📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 লেখক-পরিচিতি

📄 লেখক-পরিচিতি


নাম ও বংশ: তিনি শাইখ আবদুল হাকিম ইবনু খোদায়াদ (হাজি মোল্লা সাহেব নামে প্রসিদ্ধ) ইবনি শের মুহাম্মাদ ইবনি মুহাম্মাদ জান ইবনি সাদ্দুল্লাহ খান। পান জাওয়া এলাকার তালুকান গ্রামে এক দ্বীনি পরিবারে ১৩৭৬ সালে জন্ম।
ইবনু সাইয়িদ মুহাম্মাদ খান (আল্লাহ তাদের সকলকে ক্ষমা করে দেন) হাক্কানি, আফগানি, কান্দাহারি, বান্দতি মুরি ইসহাক জায়ি নামে প্রসিদ্ধ কবিলার দিকে সম্পৃক্ত। জন্ম আফগানিস্তানের কান্দাহারে। সেখানেই বেড়ে ওঠা ও লেখাপড়া।
তার পিতা ছিলেন সে যুগের বড়ো একজন আলিম ও ফকিহ। তাই তিনি নিজ পিতার কাছেই কুরআন কারিম পড়েন। ফার্সিভাষা, নাহু (আরবি ব্যকরণশাস্ত্র) সরফ (আরবি শব্দতত্ত্ব-শাস্ত্র) হাইআত, জোতির্বিদ্যা, হিকমত, রসায়ন-শাস্ত্র মানতিক-শাস্ত্র ফালসাফা (দর্শনশাস্ত্র) বালাগাত, (আরবি অলংকারশাস্ত্র) মিরাস (উত্তারাধিকার আইনশাস্ত্র) উসুলুল ফিকহ (ফিকহের মূলনীতি-শাস্ত্র) এবং তাফসিরের কিছু কিতাব-এই সব শিক্ষাই তিনি নিজ পিতার কাছেই লাভ করেন।
তারপর ডাবেল শহরে (১৩৯৫) হিজরিতে গমন করেন। সেখানে শাইখ আবদুল্লাহ আখুনজাদা রহ.-এর কাছে আল্লামা তাফতাজানির রচিত আল-মুতাওয়াল নামে বালাগাতের গুরুত্বপূর্ণ কিতাব পড়েন। তারপর (১৩৯৭) হিজরিতে (১৯৭৭ ইংরেজি) হাদিসে নববি ও অন্যান্য শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করার জন্য জামেয়া দারুল উলুম হাক্কানিয়াতে দাখিল হন, যা পাকিস্তানের পেশওয়ারে অবস্থিত। এটি উকুরা খতক এলাকায় প্রতিষ্ঠিত। সেখানে তিনি হক্কানিয়ার বড়ো মাশাইখে কিরাম থেকে ইলম গ্রহণ করেন; তার উসতাজের মধ্যে রয়েছেন- শাইখ আল্লামা মুহাদ্দিস আবদুল হক, শাইখ আবদুল হালিম যারবাওয়াডী মুফতিয়ে আযম মুহাম্মাদ ফরিদ জারবাওয়াবি, শাইখ মুহাম্মাদ আলি সাবতি প্রমুখ রহিমাহুমুল্লাহ।
লেখক নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করেন বলেন-আমি দারুল উলুম হাক্কানিয়াতে শাইখ আব্দুল হক রহ.-এর কাছে, যিনি ছিলেন এ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা, জামি তিরমিজির কিছু অংশ পড়ার সৌভাগ্য লাভ করি। মুফতিয়ে আজম মুহাম্মাদ ফরিদ সাহেবের কাছে জালালাইনের প্রথম খণ্ড, সহিহ বুখারির প্রথম খণ্ড, জামে তিরমিজির প্রথম খণ্ড ও সুনানু আবি দাউদ পড়ার সুযোগ পাই।
আর আল্লামা আব্দুল হালিম জারওয়াবি রহ.-এর কাছে—যিনি ছিলেন সদরুল মুদাররিসিন [প্রধান শিক্ষক] তাফসিরে বাইজাবি, সহিহ বুখারির দ্বিতীয় খণ্ড, সহিহ মুসলিম পড়েছি শাইখ মাওলানা সামিউল হক সাহেবের কাছে জালালাইনের দ্বিতীয় খণ্ড, জামি তিরমিজি দ্বিতীয় খণ্ড, শামায়িলে তিরমিজি, পড়ার সৌভাগ্য লাভ করি।
