📄 তিলাওয়াতে সিজদার স্থানসমূহ
ক্রম. সূরার নাম অবতীর্ণের স্থান আয়াত পারা নং
১. আরাফ মক্কা ২০৬ ০৮
২. রাদ মদিনা ১৫ ১৩
৩. নাহল মক্কা ৪৯-৫০ ১৪
৪. বনি ইসরাইল মক্কা ۱۰۹ ১৫
৫. মারইয়াম মক্কা ৫৮ ১৬
৬. হজ্জ মদিনা ১৮ ১৭
৭. ফুরকান মক্কা ৬০ ১৯
৮. নামল মক্কা ২৫-২৬ ১৯
৯. সাজদাহ মক্কা ১৫ ২১
১০. সোয়াদ মক্কা ২৪-২৫ ২৩
১১. হা-মিম-সাজদাহ মক্কা ৩৮ ২৪
১২. কামার মক্কা ৬২ ২৭
১৩. ইনশিকাক মক্কা ২০-২১ ৩০
১৪. আলাক মক্কা ১৯ ৩০
📄 আল কুরআনের সপ্ত মানযিল
ক্রম. সূরাক্রম নাম সূরাক্রম নাম ও পর্যন্ত
১. ১ সূরা ফাতিহা ৪ সূরা নিসা শেষ পর্যন্ত
২. ৫ সূরা মায়িদা ৯ সূরা তাওবা পর্যন্ত
৩. ১০ সূরা ইউনুস ১৬ সূরা নাহল শেষ পর্যন্ত
৪. ১৭ সূরা বনী ইসরাইল ২৫ সূরা ফুরকান শেষ পর্যন্ত
৫. ২৬ সূরা শুআরা ৩৬ সূরা ইয়াসিন শেষ পর্যন্ত
৬. ৩৭ সূরা সাফফাত ৪৯ সূরা হুজুরাত শেষ পর্যন্ত
৭. ৫০ সূরা কাফ ১১৪ সূরা নাস শেষ পর্যন্ত।
📄 কুরআন ও হাদীসে কুদসির পার্থক্য
কুরআন
১. কুরআন মজিদ জিবরাইল (আ) ছাড়া নাযিল হয়নি এবং শব্দ ভাষা নিশ্চিত ভাবে লাওহে মাহফুয হতে অবতীর্ণ।
২. নামাযে কুরআন মজিদই শুধু পাঠ করা হয়। কুরআন ছাড়া নামায সহিহ হয় না।
৩. অপবিত্র অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা হারাম।
৪. কুরআন মজিদ একটি মুজিযা।
৫. কুরআন অমান্য করলে কাফির হতে হয়।
৬. কুরআন নাযিল হওয়ার জন্যে আল্লাহ ও রাসূলের মাঝখানে জিবরাইল (আ) এর মধ্যস্থতা জরুরি।
হাদীসে কুদসী
১. হাদীসে কুদসীর মূল বক্তব্য আল্লাহর কাছ থেকে ইলহাম কিংবা স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত। কিন্তু ভাষা রাসূল (স) এর নিজস্ব।
২. নামাযে হাদীসে কুদসী পাঠ করা যায় না অর্থাৎ হাদীসে কুদসী পাঠে নামায হয় না।
৩. হাদীসে কুদসী অপবিত্র ব্যক্তি, এমনকি হায়িয-নিফাস সম্পন্না নারীও স্পর্শ করতে পারে।
৪. কিন্তু হাদীসে কুদসী মুজিযা নয়।
৫. হাদীসে কুদসী অমান্য করলে কাফির হতে হয় না।
৬. হাদীসে কুদসীতে জিবরাইলের (আ) মধ্যস্থতা জরুরি নয়।
📄 আল কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব সম্বন্ধে অমুসলিম মনীষীদের অভিমত
বিশ্বের খ্যাতনামা অমুসলিম মনীষীদের এবং জ্ঞানী গুণীদের স্পষ্ট অভিমত পেশ করা হল। এসব জগদ্বিখ্যাত ও দেশ বরেণ্য মনীষী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আলকুরআনের প্রশংসা করেছেন। বস্তুত তারা নিজেদের বিবেকের কাছে সারা দিয়েছেন এবং মানবতার রূপ প্রকাশ করেছেন। আলকুরআন সম্বন্ধে তাদের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অভিমতের জন্য তারা প্রশংসার যোগ্য।
১. বিখ্যাত ভাষাবিদ পণ্ডিত ইমানুয়েল ডেস্ক বলেন- আলকুরআনের সাহায্যে আরবরা মহান আলেকজান্ডারের জগৎ হতে বৃহত্তম জগৎ, রোম সাম্রাজ্য হতে বৃহত্তর সাম্রাজ্য জয় করে নিয়েছে। আলকুরআনের অনুসারী আরব মুসলমানরা এসেছিল মানব জাতিকে জ্ঞানালোকে উদ্ভাসিত করতে।
২. চেম্বার এনসাইক্লোপিডিয়ায় বলা হয়েছে- আলকুরআনে অত্যাচার, মিথ্যা, অহংকার, প্রতিহিংসা, গীবত, লোভ, অপব্যয়, অসদুপায়ে অর্থ উপার্জন, খিয়ানত এবং কারো সম্বন্ধে খারাপ ধারণা পোষণ করা ইত্যাদির নিন্দা করা হয়েছে। এটাই আলকুরআনের একটি মহান সৌন্দর্য।
৩. ফ্রান্সের ড. গস্তেওলিবাম বলেন- আলকুরআন মানুষের অন্তঃকরণে এরূপ জীবন্ত এবং শক্তিশালী ঈমানের প্রেরণা সৃষ্টি করে যাতে সন্দেহের লেশমাত্রও থাকতে পারে না।
৪. প্রফেসর রেনল্ড নিকলসন বলেন- আলকুরআনের প্রভাবেই আরবী ভাষা সমগ্র মুসলিম জগতে পবিত্র ভাষারূপে সমাদৃত হয়েছে। আলকুরআন আরবের কন্যা হত্যা প্রথার বিলোপ সাধন করেছে।
৫. মি. এস লিডর বলেন- আলকুরআনের শিক্ষা হতেই দর্শন বিভাগের উদ্ভব হয়েছে এবং উহা উন্নতির এরূপ চরম শিখরে পৌঁছিয়েছিল যে, ইউরোপের বড় বড় সাম্রাজ্যের শিক্ষাকেও অতিক্রম করেছিল।
৬. জার্মান দার্শনিক জনজাকরিসক বলেন- বিধর্মীরা যখন পয়গম্বরের মুখে আলকুরআন শুনত তখন তারা অস্থির হয়ে সিজদায় পড়ে যেত এবং ইসলাম গ্রহণ করত।
৭. মি. বেটুলী লেনপুল বলেন- একটি বড় মাযহাবের জন্য যা আবশ্যক আলকুরআনে তা সবই আছে এবং একজন মহান পুরুষ হযরত মুহাম্মদ (স) এর মধ্যেও উহা ছিল।
৮. এইচ. জি. ওয়েল্ল্স বলেন- আলকুরআন মুসলমানদেরকে এরূপ ভ্রাতৃবন্ধনে আবদ্ধ করেছে যাতে বংশগত এবং ভাষাগত ব্যবধানও কোন পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারে না।
৯. এডওয়ার্ড ডি. জি. ব্রাউন বলেন- আমি যতই আলকুরআনের আয়াতসমূহের বিষয় চিন্তা করি উহার অর্থ বুঝতে চেষ্টা করি, ততই আমার অন্তঃকরণে উহার মাহাত্ম বৃদ্ধি পেতে থাকে। অপরপক্ষে যখন জেন্দাবেস্তা (পারসিকদের ধর্মগ্রন্থ) কিংবা অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ, অতীতকালের ঘটনাবলি অথবা কোন গবেষণার জন্য অধ্যয়ন করি, তখন উহা অন্তরে বোমা স্বরূপ মনে হয়।
১০. স্যার উইলিয়াম বলেন- আলকুরআনের স্বাভাবিক এবং নৈসর্গিক দলিল-প্রমাণ দ্বারা আল্লাহ পাকের অস্তিত্বকে এরূপ প্রমাণ করা হয়েছে, যা মানুষের মনকে আল্লাহর তাবেদারী এবং কতৃজ্ঞতা জ্ঞাপনের দিকে প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে।