📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 আব্বাসি খিলাফতকালে সাক্ষীদের যাচাই-বাছাই

📄 আব্বাসি খিলাফতকালে সাক্ষীদের যাচাই-বাছাই


যেহেতু বিচার-ব্যবস্থা পূর্বের চেয়ে অনেক অগ্রগতি লাভ করেছে, অনেক দায়দায়িত্ব বেড়ে গেছে, একই সাথে মিথ্যা সাক্ষ্যও প্রকাশ পেতে শুরু করেছে; তাই কাজিরা সাক্ষীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন, যাচাই-বাছাই করতেন। কাজেই, সাক্ষী যদি আদিল (ন্যায়-নীতিবান) হয়, যদি তার সম্পর্কে এমন কিছু জানা না যায়, যা তার 'আদালত'কে ৪০৫ ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে কাজি তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন না। আর তার মাঝে যদি এমন কোনো দোষ পাওয়া যায়, যা তার আদালতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে কাজি তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন না। আর যদি তার অবস্থা সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই জানা না যায়, তাহলে তার সম্পর্কে আশেপাশের প্রতিবেশিকে জিজ্ঞাসা করেন, যারা তার সাথে কোনো কিছুতে শরিক থাকে, কিংবা আসা-যাওয়া করে, অথবা লেনদেন করে।
খরশা ইবনু হুর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—এক ব্যক্তি উমার রা.-এর কাছে সাক্ষ্য দিলে তিনি বলেন, আমি তো তোমার সম্পর্কে জানি না। অবশ্য তোমাকে আমার না জানা তোমার কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু এখন তুমি এমন কাউকে নিয়ে আসো, যে তোমার সম্পর্কে জানে। তখন একলোক বলে উঠল, আমি তার সম্পর্কে জানি। উমার রা. বললেন—তার সম্পর্কে কী জানো? লোকটি বলল, সে আদিল এবং একজন ভালো মানুষ।
তিনি এবার প্রশ্ন করলেন—সে কি তোমার পাশের কোনো প্রতিবেশী যে, তুমি তার সম্পর্কে জানো? তার দিন-রাত কেমন অতিবাহিত হয়? তার আসা-যাওয়া কেমন হয়?
সে বলল—না!
উমার রা. বললেন—তাহলে সে কি তোমার সাথে দিনার-দিরহাম দিয়ে লেনদেন করে, যার মাধ্যমে বোঝা যায়—সে মুত্তাকি, ভালো মানুষ?
লোকটি বলল—তাও না।
উমার রা. বললেন—তাহলে সে কি তোমার সফরের সঙ্গী, যার মাধ্যমে বোঝা যায়—সে সুন্দর আখলাকের অধিকারী?
সে বলল—তাও না।
উমার রা. বললেন—তাহলে তো তুমি তার সম্পর্কে কিছুই জানো না। তারপর ওই সাক্ষীকে বললেন, যাও! এমন কাউকে নিয়ে আসো, যে তোমাকে চেনে।১০৬
খিলাফতে রাশিদার যুগেও এমনই ছিল। পরবর্তী সময়ে আব্বাসিদের যুগেও সাক্ষীদের যাচাই-বাছাইয়ের চিন্তা পাওয়া যায়। তখন একদল সাক্ষী ছিল। যাদের বলা হতো الشهود الداءمون (সার্বক্ষণিক সাক্ষী), বা الشهود المعدلين )আদিল সাবাস্তকারী) অথবা الشود المزكون যাচাই-বাছাইকারী), কিংবা أصحاب ( السائل (জিজ্ঞাসাবাদকারী)।
তাদের দায়িত্ব ছিল, তারা সাক্ষীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেন। খলিফা মানসুরের খিলাফতকালে মিসরের কাজি গাউস ইবনু সুলাইমান সর্বপ্রথম সাক্ষীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। ইমাম কিনদি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, সায়িদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-মিসরে সর্বপ্রথম যিনি সাক্ষীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি হলেন খলিফা মানসুরের সময়কালের কাজি গাউস ইবনু সুলাইমান। এর আগে মানুষ সাক্ষ্য দিত, যার থেকে ভালো কিছু পাওয়া যেত, গ্রহণ করা হতো; আর যদি ভালো কিছু না পাওয়া যেত, তাহলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে গ্রহণ করা হতো না। এভাবে ধীরে ধীরে মিথ্যা সাক্ষ্য অনেক বেড়ে যায়। সেটা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে কাজি গাউসের যুগে এসে। তখন তিনি গোপনে সাক্ষীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন থেকে এভাবেই চলে আসছে।৪০৭

টিকাঃ
৪০৫ আদালত: এটি একটি ইলমে হাদিসের পরিভাষা। যার দ্বারা উদ্দেশ্য যাবতীয় পাপাচার, অনাচার ও গুনাহ থেকে বিরত থাকা।
*০০ মুসনাদু উমার, ইবনু কাসিরের স্বপন
৪০৭ কিতাবুল উলাতি ওয়াল কুজাত, ২৬১

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 আব্বাসিদের যুগে নথি ও ফাইলের ব্যবস্থা

📄 আব্বাসিদের যুগে নথি ও ফাইলের ব্যবস্থা


উমাইয়া খিলাফতকালেও বিভিন্ন বিচার-ফায়সালা নথিভুক্ত করে রাখা হতো, কিন্তু সেটা খুব কম ছিল। সেটাও সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু আব্বাসিদের যুগে কাজিরা হুকুম-আহকাম সংরক্ষণ ও নথিভুক্ত করার প্রতি বেশ গুরুত্ব দেন, যাতে জনগণের হক সংরক্ষিত থাকে, হুকুম-আহকাম মজবুত থাকে।

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 আব্বাসি খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থায় দিওয়ান

📄 আব্বাসি খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থায় দিওয়ান


আব্বাসি খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থার দিওয়ান পাওয়া যায়। দিওয়ান বলা হয়, যেখানে বিচার-ব্যবস্থার সবকিছু রেকর্ড করা থাকে। যেমন: ফাইল বা চেক-মূল হোক বা মূল থেকে লিপিবদ্ধ করা হোক। একইভাবে এই দিওয়ানে বিভিন্ন পদের ব্যক্তিদের নামও লিপিবদ্ধ থাকে, যেমন: কাতিব, তত্ত্বাবধায়ক, কাজির সহযোগী। প্রথমে এ দিওয়ান বাগদাদে ছিল। খলিফা হারুনুর রশিদের যুগে এই দিওয়ান পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন জাফর বারমাকি। তারপর এ দিওয়ান প্রত্যেক এলাকা ও শহরে ছড়িয়ে পড়ে।৪০৮

টিকাঃ
৪০৮ তারিখল কাজা ফিল ইসলাম

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00