আর শাইখ মাওলানা মুহাম্মাদ আলি সাবাতি সাহেবের কাছে তহাবি শরিফ, হিদায়ার তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ড পড়েছি। শাইখ ফজলুল মাওলা সাহেবের কাছে মিশকাত পড়েছি।
১৪০০ হিজরিতে লেখক (১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ) মুমতাজ (A+) লাভ করে দারুল উলুম থেকে ফারেগ হন। দারুল উলুম থেকে ফারেগ হয়ে সে বছরেই বালুচিস্তানের অবস্থিত জিয়ারত শহরে যান। সেখানে শাবান ও রামাদান, এই দুই মাসে শাইখ মুহাম্মাদ জান রহ.-এর কাছে কুরআন কারিমের তাফসিরের ইলম গ্রহণ করেন। কর্মজীবন ও কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বিভিন্ন মাদরাসায় তাদরিসের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লেখক বলেন—বালুচিস্তানের বিভিন্ন মাদরাসার প্রসিদ্ধ কিতাব পড়ানোর সুযোগ হয়; যেমন, মাদরাসাতু তাদরিসিল কুরআন কারবালা, মাজহারুল উলুম শালদারা, নুরুল মাদারিস, যা আফগানিস্তানের ইসলামি ইনকিলাব সংগঠনের অধীনে পরিচালিত হতো।
পরবর্তী সময়ে যখন রুশবাহিনী আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত হয়, খিলকিদের ক্ষমতার সমাপ্তি ঘটে, তখন আমি আবার আফগানিস্তানে ফিরে আসি। আমার জন্মস্থান তালুকান গ্রামে তাদরিস শুরু করি। সেখানে দুই বছর তাদরিসের খেদমত করি। প্রথম বছর নির্দিষ্ট কিছু বিভাগে পড়াই, দ্বিতীয় বছর দাওরায়ে হাদিসে পড়াই, তারপর হেলমানদ গ্রামের সানজিন এলাকায় এসে দাওরায়ে হাদিসের দরস শুরু করি। তারপর আল্লাহর রাস্তার নিবেদিতপ্রাণ মুজাহিদ আমিরুল মুমিমিন মোল্লা উমরি রহ.-এর নির্দেশে কানদাহারে গমন করি। সেখানে ইমারাতে ইসলামিয়্যার অধীনে পরিচালিত আল মাদরাসাতুল জিহাদিয়্যাতুল মারকাজিয়্যাতে তাদরিসের খেদমত করি। (এটা ২০০১ সালের কথা।)
যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার তাবেদার বাহিনী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তালেবানদের হুকুমতের সমাপ্তি ঘটে, জায়গায় জায়গায় জুলুম-অন্যায়-অবিচারের আগুন ঝরে, সবাই হিজরত তখন করতে বাধ্য হয়। লেখকও তাদের মতো পাকিস্তানে হিজরত করেন। সেখানে তিনি কুয়েটা শহরে বসবাস শুরু করেন। সেখানে মুহাম্মাদ খায়ের সড়কে অবস্থিত জামেয়া হাক্কানিয়া, ও হাজি গাইবি সড়কে অবস্থিত জামেয়া ইসলামিয়‍্যাতে শিক্ষকতা করেন। এরপর ১৪২৪ হিজরিতে (২০০৩ সালে) তিনি নিজে কুওয়াইতা শহরে ইসহাকাবাদে জামেয়া দারুল উলুম আশ-শারইয়্যা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে ১৪ বছর হাদিসের দরস দেন। তারপর মার্কিন বাহিনির জুলুম অত্যাচারের কারণে দরস ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এমনকি জামাআতের সাথে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদেও বের হতে পারতেন না।
