📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 কাজা কী?

📄 কাজা কী?


‘কাজা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ—মানুষের মাঝে ফায়সালা করা। আর কাজি অর্থ হাকিম, বিচারক। আর এর শরয়ি অর্থ হলো—মামলা-মোকদ্দমা বিশ্লেষণ করা, ঝগড়া-বিবাদ নিরসন করা। আর এটাই ইসলামে উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুলকে সম্বোধন করে বলেছেন—
وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ
‘আর আপনি তাদের মাঝে ওই বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করেন, যা আল্লাহ নাজিল করেছেন।’ ৩৬৮
তিনি আরও বলেন—
فَاحْكُم بَيْنَهُم بِالْقِسْطِ
‘আর আপনি তাদের মাঝে ইনসাফের সাথে ফায়সালা করেন।’ ৩৬৯
তিনি আরও বলেন—
إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ
‘নিঃসন্দেহে আমি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি সত্য সহকারে, যাতে আপনি মানুষের মাঝে ওই জ্ঞান অনুযায়ী ফায়সালা করেন, যা আল্লাহ আপনাকে প্রদর্শন করেছেন।’ ৩৭০

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 কাজার শরয়ি দৃষ্টিকোণ

📄 কাজার শরয়ি দৃষ্টিকোণ


সকল মাজহাবেই কাজা ফরজে কিফায়া। সুতরাং, একজন কাজি নির্ধারণ করা খলিফার ওপর কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ 'হে ঈমানদারগণ, তোমরা ইনসাফ কায়েমকারী হয়ে যাও।'৩৭১
কোনো কোনো উলামায়ে কিরাম বলেন—কাজা দ্বীনেরই একটি অংশ, যা মানুষের অনেকগুলো কল্যাণের উৎসের একটি। সুতরাং, এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া ওয়াজিব। কারণ এটা মানুষের খুব বেশি প্রয়োজন। এই কাজা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের অন্যতম উপায়। এজন্যই আম্বিয়ায়ে কিরাম এ দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। ইবনু মাসউদ রা. বলেন—
لأن أجلس قاضيا بين اثنين أحب إلي من عبادة سبعين سنة 'সত্তর বছর ইবাদাত করার চাইতে আমার কাছে দুজনের মাঝে বিচার করাটা অধিক প্রিয়।'
অর্থাৎ, তিনি যদি একদিন ইনসাফের সাথে ফায়সালা করতে পারেন, তাহলে সেটা সত্তর বছর ইবাদাত করার চাইতেও শ্রেষ্ঠ হবে। একইভাবে ইনসাফ করা বড়ো বড়ো নেক আমল ও শ্রেষ্ঠতম আমলসমূহের অন্যতম। আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِالْقِسْطِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ (٤٢) 'আর যদি আপনি ফায়সালা করেন, তাহলে তাদের মাঝে ইনসাফের সাথে ফায়সালা করবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।'৩৭২
তাহলে কোন জিনিস এমন আছে, যা আল্লাহ তাআলার ভালোবাসার চাইতে শ্রেষ্ঠ? ৩৭৩

