📄 উমাইয়া খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থা
উমাইয়া খিলাফতের সূচনা হয় আবু সুফইয়ান রা.-এর খিলাফত থেকে, যখন ৪০ হিজরিতে শামে মানুষরা তার হাতে বাইআত গ্রহণ করে। অর্থাৎ, চতুর্থ খলিফা আলি রা.-এর শাহাদাতের পর। যখন হাসান ইবনু আলি রা. মুআবিয়া রা.-এর জন্য খিলাফত ছেড়ে দেন, তখন সবাই ৪১ হিজরিতে মুআবিয়া রা.-এর হাতে বাইআত গ্রহণ করে, মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ হয়। তাই এ বছরকে আমুল জামাআত বলা হয়। আমুল জামাআত অর্থ একত্র বা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বছর। বনু আব্বাস আসার আগ পর্যন্ত উমাইয়া খিলাফত অব্যাহত থাকে। যখন উমাইয়াদের সর্বশেষ খলিফা মারওয়ান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মারওয়ান ইবনু হাকামকে ১৩২ হিজরিতে হত্যা করা হয়। ৩৯৬
টিকাঃ
২০* আত তুরুকুল হিকমিয়্যা, ৪৭
৩* জাহিলি, তারিখুল কুজাত ফিল
📄 বিচার-ব্যবস্থায় সংযোজন
উমাইয়া খিলাফতের সময় বহু নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটে, যা খিলাফত ও রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে যুক্ত, যেমনটি ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে। তখন ইসলামি ভূখণ্ড অনেক বিস্তৃতি লাভ করে। পূর্বদিকে সিন্ধু ও হিন্দুস্তান পর্যন্ত, পশ্চিমে আন্দালুস ও ফ্রান্স, উত্তরে রুম, আরমানিয়া এবং মা ওয়ারাউন নাহর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। তবে এই প্রশস্ততা সত্ত্বেও বিচার-ব্যবস্থায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা ছিল খুব শক্তিশালী। তখন ইনসাফ রক্ষিত হতো, বিশেষ করে উমার ইবনু আবদিল আজিজ রহ. এর যুগে ইনসাফ সর্বোচ্চ চূড়ায় উপনীত হয়েছিল। তবে উমাইয়া খিলাফতে বিচার-ব্যবস্থায় নতুন নতুন কিছু বিষয় সংযোজিত হয়। যেমন:
০১। খুলাফায়ে রাশিদা নিজেরাই বিচার কার্য পরিচালনা করতেন, মামলা-মোকদ্দমা, ঝগড়া-বিবাদ নিরসন করতেন। তখন বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকও এমন ছিলেন (তারা নিজেরাই সবকিছু করতেন), যদি না তাদেরকে প্রশাসনের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো। অর্থাৎ যদি না তাদেরকে বিচার কার্য থেকে নিষেধ করা হতো, তারা ছাড়া অন্য কাউকে বিচারের জন্য নির্ধারণ করা হতো। কিন্তু মুআবিয়া রা. যখন খিলাফত গ্রহণ করেন, তখন তিনি বিচার কার্য থেকে একেবারেই সরে যান। তিনি দামেশকের কাছাকাছি অঞ্চলগুলোয় কাজি নির্ধারণ করে দেন। তাদের কাছে বিচার-ব্যবস্থার যাবতীয় বিষয়াদি সোপর্দ করেন, মামলা-মোকদ্দমার ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ অধিকার দেন। বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকরাও এই নীতি অবলম্বন করেন।
