📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 ইমারতের ইসতিলা (আধিপত্য বিস্তার করে নেতৃত্ব অর্জন)

📄 ইমারতের ইসতিলা (আধিপত্য বিস্তার করে নেতৃত্ব অর্জন)


ইমারতের ইসতিলা দ্বারা উদ্দেশ্য বাধ্য হয়ে কাউকে নেতৃত্ব দেওয়া। অর্থাৎ, কেউ রাষ্ট্রের কোনো অঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তার করে নেতৃত্ব দেওয়া। অর্থাৎ, কেউ রাষ্ট্রের কোনো অঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তার করে নেতৃত্ব দেওয়া। যেমন: আব্বাসিদের দ্বিতীয় যুগে হয়েছিল-যাকে আসলে দুওয়াইলাত (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য) বলা হয়। সে সময় খলিফা বাধ্য হয়ে তার নেতৃত্ব স্বীকার করে নেন, ওই অঞ্চলের যাবতীয় বিষয় পরিচালনা করার দায়িত্ব তাকে দেন, তবে বিধিবিধানের ক্ষেত্রে খলিফাকে অনুসরণ করতে হবে।
সুতরাং, প্রাধান্য বিস্তারকারী শাসক-যেমন মাওয়ারদি বলেন-যদিও জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছে, কিন্তু দ্বীনি বিধিবিধানের ক্ষেত্রে তাকে খলিফার অনুসরণ করতে হবে, যাতে তার নেতৃত্ব সহিহ, শুদ্ধ হয় এবং অবৈধ অবস্থা থেকে বৈধ অবস্থায় শাসনকার্য পরিচালনা করা যায়।
এটা মূলত প্রয়োজনের কারণে দুনিয়াবি ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব মেনে নেওয়া হচ্ছে। তাই বলে দ্বীনি বিষয়ের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা করা হবে এমনটা বৈধ নয়। ইমাম মাওয়ারদি একটু আগে উল্লেখ করা বাক্যের পর বলেন-এটা যদিও শর্ত শারায়েত, হুকুম-আহকামের ক্ষেত্রে প্রচলিত সাধারণ নিয়োগ করা থেকে ভিন্ন; তবে এক্ষেত্রে শরয়ি আইন-কানুন, দ্বীনি বিধিবিধান রক্ষা করতে হবে; সেগুলো এলেমেলো, অচল করে ফেলে রাখা যাবে না।
মোটকথা, রাষ্ট্র খণ্ডিত হয়ে যাওয়া, নতুন শাসন-ব্যবস্থা শুরু হওয়া দ্বারা ফুকাহায়ে কিরাম চেয়েছেন নতুন শাসন-ব্যবস্থা যেন মূল কেন্দ্রের সাথে জুড়ে থাকে এবং ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা যেন অনুভব করে যে, তারা শরয়ি শাসন-ব্যবস্থার ছায়ায় আছেন।
ফলে সবার মাঝে সকল ক্ষেত্রে ঐক্যের চেতনা থাকবে, সাহায্য করার মানসিকতা থাকবে। এ শাসন-ব্যবস্থার স্বীকারোক্তির জন্য সাতটি শর্ত জরুরি, যার অধিকাংশ প্রাধান্য বিস্তারকারী শাসকের জন্য আবশ্যক। আর কিছু খলিফার জন্য লাজিম। সেগুলো হলো-
১। খিলাফতের আলোকে খলিফার পদ রক্ষা করা, যাবতীয় ধর্মীয় বিষয় পরিচালনা করা, যাতে শরিয়তের বিধিবিধান, হদ, কিসাস এবং এ জাতীয় সমস্ত হুকুম-আহকাম রক্ষা করা যায়।
২। দ্বীন ইসলামের আনুগত্য করা, যার মাধ্যমে হঠকারিতা ও বিচ্ছিন্ন হওয়ার চিন্তা-চেতনা দূর হয়ে যাবে।
৩। সাহায্য-সহযোগিতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া, যাতে কুফফারদের শক্তির ওপর মুসলিমদের শক্তি দৃঢ় ও মজবুত হয়।
৪। বৈধ পন্থায় দ্বীনি বিষয় পরিচালনা করা এবং বিধিবিধান, বিচার-ফায়সালা কার্যকর হওয়া।
৫। শরয়ি সম্পদ বৈধ পন্থায় এমনভাবে উসুল করা, যাতে সেগুলো আদায়কারীদের হক নষ্ট না হয়।
৬। হকদারদের জন্য তা গ্রহণ করা হালাল হয়ে যায়। হদ, কিসাস প্রয়োগ করা এবং সেটা হদের সাজা যোগ্য ব্যক্তির ওপরই হয়।
৭। শাসককে দ্বীন হিফাজতের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বিষয় থেকে পরহেজ করা। তার আনুগত্য করা হলে আদেশ করবে, অবাধ্যতা করলে আনুগত্যের দিকে মানুষকে ডাকবে।
এই হচ্ছে খলিফার পক্ষ থেকে সীকারোক্তির জন্য কিছু শর্ত, যার মাধ্যমে ইমারত বা নেতৃত্ব রক্ষা পাবে।

