📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 যাদের ক্ষমতা ব্যাপক, কিন্তু কাজের পরিধি সীমাবদ্ধ

📄 যাদের ক্ষমতা ব্যাপক, কিন্তু কাজের পরিধি সীমাবদ্ধ


রাষ্ট্রের সীমানা যখন অনেক বৃদ্ধি পায়, তখন রাষ্ট্রকে বিভিন্ন বড়ো বড়ো ভাগে ভাগ করা হয়, বিভিন্ন অঞ্চল হিসেবে পার্থক্য করা হয়। আর প্রত্যেক অঞ্চলের शासককে আমির বলা হয়, যার ক্ষমতা ব্যাপক কিন্তু কাজের পরিধি সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ, ওই দেশের সকল জিনিসের সাথেই তার কর্তৃত্ব সম্পৃক্ত; নিরাপত্তাব্যবস্থা হোক, প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হোক বা বিচার ব্যবস্থা হোক, কিংবা অর্থনৈতিক-ব্যবস্থা হোক-সকল ক্ষেত্রেই। কিন্তু তার কর্তৃত্বের পরিধি শুধু ওই দেশের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। যেমন-উমার রা. এর যুগে ইসলামি রাষ্ট্রের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পায়, তখন ইসলামি রাষ্ট্রকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। অর্থাৎ, শামের দেশগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, পারস্যের দেশগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়, আফ্রিকার দেশগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। আর এই প্রত্যেকটি অঞ্চলে একজন প্রশাসক থাকেন, যিনি নামাজ পড়াতেন, বিচার করতেন, যুদ্ধে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন, বাইতুল মালের ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।
ইসলামি রাষ্ট্রের পরিধি আরও অনেক বৃদ্ধি পায়। যার ফলে পাঁচটি বড়ো বড়ো ভাগে ভাগ করা হয়। অর্থাৎ, হিজাজ, ইয়ামান ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, মিসর (অর্থাৎ নিম্নভূমি এবং উচ্চভূমি), দুই ইরাক অর্থাৎ আরব (বাইবেল ও প্রাচীন আশুর শহর), আজম (পারসিক দেশ), জাজিরাতুল আরব, সাথে ছিল আরমানিয়া, আজারবাইজান, উত্তর আফ্রিকা, আন্দালুস এবং কিছু দ্বীপ।
যুগ যুগ ধরে আরবরা তাদের বিজয়ী দেশগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত রেখেছে, তবে প্রয়োজনের কারণে সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে।
অবশ্য ইসলামি রাষ্ট্র ও তার পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা খণ্ডিত হয়ে যায়, দিওয়ানের (রাষ্ট্রীয় ফাইল) সংখ্যা অনেক হয়ে যায়, বিশেষ করে আব্বাসিদের যুগে-যারা বিচার ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে পারসিকদের দ্বারা খুব প্রভাবিত হয়।৩০৫
কোনো অঞ্চলের আমিরের নেতৃত্বকে নির্দিষ্ট কোনো বিভাগে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে। যেমন: সেনাবাহিনী পরিচালনা। আল্লামা জুহাইলি বলেন-ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ইসলামের সূচনাতে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা অনেক ব্যাপক ছিল। তারপর রাষ্ট্রের পরিধি বিস্তৃত এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা সীমাবদ্ধ থাকার কারণে ধীরে ধীরে খন্ডিত এবং সীমাবদ্ধ হতে থাকে। যেমন-আমর ইবনুল আস প্রথমে মিসরের ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তারপর উমার রা. আরেকজনকে খারাজ উসুল করার জন্য নির্ধারণ করেন, যিনি ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনু সারাহ। তারপর বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে কাজি হিসেবে নির্ধারণ করা হয় কাব ইবনু সুরকে। এভাবে সেনাবাহিনী পরিচালনা এবং নামাজ পড়ানোর ক্ষেত্রে অঞ্চলের শাসকের কর্তৃত্ব সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
আল্লামা মাওয়ারদি অঞ্চলের প্রশাসকের নেতৃত্বকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন—
• ০১. ব্যাপক, এবং
• ০২. সীমাবদ্ধ।
আবার, ব্যাপককে দুই ভাগে ভাগ করেছেন—
• ০১. ইমারতে ইসতিকফা,
• ০২. ইমারতে ইসতিলা।
তিনি বলেন—খলিফা যখন কাউকে কোনো ভূখণ্ডের বা কোনো অঞ্চলের শাসক নির্ধারণ করবেন, তখন তার নেতৃত্ব দুইভাবে হতে পারে—
• ০১. ব্যাপক, এবং
• ০২. সীমাবদ্ধ।
আর ব্যাপক দুইভাবে হতে পারে—
• ০১. ইমারতে ইসতিকফা, যা স্বেচ্ছায় এবং
• ০২. ইমারতে ইসতিলা, যা অনিচ্ছায় অর্জিত হয়।
