📄 ইমারতে ইসতিলা ও ইমারতে ইসতিকফা—এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য
এখানে চারটি পার্থক্য রয়েছে-
০১. ইমারতে ইসতিলা সংঘটিত হয় খলিফা ও শাসকের মাঝে চুক্তি ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে এবং তা স্বেচ্ছায় হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে ইমারতে ইসতিকফা সংঘটিত হয় বাধ্যবাধকতার সাথে।
০২. ইমারতে ইসতিলা ওই দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেগুলোর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করা হয়েছে। আর ইমারতে ইসতিকফা সকল দেশের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, যেগুলোর দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে।
০৩. ইমারতে ইসতিলা সাধারণ-অসাধারণ যাবতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রেই সাব্যস্ত হয়। আর ইমারতে ইসতিকফা শুধুই খলিফার নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে।
০৪. প্রাধান্য বিস্তারকারী শাসকের জন্য উজিরে তাফবিজ, উজিরে তানফিজ উভয়কেই নিযুক্ত করা বৈধ। পক্ষান্তরে খলিফার পক্ষ থেকে নিযুক্ত শাসকের জন্য খলিফার অনুমতি ছাড়া উজিরে তাফবিজ নিযুক্ত করা বৈধ নয়, তবে উজিরে তানফিজ নিযুক্ত করতে পারেন।
📄 ব্যাপক নেতৃত্ব
ব্যাপক নেতৃত্ব দ্বারা উদ্দেশ্য যেখানে শাসকের নির্দিষ্ট কয়েকটি দায়িত্ব থাকবে। ওই দায়িত্বকে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রতিরোধব্যবস্থার মাঝে সীমাবদ্ধ করে ইমাম মাওয়ারদি বলেন-সীমাবদ্ধ নেতৃত্বের অর্থ হলো, শাসকের নেতৃত্বে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় থাকবে। যেমন: মুজাহিদ বাহিনী পরিচালনা করা, জনগণের নেতৃত্ব দেওয়া, লঙ্ঘনীয় ও লাঞ্ছনাকর বিষয় থেকে দেশকে রক্ষা ও প্রতিহত করা। এছাড়া তিনি অন্যান্য বিষয়; যেমন: বিচারব্যবস্থা, হুকুম-আহকাম, খারাজ ও সাদাকা উসুল করা-এসবের ক্ষেত্রে তিনি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
📄 যাদের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ, কিন্তু কাজের পরিধি বিস্তৃত
আধুনিক রাজনীতির পরিভাষায় তাদেরকে মন্ত্রী বলা হয়, যাদের ক্ষমতা ব্যাপক কিন্তু কর্মক্ষেত্র সীমাবদ্ধ। যেমন: প্রতিরক্ষা-মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ইত্যাদি। এ সমস্ত মন্ত্রণালয় রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ, মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের মূল। তবে এগুলোর মধ্যে তিনটি মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—
* ০১. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
* ০২. অর্থ মন্ত্রণালয়
* ০৩. শিক্ষা মন্ত্রণালয়
এই তিনটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কে আমরা আলাদা আলাদাভাবে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব ইন শা আল্লাহ।