📄 প্রথম কর্তব্য: ব্যাপক পরিমাণে পানির ব্যবস্থা
ব্যাপক পরিমাণে পানির ব্যবস্থা করা, যা সবচেয়ে সহজলভ্য, সবসময় বৃদ্ধি পেতে থাকে, কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না। সবার জন্য ব্যাপক, কাউকে বাধা দেওয়া হয় না। মোটকথা, কাছের-দূরের, শক্তিশালী-দুর্বল সবাই পানি লাভের ক্ষেত্রে সমান।
📄 দ্বিতীয় কর্তব্য: নিরাপত্তা-ব্যবস্থা
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। নেতা ও ক্ষমতাবানদের হাত থেকে কৃষকদেরকে রক্ষা করা, তাদের সাথে দুর্ব্যবহার রোধ করা। কারণ, ক্ষমতাবানরা এই গরিব কৃষকদের ওপরই জোর খাটায়, তাদের ফসলে ভাগ বসায়। সুতরাং, এই ক্ষমতাবানদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করা শাসকদের দায়িত্ব; যাতে কৃষকরা নিরাপদে চাষাবাদ করতে পারে, তাদেরকে ক্ষমতাবানদের অনিষ্টের জন্য পেরেশান হতে হয় না, এবং কৃষকরা যাতে অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য অন্য কোনো কাজে যোগদান না করে। তাহলে তারা বেশি বেশি জমি আবাদ করবে, কৃষিকাজ বাড়িয়ে দেবে। ফলে নিজেদেরও লাভ হবে, অন্যদেরও কল্যাণ হবে। নবীজি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
التمسوا الرزق في خبايا الأرض 'তোমরা জমিনের গুপ্তধন থেকে রিযিক তালাশ করো।'
শাইখ আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন-'এটা দ্বারা উদ্দেশ্য, চাষাবাদের জন্য জমি চাষ করা, প্রস্তুত করা।' ৩৩৯
📄 তৃতীয় কর্তব্য: ইনসাফ প্রতিষ্ঠা
কৃষকদের থেকে যে খাজনা নেওয়া হয়, সেটা যেন শরিয়ত মোতাবেক ইনসাফের সাথে হয়; যাতে তাদের ওপর জুলুম না হয়, খাজনা দিতে কষ্ট না হয়ে যায়। কারণ, তারা তখনই ন্যায্য শাসন পাবে, যখন শাসক তাদের সাথে ইনসাফের আচরণ করবেন। শাসকরা যেন স্বেচ্ছায় নিজ আগ্রহে কৃষকদের দায়িত্ব আদায় করে, সেই সাথে যাতে তাদের কষ্টও লাঘব করা হয়। কিন্তু যদি তাদের ওপর জুলুম করা হয়, খুব কঠোরতার সাথে তাদের থেকে খাজনা নেওয়া হয়, তাহলে ভালোর পরিবর্তে খারাপটাই আবশ্যক হয়ে যাবে। তখন নেতৃত্ব কঠোর হয়ে যাবে, আদল ও ইনসাফ বের হয়ে যাবে।
আল্লামা ইবনু খালদুন রাহিমাহুল্লাহ বলেন- 'রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে, জনগণ থেকে সাধ্যানুযায়ী কম পরিমাণ ট্যাক্স নেওয়া। তাহলেই জনগণ রাষ্ট্রে বসবাস করবে, রাষ্ট্র আবাদ রাখবে। কারণ তারা জানে, এখানেই তাদের লাভ। বাকি আল্লাহই সবকিছুর ক্ষমতা রাখেন।' ৩৪০
জিয়াদ গ্রাম অঞ্চলে থাকা তার প্রশাসকদের কাছে পত্র লিখে বলেছিলেন- 'তোমরা কৃষকদের সাথে ভালো আচরণ করো। কারণ, তারা চাষ করলে তবেই তোমরা খেতে পারবে।' ৩৪১
'আহমদ শাহ বাবা' সম্পর্কে বলা হয়, 'নিজ বুদ্ধিমত্তা বলে, সুউচ্চ মনোবলের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করেছিলেন, সমস্ত কবিলাকে তার পাশে একত্র করেছিলেন। কারণ, তিনি কবিলাদের সাথে অত্যন্ত কোমল আচরণ করতেন। ট্যাক্সের প্রতি যতটা না গুরুত্ব দিয়েছেন, তার চেয়ে বেশি যুদ্ধের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারনেই তিনি আফগানিদের হৃদয় জয় করতে পেরেছেন। আফগানিরা তার সম্পর্কে বিশ্বাস করে যে, তিনি আল্লাহর এক নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা। তাকে তারা নিজেদের পিতার মতো মনে করে। এজন্য তাকে তারা 'বাবা' উপাধি দিয়েছে।'
টিকাঃ
*** বাইহাকি, বাবুল আদব, ৭৮৪
*** বাদায়িযুস সালকি ফী তাবাইয়িল মুলকি, ২২২
*** তাসহীলুন নাযার ও