মোটকথা, প্রশাসন ব্যবস্থা বিচার-ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়। এজন্যই দেখা যায় যে, উমাইয়া খিলাফতের সময় বিচার-ব্যবস্থা পুরো স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। অন্য কারও অধীনে ছিল না। এমনকি শাসক বা প্রশাসকের অধীনেও ছিল না। তাদের দায়িত্ব ছিল শুধু কাজি নিযুক্ত করা বা বরখাস্ত করা। কিন্তু কাজির কোনো কাজে বা হুকুমের ক্ষেত্রে শাসক বা প্রশাসকের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ ছিল না। তারা শুধু কাজিদের হুকুমগুলো বাস্তবায়ন করতেন। মুআবিয়া রা.-ই সর্বপ্রথম খলিফা যিনি পুরোপুরি বিচার-ব্যবস্থা থেকে আলাদা হয়ে যান, বিচারের দায়িত্ব অন্যজনের হাতে ছেড়ে দেন।
রাষ্ট্রের মৌলিক জায়গাগুলোয় তার কিছু কাজি ছিল। পুরো খিলাফত জুড়ে বনু উমাইয়ার খলিফারা এ পদ্ধতিই অবলম্বন করেছে। বিচার-ব্যবস্থা থেকে খলিফাদের সম্পর্ক পুরোপুরিই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তিনটি বিষয় ছাড়া।
এক. খিলাফতের রাজধানী দামেশকের কাজি সরাসরি খলিফার হাতে নিযুক্ত হতো। আর অন্যান্য জায়গার কাজিরা প্রশাসন কর্তৃক নিযুক্ত হতো।
দুই. কাজিদের কাজকর্ম, তাদের বিচার কার্য পর্যবেক্ষণে রাখা। তারা যে সকল বিচার করে, সেগুলো বিশ্লেষণ করা।
তিন. অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া সম্পত্তির বিচার করা। 'হাসাবা' গঠন করা।
উমাইয়া খলিফারা অন্যায়ভাবে ছিনিয়ে নেওয়া সম্পত্তির বিচারে আলাদা গুরুত্ব দিত। একসময় সেজন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যবস্থাপনাও কায়েম করা হয়। উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে আব্দুল মালিক ইবনু মারওয়ানই প্রথম, যিনি অন্যায়ভাবে ছিনিয়ে নেওয়া সম্পত্তির বিষয়ে দেখাশোনা করেন। তারপর বিষয়টি আরও ব্যাপক হয়ে যায়।
খলিফা আব্দুল মালিক অন্যায় সম্পত্তির জন্য আলাদা একদিন নির্ধারণ করেন। সেদিন তিনি মাজলুমদের সব কথা শুনতেন, তখন যদি কোনো সমস্যা দেখা দিত, বা কোনো হুকুম কার্যকর করার প্রয়োজন হতো, তাহলে তার কাজি আবু ইদরিস আজদির কাছে পাঠিয়ে দিতেন। তখন আবু ইদরিস সে হুকুম বাস্তবায়ন করত। অর্থাৎ, আবু ইদরিস বিচার সম্পন্ন করতেন, আর আব্দুল মালিক আদেশ করতেন। তারপর মহান ন্যায়পরায়ণ শাসক ও খলিফা উমার ইবনু আবদিল আজিজ এই গুরুদায়িত্ব পালন করো জিনিক প্রথমো নিজেকে দিয়েই শুরু করেছিলেন। তার নিজের সম্পদ, স্ত্রীর সম্পদ, সব বাইতুল মালে ফিরিয়ে দেন। তারপর তিনি বন্ধু উমাইয়ার মধ্য হতে তার আত্মীয়সুজনদের সম্পদের হিসাব করেন। তারপর প্রশাসক ও গভর্নরদের বিষয়ে মনোযোগ দেন। তিনি এক ধাপেই বারো জন গভর্নরের ধনসম্পদ বাইতুল মালে ফেরত দেন।
তিনি তার দরজা খুলে দেন, যাতে রাষ্ট্রের যেকোনো প্রান্ত থেকে জনগণ অভিযোগ ও লুণ্ঠিত সম্পদের বিচারের জন্য আসতে পারে। এক্ষেত্রে তার অনেক বিস্ময়কর ঘটনা, আশ্চর্যকর কাহিনী ও ইনসাফপূর্ণ বিচার রয়েছে, যার মাধ্যমে উদাহরণ পেশ করা হয়। ৩৯৭
০২। উমাইয়া খিলাফতের সময় বিচারের বেশ কয়েকটি উৎস সৃষ্টি হয়েছে, যা নববি যুগ বা খিলাফতে রাশিদার যুগে ছিল না। তা হলো—
* সাহাবির উক্তি;
* ইজমা;
* পূর্ববর্তী কাজা বা বিচার।
০৩। উমাইয়া খিলাফতেই প্রথম বিভিন্ন বিচার লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়। কাজি নিজের কৃত বিচারগুলো ফাইলে লিপিবদ্ধ করে রাখতেন, যাতে প্রয়োজনের সময় আবার দেখা যায়, অথবা যাতে ভুলে না যান, বা কেউ অস্বীকার করতে না পারে। সর্বপ্রথম যিনি লিপিবদ্ধ করা শুরু করেন, তিনি হলেন মুআবিয়া রা.-এর সময়কালের মিসরের কাজি সুলাইম ইবনু আতর তাজিবি। একবার কিছু লোক তার কাছে মিরাস বণ্টনের বিষয়ে বিচার নিয়ে আসলে তিনি তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেন। এরপর কিছুকাল তাদের দেখা পাওয়া যায় না। পরে তারা আবার নিজেদের মাঝে ইখতিলাফ ও মতবিরোধ শুরু করে, পূর্বের করা ফায়সালাকে অস্বীকার করে বসে। এরপর তারা দ্বিতীয়বারের জন্য কাজি সুলাইমের কাছে আসে, তখন তার এ লোকগুলোর ঘটনা মনে পড়ে যায়। তিনি তাদেরকেও ওই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিলে তারা স্বীকার করে, তখন তিনি আবার সেই আগের হুকুমই প্রয়োগ করেন। আর কাতিবকে বলেন, এসব হুকুম লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্য। তিনি তাদের বিচারের একটি ফাইল তৈরি করে ফেলেন, সাথে সাক্ষীও রেখে দেন। ৩৯৮
ইমাম কিনদি রাহিমাহুল্লাহ বলেন— 'মিসরের প্রথম শাসক সুলাইম-ই সর্বপ্রথম নিজের বিচার নিয়ে একটি ফাইল তৈরি করেন। আমাদের জানামতে, সুলাইম-ই সর্বপ্রথম বিচারের বিষয়ে সাক্ষী রাখতেন, যাতে তা সুদৃঢ় হয়ে যায় এবং কেউ অস্বীকার করতে না পারে। তারপর বনু আব্বাসের মাঝেও সেটা স্থান পায়।'
০৪। মামলা-মোকদ্দমা বিন্যাস করা। খাদী-বিবাদীরা যেন একজনের পর একজন পর্যায়ক্রমে আসতে পারে এজন্য চিরকুট ব্যবহার করা শুরু হয়।
০৫। কাজিদের সহযোগী নিযুক্তকরণ। তারা হলো বিচারালয়ে বসে থাকা সাহায্যকারী, এবং নিরাপত্তা বাহিনী।
মাওসুআতুস সিয়ারে (খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ২৭০) আছে—উমার ইবনু আবদিল আজিজ কাজিদের নির্বাচনে খুব সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতেন, যাতে জনগণের ওপর এমন কাজি চেপে না বসে, যে তাদের মাঝে অন্যায়ভাবে ফায়সালা করবে। এজন্য উমার ইবনু আবদিল আজিজ কাজির জন্য পাঁচটি শর্ত নির্ধারণ করেছেন। এই পাঁচটি শর্ত পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত বিচারক হওয়া যাবে না। সেগুলো হলো—
* এক. ইলম;
* দুই. হিলম (সহনশীলতা);
* তিন. চারিত্রিক পবিত্রতা;
* চার. পরামর্শ করা
* পাঁচ. সত্য প্রকাশে সাহসিকতা
আব্বাসি খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থা
আব্বাসি খিলাফতের সূচনা হয় ১৩২ হিজরিতে, যখন বনু আব্বাস উমাইয়াদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, আবু আব্বাস সাফফাহর হাতে খিলাফতের বাইআত করা হয়। এর সমাপ্তি হয় ৬৫৯ হিজরিতে তাতারিদের হাতে বাগদাদ ধ্বংস হওয়ার মাধ্যমে, যখন বনু আব্বাসের সর্বশেষ খলিফা মুতাসিম বিল্লাহকে হত্যা করা হয়। আব্বাসিদের খিলাফতকাল বহু দীর্ঘ ছিল। ইসলামি ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ শাসন-ব্যবস্থা ছিল আব্বাসি খিলাফত। এই খিলাফত পাঁচ শতাব্দীরও বেশি (৫২৪ বছর) অব্যাহত ছিল, যা উমাইয়া খিলাফতের ৬ গুণ এবং খিলাফতে রাশিদার ১৮ গুণ। মানচিত্রে আব্বাসি খিলাফত ছিল ইসলামি সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বিস্তৃত সাম্রাজ্য। তাদের ভূমির বিস্তৃতি ছিল অনেক দীর্ঘ। দক্ষিণে জাযিরাতুল আরব, উত্তরে মা ওয়ারাউন নাহর, আজারবাইজান, আরমানিয়া, আফগানিস্তান, বুখারা, তাশকন্দ, বাঙ্গাল, সিন্ধু, তুর্কিস্তান, পশ্চিমে আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
আব্বাসি খিলাফতের দুইটি যুগ ছিল—
প্রথম যুগ : এই যুগ ছিল স্বর্ণযুগ (১৩২ হিজরি থেকে ২৪৬ হিজরি পর্যন্ত), যখন তুর্কিরা মুতাওয়াকিকল আলাল্লাহকে হত্যা করে, তখন তারা তার ছেলে মুনতাসির বিল্লাহকে পিতার স্থানে বসায়। রাষ্ট্র ক্ষমতা ছিল তখন খলিফাদের হাতে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের কথাই গ্রহণযোগ্য ছিল। সে যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প- প্রযুক্তি, সভ্যতা-সংস্কৃতির বসন্ত বাহার ছিল। নেতৃত্ব, বাস্তবায়ন, শক্তি, প্রতাপ- সব ক্ষেত্রেই এই প্রথম যুগ অন্যান্য যুগের চেয়ে ভিন্ন এবং অনন্য ছিল, চাই তা বাহিরে বা ভেতরে, অথবা হোক রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে।
দ্বিতীয় যুগ: এই যুগটি ছিল দুর্বলতা ও অস্থিরতার যুগ, যখন মুসলিমদের ঐক্যে ফাটল দেখা দেয়, যার সূচনা ২৪৭ হিজরি থেকে ৬৫৬ হিজরি পর্যন্ত। তখন রাষ্ট্র ক্ষমতা হয় উজিরে আলির (প্রধানমন্ত্রী) হাতে ছিল, অথবা সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে ছিল, কিংবা অন্যান্য অনেক বিষয়াদি তত্ত্বাবধায়কের হাতে ছিল। খলিফাদের বিভিন্ন দুর্বলতার চিত্র প্রকাশ পাচ্ছিল। একই সাথে রাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি বাড়ছিল, দুর্বলতা ও ফাটল ধরার উপক্রম হচ্ছিল। সবাই নিজের মনমতো হুকুম বাস্তবায়ন করত। অনেক এলাকার প্রশাসকগণ তো পুরোপুরি স্বাধীনতা ঘোষণা করে স্বয়ংসম্পূর্ণও হয়ে যায়। অবশ্য কেউ কেউ বাগদাদের খিলাফতকে স্বীকার করত, কিন্তু হুকুমের ক্ষেত্রে কোনো তোয়াক্কাই করত না। আব্বাসিদের দ্বিতীয় যুগের এই প্রভাব প্রথম যুগের বিচার-ব্যবস্থার ওপরও পড়ে। প্রথম যুগে বিচার-ব্যবস্থা পুরো খিলাফত জুড়ে এক ছিল (সবকিছু ছিল খলিফার কর্তৃত্বে)। কিন্তু দ্বিতীয় যুগে যখন প্রশাসকরা স্বাধীন হয়ে যায়, তখন তারা নিজেরাই বিচার-ব্যবস্থা পরিচালনা করত। একসময় দেখা গেল অধিকাংশ এলাকাগুলোতেই প্রশাসকরা প্রধান বিচারপ্রতি হিসাবে থাকত। ১৯
রাজনৈতিক দিক থেকে আব্বাসি খিলাফত উমাইয়া খিলাফতের জন্য একটি ইনকিলাব বা বিদ্রোহের নামান্তর ছিল। তাই, আব্বাসি খলিফারা উমাইয়া খিলাফতের নিদর্শন, চিহ্ন পরিবর্তন করে ফেলে, তাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি মুছে ফেলে। খিলাফতের রাজধানী শাম, দামেশক থেকে ইরাক ও বাগদাদে রূপান্তরিত হয়। এজন্য রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আরবি ভাষার প্রাণ হারিয়ে যায়, প্রথমে ফারসি ভাষা পরবর্তী সময়ে তুর্কি ভাষার প্রকাশ ঘটে।
এটা ছিল রাজনৈতিক দিক থেকে। কিন্তু শিক্ষা, বিচার-ব্যবস্থার দিক থেকে এমনটি ছিল না বরং আগের মতোই ছিল, তবে কিছুটা উন্নত হয়েছিল। এই ইনকিলাবের কারণে এ দুটো বিষয়ে তেমন পার্থক্য সৃষ্টি হয় নি। বরং উমাইয়া খিলাফতের শিক্ষা ও বিচার-ব্যবস্থাকে আব্বাসি খলিফারা আরও উন্নত করেছে। খিলাফতে রাশিদায় বিচার-ব্যবস্থার যে সকল মূলনীতি ছিল, সেগুলোও আপন জায়গায় বহাল ছিল। এমনকি খিলাফতে উমাইয়ার বহু কাজি আব্বাসি খিলাফতের পরও নিজ নিজ পদে বহাল ছিলেন। বহু ইমাম উলামা ও ফুকাহায়ে কিরাম দুই খিলাফতের সময়ই ছিলেন। তারা দুই খিলাফতই প্রত্যক্ষ করেছেন। যেমন: ইমাম আবু হানিফা রহ., ইমাম আওযায়ি রহ., মদিনার কাজি ইয়াহইয়া ইবন সায়িদ আনসারি দুই খিলাফতেই কাজি হিসাবে ছিলেন—আবু জাফর মানসুরি তাকে ইরাকের হাশিমি এলাকার কাজি বানিয়েছেন। অধিকাংশ এলাকায় উমাইয়া খিলাফতের কাজি, আব্বাসি খিলাফতেরও কাজি ছিলেন। যেমন: মুহাম্মাদ ইবন ইমরান, উমাইয়া খিলাফতে মদিনার সর্বশেষ কাজি ছিলেন। খলিফা মানসুর এসে তাকে মদিনার কাজি হিসাবেই বহাল রাখেন।
রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিচার-ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আব্বাসি খলিফাগণ উমাইয়া খিলাফত থেকে বেশ ফায়দা গ্রহণ করেন। একই সাথে যুগোপযোগী বেশ কিছু নতুন বিষয়ও যুক্ত করেন। এভাবে বিচারালয় খুব বিস্তৃতি ও প্রশস্ততা লাভ করে। এর প্রমাণ হচ্ছে (ইমাম মালিকের বর্ণনায়) উমার ইবনু আবদিল আজিজ বলেন—
يحدث للناس من الأقضية بقدر ما يحدث لهم من الفجور
‘মানুষের মাঝে যে পরিমাণ পাপাচার ও অশ্লীলতা অনুপ্রবেশ করবে, সে পরিমাণ বিচার ফায়সালাও বৃদ্ধি পাবে।’
সুতরাং, যখন জীবনব্যবব্যবস্থা অগ্রগতি লাভ করল, জ্ঞান-বিজ্ঞান, বিশেষ করে ‘ফিকহ’ শাস্ত্র উন্নীত হলো, তখন বিচার-ব্যবস্থারও অগ্রগতি ঘটল। উমাইয়া খিলাফতের যে সকল দুর্বলতা ও ত্রুটি ছিল, আব্বাসি খলিফাগণ সেগুলো সংশোধন করেন। তারা শাসন-ব্যবস্থার পাশাপাশি বিচার-ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজান। বিচার- ব্যবস্থাকে আলাদা গুরুত্ব প্রদান করেন। আবু জাফর মানসুর এসে কাজিদের নিয়োগ করার অধিকার বাগদাদের খলিফার হাতে সোপর্দ করেন।
আব্বাসি খলিফারা লুণ্ঠিত সম্পদ বিচারের বিষয়ে খুব গুরুত্ব দেন। ‘হাসাবা’র জন্য তারা আলাদা বিচার-ব্যবস্থা খোলেন। আব্বাসি খিলাফতেই সর্বপ্রথম লুণ্ঠিত সম্পদ বিচারের জন্য আলাদা ঘর বানানো হয়। সেটাকে দারুল আদল (ইনসাফের ঘর) বলা হতো। প্রায় অধিকাংশ খলিফাগণই মাজালিমের বিচারের জন্য বসেন। অন্যান্য বিচার-ব্যবস্থা শাসক ও প্রশাসকদের দায়িত্বমুক্ত থাকত। তাদের দায়িত্ব ছিল শুধু কাজি নিয়োগ ও বরখাস্ত করা। বিচার কার্যে তাদের অনুপ্রবেশের অধিকার ছিল না। তবে কোনো কোনো খলিফা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে যাতে নিজেদের মত খাটানো যায়, কিন্তু তখন উলামায়ে কিরাম বিচার পদ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাতে শুরু করেন।৪০০
টিকাঃ
৩৯৭ তারিখুল কাজা ফিল ইসলাম
৩৯৮ তারিখুল কাজা ফিল ইসলাম
*১৯ তারিখুল কাজা ফিল ইসলাম
📄 উসমানি খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থা
উসমানি খিলাফত দু-ভাবে বিভক্ত-
প্রথম ভাগ : যখন থেকে দাওলাতে উসমানিয়ার সূচনা হয়, তখন থেকে খ্রিস্টীয় ১৯ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত। অর্থাৎ, সুলতান আব্দুল মাজিদের শাসনামল (১২৫৫ হিজরি বা ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত; মানে প্রায় সাড়ে তিন শতাব্দী। তখন আইন-কানুন ছিল পুরোপুরি ইসলামভিত্তিক, বিচার-ব্যবস্থা ছিল দ্বীন ও শরিয়তের আলোয় আলোকিত।
দ্বিতীয় ভাগ : ১৯ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি পর্যন্ত যুদ্ধের ফলস্বরূপ আরব দেশগুলো দাওলাতে উসমানিয়া থেকে পৃথক হয়ে যায়।
এই দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্রের আইন-কানুনের উৎস অনেকগুলো হয়ে যায়, বিচার-ব্যবস্থায় অনেক কিছু যুক্ত হয়, বৈদেশিক অনেক আইন-কানুন অনুপ্রবেশ করে, বিজাতিদের আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটা তখন শুরু হয়, যখন বিভিন্ন অধিকার, বিচার-ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো দেশের বাইরের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং দেশের ভেতরে থাকা বৈদেশিক নাগরিকদের দেওয়া হয়। প্রথমে এই স্বাতন্ত্র্যগুলো ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক স্বার্থের উদ্দেশ্যে কোনো কোনো সুলতান অন্যান্য দেশকে দেয়। যার ফল খুবই খারাপ হয়, যা খিলাফতের প্রতি শ্রদ্ধা ও গাম্ভীর্যও কমিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে নেতৃত্বাধীন ভূখণ্ডগুলো কমতে থাকে। বিজাতিরা শাসন কার্যে অনুপ্রবেশ করে এবং বিভিন্ন ভূখণ্ড থেকে সুবিধা ভোগ করতে থাকে।
এই সমস্যাগুলো আরও বড়ো আকার ধারণ করে, যখন ফ্রান্সের সাথে উসমানি খিলাফতের চুক্তি হয়, যা সুলতান সুলাইমান আল-কানুনির তত্ত্বাবধানে হয়েছিল। এটাই ছিল প্রথম চুক্তি, যার মাধ্যমে উসমানি খিলাফতের দুর্বলতা প্রকাশ পায়। অথচ এই দাওলাতে উসমানিয়া এক সময় কী শক্তি ও দাপটের সাথে ছিল! মূলত, এই চুক্তিটিই ফ্রান্সের সরকারের সামনে উসমানিদের দুর্বলতা, লাঞ্ছনা ও নত হওয়া প্রমাণ করে। এই চুক্তিতে উল্লেখ ছিল—
০১। ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত তার যে সকল দায়িত্ব আছে, অর্থাৎ ফ্রান্সের নাগরিকদের মামলা-মোকদ্দমা, অপরাধমূলক সমস্যা; সেগুলো তিনি শুনতে পারবেন, বিচার করতে পারবেন এবং ফায়সালা করতে পারবেন। এক্ষেত্রে কোনো প্রশাসক বা শরয়ি কাজি কিংবা অন্য কোনো পদের কেউ তাকে বাধা দিতে পারবে না।
০২। ফ্রান্সের ব্যবসায়ী বা অন্যান্য নাগরিকদের মামলা-মোকদ্দমার ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই শরয়ি কাজির হস্তক্ষেপ চলবে না। এমনকি যদি তারা নিজেরাও এসে বিচার করার আবদার করে, তবুও না। এ অবস্থায় তিনি যদি কোনো ফায়সালা করেনও, তাহলেও সেটা অকার্যকর হবে, সেটা কোনোভাবেই আমলে নেওয়া হবে না। সেটা কার্যকরও হবে না, যদি না ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সম্মতি জানায়।
০৩। কোনো তুর্কি বা খারাজ উশুলকারী, অথবা অন্য কোনো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো শরয়ি কাজির এই অধিকার নেই যে, তিনি ফ্রান্সের ব্যবসায়ী বা সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা-মোকদ্দমা শুনবেন বা ফায়সালা করবেন। বরং কাজির কর্তব্য হলো, অপরাধীদেরকে সদরে আজমের বাসভবনের প্রদান ফটকে উপস্থিত করা।
