📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 আসমানি কিতাব

📄 আসমানি কিতাব


প্রঃ আসমানী কিতাব কাকে বলে?
- মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে আল্লাহ তায়ালা রাসূলগণের উপর যে কিতাব নাযিল করেছেন, তাকে আসমানী কিতাব বলে।

প্র: মোট আসমানী কিতাবের সংখ্যা কতটি?
- ১০৪ টি।

প্র: প্রধান আসমানী কিতাব কয়টি?
- ৪ টি।

প্রশ্ন : সর্বশেষ আসমানী কিতাবের নাম কি?
- আল কুরআন।

প্রশ্ন : আসমানী কিতাবের বিষয়বস্তু কী?
- মানবিক অধিকার।

প্রশ্ন : প্রধান আসমানী কিতাব কাদের উপর নাযিল হয়?
১. কুরআন : হযরত মুহাম্মদ (সা) এর উপর।
২. তাওরাত : হযরত মুসা (আ) এর উপর।
৩. ইঞ্জিল : হযরত ঈসা (আ) এর উপর।
৪. যাবুর : হযরত দাউদ (আ) এর উপর।

প্রশ্ন : প্রধান আসমানী কিতাবগুলো কোন কোন ভাষায় নাযিল হয়েছে?
- আরবী, ইবরানী, সুরিয়ানী ও ইউনানী ভাষায়।

প্রশ্ন : আল্লাহ কিভাবে রাসূলদের প্রতি ওহি নাযিল করেন?
- ফিরিশতা জিবরাঈল (আ) এর মাধ্যমে।

প্রশ্ন : সহিফা কী?
- আল্লাহ প্রেরিত ওহী। তবে সহিফা খুবই ক্ষুদ্র আকৃতির পুস্তিকা।

প্রশ্ন : কতগুলো সহিফার পরিচয় পাওয়া গেছে?
- ১০০ টি।

প্রশ্ন : কোন নবীর উপর কতগুলো সহিফা নাযিল হয়?
- হযরত আদম (আ) এর উপর ১০ টি;
- হযরত শীষ (আ) এর উপর ৫০ টি;
- হযরত ইদ্রিস (আ) এর উপর ৩০ টি;
- হযরত ইবরাহীম (আ) এর উপর ১০ টি;
- তাওরাত নাযিলের পূর্বে হযরত মুসা (আ) এর উপর ১০ টি।

📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 আল কুরআনের ২০টি নাম

📄 আল কুরআনের ২০টি নাম


ক্রম. নাম অর্থ কারণ
১. কিতাব গ্রন্থ যেহেতু এই পবিত্র গ্রন্থে বিশ্বমানবতার সার্বিক বিধি-বিধান ও জ্ঞান বিজ্ঞান সন্নিবেশিত হয়েছে।
২. কুরআন পঠিত, একত্রিত যেহেতু আল কুরআনের বিভিন্ন হরফ, আয়াত ও সূরাকে একত্রিত করা হয়।
৩. ফুরকান পার্থক্যকারী যেহেতু আল কুরআন হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছে।
৪. হাকিম বিজ্ঞানময় যেহেতু আল কুরআনের আয়াতসমূহ বিভিন্ন বর্ণনাভঙ্গির মাধ্যমে পরিবর্তন, বিকৃত ও বিরোধ হতে সুদৃঢ় করা হয়েছে।
৫. কারিম সম্মানিত যেহেতু আল কুরআন পরম মাহাত্ম ও মর্যাদার অধিকারী।
৬. রহমাত শান্তি যেহেতু আল কুরআন ইহকাল পরকালের শান্তির একমাত্র কারণ।
৭. কালাম কথা, বাণী যেহেতু আল কুরআন আল্লাহর বাণী এবং ইহা পাঠক ও শ্রোতার অন্তরে প্রভাব বিস্তার করে।
৮. হুদা সৎপথ যেহেতু আল কুরআনের মাধ্যমে ন্যায় ও সত্যের দিকে পথ প্রদর্শন করা হয়।
৯. যিকর আলোচনা, যেহেতু আল কুরআনে বহু ঘটনার আলোচনা উপদেশ ও বহু উপদেশ প্রদান করা হয়েছে।
১০. শিফা আরোগ্য যেহেতু কুরআন মজিদ মানুষের অভ্যন্তরীণ ব্যাধিসমূহের আরোগ্যের মাধ্যম।
১১. নূর আলো, জ্যোতি যেহেতু আলোর মাধ্যমে কোন বস্তু যেমনিভাবে স্পষ্ট দেখা যায়, তেমনি কুরআন শরীফের মাধ্যমে হালাল হারাম সঠিক ভাবে উপলব্ধি করা যায়।
১২. মুবিন প্রকাশকারী যেহেতু আল কুরআন হক বাতিলকে পরিষ্কার-ভাবে বর্ণনা করে দিয়েছে।
১৩. মাজিদ মর্যাদাশীল যেহেতু আল কুরআন অতি মর্যাদাশীল কিতাব।
১৪. তানযিল ক্রমশ: অবতারিত যেহেতু আল কুরআন ক্রমশ: অবতারিত হয়েছে।
১৫. উল্ম বিদ্যা, জ্ঞান যেহেতু আল কুরআন জ্ঞান ভাণ্ডার সমৃদ্ধ।
১৬. সিরাতুল সরল পথ যেহেতু আল কুরআন জান্নাতে পৌছার মুসতাকিম সরল সোজা পথ।
১৭. মাসানি পুনরাবৃত্তি যেহেতু আল কুরআনের উপদেশ ঘটনাবলী বার বার বর্ণিত হয়েছে।
১৮. অহি প্রত্যাদেশ যেহেতু আল কুরআন আল্লাহ তাআলার প্রত্যাদেশ।
১৯. নাযির সতর্ককারী, যেহেতু আল কুরআন জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শনকারী।
২০ মুসাদ্দিক সত্যায়নকারী যেহেতু আল কুরআন পূর্ববর্তী আসমানী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী।

📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 ওহির পরিচিতি

📄 ওহির পরিচিতি


প্র: ওহি কিরূপ শব্দ?
- আরবী শব্দ।

প্র: ওহির শাব্দিক অর্থ কী?
- প্রত্যাদেশ, বাণী, গোপন ইঙ্গিত, অবগত করান, নির্দেশ ইত্যাদি।

প্র: পরিভাষায় ওহি কাকে বলে?
১. যে সকল মর্মবাণী আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত জিবরাইল (আ) এর মাধ্যমে নবী রাসূলগণের কাছে প্রেরণ করা হতো, তাকে ওহি বলে।
২. আল্লাহর কালাম তাঁর নবীদের প্রতি অবতরণ করাকে ওহি বলে।
৩. আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর নবীদের অবগত করাকে ওহি বলে।

প্র: ওহি কয় শ্রেণীতে বিভক্ত?
- ২ শ্রেণীতে বিভক্ত। যেমন-
১. ওহিয়ে মাতুল বা পঠিত প্রত্যাদেশ : যে সকল ওহির শব্দ হুবহু সংরক্ষণ করার জন্য মহানবী (স) আদিষ্ট ছিলেন এবং স্বয়ং আল্লাহ তাআলা উহা সংরক্ষণের দায়- দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আল কুরআন এই শ্রেণীর ওহি।
২. ওহিয়ে গায়রে মাতলু বা অপঠিত প্রত্যাদেশ : যে সকল ওহির শব্দ হুবহু সংরক্ষণের জন্য মহানবী (স) আদিষ্ট ছিলেন না বরং এর মর্ম তথা ভাব রক্ষা করাই উদ্দেশ্য ছিল। আল হাদীস এই শ্রেণীর ওহি।

আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরীর মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে অহি তিন প্রকার। যেমন- ১. অহিয়ে কলবী, ২. অহিয়ে কালামে এলাহী, ৩. অহিয়ে মালাকী।
১. অহিয়ে কলবী : আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিঃশব্দে এবং কুদরতিভাবে নির্দিষ্ট বিষয়সমূহ নবী (স) এর মানসপটে বিশ্বাস জন্মিয়ে দেন যে ঐ বিষয়ে কোন ফিরিশতা বা ইন্দ্রিয়শক্তি বিদ্যমান নেই। আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা সরাসরি ওহি স্বরূপ নাযিল হয়েছে। একে ওহিয়ে কালবী বলা হয়। হযরত ইবরাহীম (আ) এভাবেই স্বীয় পুত্র ইসমাইল (আ) কে কোরবানী করার জন্যে আদিষ্ট হয়েছিলেন।
২. অহিয়ে কালামে এলাহী : এ ধরনের ওহিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয় বান্দা রাসূল (স) কে নিজের সাথে কথা বলার সুযোগ দান করেন। এ ক্ষেত্রেও ফিরিশতা বা কোন মধ্যস্থতা দরকার হয় না। এই প্রকার ওহিতে নবী করিম (স) এক ধরনের অদ্ভুত ও আশ্চর্য আওয়াজ শুনতে পেতেন। যা পৃথিবীর অন্যসব আওয়াজ বা শব্দ থেকে ভিন্ন ধরনের, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বুদ্ধির জোরে এর রহস্য অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এ ধরনের ওহি সর্বশ্রেষ্ঠ ও উন্নত পন্থা বলে বিবেচিত হয়।
৩. অহিয়ে মালাকী: ওহির এ তৃতীয় উপায়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফিরিশতার মাধ্যমে মহানবী (স) এর কাছে স্বীয় আলকুরআন পৌঁছে দেন। আল্লাহর নির্দেশে হযরত জিবরাইল (আ) কখনো মানুষের আকৃতি ধারণ করে, আবার কখনো স্বীয় আকৃতিতে নবী (স) এর কাছে ওহি নিয়ে আগমন করতেন। তবে এ প্রকারের ওহি খুব কমই নাযিল হয়েছিল।

📘 ইসলামী সাধারণ জ্ঞান > 📄 ওহি লিখার দায়িত্বে ছিলেন যাঁরা

📄 ওহি লিখার দায়িত্বে ছিলেন যাঁরা


১. হযরত আবু বকর (রা), ২. হযরত উসমান (রা), ৩. হযরত আলী (রা), ৪. হযরত যুবায়ের (রা), ৫. হযরত আমের বিন কাহিরা (রা), ৬. হযরত আমর ইবনুল আস (রা), ৭. হযরত উবাই ইবনু কাব (রা), ৮. হযরত মুগিরা ইবনু ওয়ালিদ (রা), ৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রা), ১০. হযরত খালিদ ইবুন ওয়ালিদ; (রা), ১১. হযরত খালিদ ইবনু সাঈদ ইবনুল আস (রা), ১২. হযরত আবদুল্লাহ বিন আকরাম, ১৩. হযরত ছাবিত ইবনু কায়েস, ১৪. হযরত হানজালা ইবনু রবি আজাদী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00