📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 আব্বাসি খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন ও সংযোজন

📄 আব্বাসি খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন ও সংযোজন


আব্বাসিদের যুগে বিচার-ব্যবস্থায় বিভিন্ন আইন-কানুন সম্পর্কিত অনেক নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হয়। যেগুলো সামনে আলোচনা করা হবে।
উমাইয়াদের যুগে বিচার-ব্যবস্থায় যা যা ত্রুটি ছিল, সেগুলো আব্বাসিদের যুগে সংশোধন করা যায়। ইমাম নাবাহি রাহিমাহুল্লাহ বলেন- উমাইয়া খলিফা মুআবিয়া ইবনু সখর যখন শাসনক্ষমতা লাভ করেন, তখন তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন পূর্বের বিচার-নীতি বহাল রাখতে। এভাবে কিছুকাল অব্যাহত ছিল, কিন্তু ইয়াজিদ ইবনু আবদিল মালিক ও তার ছেলে ওয়ালিদের যুগে সেটা আর ধরে রাখা সম্ভব হয় না। এরপর যখন বনু আব্বাস খিলাফত লাভ করে, তখন তারা বিচার-ব্যবস্থায় খুব গুরুত্ব প্রদান করে, শরয়ি কাজের জন্য বড়ো বড়ো উলামায়ে কিরামকে নিযুক্ত করে ৪০১
০১। বিচার-ব্যবস্থায় পরিবর্তন : আব্বাসি খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থা ছিল রাষ্ট্র পরিচালনারই একটি অংশ। তাই, কাজি নিযুক্তকরণ ছিল খলিফা, কিংবা খলিফা যাকে 'নিযুক্তকরণের' দায়িত্ব দিয়েছেন তার হাতে। এজন্যই খলিফা বিচার- ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করতে পারতেন। কিন্তু উমাইয়া খিলাফতকালে রাজধানী দামেশকের কাজি নিযুক্ত করতেন খলিফা নিজে। আর অন্যান্য প্রদেশের কাজি নিযুক্ত করত সেসব প্রদেশের গভর্নররা। পরে যখন আব্বাসি খলিফা আবু জাফর মানসুর খিলাফত গ্রহণ করেন, তখন তিনি নিজেই অন্যান্য প্রদেশের কাজি নিযুক্ত করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এটা বেশি ব্যাপকও ছিল না, অব্যাহতও ছিল না। বরং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য খলিফারা কাজি নিযুক্ত করার দায়িত্ব কখনো প্রশাসকদের হাতে ছেড়ে দিতেন, কখনো তারা নিজেদের প্রদেশে নিজেরাই কাজি নিযুক্ত করতেন; এমনকি খলিফা মানসুরের যুগেও এমনটি ছিল।
০২। 'কাজিউল কুজাত'-এর (প্রধান বিচারপতির) পদ সৃষ্টি : ইসলামি বিচার- ব্যবস্থায় সর্বপ্রথম সংযোজনকৃত নতুন বিষয়টি ছিল 'কাযিল কুযাত' তথা প্রধান বিচারপতির পদ, যা ১৭০ হিজরি সনে আব্বাসি খলিফা আমিরুল মুমিনিন হারুনুর রশিদ যুক্ত করেন। এই পদ যুক্ত করার কারণ, তখন দাওলাতে ইসলামিয়া অনেক বিস্তৃতি লাভ করে। ফলে খলিফার দায়দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। তখন প্রয়োজন দেখা দিল এমন একজনের যে খলিফার নায়েব হয়ে এ দায়দায়িত্বগুলো আদায় করবে। ফলে খলিফা হারুনুর রশিদই প্রথম এই পদ ও এই নাম আবিষ্কার করেন। তিনি এই পদের জন্য ইমাম আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনু ইবরাহিম আনসারি রহ.-কে নিযুক্ত করেন, যিনি ছিলেন ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর খাস শাগরেদ। ইমাম আবু ইউসুফ ইরাক ও অন্যান্য প্রদেশের কাজিদের নির্বাচন করে তাদের নামগুলো হারুনুর রশিদের সামনে জমা দেন। আর খলিফা সেগুলো দেখে দেখে কাজি নিযুক্ত করেন।
তখন কাজিউল কুজাতের দায়িত্ব ছিল-আহলে ইলমের মধ্যে যাকে কাজার জন্য কল্যাণকর মনে হয়, তাকে খলিফার সামনে পেশ করা। তখন খলিফা তাকে কাজি হিসাবে নিযুক্ত করতেন। কাজিল কুজাত বা প্রধান বিচারপতি ইমাম আবু ইউসুফ রহ. এর নির্বাচন ব্যতীত খলিফা হারুনুর রশিদ কাউকে কাজি বানাতেন না। ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-এর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত (১৮২ হিজরি) এ পদে বহাল থাকেন। ইমাম আবু ইউসুফ রহ. আব্বাসি তিন খলিফার সময়কাল পর্যন্ত বাগদাদের কাজি ছিলেন। সেই তিন খলিফা হলেন—
■ এক. খলিফা হাদি;
■ দুই. খলিফা মাহাদি
■ তিন. খলিফা হারুনুর রশিদ
খলিফা হারুনুর রশিদ তাকে খুব সম্মান করতেন, মর্যাদা দিতেন। তিনি তাকে পূর্ব-পশ্চিম সব অঞ্চলের কাজি নির্ধারণ করার দায়িত্ব দেন। ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-কে বলা হয় 'কাজি কুজাতিদ দুনিয়া' (দুনিয়ার প্রধান বিচারপতি)।
'কাজিল কুজাত' এর পদকে বর্তমান রাষ্ট্রনীতির পরিভাষায় 'আইনমন্ত্রী'-এর সমমান মনে করা হয়। ৪০২