০৪। কোনো বিদেশি নাগরিককে আটক করা যাবে না। তার ঘরে প্রবেশ করা যাবে না, তার কাছে বিচারের কোনো চিরকুট পাঠানো যাবে না। তাকে আদালতে উপস্থিত করা যাবে না। মোটকথা, তার বিরুদ্ধে কোনো হুকুমই আরোপ করা যাবে না। হ্যাঁ, প্রয়োজন হলে তার রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে এসব বিষয়ের সমাধান করতে পারবে।
এ সকল লাঞ্ছনাকর চুক্তির মূল কারণ ছিল একটাই। সেটা হলো, দাওলাতে উসমানিয়ার দুর্বলতা ১০১
টিকাঃ
* তারিখুল কাজা ফিল ইসলাম
📄 দাওলাতে উসমানিয়ার বিচার-ব্যবস্থা
কাজি নিযুক্তকরণের দায়িত্ব : উসমানি সালতানাতের সূচনাতে সুলতান নিজেই কাজিদের নিয়োগ দিতেন। পরবর্তী সময়ে কাজি নিযুক্ত করাটা শাইখুল ইসলামের ১০২ সাথে খাস হয়ে যায়। তবে নিযুক্তকরণ তখনই চূড়ান্ত হতো, যখন সুলতানের ইচ্ছা মোতাবেক হতো।
৯৫১ হিজরি সনে যখন আবু সায়িদ মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ মুস্তফা ফতোয়া দেওয়ার মর্যাদা লাভ করেন, তখন তিনি সুলতানের সামনে কাজিদের নিযুক্তকরণের নিজের চিন্তা পেশ করেন। তিনি বলেন— 'যেহেতু আমাদের যুগে কাজিদের সবার সমান মর্যাদা হয়ে গেছে, ধার্মিকতাও প্রায় সবার সমান; তাই ইলম, ধার্মিকতা ও আদালতের ক্ষেত্রে যে শ্রেষ্ঠ ও যোগ্যতর তাকে অগ্রগামী করা উচিত।' তার এ কথা থেকে বোঝা যায়— তিনি কাজিদের নির্বাচনের জন্য আলাদা একটি পর্ষদ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছিলেন ১০৩
পরবর্তী সময়ে কাজি নিযুক্তকরণ কয়েকটি ধাপে কার্যকর হতো। প্রথমত, অন্যান্য কাজিদের আবেদনের মাধ্যমে আরমানিয়া কিংবা আনাতুলে একজন কাজির পদে দাঁড়াত। পরে তার বিষয়টি শাইখুল ইসলামের সামনে পেশ করা হতো। শাইখুল ইসলাম রাজি হলে সুলতানের সামনে পেশ করা হতো। এরপর তার মাধ্যমেই কাজি নিযুক্তকরণ পূর্ণতা লাভ করত। আর কাজির নায়েব নিযুক্ত করার দায়িত্ব ছিল স্বয়ং কাজিরই।
প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যের কাজিদের নির্ধারণ করা হতো ইস্তাম্বলের বাবে আলি থেকে। পরে যখন আরও উন্নতি হলো, তখন অন্যান্য কাজিদের নির্ধারণের মাধ্যমেই প্রদেশের শাসকরা নির্ধারিত হতো। যেমন: ১২৩২ হিজরিতে সায়িদ পাশা মিসরের শাসক নিযুক্ত হন মিসরের প্রদেশসমূহের কাজিদের নিযুক্তকরণের মাধ্যমে। যদিওবা ইস্তাম্বুলের হুকুমাতের আদেশ ছিল। (কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না। বরং অন্যান্য কাজিদের সমর্থন প্রয়োজন হয়েছিল।)
আবার, মিসরের প্রধান কাজি নিযুক্ত হতো সরাসরি ইস্তাম্বুল থেকে। সেজন্য তুর্কি হওয়া শর্ত ছিল। প্রধান কাজি আবার মিসরের বিভিন্ন অঞ্চলের কাজিদের নিযুক্ত করতেন। পরবর্তী সময়ে কাজিদের নির্বাচনের জন্য মিসরে একটি পর্ষদ গঠন করা হয়। যারা কাজিদের নিযুক্ত করত, তাদের আদালতের কার্যবিবরণীতে উল্লিখিত শর্তাবলি রক্ষ করতে হতো। যেমন: ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে আদালতের কার্যবিবরণীতে উল্লিখিত ছিল—শরয়ি কাজিদের নির্ধারণ পরিপূর্ণ হবে ‘খাদইউই’ (মিসরের শাসক) এর আদেশের মাধ্যমে। তবে এর আগে বিচারমন্ত্রী বা তার নায়েবের উপস্থিতিতে, মিসরের প্রধান আদালতের কাজি, জামিয়া আজহারের শাইখ, হানাফি মাজহাবের বিজ্ঞ উলামায়ে কিরামের (সাথে অন্যান্য উলামায়ে কিরামও থাকতে পারেন) নির্বাচন প্রয়োজন ছিল।