কেন? কারণ, তিনি পূর্বে আফগানিস্তানের ইমারাতে ইসল্যামিয়্যার আদালতের প্রধান ছিলেন।, তাই তিনি রচনা ও সংকলনের কাজে মনোযোগ দেন। ফলে খুবই অল্প সময়ে অনেক কিতব রচনা করেন।
রচনাবলি: তিনি বেশ কিছু কিতাব রচনা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
০১. জাদুল মিনহাজ ফি তাহকিকিল মিনহাজ। এটি তার শাইখ মুফতি মুহাম্মাদ ফরিদ জারওবারির রচিত, মিনহাজুস সুনান শারহু জামিউস সুনান, এবং প্রথম খণ্ডের বিশ্লেষণ। এ কিতাবে তিনি লেখকের কথা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেন, সাথে সাথে আরও কিছু গুরুত্ব পূর্ণ আলোচনা ও ইলমি ফায়িদা যুক্ত করেন। এ কিতাবটি 5 খণ্ডের। এই কিতাবটির ভূমিকা লেখেন ইমারাতে ইসলামিয়্যার প্রধান আমিরুল মুমিমিন, শাইখুল হাদিস ওয়াত তাফসির আল্লামা হিবাতুল্লাহ আখুনদ জাদাহ, হাফিজাহুল্লাহ এবং শাইখ শহিদ মাওলানা সামিউল হক রহ.।
০২. আত্মদ্দুশ শারুইয়্যু ফি তাওজিহি জামিইত তিরমিজি। এই কিতাবটিও মিনহাজুস সুনান শারহু জামিইস সুনান কিতাবটির দ্বিতীয় খণ্ডের বিশ্লেষণ; যা পাঁচ ভলিয়মের।
০৩. জাদুল মাহফিল ফি শারহিশ শামায়িল। এটি শামায়িলে তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এই কিতাবটি রচনার ক্ষেত্রে তিনি শামায়িলের অন্যান্য শরাহ ও হাশিয়ার সাহায্য নিয়েছেন। সাথে সাথে সিরাতের বিভিন্ন কিতাবেরও সহযোগিতা গ্রহণ করেছেন।
০৪. রাওজাতুল কাজা। লেখক এই কিতাবে ইসলামি বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন মূলনীতি ও নীতিমালা একত্র করেছেন। যার সংখ্যা ১৩৭৯টি।
০৫. তাতিম্মাতুন নিজাম ফি তারিখিল কাজা ফিল ইসলাম। এই কিতাবে তিনি ইসলামি বিচারব্যবস্থার সুদীর্ঘ ইতিহাস বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
০৬. তাহকিকি মুয়িনিল কুজাতি ওয়াল মুফতিন। এটি প্রসিদ্ধ কিতাব মুয়িনিল কুজাতি ওয়াল মুফতিন কিতাবের একটি শক্তিশালী ইলমি বিশ্লেষণ। ওই কিতাবটি রচনা করেছেন আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি, ও আশরাফ আলি থানবি রহ.- এর সুযোগ্য ছাত্র মুহাদ্দিস ফকিহ্ণ আমসুল হক আফগানি (মৃত্যু: ১৪০৩ হিজরি।)।
০৭. মানকিবুল আইম্মাতিস সিত্তাতি রাহিমা হুমুল্লাহ। এই কিতাবে তিনি ছয় ইমাম আবু হানিফা, মালিক, শাফিয়ি, আহমাদ, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান রাহিমাহুমুল্লাহর গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য একত্র করেছেন।
০৮. রিসালাতুন ফি আদাবিল মুআল্লিম ওয়াল মুতাআল্লিম। রিসালাটি শুরু হয় প্রথমে 'আদব' শব্দের বিশ্লেষণ ও ফজিলত নিয়ে, তারপর শিক্ষকের আদব তারপর শেখানোর আদব, তারপর শিক্ষার্থীর আদব, তারপর শেখার আদব। রিসালাটি সমাপ্ত হয় কিছু আশ্চর্যকর ঘটনার বিবরণ উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
