📄 ফায়দা—ইসলামের দৃষ্টিতে অর্থনীতি
০১। অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইসলাম সর্বপ্রথম বলে, যাবতীয় সম্পদ তথা আসমান ও জমিনে যা আছে, সবকিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। এক্ষেত্রে কারও কোনো অংশীদারত্ব নেই। কুরআনে কারিমে এ সম্পর্কে বহু আয়াত এসেছে। যেমন—
:: আল্লাহ তাআলা বলেন— له ملك السماوات والأرض 'তাঁরই জন্য আসমান-জমিনের রাজত্ব।'
:: আল্লাহ তাআলা বলেন— الله ما في السماوات والأرض 'আসমান-জমিনে যা আছে, সবই আল্লাহ তাআলার।'
:: আল্লাহ তাআলা বলেন— وما بكم من نعمة فمن الله 'তোমাদের মাঝে যে নিয়ামতই আছে, তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে।'
০২। পৃথিবীতে মানুষ হলো আল্লাহ তাআলার সৃষ্ট জীবের সেরা জীব। আল্লাহ্ তাআলা বলেন—
ولقد كرمنا بني آدم ‘আর অবশ্যই আমি আদম-সন্তানদেরকে সম্মানিত করেছি।’
তাই, পৃথিবীর সবকিছুকে আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য অনুগত এবং নিয়োজিত করে দিয়েছেন। তাদের উপকারগ্রহণের ক্ষেত্রে সমান বানিয়েছেন。
:: আল্লাহ তাআলা বলেন—
و سخر لكم الفلك ‘আর তিনি তোমাদের জন্য নৌযানকে অনুগত করে দিয়েছেন।’
:: আল্লাহ তাআলা বলেন—
وسخر لكم الأنهار ‘আর তিনি তোমাদের জন্য দিবসকে নিয়োজিত করে রেখেছেন।’
:: আল্লাহ তাআলা বলেন—
وسخر لكم الليل والنهار ‘আর তিনি তোমাদের জন্য দিন ও রাতকে নিয়োজিত করে রেখেছেন।’
:: আল্লাহ তাআলা বলেন—
سخر لكم ما في الارض ‘তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যা আছে অনুগত করে দিয়েছেন।’
:: আল্লাহ তাআলা বলেন—
ض وسخر لكم ما في السماوات وما في الارض جميعا منه ‘আর তিনি তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন, যা কিছু আছে আসমানসমূহে এবং যা আছে জমিনে তার সবকিছুকে।’ ৩২৪
:: আল্লাহ তাআলা বলেন—
هو الذي خلق لكم ما في الارض جميعا ‘তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি তোমাদের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন, যা কিছু আছে জমিনে।’
০৩। সম্পদ একটি উসিলা বা মাধ্যম। সম্পদ কোনো মৌলিক জিনিস নয়, পৃথিবীর ভালো ও কল্যাণকর জিনিস অর্জনের উপায় ও মাধ্যম। সুতরাং, সম্পদ তখনই কল্যাণকর হবে, যদি তা কল্যাণকর ও ভালো ক্ষেত্রে ব্যয় করা হয়। অন্যথায়, সম্পদ কল্যাণকর হওয়ার পরিবর্তে অকল্যাণকর হয়ে উঠবে, যা শুধু মানুষের ক্ষতিই ডেকে আনবে।
সুতরাং, শাসক-শাসিত সবার কর্তব্য হলো শরয়ি পদ্ধতিতে তথা বৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জন করা, যাতে এর মাধ্যমে দুনিয়ায় উপকার লাভ করা যায় এবং আখিরাতেও কল্যাণ হাসিল করা যায়।
মোটকথা, মানুষ চেষ্টা-উপার্জন করে যে সম্পদ লাভ করে, সেটা তার কাছে আমানত; প্রকৃত মালিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তিনি এ সম্পদ মানুষকে দান করেছেন, যাতে সে নিজের ও পরিবারের জন্য, গরিব ও দুর্বলদের জন্য, মাজলুম ও মাহবুসের (কারাবন্দী) জন্য, সবার জন্য খরচ করতে পারে। তাই খলিফার জন্য বৈধ যে, তিনি শরিয়ত নির্দেশিত পন্থায় ধনীদের থেকে সম্পদ নিতে পারবেন। যেমন: সেনাবাহিনী প্রস্তুত করার জন্য, দ্বীন ও শরিয়ত রক্ষা করার জন্য, মাজলুমদের উদ্ধার করার জন্য। তবে এটা তখন, যখন বাইতুল মালে যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ থাকবে না। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আগ্রহীদের জন্য ফিকহের কিতাব দ্রষ্টব্য।
টিকাঃ
৩২৪ সূরা জাসিয়া, আয়াত: