📄 ইসলামি শুরা-ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক শুরা-ব্যবস্থার মাঝে পার্থক্য
ইসলামি শুরা ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক শুরা ব্যবস্থার মাঝে বড়ো একটি পার্থক্য হলো, ইসলামি শুরা ব্যবস্থার ভিত্তি হলো-বিশেষ কিছু গুণাবলি, যা শরিয়তের কাছে বিবেচ্য; আর গণতান্ত্রিক শুরা ব্যবস্থার ভিত্তি হলো-সাধারণ জনগণের নির্বাচন, চাই নির্বাচনকারীদের শরিয়ত বিবেচিত গুণ থাকুক, বা না থাকুক। এমনকি মুসলিম হওয়ার শর্তও নেই।
যে শুরা-ব্যবস্থার প্রতি আল্লাহ তাআলা উদ্বুদ্ধ করেছেন, যেখানে এটা স্পষ্ট নয় যে, এই শুরা-ব্যবস্থা (শাসক বা সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে) সবার জন্য প্রযোজ্য, কিংবা কোনো বাছ-বিচার ছাড়াই অধিকাংশের জন্য প্রযোজ্য; বরং এই শুরা ব্যবস্থা শুধু 'আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদের' জন্য-যারা জাতির উচ্চ মর্যাদা ও উচ্চ জ্ঞানের অধিকারী, বিশেষজ্ঞ এবং যোগ্য। আর তারাই হলেন জাতির নেতৃস্থনীয় ব্যক্তিবর্গ, মুখপাত্র। অর্থাৎ, উলামায়ে কিরাম-যারা শরিয়ত, সামাজিকতা, বিচার-ব্যবস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী। পক্ষান্তরে, নিম্নশ্রেণির অধিকারী হলো যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, রাজনৈতিক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী। যেমন: বর্তমান পার্লামেন্টে ও জন-বৈঠকগুলোতে দেখা যায়।
📄 শুরা-ব্যবস্থার সদস্যগণ
শূরা-ব্যবস্থার সদস্যগণের গুণাবলি দুই প্রকার-
০১। এমন কিছু গুণাবলি, যা যেকোনো বিষয়ের পরামর্শের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। সেগুলো হলো: শরিয়তের ইলম; আমানত; তাকওয়া;
কারণ, যে সকল বিষয় হালাল-হারামের সাথে সম্পৃক্ত, সেখানে শরিয়তের ইলম থাকলে হালালটা গ্রহণ করা যাবে এবং আমানাত ও তাকওয়ার মাধ্যমে খিয়ানত থেকে বিরত থাকবে। ক্ষতিকর হলে, তা বলে দেবে।
ইমাম বুখারি রহ. বলেন—নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পর শাসকরা জায়িজ বিষয়গুলোতে আহলে ইলমের মধ্যে যারা আমানতদার, তাদের কাছে পরামর্শ চাইতেন, যাতে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি গ্রহণ করা যায়।
সুফইয়ান সাওরি রহ. বলেন— 'তুমি যার সাথে পরামর্শ করবে, সে যেন মুত্তাকি ও আমানতদার হয়, আল্লাহকে ভয় করে।' ৪৫১
০২। দ্বিতীয় প্রকার, কিছু বিশেষ গুণাবলি।
যদি পরামর্শ করার বিষয়টি যুদ্ধের বিষয়ে হয়, তাহলে সেনাপ্রধানদের সাথে পরামর্শ করবে। আর যদি অর্থনৈতিক বিষয়ে হয়, তাহলে অর্থনীতিবিদদের সাথে পরামর্শ করবে। এভাবে প্রত্যেক বিষয়ের ক্ষেত্রে সে বিষয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করবে। তবে বিশেষ গুণাবলির সাথে ব্যাপক গুণাবলি (তাকওয়া, আমানতদারিতা) থাকা আবশ্যক। (المستشار مؤتمن) ‘পরামর্শদাতা আমানতদার’ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় মুনাওয়ী রহ. বলেন—
কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেন—উপদেশ দানকারী, পরামর্শ দানকারীকে অনেক বড়ো বড়ো ইলম অর্জন করতে হয়। কারণ, তাকে প্রথমে শরিয়তের ইলম অর্জন করতে হয়। আর এই ইলম ব্যাপক, যা অনেক ইলমকে শামিল করে। একই সাথে মানুষের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, স্থান ও কাল সম্পর্কে, কোনো বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার জ্ঞান থাকতে হয়। যদি পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি আরেকটির সাথে সাংঘর্ষিক হয়; অর্থাৎ এমন বিষয় সামনে আসে, যা সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুগোপযোগী হলেও নির্দিষ্ট ‘স্থান’ বা ‘অবস্থা’র বিরোধী, তাহলে একটিকে আরেকটির ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করা—যেটা তার কাছে অগ্রাধিকার যোগ্য মনে হয়, সেটাকে অগ্রাধিকার দেবে। এর উদাহরণ হলো, একটি বিষয়ের দুটো দিক আছে, যা যুগোপযোগী নয়; অথচ অবস্থা দাবি করে। তাহলে সে এ দুটোর মধ্যে যেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটার পরামর্শ দেবে। একইভাবে যদি কোনো মানুষের অবস্থা সাংঘর্ষিক হয়-তাকে যখন কোনো বিষয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়, তখন সে উল্টোটা করে-তাহলে তাকে অনুচিত বিষয়ের পরামর্শ দেবে, যাতে সে উচিত বিষয়টি করে। একেই বলে علم السياسة বা রাজনৈতিক কূটনীতি।
কারণ, এর মাধ্যমেই অবাধ্য ও একগুঁয়ে লোককে কল্যাণের পথে পরিচালনা করতে হবে। এজন্যই বিশেষজ্ঞরা বলেন-যে পরামর্শ বা উপদেশ দেবে তাকে ইলম, আমল, সহিহ ফিকির, সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি, ভারসাম্যপূর্ণ মেজাজ, স্থীরতা ও নীরবতা-এসব কিছু অর্জন করতে হয়। কিন্তু যদি এসব বিষয় অর্জন করতে না পারে, তাহলে তার ভুল নির্ভুলের চেয়ে বেশি হবে। সুতরাং, সে পরামর্শও দিতে পারবে না, উপদেশও দিতে পারবে না।৪৫২
ইমাম মাওয়ারদি রহ. বলেন- 'কেউ যখন কারও সাথে পরামর্শ করার ইচ্ছা করবে, তখন তাকে এর যোগ্য কাউকে খুঁজতে হবে। অর্থাৎ, যার মাঝে পাচঁটি গুণ পাওয়া যাবে-
০১। পূর্ণ বোধ-বুদ্ধির সাথে পূর্বের অভিজ্ঞতা: কারণ, যখন পূর্বের অভিজ্ঞতা থাকবে, তখন যেকোনো বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা যাবে।
০২। দ্বীনদার ও মুত্তাকি হওয়া: কারণ, এটাই সৎ হওয়ার ভিত্তি, সফলতার দ্বার। যার মাঝে দ্বীনদারি যত বেশি, তার কাছে গোপন বিষয় তত নিরাপদ। সে দৃঢ় মনোবলের ক্ষেত্রে অধিক তাউফিকপ্রাপ্ত।
০৩। হিতাকাঙ্ক্ষী ও আন্তরিক হওয়া কারণ, হিতাকাঙ্ক্ষা ও আন্তরিকতা বাস্তব চিন্তা করতে সাহায্য করে, সুন্দর সিদ্ধান্ত প্রদানে সহায়তা করে। কোনো কোনো উলামায়ে কিরাম তো বলেন-পরামর্শ করতে হবে দৃঢ় মনোবলের অধিকারী ব্যক্তির সাথে, হিংসুকের সাথে নয়। বুদ্ধিমানের সাথে, বিদ্বেষীর সাথে নয়।
০৪। ক্ষতিমুক্ত চিন্তার অধিকারী হওয়া: তার চিন্তা-ফিকির ক্ষতিকর দুশ্চিন্তা ও ব্যতিব্যস্তকারী উৎকণ্ঠা থেকে মুক্ত থাকবে। কারণ, যার চিন্তার সাথে বিভিন্ন দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা জড়িয়ে থাকে, তার মত সঠিক হয় না। তার চিন্তা সাধারণত নির্ভুল হয় না। 'মানসুরুল হুকুম' কিতাবে আছে, প্রত্যেকটি জিনিসের ক্ষেত্রে বোধ-বুদ্ধি প্রয়োজন। আর বোধ-বুদ্ধির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন।
০৫। স্বার্থহীন হওয়া: যে বিষয়ে পরামর্শ করা হবে, সে বিষয়ে পরামর্শদাতার কোনো স্বার্থ থাকা যাবে না, যা তাকে অনুগামী করে ফেলবে; কোনো প্রবৃত্তি থাকা যাবে না, যা তাকে সাহায্য করবে। কারণ, স্বার্থ টেনে নেয় আর প্রবৃত্তি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যখন সিদ্ধান্ত প্রদানে কোনো প্রবৃত্তি কাজ করে, সেই সাথে বিভিন্ন সার্থও জড়িত থাকে, তাহলে সে মত আর নিরাপদ থাকে না।
যখন কারও মাঝে এ পাঁচটি গুণ পূর্নাঙ্গরূপে পাওয়া যাবে, তখন সে পরামর্শ দেওয়ার যোগ্য হবে এবং মত প্রদানে ক্ষমতা রাখবে। সুতরাং, নিছক ধারনার ভিত্তিতে তোমার মতকে উত্তম ভেবে, তোমার দৃষ্টিভঙ্গিকে সঠিক ভেবে, তুমি এমন ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়া থেকে বিরত থেকো না। কারণ, যার কোনো প্রয়োজন থাকে না, তার মত খুবই নিরাপদ। সে নির্ভুলতার বেশি কাছাকাছি থাকে। কারণ, তার চিন্তা-ভাবনা একনিষ্ঠ ও স্বাৰ্থমুক্ত থাকে। তার অন্তরে নিজের খাহেশাত মেটানোর ইচ্ছা কাজ করে না। ৪৫৩
শুরা ব্যবস্থার সদস্যদের আরেকটি গুণ, পুরুষ হওয়া। কারণ, আল্লাহ তাআলা নারীকে সৃষ্টিগত, গঠনগত এবং সক্ষমতার বিচারে পুরুষের সমমান করেন নি। এজন্যই আল্লাহ তাআলা পুরুষের জন্য এমন কাজ নির্বাচন করেছেন, যা তার সৃষ্টি ও সক্ষমতার উপযোগী। যেমন: জিহাদ ও নেতৃত্ব।
আবার, নারীকে এমন কিছু কাজ ও দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, যা তার অবকাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমন: ঘরের রক্ষণাবেক্ষণ, সন্তানের প্রতিপালন। এজন্যই নবুওয়াত পুরুষদের সাথেই খাস, তেমনিভাবে রাজত্ব ও শাসন ক্ষমতা। আল্লাহ তাআলা বলেন
وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ 'আর পুরুষদের জন্য নারীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।'
উমার রা. বলেন-
كنا في الجاهلية لا نعد النساء شيئا فلما جاء الإسلام وذكرهن الله رأينا لهن بذلك علينا حقا من غير أن ندخلها في شيء من أمورنا 'জাহিলিয়াতের যুগে নারীদেকে আমরা কিছুই মনে করতাম না। কিন্তু যখন ইসলাম এলো এবং আল্লাহ তাআলা তাদের বিষয় উল্লেখ করলেন, তখন দেখলাম যে, আমাদের ওপর তাদের হক আছে। তবে আমাদের পুরুষদের কোনো বিষয়ে তাদের অনুপ্রবেশ চলবে না।' ৪৫৪
ইসলামের শত্রুরা, কাফির-মুনাফিকরা ভালো করেই জানে যে, পরিবার ধ্বংস করার, সন্তান নষ্ট করার, সমাজ কলুষিত করার বড়ো একটি মাধ্যম নারীকে বিকৃত করে ফেলা। এজন্যই তারা নারীকে ঘর থেকে বের করার জন্য, লজ্জা ও পর্দা থেকে মুক্ত করার জন্য বার বার চেষ্টা করছে, যা আজ প্রায় সব দেশেই দেখা যায়।
এতক্ষণ ইসলামি সিয়াসাত ও রাজনীতির শূরা-ব্যবস্থার কথা আলোচনা করলাম। পক্ষান্তরে, গণতন্ত্রের শুরা ব্যবস্থা বিভিন্ন দল-উপদল, কাফির, মুসলিমদের দ্বারা এমনভাবে মিশ্রিত যে-তাদের কারও কোনো নিজসুতা, সুকীয়তা, বা বৈশিষ্ট্য থাকে না, যার মাধ্যমে তাদের অন্যদের থেকে পৃথক করা যায়; বরং সবাই সমান, হয় সবগুলো ধর্ম এক করে নতুন কোনো ধর্ম বের করে, কিংবা অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে দ্বীন ধর্মের কোনো প্রভাব না রেখে প্রকাশ্যে এক জাতির মতোই থাকে। সবাইকে এক নামে ডাকা হয়। কারণ, সবার শাসক ও মাটি এক। তাদের কোনো জাতির বিশেষ আইন-কানুন থাকে না; বরং সব আইন-কানুন অধিকাংশের