও তাওয়াফে উমরা।

প্রঃ তাওয়াফে কুদুম কখন করতে হয়?
- মক্কায় পৌঁছেই এই তাওয়াফ করতে হয়। এটি হজ্জের রুকুন নয়, তবে সুন্নত।

প্রঃ তাওয়াফে যিয়ারাত কাকে বলে?
- ১০ যিলহজ্জ তারিখে মিনায় কোরবানি সম্পন্ন করে এসে বা ১১-১২ তারিখে মক্কা শরীফে এসে খানায়ে কাবার যে তাওয়াফ করতে হয়, তাকে তাওয়াফে যিয়ারাত বলে। এটি হজ্জের রুকুন।

প্রঃ তাওয়াফে বিদা কাদের করতে হয়?
- ১৩ যিলহজ্জ তারিখ পর্যন্ত হজ্জের সমস্ত করণীয় কাজ আদায় করার পর দেশে ফেরার পূর্বে বহিরাগতকে এই তাওয়াফ করতে হয়, এটা ওয়াজিব।

প্রঃ তাওয়াফে উমরা কাকে বলে?
- তাওয়াফে উমরা হলো উমরার একটি জরুরি অংশ। এতে রমল ও ইতিবা দুইটিই করতে হয়।

প্রঃ কোন স্থান থেকে এবং কিভাবে তাওয়াফ শুরু করতে হয়?
- হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করতে হয় এবং খানায়ে কাবা বাম পাশে রেখে সামনে অগ্রসর হতে হয়।

প্রঃ রমল কাকে বলে?
- তাওয়াফের সময় সৈনিকের ন্যায় বীরত্বের সাথে জোর কদমে কাঁধ হেলিয়ে চলাকে রমল বলে।

প্রঃ কোন তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল করতে হয়?
- যে তাওয়াফের পরে সায়ী আছে।

প্র: ইস্তিবা কাকে বলে?
- গায়ের চাদরকে ডান বগলের নিচ দিয়ে ডান কাঁধ খালি রেখে বাম কাঁধের উপর চাদরের দুই মাথা ফেলাকে ইত্তিবা বলে।

প্র: কোন কোন তাওয়াফে ইত্তিবা করতে হয়?
- যে সমস্ত তাওয়াফের পর সায়ী আছে।

প্রঃ শাওত কাকে বলে?
- খানায়ে কাবার তাওয়াফের সময় হাজরে আসওয়াদ হতে শুরু করে এক চক্কর ঘুরে আসাকে এক শাওত বলে।

প্র: ইস্তিস্লাম কাকে বলে?
- হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করাকে ইস্তিস্লাম বলে।

প্র: দুই হাতে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে মুখমণ্ডলে হাত মুহলে কি ইস্তিস্লাম আদায় হবে?
- হ্যাঁ; এমনকি তাও সম্ভব না হলে দুই হাত দিয়ে ইশার করেও ইস্তিস্লাম করা যায়।

প্রঃ ওকুফ কী?
- ৯ যিলহজ্জ যোহরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করা। এটি হজ্জের মূল অংশ। একে ওকূফে আরাফা বলে।

প্রঃ রমি কাকে বলে?
- মিনায় শয়তানের উদ্দেশে কঙ্কর নিক্ষেপ করাকে রমি বলে।

প্র: সায়ী কাকে বলে?
- সাফা মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে দৌড়ানোকে সায়ী বলে।

প্র: হালক ও কসর কাকে বলে?
- সায়ীর পর মাথামুণ্ডন এবং চুল ছাঁটাকে যথাক্রমে হালক ও কসর বলে।

প্রঃ দম কিভাবে আদায় করতে হয়?
- ইহ্রাম অবস্থায় কোন কোন নিষিদ্ধ কাজ করার দরুণ কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা অথবা গরু, উট ও মহিষের এক সপ্তমাংশ দ্বারা দম আদায় হয়ে থাকে।

প্রঃ দম না দিলে কি হজ্জ আদায় হয় না?
- না; স্বেচ্ছায় অথবা ভুলবশত হজ্জের কোন ওয়াজিব আনাদায় থাকলে তার কাফ্ফারা অতিরিক্ত একটি কোরবানি দিলে তবে হজ্জ আদায় হয়।

প্রঃ হজ্জের কোন ফরয অনাদায় থাকলে হজ্জ হবে কি?
- না; হজ্জের একটি ফরযও অনাদায় থাকলে আদৌ হজ্জ হবে না।

প্র: কোন পাথরকে মাকামে ইবরাহীম বলে?
- হযরত ইবরাহীম (আ) এর কদম মুবারকের চিহ্ন সম্বলিত সেই পাথরকে যায় উপর দাঁড়িয়ে তিনি কাবা ঘর নির্মাণ করেছিলেন।

প্রঃ বর্তমানে মাকামে ইবরাহীম নামক পাথরটি কোথায় রক্ষিত আছে?
- কাবা ঘরের পূর্ব দিকে।

প্র : হাজরে আসওয়াদ কী?
- সেই বিহিস্তী কালো পাথর যাতে চুম্বন করলে ব্যক্তির সমস্ত গুনাহ চুষে নেয়।

প্র: বর্তমানে হাজরে আসওয়াদ কোথায় আছে?
- পবিত্র কাবা ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণের দেয়ালে গাঁথা অবস্থায় রক্ষিত আছে।

প্রঃ কোন জায়গাকে মাতাফ বলে?
- তাওয়াফের স্থান অর্থাৎ কাবা ঘরের চারদিকে শ্বেত পাথরের অঙ্গনকে মাতাফ বলে।

প্রঃ কোন স্থানকে মুলতাযাম বলে?
- বাইতুল্লাহ শরীফের প্রাচীরের ঐ অংশ যা হাজরে আসওয়াদ ও খানায়ে কাবার দরজার মধ্যবর্তী স্থান।

প্রঃ কোন স্থানকে মিযাবে রহমত বলে?
- কাবা শরীফের ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি উত্তরে অবস্থিত হাতিমের মধ্যে যে স্থানে পড়ে, সেই স্থানটিকে মিযাবে রহমত বলে।

প্র : বাবুস সালাম কী?
- মসজিদুল হারামের পূর্বদিকের যে দরজাটি দিয়ে হাজীগণ হারাম শরীফে প্রবেশ করেন, সেই দরজাটিকে বাবুস সালাম বলে।

প্র: কোন দরজাকে বাবুল বিদা বলে?
- মসজিদুল হারামের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের দরজাকে বাবুল বিদা বলে।

প্রঃ রুকুনে ইয়ামিন কাকে বলে?
- কাবা ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণকে রুকুনে ইয়মিন বলে।

প্রঃ কোন স্থানকে জামরাতুল আকাবা বলে?
- মিনা প্রান্তরে শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপের স্থানকে জামরাতুল আকাবা বলে।

প্র: জামরাতুল আকাবায় কয়টি জামরা আছে?
- বড় শয়তান, মেঝ শয়তান ও ছোট শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপের জন্যে যথাক্রমে তিনটি জামরা আছে।

প্রঃ বাবুল সাফা কী?
- তাওয়াফ শেষে মসজিদুল হারামের যে দরজা দিয়ে বেরিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে সায়ী করার উদ্দেশ্যে যেতে হয়, সেই দরজার নাম বাবুস সাফা।

প্র: মিনা প্রান্তর কোথায় অবস্থিত?
- মক্কা শরীফ থেকে মাইল তিনেক দূরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত।

প্র : শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ ও কোরবানি করার স্থান কোথায় অবস্থিত?
- মিনা প্রান্তরে।

প্র: আরাফাত ময়দান কোথায় অবস্থিত?
- মক্কা শরীফ হতে ৮/৯ মাইল দূরে।

প্র: বিহিত হতে বের হওয়ার পর হযরত আদম ও হাওয়া (আ) কোথায় মিলিত হয়েছিলেন?
- আরাফাত ময়দানে।

প্র: হাজীদের কি আরাফাত ময়দানে হাজির হতে হয়?
- হ্যাঁ; ৯ যিলহজ্জ তারিখে এই স্থানে হাজির হওয়াও হজ্জের মূল অংশ। এদিন এখানে যোহর ও আসরের নামায একত্রে পড়তে হয়।

প্রঃ কোন স্থানকে মুযদালিফা বলে?
- মিনা ও আরাফাত নামক প্রান্তরদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানকে মুযদালিফা বলে।

প্র: আল কুরআনে মুযদালিফাকে কী নামে অভিহিত করা হয়েছে?
- মা’শারুল হারাম নামে।

প্র: শয়তানকে মারার জন্য কঙ্কর কোথা থেকে সংগ্রহ করতে হয়?
- মুযদালিফা থেকে।

প্র: হাজীগণ মুযদালিফায় কোন রাত্রে অবস্থান করেন?
- ৯ যিলহজ্জের দিবাগত রাত্রে। (এখানে মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে পড়তে হয়)

প্র: কোন পাহাড়কে জাবালে রহমত বলা হয়?
- আরাফাত ময়দান সন্নিহিত সেই পাহাড়কে যেখানে দাঁড়িয়ে রাসূল (স) বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন।