টিকাঃ
*০১ তারিখ কুজাতিল আন্দালস,

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 আব্বাসি খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থার উৎস

📄 আব্বাসি খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থার উৎস


দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে কাজি সাহেব নিজের ইজতিহাদ অনুযায়ী ফায়সালা করতেন, পাশাপাশি শরয়ি হুকুম-আহকামের মূল উৎসগুলোর ওপর নির্ভর করতেন-অর্থাৎ, কুরআন, সুন্নাহ, পূর্ববর্তী কাজা বা বিচার-ফায়সালা, সাহাবির উক্তি বা প্রচলন, ইজমা ও কিয়াস।
চতুর্থ শতাব্দীতে অধিকাংশ ফকিহ ও কাজিরা নিজেদের মাজহাবের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করতেন। নির্দিষ্ট কোনো মাজহাব অনুযায়ী ফায়সালা করতেন না। বরং তাদের মাঝে সে যোগ্যতা ছিল বিধায় নিজেরা বিভিন্ন মাসআলায় ইজতিহাদ করতেন।
পঞ্চম শতাব্দীতে এসে ফিকহি মাজহাবগুলো পূর্ণতা লাভ করে, মজবুত হয়। তখন প্রায় সমস্ত উলামা, ফুকাহায়ে কিরাম, কাজি এবং সাধারণ জনগণ নির্দিষ্ট একজন ইমামকে আঁকড়ে ধরে। সব ক্ষেত্রেই-দারস হোক, ফতোয়া হোক, বা বিচার-ব্যবস্থা হোক-সবাই কোনো না কোনো মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। কাজিকেও পূর্ববর্তী কাজিদের ফায়সালা অনুযায়ী বিচার করতে হতো, যাতে সাধারন জনগণ তার বিচারে সন্দেহ না করে।
তাই, ইমাম মাওয়ারদি বলেন যেং সরূল মুকোরায়েড ভিসায় নির্দিষ্ট কোনো মাজহাব গ্রহণ করেছেন, তারা ফতোয়া দিতেন যে, অন্য মাজহাবের মত দিয়ে বিচার করা যাবে না। এ কারণে শাফিয়ি মাজহাবের অনুসারীরা ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মত দিয়ে ফায়সালা করতে নিষেধ করেন। আর হানাফি মাজহাবের অনুসারীগণ ইমাম শাফিয়ি রহ.-এর মাজহাব দিয়ে বিচার করতে নিষেধ করেন। যদিও কাজির ইজতিহাদ শাফিয়ি রহ.-এর মতকেই প্রাধান্য দেয়, তবুও তাকে নিজের মাজহাব অনুযায়ীই বিচার করতে হতো। অন্যথায় তখন তার বিরদ্ধে অভিযোগ বা অপবাদের আশঙ্কা থাকে। পক্ষান্তরে, তিনি যদি নির্দিষ্ট এক মাজহাব দিয়েই বিচার করেন, তাহলে সে অপবাদ আর থাকে না। 400
মুহাদ্দিস দেহলভি রাহিমাহুল্লাহ বলেন-কোনো কোনো কাজি যখন হুকুম-আহকামের ক্ষেত্রে জুলুম শুরু করে দেয়, তখন প্রশাসকরা কাজিদের আদেশ করে-তারা যেন নির্দিষ্ট কোনো মাজহাব অনুযায়ী ফায়সালা করে। এছাড়া অন্য কোনো মাজহাব অনুযায়ী ফায়সালা না করে। তবে অন্য মাজহাব অনুযায়ী ফায়সালা করতে হলে এমন মাসআলার ক্ষেত্রেই করা যাবে, যে মাসআলায় সাধারণ জনগণ সন্দেহ করবে না এবং সেটা এমন মতই হতে হবে, যা পূর্ব থেকেই গ্রহণযোগ্য। তখন ফুকাহায়ে কিরাম ও কাজিগণ ওই সমস্ত উক্তি ও মতের ওপর নির্ভর করতেন, যেগুলো নিজেদের মাজহাবের কিতাবগুলোতে বিদ্যমান আছে। তবে মূলনীতি ছিল এই যে-কাজা হোক বা ফতোয়া কোনোটাই জায়িজ নয়, যদি না এমন উক্তি বা মতের মাধ্যমে হয়; যে মত তার কাছে এমন আদিল (ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি) থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যিনি আরেক আদিল থেকে বর্ণনা করেছেন। সেই আদিল ওই মুজতাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, কাজি বা মুফতি যার তাকলিদ করে। এভাবে হাদিসের মতো সহিহ সূত্রে বর্ণিত হতে হবে। কারণ, উভয় (হাদিস এবং কাজা বা ফতোয়া) ক্ষেত্রেই আল্লাহ তাআলার দ্বীনই বর্ণনা করা হচ্ছে। তবে যেহেতু মাজহাবের মতগুলো বেশি প্রসিদ্ধ এবং প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে বিকৃতি সাধন বা পরিবর্তন করা অসম্ভব, তাই সবাই কিতাবের ওপরই নির্ভর করত। (সূত্র ধরে বর্ণনা করার প্রয়োজন ছিল না।)
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা গেল, তখন বিচার-ব্যবস্থার উৎসগুলো ফিকহি কিতাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। মোটকথা, প্রত্যেক মাজহাবের কিছু নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ কিতাব আছে, যার ওপর নির্ভর করা যায়, আলাদা সনদের প্রয়োজন হয় না। অতএব, কাজি যখন বিচার করবেন, তখন তার মাজহাবের নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ কিতাব দেখেই বিচার করবেন।

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 আব্বাসি যুগে মাজালিমের বিচার-ব্যবস্থা

📄 আব্বাসি যুগে মাজালিমের বিচার-ব্যবস্থা


বনু উমাইয়ার খলিফারা জনগণের মাজালিম তথা লুণ্ঠিত সম্পদের বিচারকার্যের জন্য মাত্র একদিন নির্ধারণ করেন। তারপরও কোনো কোনো খলিফা এক্ষেত্রে শিথিলতা শুরু করে দেন। পরবর্তী সময়ে যখন আব্বাসি খিলাফত আসে, তখন আবার খলিফারা নিজেরাই মাজালিমের বিচারকার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, কিংবা কখনো কখনো কোনো মন্ত্রী বা কাজির হাতে দায়িত্ব দেন।
খলিফা মানসুর তার গভর্নরদের কাজ বেশি বেশি পর্যবেক্ষণ করতেন। তাদের থেকে হিসাব নিতেন। তারপর খলিফা মাহদি আসেন। তিনি মাজালিমের বিচারকার্যের জন্য আলাদাভাবে সময় দেন এবং নিজে বিচারের জন্য বসেন। বনু আব্বাসের খলিফাদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম মাজালিমের জন্য বসেন, যাতে জালিম-মাজলুমের মাঝে ইনসাফ কায়েম করতে পারেন, হকদারদেরকে তাদের হক পৌঁছিয়ে দিতে পারেন। তিনি মাজালিমের জন্য একজন মন্ত্রীও নিযুক্ত করেন, একই সাথে একটি ফাইলও তৈরি করেন। এই ফাইলটিকে 'দিওয়ানুল মাজালিম' (লুণ্ঠিত সম্পদের ফাইল) বলা হতো।
অতঃপর মাজালিমের জন্য খলিফা হাদি বসেন। তারপর খলিফা হারুনুর রশিদ এ বিষয়ে খুব গুরুত্ব দেন। ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-এর নসিহতের কারণে তিনি প্রায় সময়ই এজন্য বসতেন, যেমনটি কিতাবুল খারাজে উল্লেখ আছে। খলিফা হারুনুর রশিদই জনগণের যাবতীয় বিষয়াদি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য রাখতেন এবং সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। আর আমিরুল মুমিনিন মামুন মাজালিমের জন্য সপ্তাহের রবিবারে বসতেন। খলিফা ওয়াসিক বনু উমাইয়ার লুণ্ঠিত সম্পদ ফেরত দিতেন।
আর যখন খলিফা মুহতাদি বিল্লাহ খিলাফত লাভ করেন, তখন তিনি একটি তাঁবু তৈরি করেন, যার দরজা ছিল চারটি। তিনি সেখানে মাজালিমের বিচারের জন্য বসতেন। সেই তাঁবুর নাম ছিল 'কুব্বাতুল মাজালিম' (মাজালিমের তাঁবু)। তিনিই বনু আব্বাসের সর্বশেষ খলিফা, যিনি মাজালিমের জন্য বসতেন। তার পর থেকে মন্ত্রী কিংবা কাজিরাই বসা শুরু করেন।৪০৪

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 আব্বাসি খিলাফতকালে সাক্ষীদের যাচাই-বাছাই

📄 আব্বাসি খিলাফতকালে সাক্ষীদের যাচাই-বাছাই


যেহেতু বিচার-ব্যবস্থা পূর্বের চেয়ে অনেক অগ্রগতি লাভ করেছে, অনেক দায়দায়িত্ব বেড়ে গেছে, একই সাথে মিথ্যা সাক্ষ্যও প্রকাশ পেতে শুরু করেছে; তাই কাজিরা সাক্ষীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন, যাচাই-বাছাই করতেন। কাজেই, সাক্ষী যদি আদিল (ন্যায়-নীতিবান) হয়, যদি তার সম্পর্কে এমন কিছু জানা না যায়, যা তার 'আদালত'কে ৪০৫ ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে কাজি তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন না। আর তার মাঝে যদি এমন কোনো দোষ পাওয়া যায়, যা তার আদালতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে কাজি তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন না। আর যদি তার অবস্থা সম্পর্কে ভালো-মন্দ কিছুই জানা না যায়, তাহলে তার সম্পর্কে আশেপাশের প্রতিবেশিকে জিজ্ঞাসা করেন, যারা তার সাথে কোনো কিছুতে শরিক থাকে, কিংবা আসা-যাওয়া করে, অথবা লেনদেন করে।
খরশা ইবনু হুর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—এক ব্যক্তি উমার রা.-এর কাছে সাক্ষ্য দিলে তিনি বলেন, আমি তো তোমার সম্পর্কে জানি না। অবশ্য তোমাকে আমার না জানা তোমার কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু এখন তুমি এমন কাউকে নিয়ে আসো, যে তোমার সম্পর্কে জানে। তখন একলোক বলে উঠল, আমি তার সম্পর্কে জানি। উমার রা. বললেন—তার সম্পর্কে কী জানো? লোকটি বলল, সে আদিল এবং একজন ভালো মানুষ।
তিনি এবার প্রশ্ন করলেন—সে কি তোমার পাশের কোনো প্রতিবেশী যে, তুমি তার সম্পর্কে জানো? তার দিন-রাত কেমন অতিবাহিত হয়? তার আসা-যাওয়া কেমন হয়?
সে বলল—না!
উমার রা. বললেন—তাহলে সে কি তোমার সাথে দিনার-দিরহাম দিয়ে লেনদেন করে, যার মাধ্যমে বোঝা যায়—সে মুত্তাকি, ভালো মানুষ?
লোকটি বলল—তাও না।
উমার রা. বললেন—তাহলে সে কি তোমার সফরের সঙ্গী, যার মাধ্যমে বোঝা যায়—সে সুন্দর আখলাকের অধিকারী?
সে বলল—তাও না।
উমার রা. বললেন—তাহলে তো তুমি তার সম্পর্কে কিছুই জানো না। তারপর ওই সাক্ষীকে বললেন, যাও! এমন কাউকে নিয়ে আসো, যে তোমাকে চেনে।১০৬
খিলাফতে রাশিদার যুগেও এমনই ছিল। পরবর্তী সময়ে আব্বাসিদের যুগেও সাক্ষীদের যাচাই-বাছাইয়ের চিন্তা পাওয়া যায়। তখন একদল সাক্ষী ছিল। যাদের বলা হতো الشهود الداءمون (সার্বক্ষণিক সাক্ষী), বা الشهود المعدلين )আদিল সাবাস্তকারী) অথবা الشود المزكون যাচাই-বাছাইকারী), কিংবা أصحاب ( السائل (জিজ্ঞাসাবাদকারী)।
তাদের দায়িত্ব ছিল, তারা সাক্ষীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেন। খলিফা মানসুরের খিলাফতকালে মিসরের কাজি গাউস ইবনু সুলাইমান সর্বপ্রথম সাক্ষীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। ইমাম কিনদি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, সায়িদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-মিসরে সর্বপ্রথম যিনি সাক্ষীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি হলেন খলিফা মানসুরের সময়কালের কাজি গাউস ইবনু সুলাইমান। এর আগে মানুষ সাক্ষ্য দিত, যার থেকে ভালো কিছু পাওয়া যেত, গ্রহণ করা হতো; আর যদি ভালো কিছু না পাওয়া যেত, তাহলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে গ্রহণ করা হতো না। এভাবে ধীরে ধীরে মিথ্যা সাক্ষ্য অনেক বেড়ে যায়। সেটা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে কাজি গাউসের যুগে এসে। তখন তিনি গোপনে সাক্ষীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন থেকে এভাবেই চলে আসছে।৪০৭

টিকাঃ
৪০৫ আদালত: এটি একটি ইলমে হাদিসের পরিভাষা। যার দ্বারা উদ্দেশ্য যাবতীয় পাপাচার, অনাচার ও গুনাহ থেকে বিরত থাকা।
*০০ মুসনাদু উমার, ইবনু কাসিরের স্বপন
৪০৭ কিতাবুল উলাতি ওয়াল কুজাত, ২৬১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00