📄 ওহির পরিচিতি
প্র: ওহি কিরূপ শব্দ?
- আরবী শব্দ।
প্র: ওহির শাব্দিক অর্থ কী?
- প্রত্যাদেশ, বাণী, গোপন ইঙ্গিত, অবগত করান, নির্দেশ ইত্যাদি।
প্র: পরিভাষায় ওহি কাকে বলে?
১. যে সকল মর্মবাণী আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত জিবরাইল (আ) এর মাধ্যমে নবী রাসূলগণের কাছে প্রেরণ করা হতো, তাকে ওহি বলে।
২. আল্লাহর কালাম তাঁর নবীদের প্রতি অবতরণ করাকে ওহি বলে।
৩. আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর নবীদের অবগত করাকে ওহি বলে।
প্র: ওহি কয় শ্রেণীতে বিভক্ত?
- ২ শ্রেণীতে বিভক্ত। যেমন-
১. ওহিয়ে মাতুল বা পঠিত প্রত্যাদেশ : যে সকল ওহির শব্দ হুবহু সংরক্ষণ করার জন্য মহানবী (স) আদিষ্ট ছিলেন এবং স্বয়ং আল্লাহ তাআলা উহা সংরক্ষণের দায়- দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আল কুরআন এই শ্রেণীর ওহি।
২. ওহিয়ে গায়রে মাতলু বা অপঠিত প্রত্যাদেশ : যে সকল ওহির শব্দ হুবহু সংরক্ষণের জন্য মহানবী (স) আদিষ্ট ছিলেন না বরং এর মর্ম তথা ভাব রক্ষা করাই উদ্দেশ্য ছিল। আল হাদীস এই শ্রেণীর ওহি।
আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরীর মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে অহি তিন প্রকার। যেমন- ১. অহিয়ে কলবী, ২. অহিয়ে কালামে এলাহী, ৩. অহিয়ে মালাকী।
১. অহিয়ে কলবী : আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিঃশব্দে এবং কুদরতিভাবে নির্দিষ্ট বিষয়সমূহ নবী (স) এর মানসপটে বিশ্বাস জন্মিয়ে দেন যে ঐ বিষয়ে কোন ফিরিশতা বা ইন্দ্রিয়শক্তি বিদ্যমান নেই। আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা সরাসরি ওহি স্বরূপ নাযিল হয়েছে। একে ওহিয়ে কালবী বলা হয়। হযরত ইবরাহীম (আ) এভাবেই স্বীয় পুত্র ইসমাইল (আ) কে কোরবানী করার জন্যে আদিষ্ট হয়েছিলেন।
২. অহিয়ে কালামে এলাহী : এ ধরনের ওহিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয় বান্দা রাসূল (স) কে নিজের সাথে কথা বলার সুযোগ দান করেন। এ ক্ষেত্রেও ফিরিশতা বা কোন মধ্যস্থতা দরকার হয় না। এই প্রকার ওহিতে নবী করিম (স) এক ধরনের অদ্ভুত ও আশ্চর্য আওয়াজ শুনতে পেতেন। যা পৃথিবীর অন্যসব আওয়াজ বা শব্দ থেকে ভিন্ন ধরনের, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বুদ্ধির জোরে এর রহস্য অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এ ধরনের ওহি সর্বশ্রেষ্ঠ ও উন্নত পন্থা বলে বিবেচিত হয়।
৩. অহিয়ে মালাকী: ওহির এ তৃতীয় উপায়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফিরিশতার মাধ্যমে মহানবী (স) এর কাছে স্বীয় আলকুরআন পৌঁছে দেন। আল্লাহর নির্দেশে হযরত জিবরাইল (আ) কখনো মানুষের আকৃতি ধারণ করে, আবার কখনো স্বীয় আকৃতিতে নবী (স) এর কাছে ওহি নিয়ে আগমন করতেন। তবে এ প্রকারের ওহি খুব কমই নাযিল হয়েছিল।
📄 ওহি লিখার দায়িত্বে ছিলেন যাঁরা