১৮৯৭ সালে হাক্কানিয়া (বিচার মন্ত্রণালয়) সংগঠনের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ ছিল, কাজির নির্বাচন হবে বিচারমন্ত্রী বা তার নায়েবের উপস্থিতিতে, জামিয়া আযহারের শাইখ, মিসরের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কিরাম, হাক্কানিয়া সংগঠনের উলামায়ে কিরাম, শরয়ি আদালতগুলোর বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে দুইজন—এদের সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।
১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাজধানী ইস্তাম্বুলে একটি প্রতিষ্ঠান খোলা হয় কাজিদের নির্বাচনের জন্য। তখন থেকে কাজিদের নির্ধারণ করা হয় ওই প্রতিষ্ঠানের সনদপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের থেকে। তারপর ১৯০৯ সালে মিসরে ২৫ ধারায় একটি আইন জারি করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, কীভাবে কাজি, আদালতের কর্মী-সদস্য ও মুফতিদের নির্বাচন করা হবে। (..ধারাবাহিক সংখ্যা নাম্বার ছিল ১০-১৪ পর্যন্ত..) তারপর সে অনুযায়ী কীভাবে কাজ করা হবে।
১৯১৪ সালে যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, তখন মিসর তুরস্কের শাসন-ব্যবস্থা থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ফলে সাংবিধানিকভাবে সমস্ত কাজি নিযুক্ত করার দায়িত্ব অর্পিত হয় মিসরের শাসকের হাতে। ১৪১২
উসমানি যুগে কাজির শর্তাবলি: উসমানি খিলাফতকালে কাজি নির্বাচনের জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত জারি করা হয়—
০১। কাজির বয়স (অন্তত) ২৫ বছর হতে হবে।
০২। আইনে সাব্যস্ত করা ওজর থেকে মুক্ত থাকতে হবে। অর্থাৎ, বিচারের দায়িত্ব গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোনো আইন যেন বাধার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।
০৩। এমন ব্যক্তি হতে হবে, যাকে অপরাধের কারণে এক সপ্তাহের বেশি কারাদণ্ড গ্রহণ করতে হয় নি।
০৪। বোধশক্তিসম্পন্ন, সরল, বিশ্বস্ত, মর্যাদাবান, ইলম ও আমলে মজবুত হতে হবে।
০৫। 'কাজিয়্যা', 'মুদাল' ও 'মুশকাল'-এগুলোর প্রত্যেকটির মাঝে পুরোপুরি পার্থক্য করার যোগ্যতা থাকতে হবে।
০৬। 'বিচার-ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠান' থেকে সনদপ্রাপ্ত হতে হবে, কিংবা ইন্টারভিউ দিতে হবে এবং বিচার-ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানে যে দারসগুলো দেওয়া হয়, সেগুলোতে পুরোপুরি সফল হতে হবে।
০৭। কাজিকে হানাফি মাজহাবের অনুসারী হতে হবে। তবে নায়েবের ক্ষেত্রে এটা শর্ত নয়। অর্থাৎ, কাজিকে হানাফি মাজহাবের হতে হবে। আর এই কাজি চার মাজহাবের চারজনকে নায়েব বানাবেন।
০৮। যেকোনো প্রদেশের প্রধান কাজিকে তুর্কি বংশোদ্ভূত হতে হবে। আর অন্যান্য কাজি বা তাদের নায়েবগণের ক্ষেত্রে এটা শর্ত নয়। তারা মিসরীয় হতে পারেন, আবার অন্যান্য দেশেরও হতে পারেন।১০
টিকাঃ
** শাইখুল ইসলাম তাকে বলা হতো, যিনি দাওলাতে উসমানিয়ার প্রধান মুফতি হতেন। এই পদের সূচনা হয় সুলতান সুলাইমান আল-কানুনির যুগ থেকে-লেখক。
*১ তারিখুল কাজা, ২১২
*১২ তারিখুল কাজা ফিল ইসলাম
* তারিখুল কুজাত, ২১২