প্র : ওকুফে আরাফার জন্য কোন জায়গা সর্বোত্তম?
- ওকূফে আরাফার জন্য জাবালে রহমত এবং এর পার্শ্ববর্তী স্থান সর্বোত্তম।

প্রঃ মুহাস্সার কী?
- ৫৪৫ হাত দীর্ঘ নিচু স্থান যা আরাফাত হতে মিনায় প্রত্যাবর্তনের পথে পড়ে।

প্রঃ বাদশাহ্ আবরাহা কোথায় আল্লাহর গযবে নিপতিত হয়েছিল?
- মুহাস্সার নামক স্থানে।

প্রঃ মুহাস্সারে কী ঘটেছিল?
- দাম্ভিক বাদশাহ্ আবরাহা আল্লাহর গযবে নিপতিত হয়ে আবাবিল পাখির কংকরের আঘাতে তার বিশাল হস্তীবাহিনীসহ ধ্বংস হয়েছিল।

প্র : মুহাস্স্সার নামক স্থানটুকু তাড়াতাড়ি অতিক্রম করতে হয় কেন?
- গযবের স্থান বিধায়।

প্র : জান্নাতুল মুআল্লা কী?
- মক্কা শরীফের একটি বিখ্যাত কবরস্থানে।

প্র : মক্কা শরীফে কোনো হাজীর ইন্তিকাল হলে কোথায় দাফন করা হয়?
- জান্নাতুল মুআল্লা নামক কবরস্থানে।

প্র : জান্নাতুল বাকী কী?
- মদিনা শরীফের প্রাচীন কবরস্থানে।

প্রঃ মদিনায় কোন হাজীর ইন্তিকাল হলে কোথায় দাফন করা হয়?
- জান্নাতুল বাকী নামক গোরস্থান।

প্রঃ গারে হেরা কী?
- মক্কার অনতিদূরে অবস্থিত হেরা নামক পর্বতের একটি গুহা। এখানে রাসূল (স) ধ্যান-মগ্ন অবস্থায় অনেকদিন কাটিয়েছেন এবং এখানেই তাঁর উপর সর্বপ্রথম 'ইকরা বিইসমি' ওহি নাযিল হয়।

প্র: হজ্জের সুন্নাত কয়টি ও কী কী?
- হজ্জের সুন্নাত দশটি। যথা-
১. ইফরাদ অথবা কিরানকারীদের জন্য তাওয়াফে-কুদুম করে সর্বপ্রথম তাওয়াফ করা;
২. তাওয়াফে-কুদুম কিংবা তাওয়াফে-যিয়ারতের মধ্যে রমল করা;
৩. ইমাম (বাদশাহ্ বা তাঁর প্রতিনিধি)-এর জন্যে তিন জায়গায় খুতবা দেওয়া; ক. ৭ যিলহজ্জ তারিখে মক্কা শরীফে; খ. ৯ যিলহজ্জ তারিখে আরাফাতের ময়দানে এবং গ. ১১ যিলহজ্জ মিনায়। এতে শামিল থাকা।
৪. ৮ যিলহজ্জ মক্কা শরীফ থেকে মিনায় গিয়ে যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজর পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় করা এবং রাত্রে সেখানে অবস্থান করা;
৫. ৯ যিলহজ্জ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানের দিকে রওয়ানা হওয়া;
৬. আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করার জন্য যোহরের পূর্বে গোসল করা;
৭. ৯ যিলহজ্জ আরাফার ময়দানে ওকূফ করে সূর্যাস্তের পর সেখান থেকে মুযদালিফার দিকে রওয়ানা হওয়া;
৮. ৯ যিলহজ্জ দিবাগত রাত্রে আরাফার ময়দান থেকে ফিরে মুযদালিফার ময়দানে রাত্রিযাপন করা;
৯. ১০, ১১, এবং ১২ যিলহজ্জ তারিখের রাত্রিসমূহ মিনায় যাপন করা;
১০. মিনা থেকে মক্কা শরীফে প্রত্যাবর্তনকালে মুহাস্সার নামক স্থানে কিছুক্ষণ অবস্থান করা।

প্রঃ গারে সওর কী?
- মক্কার দুই মাইল দূরে মিসফালা মহল্লার দক্ষিণে অবস্থিত এবং প্রায় এক মাইল উঁচু একটি পর্বত গুহার নাম।

প্রঃ দম কী?
- ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজের কাফ্ফারা।

প্রঃ ইহরাম কখন বাঁধতে হয়?
- যিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখ বা তার পূর্বে।