ভিত্তিতে হয়, যা বিভিন্ন জাতির সংমিশ্রণ থেকে নেওয়া হয়। এ সকল আইন-কানুন নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। তাই অধিকাংশ যা চায়, সে অনুযায়ী ফায়সালা করা হয়। আর যেটা ফিরিয়ে দেয়, সেটা বাতিল করা হয়। কোনোভাবেই সেটা আর আমলে নেওয়া হয় না-চাই শরিয়ত মোতাবেক হোক, বা না হোক। কোনো সন্দেহ নেই, এ রকম শুরা-ব্যবস্থা ইসলামে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যাত। কারণ, আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
ان الله عز وجل قد أذهب عنكم عبية الجاهلية وفخرها بالآباء مؤمن تقي وفاجر شقي أنتم بني ادم وادم من تراب ليد عن رجال فخرهم بأقوام إنما هم فحم من فحم جهنم أو ليكونن أهون على الله من الجعلان التي تدفع بأنفها أن نتنا
'আল্লাহ তাআলা তোমাদের থেকে জাহিলিয়াতের মিথ্যা অহংকার এবং পূর্বপুরুষদের মাধ্যমে গর্ব করা বিলুপ্ত করে দিয়েছেন। মুমিন হয় মুত্তাকি, পাপী হয় হতভাগা। তোমরা আদম-সন্তান, আর আদম আ. মাটি থেকে সৃষ্ট। লোকেরা যেন বিশেষ কোনো গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে অহংকার করে না বেড়ায়। তারা তো এখন হয় জাহান্নামের কয়লায় পরিণত হয়েছে, কিংবা তারা আল্লাহ তাআলার কাছে ওই কীটের চেয়েও নিকৃষ্ট-যে নিজের নাক দিয়ে ময়লা দূর করে।' ৪৫৫
এছাড়া ইসলাম কখনোই কুফুরির সামান্য কিছুও নিজের মাঝে অনুপ্রবেশ মেনে নিতে পারে না। কারণ, যেটা ইসলাম ও কুফুর মিশ্রিত ধর্ম, সেটাও যে কুফুরি-এতে কোনো সন্দেহ নেই। সুতরাং, ইসলামি দেশগুলোর মুসলিমদের ওপর কর্তব্য- বিশেষ করে আফগানিস্তানের মুসলিম—তারা ইসলামি জীবনব্যবস্থায় পরিচালিত হবে, যাতে তাদের কালিমা এক হয়, তারা সকলে যেন সিসাঢালা প্রাচীরের মতো সংঘবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নিশ্চিত তখনই তাদের বিজয় হবে, শত্রুদের সংখ্যা যতই বেশি হোক না কেন—এমনকি এই পরিমাণও যদি হয় যে, অন্য কাফিরদের শক্তি বা সাহায্য নেওয়ারও প্রয়োজন হয় না। পক্ষান্তরে যদি এর বিপরীত হয়, তাহলে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যাবে, তাদের শাসন-ব্যবস্থার ভিত্তি হবে জুমহুরিয়াত বা অধিকাংশের ওপর। তাহলে কোনো সন্দেহ নেই যে, পরাজয় তাদেরই হবে। তাদের দ্বীনি বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা, ইসলামি তামাদ্দুন ও প্রকৃত স্বাধীনতা—এসব ধূলিসাৎ হয়ে যাবে! কারণ, যে শাসন-ব্যবস্থার ভিত্তিই 'অধিকাংশ' নীতির ওপর, সেই শাসন-ব্যবস্থা শুধু তাদেরকে স্বাধীনতা দেয়—যারা সংখ্যায় ও লোকবলে বেশি। পক্ষান্তরে যারা সংখ্যায় কম, তাদের স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই।
তবে এটাও সত্য যে, আজকের যুগে পাপাচারীদের সংখ্যাই বেশি। বিশেষ করে এখন যেহেতু নেক লোকদের আধিপত্য নেই, মুজাহিদদের কোনো চিহ্ন নেই। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
টিকাঃ
৪৫১. তাফসিরে কুরতুবি, খণ্ড: ৪, স্পৃষ্ঠাঃ
*** ফাইজুল কাদির, খণ্ড: ৬,
*** আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনু হাবিব মাওয়ারদি, আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দ্বীন, ২৬০-২৬৩, ঈষৎ পরিবর্তিত।
৪২৪ সহিহ বুখারি, ৫৮৪৩