📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 মুআজ রা.-এর হাদিস

📄 মুআজ রা.-এর হাদিস


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মুআয রা.-কে ইয়ামানে পাঠাবেন, তখন তাকে বললেন-
كيف تقضي إذا عرض لك قضاء 'তোমার সামনে যদি কোনো বিচার পেশ করা হয়, তাহলে কীভাবে ফায়সালা করবে?'
মুআজ রা. বললেন- 'আল্লাহ তাআলার কিতাবের মাধ্যমে।'
নবীজি বললেন-
فإن لم تجد في كتاب الله 'যদি আল্লাহ তাআলার কিতাবে না পাও, তাহলে?'
মুআজ রা. বললেন-'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের মাধ্যমে।'
নবীজি বললেন-
فإن لم تجد في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا في كتاب الله 'যদি আল্লাহর কিতাবেও না পাও, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতেও না পাও, তাহলে?'
মুআজ রা. বললেন, 'আমি নিজে ইজতিহাদ (গবেষণা) করব। এক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করব না।'
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয রা.-এর বুকে হাত দিয়ে বললেন-
الحمد لله الذي وفق رسول رسول الله لما يرضى رسول الله ( رواه أبو داود وغيره) 'সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আল্লাহর রাসুলের রাসুলকে (প্রতিনিধি) তাউফিক দিয়েছেন এমন চিন্তার, যা রাসুলুল্লাহ পছন্দ করেন।' ৩৮২

টিকাঃ
সুনানু আবি দাউদ, ৩৫৯২

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 উম্মু সালামা রা.-এর বর্ণনা

📄 উম্মু সালামা রা.-এর বর্ণনা


নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন দুই ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেন, যারা মিরাস ও পুরোনো আসবাব নিয়ে ঝগড়া করছিল। তখন তিনি বলেন-
إني إنما أقضي بينكم برأيي فيما لم ينزل علي فيه (رواه أبو داود)
'আমি কেবল ওই বিষয়ে তোমাদের মাঝে নিজের চিন্তা অনুযায়ী ফায়সালা করি, যে বিষয়ে আমার ওপর নাজিল হয় নি।'৩৮৬

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা.-এর হাদিস

📄 আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা.-এর হাদিস


তিনি বলেন-
من عرض له قضاء فليقض بما في كتاب الله فإن جاءه أمر ليس في كتاب الله عز وجل فليقض بما قضى به النبي صلى الله عليه وسلم فإن جاءه أمر ليس في كتاب الله عز وجل ولم يقض به نبيه صلى الله عليه وسلم فليقض بما قاله صالحون فإن جاءه أمر ليس في كتاب الله ولم يخط به نبيه صلى الله عليه وسلم ولم يقض به الصالحون فليجتهد رأيه فإن لم يحسن فليقر ولا يستحي
'কারও সামনে কোনো বিচার পেশ করা হলে সে যেন আল্লাহ তাআলার কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করে। কিন্তু যদি তার কাছে এমন বিষয়ে বিচার নিয়ে আসা হয়, যা আল্লাহ তাআলার কিতাবে নেই, তাহলে সে যেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পন্থায় ফায়সালা করে। কিন্তু যদি বিষয়টি এমনই হয় যে-সেটা কিতাবুল্লাহতেও নেই, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ফায়সালা করেন নি, একইভাবে ভালো কোনো আলিমও ফায়সালা করেন নি, তাহলে সে যেন নিজের চিন্তা অনুযায়ী ইজতিহাদ করে। কিন্তু তার ইজতিহাদ যদি তার কাছে উপযুক্ত মনে না হয়, তাহলে সে যেন মুখে স্বীকার করে নেয়, লজ্জা না পায়।'৩৮৭
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইজতিহাদ এবং সাহাবায়ে কিরামকে ইজতিহাদ করার অনুমতি দেওয়ার হিকমত হলো, এই দ্বীন ও শরিয়ত সর্বশেষ শরিয়ত তথা মানুষের দ্বীন হিসাবে কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। তাই, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মাহকে ইসতিনবাত তথা হুকুম-আহকাম উদঘাটনের পদ্ধতি শেখাতে চেয়েছেন। এর মাধ্যমে যেন তাদের অনুশীলন হয়ে যায়, কীভাবে দলিল-প্রমাণ থেকে হুকুম-আহকাম উদঘাটন করতে হবে। কারণ, ইসলামের মূলনীতি ও নীতিমালা একেবারে সবকিছু-ছোটো থেকে ছোটো, ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে নি। কেননা, জীবন-জগতের ঘটনাপ্রবাহ সদা চলমান। এটা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে থেমে থাকে না। তাই দেখা যায়, প্রত্যেক যুগেই এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা পূর্ববর্তী যুগের মানুষ কল্পনাও করতে পারত না।

টিকাঃ
৩৮৬ সুনানু আবি দাউদ, ৩৭৮
৩৮৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00