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 ইমারতে ইসতিলা ও ইমারতে ইসতিকফা—এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য

📄 ইমারতে ইসতিলা ও ইমারতে ইসতিকফা—এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য


এখানে চারটি পার্থক্য রয়েছে-
০১. ইমারতে ইসতিলা সংঘটিত হয় খলিফা ও শাসকের মাঝে চুক্তি ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে এবং তা স্বেচ্ছায় হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে ইমারতে ইসতিকফা সংঘটিত হয় বাধ্যবাধকতার সাথে।
০২. ইমারতে ইসতিলা ওই দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেগুলোর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করা হয়েছে। আর ইমারতে ইসতিকফা সকল দেশের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, যেগুলোর দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে।
০৩. ইমারতে ইসতিলা সাধারণ-অসাধারণ যাবতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রেই সাব্যস্ত হয়। আর ইমারতে ইসতিকফা শুধুই খলিফার নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে।
০৪. প্রাধান্য বিস্তারকারী শাসকের জন্য উজিরে তাফবিজ, উজিরে তানফিজ উভয়কেই নিযুক্ত করা বৈধ। পক্ষান্তরে খলিফার পক্ষ থেকে নিযুক্ত শাসকের জন্য খলিফার অনুমতি ছাড়া উজিরে তাফবিজ নিযুক্ত করা বৈধ নয়, তবে উজিরে তানফিজ নিযুক্ত করতে পারেন।

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 ব্যাপক নেতৃত্ব

📄 ব্যাপক নেতৃত্ব


ব্যাপক নেতৃত্ব দ্বারা উদ্দেশ্য যেখানে শাসকের নির্দিষ্ট কয়েকটি দায়িত্ব থাকবে। ওই দায়িত্বকে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রতিরোধব্যবস্থার মাঝে সীমাবদ্ধ করে ইমাম মাওয়ারদি বলেন-সীমাবদ্ধ নেতৃত্বের অর্থ হলো, শাসকের নেতৃত্বে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় থাকবে। যেমন: মুজাহিদ বাহিনী পরিচালনা করা, জনগণের নেতৃত্ব দেওয়া, লঙ্ঘনীয় ও লাঞ্ছনাকর বিষয় থেকে দেশকে রক্ষা ও প্রতিহত করা। এছাড়া তিনি অন্যান্য বিষয়; যেমন: বিচারব্যবস্থা, হুকুম-আহকাম, খারাজ ও সাদাকা উসুল করা-এসবের ক্ষেত্রে তিনি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 যাদের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ, কিন্তু কাজের পরিধি বিস্তৃত

📄 যাদের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ, কিন্তু কাজের পরিধি বিস্তৃত


আধুনিক রাজনীতির পরিভাষায় তাদেরকে মন্ত্রী বলা হয়, যাদের ক্ষমতা ব্যাপক কিন্তু কর্মক্ষেত্র সীমাবদ্ধ। যেমন: প্রতিরক্ষা-মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ইত্যাদি। এ সমস্ত মন্ত্রণালয় রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ, মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের মূল। তবে এগুলোর মধ্যে তিনটি মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—
* ০১. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
* ০২. অর্থ মন্ত্রণালয়
* ০৩. শিক্ষা মন্ত্রণালয়
এই তিনটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কে আমরা আলাদা আলাদাভাবে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব ইন শা আল্লাহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00