📄 (১) সঠিক পন্থা বের করার চেষ্টা করা
একটি বিষয় যখন সবার সামনে পরামর্শের জন্য পেশ করা হবে, তখন প্রত্যেকেই চেষ্টা করবে, সে যেন সর্বোত্তম পন্থা বের করতে পারে। এভাবে সবার চিন্তা একত্র করলে সবচেয়ে সুন্দর পন্থাটি বের হয়ে যাবে। ফলে প্রায় সময় সঠিক পন্থাটি বের হয়ে আসবে। জালালুদ্দিন সুয়ুতি রাহিমাহুল্লাহ একটি হাসান সনদে ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন-
شاورهم في الأمر 'আর আপনি তাদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ করেন'- যখন এই আয়াত নাজিল হলো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- 'শোনো আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুল (পরামর্শ) এর মুখাপেক্ষী নয়। তবে আল্লাহ তাআলা পরামর্শকে আমার উম্মাহর জন্য রহমতস্বরূপ অনুমোদন করেছেন। অতএব, আমার উম্মাহর যে ব্যক্তি পরামর্শ চাইবে, সে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হবে না। আর যে পরামর্শ থেকে বিরত থাকবে, সে বিপথ মুক্ত হবে না।'৪২৯
টিকাঃ
** ফাতহুল বায়ান, খণ্ড: ২, পৃ
📄 (২) কোনো বিষয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া থেকে নিরাপদ থাকা
আনাস ইবনু মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
ما خاب من استخار ولا ندم من استشار ولا عالم اقتصد 'যে ইস্তিখারার নামাজ পড়ে সে কখনো ব্যর্থ হবে না, যে পরামর্শ চায় সে কখনো লজ্জিত হবে না, আর যে (ব্যয় করার ক্ষেত্রে) মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে সে কখনো নিঃস্ব হবে না।'৪৩০
📄 (৩) বুদ্ধি বৃদ্ধি পাবে
ইমাম তুরতুশি বলেন—পরামর্শকারী যদিও সে বাস্তবে পরামর্শদাতার চেয়ে ভালো চিন্তার অধিকারী হয়, কিন্তু (পরামর্শ করা দ্বারা) তার আরেকটি চিন্তা বৃদ্ধি পায়, যেমন পলিমার মাধ্যমে আগুনের আলো বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং, কখনো নিজের মনে এ কথার স্থান দিয়ো না যে, মানুষের কাছে পরামর্শ চাইলে মানুষের সামনে প্রকাশ পাবে যে, তুমি তাদের মুখাপেক্ষী। এমন চিন্তা করা যাবে না, যা তোমাকে পরামর্শ করা থেকে বিরত রাখে। কারণ, তুমি তো গর্ব করার জন্য চিন্তা বা মত চাচ্ছো না। বরং উপকৃত হওয়ার জন্যই চাচ্ছ ৪০১
টিকাঃ
৪০১ সিরাজুল মুলুক, ৭৮
📄 (৪) ভুলের সময় অন্যের তিরস্কার থেকে বাঁচা যাবে
ইবনু মুতাজ বলেন—বেশি বেশি পরামর্শ করলে কাজটি সঠিক হলে যেমন প্রশংসা পাবে, তেমনি ভুল করলেও কৈফিয়ত করতে পারবে।