১. হযরত আবু বকর (রা), ২. হযরত উসমান (রা), ৩. হযরত আলী (রা), ৪. হযরত যুবায়ের (রা), ৫. হযরত আমের বিন কাহিরা (রা), ৬. হযরত আমর ইবনুল আস (রা), ৭. হযরত উবাই ইবনু কাব (রা), ৮. হযরত মুগিরা ইবনু ওয়ালিদ (রা), ৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রা), ১০. হযরত খালিদ ইবুন ওয়ালিদ; (রা), ১১. হযরত খালিদ ইবনু সাঈদ ইবনুল আস (রা), ১২. হযরত আবদুল্লাহ বিন আকরাম, ১৩. হযরত ছাবিত ইবনু কায়েস, ১৪. হযরত হানজালা ইবনু রবি আজাদী।
📄 মাদানী যুগের বড় বড় ঘটনার সময়কাল
১. হিজরত : ১২ রবিউল আউয়াল ১ হিজরী জুমআর দিন মহানবী (স) মদিনায় পৌঁছেন।
২. বদর যুদ্ধ : রমযান মাসে দ্বিতীয় হিজরীতে বদরের যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
৩. উহুদ যুদ্ধ : শাওয়াল মাসের তৃতীয় হিজরীতে এ যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
৪. বনু নাজিরের বিরুদ্ধে: রবিউল আউয়াল মাসের ৪র্থ হিজরীতে এ অভিযান শুরু হয়।
৫. খন্দকের যুদ্ধ [আহযাব] : শাওয়াল মাসের ৫ম হিজরীতে এ যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
৬. হুদাইবিয়ার সন্ধি : জিলকাদ মাসের ৬ষ্ঠ হিজরীতে এটা সংগঠিত হয়।
৭. খায়বারের যুদ্ধ : মুহাররাম মাসের ৭ম হিজরীতে এ যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
৮. মক্কা বিজয় : রমযান মাসের ৮ম হিজরীতে মক্কা বিজয় হয়।
৯. হুনাইনের যুদ্ধ : শাওয়াল মাসের ৮ম হিজরীতে এ যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
১০. তাবুকের যুদ্ধ : রজব মাসের ৯ম হিজরীতে এ যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
১১. বিদায় হজ্জ্ব : জিলহজ্জ্ব মাসের ১০ম হিজরীতে বিদায় হজ্জ্ব সংগঠিত হয়।
📄 সূরা ফাতিহার নামসমূহ
ক্রম. নাম অর্থ
১. ফাতিহাতুল কিতাব গ্রন্থের ভূমিকা
২. ফাতিহাতুল কুরআন আলকুরআনের ভূমিকা
৩. উম্মুল কিতাব গ্রন্থের সারবস্তু
৪. উম্মুল কুরআন আলকুরআনের মূল বক্তব্য
৫. আল কুরআনুল আযিম মহিমান্বিত পাঠ্য
৬. আল কাফিয়া স্বয়ং সম্পূর্ণ
৭. আল ওয়াফিয়া পরিপূর্ণ/পূর্ণাঙ্গ সূরা
৮. আল কান্য ভাণ্ডার/জ্ঞানের আকর
৯. আল আসাসুল কুরআন আলকুরআনের ভিত্তি
১০. সূরাতুন্ নূর আলো
১১. সূরাতুল হামদ প্রশংসাসূচক সূরা
১২. সূরাতুস শোকর কৃতজ্ঞতামূলক সূরা
১৩. সূরাতুল হামদুল উলা প্রশংসাসূচক সূরা
১৪. সূরাতুল হামদুল উলা কুসারা সংক্ষিপ্ত প্রশংসাসূচক সূরা
১৫. সূরা আর রুকাইয়া ঝাড় ফুঁক করার সূরা
১৬. সূরা আশ শিফা রোগ মুক্তির সূরা
১৭. সূরা আশ শাফিয়া আরোগ্যের সূরা
১৮. সূরা আস সালাত নামাযের সূরা
১৯. সূরা আদ দু'আ প্রার্থনামূলক সূরা
২০. সূরা আস সুয়াল প্রশ্নমূলক সূরা
২১. তালিমুল মাসয়ালা প্রার্থনার নিয়ম শিক্ষা
২২. সূরা আল মুনাজাত কথোপকথনের সূরা
২৩. সূরাতুত তাফবীয সোপর্দ/আত্মসমর্পণের সূরা
২৪. আসসালাত নিছক সালাত
২৫. আস সাবউল মাসানী নিত্য পাঠ্য বাণী।
টিকাঃ
৬. সুয়ূতী, আল ইতকান, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৭