📄 তৃতীয় কর্তব্য: ইনসাফ প্রতিষ্ঠা
কৃষকদের থেকে যে খাজনা নেওয়া হয়, সেটা যেন শরিয়ত মোতাবেক ইনসাফের সাথে হয়; যাতে তাদের ওপর জুলুম না হয়, খাজনা দিতে কষ্ট না হয়ে যায়। কারণ, তারা তখনই ন্যায্য শাসন পাবে, যখন শাসক তাদের সাথে ইনসাফের আচরণ করবেন। শাসকরা যেন স্বেচ্ছায় নিজ আগ্রহে কৃষকদের দায়িত্ব আদায় করে, সেই সাথে যাতে তাদের কষ্টও লাঘব করা হয়। কিন্তু যদি তাদের ওপর জুলুম করা হয়, খুব কঠোরতার সাথে তাদের থেকে খাজনা নেওয়া হয়, তাহলে ভালোর পরিবর্তে খারাপটাই আবশ্যক হয়ে যাবে। তখন নেতৃত্ব কঠোর হয়ে যাবে, আদল ও ইনসাফ বের হয়ে যাবে।
আল্লামা ইবনু খালদুন রাহিমাহুল্লাহ বলেন- 'রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে, জনগণ থেকে সাধ্যানুযায়ী কম পরিমাণ ট্যাক্স নেওয়া। তাহলেই জনগণ রাষ্ট্রে বসবাস করবে, রাষ্ট্র আবাদ রাখবে। কারণ তারা জানে, এখানেই তাদের লাভ। বাকি আল্লাহই সবকিছুর ক্ষমতা রাখেন।' ৩৪০
জিয়াদ গ্রাম অঞ্চলে থাকা তার প্রশাসকদের কাছে পত্র লিখে বলেছিলেন- 'তোমরা কৃষকদের সাথে ভালো আচরণ করো। কারণ, তারা চাষ করলে তবেই তোমরা খেতে পারবে।' ৩৪১
'আহমদ শাহ বাবা' সম্পর্কে বলা হয়, 'নিজ বুদ্ধিমত্তা বলে, সুউচ্চ মনোবলের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করেছিলেন, সমস্ত কবিলাকে তার পাশে একত্র করেছিলেন। কারণ, তিনি কবিলাদের সাথে অত্যন্ত কোমল আচরণ করতেন। ট্যাক্সের প্রতি যতটা না গুরুত্ব দিয়েছেন, তার চেয়ে বেশি যুদ্ধের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারনেই তিনি আফগানিদের হৃদয় জয় করতে পেরেছেন। আফগানিরা তার সম্পর্কে বিশ্বাস করে যে, তিনি আল্লাহর এক নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা। তাকে তারা নিজেদের পিতার মতো মনে করে। এজন্য তাকে তারা 'বাবা' উপাধি দিয়েছে।'
টিকাঃ
*** বাইহাকি, বাবুল আদব, ৭৮৪
*** বাদায়িযুস সালকি ফী তাবাইয়িল মুলকি, ২২২
*** তাসহীলুন নাযার ও