০৯. রিসালাতুন ফি আদাবিল আকলি ওয়াশ শুরবি। এখানে তিনি খাবারগ্রহণ, খাবারগ্রহণের অবস্থা, খাবার থেকে ফারেগ হওয়া, পান করা, মেহামানদারি ও মেহমানের আদাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১০. ঝাদুদ দুআ। এটি একটি দুআর আদব এর বিষয়ে রিসালা রিসালাটি শুরু হয় দুআর অর্থ ও হাকিকত নিয়ে। তারপর দুআর ফজিলت, বিধান, আদাব, সময়, অবস্থা, স্থান নিয়ে আলোচনা করেন। নির্বাচিত দুআ উল্লেখ করেন। তারপর আল্লাহ তাআলার আসমায়ে হুসনা (সুন্দর নাম) উল্লেখ করেন। সাথে সাথে ব্যাখ্যাও করেন। রিসালাটি সমাপ্ত করা হয় জিহাদ সম্পৃক্ত কিছু দুআ উল্লেখ করে।
১১. রিসালাতুন ফি আদাবিস সাফার। ত্রিই কিতাবটিতে তিনি মুসাফিরের আদব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১২. রিসালাতুন ফি আদাবিল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি। রিসালাটি শুরু হয় ফতওয়ার শাব্দিক অর্থ ও পারিভাষিক অর্থ কাজার অর্থ ফাতওয়া এবং কাজার মাঝে পার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে। তারপর তিনি ইফতা (ফাতওয়া প্রদানের বিধান) এর বিধান, মুফতির নিজের মাঝে থাকা আদাব ফাতওয়া লেখার ক্ষেত্রে মুফতির আদাব, ফাতওয়া প্রদানের আদাব, ফাতওয়া জিজ্ঞাসাকারীর আদাব ও গুণ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১৩. রিসালাতুন ফি আদাবি কাজাইল হাজাতি। এখানে তিনি ইসতিনজার আদব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১৪. আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা। এই রিসালাটি শুরু হয় 'ওয়ালা এবং বারা'-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ নিয়ে আলোচনা করার মাধ্যমে। তারপর কুফ্ফার বিশ্ব থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার আবশ্যকীয়তা, কাফির ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করার হারাম হওয়া নিয়ে আলোচনা করেন। বন্ধুত্বগ্রহণের কিছু প্রকারও উল্লেখ করেন। তারপর রহমানের বন্ধু শয়তানের দোসরদের মাঝে শত্রুতা বিদআতি ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও ইসলামের ওয়ালা এবং বারার কিছু প্রয়োগক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন। শরাইব ইবনু আদি সা'দ ইবনু আবি
ওয়াক্কাস, আব্দুল্লাহ ইব্‌ন উবাই — এদের ঘটনা উল্লেখ করেন। রিসালাটি সমাপ্ত হয় কাফির ও ফাসিকদের সাথে মুসলিমদের মুআমালার বিধানের আলোচনার মধ্য দিয়ে।
১৫. রিসালাতুন ফিল হাবসি ওয়া আহকামিহি। এই রিসালাটি শুরু হয় ‘হাবস’ ও ‘সিজন’ (আটক করা, বন্দি করা)-এর অর্থ বিশ্লেষণের মাধ্যমে। তারপর তিনি এর শরয়ি অনুমোদন, হিকমত, বন্দি করার কারণ ও সময়কাল, কারারক্ষকের গুণাবলি ও ভাতা, বন্দির পালিয়ে যাওয়া, কারাঘর পর্যবেক্ষণ করা ও সংস্কার করা, ইসলামে বন্দির হক ও অধিকার এসব নিয়ে আলোচনা করেন।