টিকাঃ
৩৭১ সূরা নিসা, আয়াত: ১৩৫
৩৭২ সূরা মায়িদা, আয়াত: ৪২
৩৭৩ মুয়িনুল হুককাম।

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 নবীযুগে আদালত-ব্যবস্থা

📄 নবীযুগে আদালত-ব্যবস্থা


যখন ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আদেশ করেন, যাতে তিনি মানুষের মাঝে ফায়সালা করেন ওই বিধান অনুযায়ী, যা আল্লাহ তাআলা নাজিল করেছেন, দ্বীনি হোক বা দুনিয়াবি। এক্ষেত্রে বহু আয়াতে কারিমা এসেছে। যেমন মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
وَأَنِ احْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ 'আর আপনি তাদের মাঝে ফায়সালা করেন ওই বিধান অনুযায়ী, যা আল্লাহ নাজিল করেছেন।'৩৭৪
মহান আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন-
إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ
'নিঃসন্দেহে আমি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি সত্য সহকারে, যাতে আপনি মানুষের মাঝে ওই জ্ঞান অনুযায়ী ফায়সালা করেন, যা আল্লাহ আপনাকে প্রদর্শন করেছেন।'৩৭৫
এই আয়াতগুলো থেকেই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিচার-ব্যবস্থা উদঘাটন করেন। আর এভাবে ধীরে ধীরে ইসলামি রাষ্ট্রগুলোতে কাজা বা বিচার-ব্যবস্থা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থার রূপ ধারণ করে।
প্রথমে মুসলিমদের মাঝে কোনো নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, অথবা পরস্পরের মাঝে কোনো বিরোধিতা দেখা দিলে সে বিষয়ে ইসলামি বিধান জানার জন্য সাহাবায়ে কিরাম নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরণাপন্ন হতেন। তখন তিনি সে বিষয়ে কথা বলতেন। মূলত নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন একজন শারে' (শরিয়ত পরিবর্তনকারী) কাজি, এবং মুনাফিফজ (বাস্তবায়নকারী)।
এর মাধ্যমে তিনি মূলত ইসলামি শাসন-ব্যবস্থার তিনটি ভিত্তি তথা, আইন ব্যবস্থা, বাস্তবায়ন ব্যবস্থা এবং বিচার-ব্যবস্থার মাঝে সমন্বয় সাধন করেছেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিচার-ব্যবস্থার মূলনীতি ও নীতিমালা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলে দিয়েছেন যে-কাজি যখন মামলা-মোকাদ্দমা শুনবে, তখন তার কথাবার্তা ও বেশভূষা কেমন হবে। আবু দাউদ রাহিমাহুল্লাহ সুনানু আবি দাউদে আবদুল্লাহ ইবনু জুবাইর রা. থেকে বর্ণনা করেন-
قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن الخصمين يقعدان بين يدي الحاكم ...
'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ করেছেন-বাদী-বিবাদী দুজনই কাজির সামনে বসবে।'৩৭৬
সুতরাং, বসার ক্ষেত্রে উভয়কে সমান জায়গায় বসাতে হবে। তাদের কেউ যেন অপরের চেয়ে কাজির বেশি কাছাকাছি বসতে না পারে। তদ্রুপ উঁচু স্থানেও বসতে পারবে না। বরং বসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে, উভয়ে কাজির সামনাসামনি বসা, যেমনটি হাদিসে বলা হয়েছে। তাছাড়া এর মাধ্যমে যেমন শরিয়তের হুকুমের সামনে পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও বিনয় প্রকাশ পায়, তেমনি নিজেদের মাঝে সমান অধিকারও সাব্যস্ত করা যায়। তদ্রুপ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাদী-বিবাদীর মাঝে ভাষা-ভঙ্গি ও ইঙ্গিতেও ইনসাফ করার তাগিদ দিয়েছেন। যেমন: উম্মে সালামা রা. বর্ণনা করেন—
من ابتلى بالقضاء بين المسلمين فليعدل فى لحظه ولفظه وإشارته ومقعده وفي رواية من ابتلى بالقضاء بين المسلمين فليعدل بينهم في المجلس والإشارة والنظر
'যে মুসলিমদের মাঝে বিচার করার পরীক্ষায় আপতিত হবে, সে যেন তার ভঙ্গি, উচ্চারণ, ইঙ্গিত ও বসার ক্ষেত্রে ইনসাফ করে। যে মুসলিমদের মাঝে বিচার করার পরীক্ষায় আপতিত হবে, সে যেন তাদের মাঝে বসা, ইঙ্গিত ও দৃষ্টিদানের ক্ষেত্রে ইনসাফ করে।' ৩৭৭
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাজিকে নিষেধ করেছেন, যাতে তিনি একজনের পরিবর্তে অন্যের ক্ষেত্রে আওয়াজ উঁচু না করেন। যেমন: ইমাম দারাকুতনি রাহিমাহুল্লাহর বর্ণনায় রয়েছে—
من ابتلي بالقضاء بين الناس فلا يرفعن صوته على أحد ما لا يرفع على الآخر 'কেউ যদি মানুষের মাঝে বিচার করার পরীক্ষায় আপতিত হয়, তাহলে সে যেন কারও ক্ষেত্রে আওয়াজ উঁচু না করে, যতক্ষণ না সে অপরের ক্ষেত্রে আওয়াজ উঁচু করে।' ৩৭৮
এই হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, বাদী-বিবাদীর মাঝে যতটুকু সম্ভব সমতা বিধান করা ওয়াজিব। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাদীকে বলতেন—সে যেন নিজের হকের চেয়ে বেশি কিছু না নেয়। যেমন: আবু সায়িদ খুদরি রা.-এর হাদিসে আছে। তিনি বলেন—
أصيب رجل في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم في ثمار ابتاعها فكثر دينه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم تصدقوا عليه فتصدق الناس عليه فلم يبلغ ذلك وفاء دينه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لغرمائه خذوا ما وجدتم وليس لكم إلا ذلك رواه مسلم ؛ باب استحباب الوضع من الدين)
'একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে এক লোক ফল ব্যবসায় খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তার ঋণ অনেক হয়ে ওঠে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা এ লোককে সাদাকা দাও। কিন্তু সবাই সাদাকা দেওয়ার পরও তার ঋণের পরিমাণ সম্পদ হলো না। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ঋণদাতাকে বললেন, তোমরা যতটুকু পাচ্ছ ততটুকুই নাও। (যেহেতু সে দেউলিয়া হয়ে গেছে, তার কাছে আর কিছু নেই, তাই) এছাড়া তোমাদের কিছুই নেওয়ার অধিকার নেই।'৩৭৯
