📄 উসমানি খিলাফতকালে হানাফি মাজহাবে বিচার-ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা
উসমানি খলিফারা সবাই ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। তারা শাইখুল ইসলামকে (প্রধান মুফতি) হানাফি আলিমদের থেকেই নির্বাচন করতেন। শাইখুল ইসলামও নিজ মাজহাব অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন। পরে যখন সুলতান সুলাইমান সালতানাতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি একটি ফরমান জারি করেন। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন যে, এখন থেকে সকল ক্ষেত্রে হানাফি মাজহাবই দাওলাতে উসমানিয়ার আবশ্যকীয় মাজহাব-বিচার হোক বা ফতোয়া।
তখন থেকে শাইখুল ইসলাম, সমস্ত কাজি ও মুফতি হানাফি মাজহাবের ভিত্তিতেই বিচার করতেন এবং ফতোয়া দিতেন। আলি হায়দার প্রণীত দুরাবুল আহকাম কিতাবে (খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৯১) আছে, 'দাওলাতে উসমানিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিচারালয়ে থাকার সময় কাজিদের হানাফি মাজহাব অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়ার জন্য আদেশ করা হয়, যদিও তারা অন্য কোনো মাজহাবের মুকাল্লিদ (অনুসারী) হতেন।'
পরবর্তী সময়ে দাওলাতে উসমানিয়ার তত্ত্বাবধানে মুআমালাতের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে হানাফি মাজহাব সংকলন করা হয়, যাতে খিলাফতে উসমানিয়ার আদালতে সেগুলো আবশ্যকীয়ভাবে প্রয়োগ করা যায়। যে সকল হুকুম-আহকামগুলো আদালতে বার বার প্রয়োগ করতে হয়, সেগুলো সংকলনের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি পর্যদ গঠন করা হয়।
১২৮৬ হিজরি সনে এই পর্যদ মুআমালাতের হুকুম-আহকামের একটি সংকলন প্রস্তুত করেন, যেখানে হানাফি মাজহাবের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতটি পেশ করা হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজনের কারণে এবং সময়ের দাবি রক্ষা করে, কম গ্রহণযোগ্য মতটিও আনা হয়। এই সংকলনে বিধানগুলো ধারাবাহিক সংখ্যা আকারে বিষয়ভিত্তিক তুলে ধরা হয়েছে, যেমনটি বৈদেশিক আইন-কানুনের ক্ষেত্রে করা হয় যাতে করে প্রয়োজনের সময় সহজেই দেখা সম্ভব হয়। এভাবে ১৮৫১টি সংখ্যা হয়েছে।
এই সংকলনের নামকরণ করা হয় 'মাজাল্লাতুল আহকামিল আদালিয়্যা'। সংকলনটিতে কখনো কখনো বিভিন্ন হুকুমের সাথে উদাহরণও পেশ করা হয়েছে। এছাড়াও আরও দুটো মুকাদ্দিমা ৯৯টি সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়-একটি ফিকহ ও তার প্রকার সম্পর্কে, আরেকটি ফিকহের মূলনীতি সম্পর্কে।
সুলতান আব্দুল আজিজ খান ইবনু সুলতান মাহমুদ সানির পক্ষ থেকে ১২৯৩ হিজরি সনের শাবান মাসে শাহি ফরমান জারি করা হয়, যেন রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি আদালতে এই 'মাজাল্লা' অনুযায়ী আমল করা হয় এবং সকল বিধান প্রয়োগ করা হয়। মোটকথা, হানাফি মাজহাব থেকে সংকলন করা এই মাজাল্লাটি একটি রাষ্ট্রীয় আইন হিসাবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়ে যায়।৪১৫
এই হলো ইসলামের বিচার-ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ। বিস্তারিত জানতে চাইলে বান্দার আরেকটি কিতাব দেখা যেতে পারে 'তাতিম্মাতুল নিজাম ফি তারিখিল কাজা ফিল ইসলাম'।