১৬. রিসালাতুন ফি মাসআলাতি হালকির রা’সি।
১৭. রিসালাতুন ফী মাসআলাতিল মোসাফাহা এই কিতাবে তিনি মোসাফাহার শারঈ অনু মোদন পদ্দতি, এ’সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত উল্লেখ করেন।—
১৮. রিসালাতুন ফি মাসআলাতিত তাকলিদ। এখানে তিনি তাকলিদের অর্থ, প্রকার, শরয়ি অনুমোদন, চার ইমামের তাকলিদের মাঝে তাকলিদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১৯. রিসালাতুন ফি মাসআলাতিত তারাবিহ। রিসালাটি শুরু করেন তারাবিহর নামাজের অনুমোদনের ইতিহাস, জামাআতের সাথে আদায় করা তারাবিহর রাকাআতের সংখ্যা চার মাজহারের মতামত, ও এবং তারাবিহর নামাজে কুরআন কারিম খতম করা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
২০. ঝাদুদ দাওয়াহ। এটি একটি রিসালাটিতে আল্লাহর রাস্তার দাওয়াত, এর ফজিলত, বিধান, স্বেচ্ছাসেবী, ও সাওয়াবের আশাকারীর মাঝে পার্থক্য, দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি ধরন, দাওয়াত প্রদানের পদ্ধতির এর উৎস ও সাধ্যম, দাঈদের আখলাক ও গুনাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয়ে—
২১. আত-তারিখুল ইসলামিয়া। এটি ইসলামি ইতিহাসের বিষয়ে একটি রিসালা, রিসালাটি সূচনা করা হয়েছে ইতিহাস শব্দের বিশ্লেষণ, ইতিহাসের সূচনা, কারণ এবং মুহারম মাসের মাধ্যমে বর্ষ গণনা শুরু করার কারণ, এসব বিষয় নিয়ে বইটিতে আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে।
২২. খাতমু সহিহিল বুখারি শরিফ। এই রিসালাতে কয়েকটি আলোচনা করা হয়েছে, প্রথম, সহিহ বুখারির অধ্যায় ও তরজমা, দ্বিতীয় অধ্যায়ের হাদিস বিশ্লেষণ, শেষ আলোচনা দাওরাতুল হাদিসের তালিবে ইলম ও মুতাখাররিজদের উদ্দেশ্যে কিছু অসিয়ত।
২৩. জাদুল মাআদ ফি মাসাইলিল জিহাদ। পশতু ভাষায় (জিহাদ বিষয়ক) লিখিত একটি কিতাব।
২৪. তারিখুল ফাজলি ফি মাসাইলিল গনিমাতি ওয়াল ফাইহি ওয়ান নাফলি। গনিমত, ফাই বণ্টন পদ্ধতি।
২৫. তরিকুল জান্নাত। (জান্নাত যাওয়ার পথ।)
২৬. ঝাদুদ দারসিন ফি তাফসিরিল জালালাইন। (জালালাইন কিতাবের তালিবে ইলমদের জন্য কিছু পাথেয়)
২৭. আত-তাহকিকুল আজিব ফি হাল্লি শারহিল জামি।
আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমার পিতার ফায়জ ও বারাকাত বিশ্বের প্রতিটি জনপদে ছড়িয়ে দেন, বংশধর, তালিবে ইলম ও মুহিব্বিন (প্রিয়জন) থেকে, ইলম ও ইরফানের ঝর্ণাধারা সেই দিন পর্যন্ত জারি রাখেন, যেদিন না কোনো সম্পদ কাজে আসবে, আর না সন্তানাদি; যদি-না বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আল্লাহর তাআলার সামনে উপস্থিত হয়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই তাউফিকদাতা। -আবদুল গনি মাইওয়ানদি

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00