এখানে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঋণদাতাদের তাদের হকের চেয়ে বেশি কিছু নিতে নিষেধ করেছেন। তাদের হক ছিল, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে যা পাবে, তা নেওয়া। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়—গরিব-নিঃস্ব ব্যক্তিকে ঋণের কারণে আটকে রাখা হবে না। বরং তালবাহানাকারী ধনী ব্যক্তিকে আটক করা হবে। যেমন: নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— مطل الغني ظلم 'ধনী ব্যক্তির তালবাহানা করা অন্যায়, জুলুম।'৩৮০
মদিনাতে তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া আর কোনো কাজি ছিল না। তিনি নিজেই কাজির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তবে কখনো কখনো নিজের উপস্থিতিতে কোনো কোনো সাহাবিকে বিচারের দায়িত্ব দিয়েছেন, যাতে তাঁর অনুপস্থিতিতে বা তাঁর মৃত্যুর পর তারা এ মহান দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে পারেন। আবার, তাদেরকে অন্যান্য শহরে কাজি হিসাবে পাঠানোর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তিনি এমনটি করতেন।
ইমাম হাকিম রাহিমাহুল্লাহ তার মুসতাদরাকে উল্লেখ করেন—
একবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দুই বিবাদী এলে নবীজি আমর রা.-কে বলেন—'তুমি তাদের দুজনের মাঝে ফায়সালা করো।' তখন আমর রা. বলেন— 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার উপস্থিতিতে আমি তাদের মাঝে ফায়সালা করব?' নবীজি বললেন—'হ্যাঁ! এ কথা স্মরণ করে ফায়সালা করো যে, যদি সঠিক ফায়সালা করো, তাহলে তোমার দশটি সাওয়াব হবে। আর যদি ইজতিহাদে ভুল করো, তাহলে তোমার একটি সাওয়াব।' হাকিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন—হাদিসটির সনদ সহিহ। কিন্তু শাইখাইন তা উল্লেখ করেননি।৩৮১
ইমাম দারাকুতনি রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন— একবার একদল লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বাঁশের তৈরি ঘরের বিষয়ে বিচার নিয়ে আসে, যা তাদের মাঝে শরিকানা ছিল। নবীজি তাদেরকে হুজাইফা রা.-এর কাছে পাঠান। তিনি ওই ঘরটা তাদের পক্ষে ফায়সালা করেন, যাদের নিয়ন্ত্রণে বাঁশ বাঁধার রশি ছিল। পরে তিনি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গিয়ে খবর দেন। নবীজি তাকে বলেন— তুমি সঠিক ফায়সালা করেছ বা উত্তম ফায়সালা করেছ। ৩৮২
যাইহোক, সময় গড়াতে গড়াতে একসময় ইসলামি রাষ্ট্রের পরিধি যখন আরও বৃদ্ধি পেল, প্রশাসকদের রাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর প্রয়োজন দেখা দিল, তখন বিচার-ব্যবস্থাও প্রশাসকদের এলাকা পরিচালনা করার দায়িতের একটি অংশ ছিল। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলি রা.-কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বললেন—
علمهم الشرائع واقض بينهم
'তাদের শরিয়তের বিধিবিধান শেখাও এবং তাদের মাঝে ফায়সালা করো।'
আলি রা. বললেন— 'আমার তো কাজার বিষয়ে কোনো জ্ঞানই নেই।' তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলি রা.-এর বুকে মৃদু আঘাত করে বললেন—
اللهم اهده للقضاء 'আল্লাহ আপনি তাকে কাজার জন্য পথ দেখিয়ে দেন।' ৩৮৩
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলি রা.-কে বিচার-ব্যবস্থাও শিখিয়ে দিয়েছিলেন। আলি রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন—
بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى اليمن قاضيا فقلت يا رسول الله ترسلني وأنا حديث السن ولا علم لي بالقضاء فقال إن الله سيهدي قلبك ويثبت لسانك فإذا جلس بين يديك الخصمان فلا تقضين حتى تسمع من كما سمعت من الاول فانه أحرى أن يتبين لك القضاء قال فما زلت قاضيا أو ما سكت في
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ইয়ামানে কাজি হিসাবে পাঠানোর কথা বললে আমি বললাম— 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমাকে আপনি (কাজার জন্য) পাঠাচ্ছেন, অথচ আমি এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক? তাছাড়া আমার তো কাজার বিষয়ে জ্ঞানও নেই।'
তখন নবীজি বললেন— 'নিঃসন্দেহে, আল্লাহ তোমার অন্তরকে (কাজার) পথ দেখিয়ে দেবেন। তোমার মুখকে জোরালো করে দেবেন। শোনো, যখন তোমার সামনে বাদী-বিবাদী বসবে, তখন একজনের কথা শুনে অপরজনের কথা শোনার আগেই ফায়সালা করো না। কারণ, বিচারের ধরনটা কেমন হবে সেটাও তোমার সামনে স্পষ্ট হওয়া খুবই প্রয়োজন।'
আলি রা. বলেন-'এরপর থেকে আমি আজীবন কাজির কাজ করেছি কিংবা (বলেছেন) এরপর আমি আর কখনো কোনো বিচারে সন্দেহগ্রস্ত হই নি।'৩৮৪
ইবনু ইসহাক রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেন-
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রা.-কে নাজরানে কাজি হিসাবে পাঠান। ঘটনা হচ্ছে-নাজরানের প্রতিনিধিদল একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে আবদার করল, তিনি যেন তাঁর পছন্দমতো এক সাহাবিকে তাদের সাথে পাঠান, যে তাদের মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ে ফায়সালা করে দেবে। তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু উবাইদা রা.-কে ডেকে বললেন-
اخرج معهم فاقض بينهم بالحق فيما اختلفوا فيه
'তুমি তাদের সাথে বের হয়ে পড়ো। তাদের মাঝে কোনো মতবিরোধ দেখা দিলে ইনসাফের সাথে তাদের মাঝে ফায়সালা করো।'
তদ্রুপ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনু উসাইদ রা.-কেও মক্কা বিজয়ের পর মক্কার প্রশাসক ও কাজি নিযুক্ত করেন।

টিকাঃ
৩৭৪ সূরা মায়িদা, আয়াত: ৪৯
৩৭৫ সূরা নিসা, আয়াত: ১০৫
৩৭৬ সুনানু আবি দাউদ, ৩৫৮৮
৩৭৭ সুনানে দারাকুতনি, ৪৪৬
৩৭৮ সুনানু দারাকুতনি, ৪৪৭
৩৭৯ সহিহ মুসলিম, ১৫৫৬
(رواه البخاري عن أبي هريرة رضي الله عنه باب مطل الغني ظلم) 2800
*** ০৮১ মুসতাদরাকে হাকিম, ৭০০
৩৮২ সুনানে দারাকুতনি, ৪৫৪৫
৩৮৩ মুসতাদরাকে হাকিম, ৭০০০
*** সুনানু আবি দাউদ, ৩৫৮৩

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 উমাইয়া খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থা

📄 উমাইয়া খিলাফতকালে বিচার-ব্যবস্থা


উমাইয়া খিলাফতের সূচনা হয় আবু সুফইয়ান রা.-এর খিলাফত থেকে, যখন ৪০ হিজরিতে শামে মানুষরা তার হাতে বাইআত গ্রহণ করে। অর্থাৎ, চতুর্থ খলিফা আলি রা.-এর শাহাদাতের পর। যখন হাসান ইবনু আলি রা. মুআবিয়া রা.-এর জন্য খিলাফত ছেড়ে দেন, তখন সবাই ৪১ হিজরিতে মুআবিয়া রা.-এর হাতে বাইআত গ্রহণ করে, মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ হয়। তাই এ বছরকে আমুল জামাআত বলা হয়। আমুল জামাআত অর্থ একত্র বা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বছর। বনু আব্বাস আসার আগ পর্যন্ত উমাইয়া খিলাফত অব্যাহত থাকে। যখন উমাইয়াদের সর্বশেষ খলিফা মারওয়ান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মারওয়ান ইবনু হাকামকে ১৩২ হিজরিতে হত্যা করা হয়। ৩৯৬

টিকাঃ
২০* আত তুরুকুল হিকমিয়্যা, ৪৭
৩* জাহিলি, তারিখুল কুজাত ফিল

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00