প্রঃ যিনি কেবল হজ্জের ইহরাম করে শুধু হজ্জই সমাপন করেন তাকে কী বলে?
- মুফরিদ।

প্রঃ বাংলাদেশীদের জন্য মিকাত কোনটি?
- ইয়ালামলাম পাহাড়।

প্রঃ কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হয় কেন?
- ইবরাহীম (আ) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মেরেছিলেন বলে।

প্রঃ দশম তারিখে কেবল কোন স্থানে পাথর নিক্ষেপ করা নিয়ম?
- তৃতীয় জামরায়।

প্রঃ কোথা থেকে মিনায় এসে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হয়?
- মুযদালিফা থেকে।

প্রঃ কী বলে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হয়?
- বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার।

প্রঃ মিকাত অতিক্রম করার আগে কী করতে হয়?
- ইহরাম বাঁধতে হবে।

প্রঃ আরাফায় অবস্থানকে আরবীতে কী বলে?
- উকূফে আরাফা।

প্রঃ কঙ্কর নিক্ষেপ করা হাজীদের জন্য কী ধরণের কাজ?
- ওয়াজিব।

প্রঃ কোথায় হাজীরা উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করেন?
- মুযদালিফায়।

প্রঃ সূর্যাস্তের পর ইমামের অনুবর্তী হয়ে হাজীদের কোন দিকে রওয়ানা করতে হয়?
- মুযদালিফার দিকে।

প্রঃ উমরার নিষিদ্ধ তারিখগুলো কী কী?
- যিলহজ্জের ৯ হতে ১৩ তারিখ।

প্র: সাতপাকে কাবাকে প্রদক্ষিণ করাকে কী বলে?
- তাওয়াফ।

প্র: সাফা ও মারওয়া প্রদক্ষিণ করাকে কী বলে?
- সায়ী।

প্র: একই ইহরামে উমরাহ এবং হজ্জ করাকে কী বলে?
- কিরান।

প্র: ইহরামের বন্ধন থেকে মুক্তিলাভ করে কিছুদিন অপেক্ষা করার পর আবার ইহরাম করে হজ্জ করাকে কী বলে?
- তামাতু।

প্র: কোন তারিখে হাজীরা আরাফাতের মাঠে সমবেত হয়?
- ৯ যিলহজ্জ তারিখে, ইয়াওমুল আরাফাহ।

প্র: কোন স্থানে হাজীরা যোহর এবং আসরের সালাত একত্রে আদায় করেন?
- আরাফাত প্রান্তরে।

প্র: কোন স্থানে হাজীরা মাগরিব এবং ইশার সালাত এক আযান ও এক ইকামতে আদায় করেন?
- মুযদালিফায়।

প্র: হাজীরা মিনায় এসে জামরাতুল আকাবাতে শয়তানের উদ্দেশে কয়টি কঙ্কর নিক্ষেপ করেন?
- ৭টি।

প্র: হজ্জের ওয়াজিব কয়টি?
- ৯টি। যথা- ১. সাফা মারওয়ায় দৌড়ানো; ২. মুযদালিফায় অবস্থান; ৩. জামরাতে কঙ্কর নিক্ষেপ; ৪. কাবার প্রথম তাওয়াফ; ৫. তাওয়াফে আলবিদা; ৬. মাথা মুণ্ডন বা চুল কর্তন; ৭. কোরবানি করা; ৮. দুই ওয়াক্ত সালাত একত্রে আদায়; ৯. রমী ও মস্তক মুণ্ডনে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।

প্র: হজ্জের দ্বিতীয় কাজ কী?
- তাওয়াফ করা।

প্র: হজ্জের সময় কোরবানির দিনগুলোতে কী করতে হয়?
- তাওয়াফে জিয়ারাত।

প্র: হজ্জের সময় কোরবানির দিনগুলোতে তাওয়াফে জিয়ারাত না করলে কী করতে হয়?
- দম দিতে হবে।

প্র: যারা বহিরাগত তাদের হজ্জের সর্বশেষ কাজ কী?
- বিদায়ী তাওয়াফ।

প্র : হাজীরা কার রওজা মুবারক জিয়ারাত করার সুযোগ হারাতে চান না?
- হযরত মুহাম্মদ (স) এর।

প্র: হজ্জ কোন মাসে অনুষ্ঠিত হয়?
- যিলহজ্জ মাসে।

প্রঃ হজ্জ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
- মক্কা শরীফে।

প্রঃ বিদায়ী তাওয়াফ কোন শ্রেণীর হাজীদের জন্য?
- বহিরাগত হাজীদের জন্য।

প্রঃ হজ্জে যেসব কাজ বাদ পড়লে হাজীদের কোরবানি দিতে হয় তাকে কী বলে?
- ওয়াজিব।

প্রঃ হজ্জ মুসলিমের বা মুসলিম বিশ্বের কিসের প্রতীক?
- ঐক্যের প্রতীক।

প্র : হজ্জের সমাবেশে সমাগত মুসলিমগণ কী মনে করেন?
- এক আল্লাহর সৃষ্টি মানুষ একই জাত।

প্র: আশহুরে হজ্জ বলতে কোন কোন মাসকে বুঝানো হয়?
- শাওয়াল, যিলকাদ ও যিলহজ্জ মাসকে।

প্র: বিদায় হজ্জের কত দিন পরে ও কোথায় রাসূল (স) ইনতিকাল করেন?
- বিদায় হজ্জের তিনমাস পরে, ১০ হিজরীতে ৬৩ বছর বয়সে, মদিনায়।

প্র: বিদায় হজ্জের ভাষণ মহানবী (স) কোথায় দিয়েছিলেন?
- আরাফাতের ময়দানে।

প্র: বিদায় হজ্জের ভাষণে তিনি কোন দুইটি জিনিস রেখে যান?
- কুরআন ও হাদীস।

প্র : বিদায় হজ্জের পথে হযরত মুহাম্মদ (স) কাদের শিক্ষাদান ও প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন?
- নওমুসলিমদের।

প্র: বিদায় হজ্জের বাণীগুলো কোথায় লেখা আছে?
- হাদীস শরীফে।

প্র: বিদায় হজ্জের পূর্বে মুসলমান হজ্জ যাত্রীর সংখ্যা কত ছিল?
- তিনশত।

প্রঃ বিদায় হজ্জের ভাষণের বাক্যগুলোকে সংক্ষেপে কী বলে?
- মানবাধিকার সনদ।

📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 জ্বিন ও আযাযিল

📄 জ্বিন ও আযাযিল


প্রঃ জ্বিন কী থেকে সৃষ্টি?
- আগুন থেকে।

প্র : জ্বিনদের আদি পিতার নাম কী?
- ছুমা।

প্র: তাকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
- আবুল জ্বিন নামে।

প্র : জ্বিনদের মধ্যে শ্রেণীভেদ আছে কী?
- হ্যাঁ; শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধার্মিক-পাপী ইত্যাদি।

প্র : জ্বিন জাতির বংশবৃদ্ধি হয় কিভাবে?
- মানুষের মতই জৈবিক প্রক্রিয়ায়।

প্র : একজন অভিশপ্ত কুখ্যাত জ্বিনের নাম কী?
- আযাযিল।

প্র: আযাযিলের পিতার নাম কী?
- খবিস।

প্র : খবিসের আকৃতি কেমন?
- সিংহের মতো।

প্রঃ অভিশপ্ত আযাযিলের মায়ের নাম কী?
- নিলবিছ।

প্র : নিলবিছের আকৃতি ও স্বভাব কেমন?
- বাঘের মতো।

প্র: শয়তানে পরিণত হওয়ার আগে আযাযিল কী নামে পরিচিত ছিল?
- শয়তানে পরিণত হওয়ার আগে আযাযিল মুআল্লীমুল মালায়িকা বা ফিরিস্তাদের শিক্ষক নামে পরিচিত ছিল।

প্র : শয়তান হওয়ার পরে আযাযিল আল্লাহর কাছ থেকে কী কী অধিকার লাভ করে?
১. কিয়ামাত পর্যন্ত জীবন;
২. আদম ও তাঁর সন্তানদের দেহের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় প্রবেশ ক্ষমতা;
৩. মুহূর্তে পৃথিবীর যেখানে ইচ্ছা সেখানে পৌছানোর ক্ষমতা;
৪. ইচ্ছানুযায়ী যে কোন প্রাণীর রূপ ধারণ করা।

প্র: শয়তান একমাত্র কোন মহামানবের রূপ ধারণ করতে অক্ষম?
- হযরত মুহাম্মদ (স) এর।

📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 কুরআনে আলোচিত ফিরিশ্তা

📄 কুরআনে আলোচিত ফিরিশ্তা


১. হযরত জিব্রাইল (আ)
২. হযরত মিকাইল (আ);
৩. হযরত হারুত (আ);
৪. হযরত মারুত (আ);
৫. হযরত রাদ (আ);
৬. হযরত সিজ্জিল (আ);
৭. হযরত মালিক (আ) ও
৮. হযরত কায়িদ (আ)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00