০১. ইমারতে ইসতিকফা: আল্লামা জুহাইলি বলেন—ইমারতে ইসতিকফা হলো এমন নেতৃত্ব, যা শাসক কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় এবং সন্তুষ্টির সাথে দিয়ে থাকেন। যেমন: খলিফা কাউকে কোনো দেশের বা অঞ্চলের অধিবাসীদের শাসক বানাবেন, খলিফার যাবতীয় কাজ তাকে দেবেন। ফলে তার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হলেও (যেহেতু তার ক্ষমতা শুধু ওই দেশের জনগণের ওপর) তিনি ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী (কারণ, তার ক্ষমতা ওই দেশের যাবতীয় সমস্ত বিষয়াদির ওপর)।
মোটকথা, খলিফার ওপর সে অঞ্চলের যে সকল দায়দায়িত্ব ছিল সেগুলো তার ওপর ন্যস্ত করবেন। প্রশাসক নির্ধারণের এই ধারাটি মিসর, ইয়ামান, শাম, ইরাক-এ সকল দেশের অঞ্চলের প্রশাসক নির্ধারণের মাধ্যমে খুলাফায়ে রাশিদিনের যুগ থেকে উমাইয়া খিলাফত পর্যন্ত এবং আব্বাসিদের স্বর্ণযুগ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
তারপর হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে শুরু হয়ে যায় ইমারতে ইসতিলা (আধিপত্য বিস্তার করে নেতৃত্ব গ্রহণ)। তখন পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোতে ছোটো ছোটো রাজ্য প্রকাশ পেতে শুরু করে। যেমন—পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোতে বুওইহিয়্যা, সামানিয়্যা, গজনি বংশ, সেলজুক সাম্রাজ্য। পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশগুলোতে তুলুনিয়া, ইখশিদিয়্যা এবং আগলাবিয়্যা বংশ। এই প্রশাসকদের দায়িত্বে যে সকল কাজ ছিল, সেগুলো ছিল সাতটি-
১। বাহিনীদের পরিচালনা করা। তাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সুবিন্যস্ত করে রাখা। তাদের ভাতা নির্ধারণ করে দেওয়া। কিন্তু যদি খলিফা নিজে নির্ধারণ করে দেন, তাহলে সেভাবেই দেওয়া হবে।
২। হুকুম-আহকাম পর্যালোচনা করা। কাজি ও বিচারকদের নিয়োগ দেওয়া।
৩। খারাজ উসুল করা, সাদাকা গ্রহণ করা এবং সেজন্য কর্মী নিয়োগ দেওয়া। সকল সম্পদ হকদারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
৪। দ্বীন রক্ষা করা, নিষিদ্ধ বিষয় থেকে হিফাজতে রাখা, দ্বীনকে পরিবর্তন কিংবা বিকৃতি থেকে রক্ষা করা।
৫। আল্লাহ তাআলার হক এবং বান্দাদের হকের ক্ষেত্রে হদ কায়েম করা।
৬। নিজে কিংবা নায়েবের মাধ্যমে জুমুআর নামাজ এবং অন্যান্য নামাজ পড়ানোর ব্যবস্থা করা।
৭। ফরজ হজ আদায়ের সহজ ব্যবস্থা করা।
শত্রুর পার্শ্ববর্তী দেশের প্রশাসকের ওপর অষ্টম আরেকটি কর্তব্য রয়েছে। আর তা হলো-শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা, শরিয়তের আহকাম অনুযায়ী গনিমত বণ্টন করা।
এই প্রকারের নেতৃত্বের জন্য ওই শর্তগুলোই ধর্তব্য, যেগুলো তাফবিজের মন্ত্রণালয়ে আলোচিত হয়েছে। কারণ, এ দুয়ের মাঝে খুবই সামান্য পার্থক্য বিদ্যমান। অর্থাৎ, অঞ্চলের পার্থক্য। উজিরে তাফবিজ এর ক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি স্থানেই। কিন্তু অঞ্চলভিত্তিক প্রশাসকের ক্ষমতা' শুধু তার অঞ্চলেই। এজন্যই উজিরে তাফবিজ প্রশাসকদের কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। বরং তিনি চাইলে ওই প্রশাসকদের বরখাস্তও করতে পারবেন, যদি তিনিই তাদের নির্ধারণ করে থাকেন। আর যদি খলিফা তাদের নির্ধারণ করেন কিংবা খলিফার নির্দেশে তাদের নির্ধারণ করা হয়, তাহলে বরখাস্ত করার বিষয়ে খলিফার একমত হওয়া জরুরি।
অঞ্চলভিত্তিক প্রশাসক যদি চান তাহলে নিজের জন্য একজন 'উজিরে তানফিজ' বাস্তবায়নকারী মন্ত্রী রাখতে পারেন, খলিফার অনুমোদিত হোক বা না হোক, তবে তিনি খলিফার অনুমতি ছাড়া 'উজিরে তাফবিজ' রাখতে পারবেন না। কারণ, 'উজিরে তানফিজ' সাহায্যকারী আর উজিরে তাফবিজ' একক ক্ষমতার অধিকারী।

টিকাঃ
৩০৫ ইসলাম ওয়া আদিল্লাতই ৮/

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 ইমারতের ইসতিলা (আধিপত্য বিস্তার করে নেতৃত্ব অর্জন)

📄 ইমারতের ইসতিলা (আধিপত্য বিস্তার করে নেতৃত্ব অর্জন)


ইমারতের ইসতিলা দ্বারা উদ্দেশ্য বাধ্য হয়ে কাউকে নেতৃত্ব দেওয়া। অর্থাৎ, কেউ রাষ্ট্রের কোনো অঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তার করে নেতৃত্ব দেওয়া। অর্থাৎ, কেউ রাষ্ট্রের কোনো অঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তার করে নেতৃত্ব দেওয়া। যেমন: আব্বাসিদের দ্বিতীয় যুগে হয়েছিল-যাকে আসলে দুওয়াইলাত (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য) বলা হয়। সে সময় খলিফা বাধ্য হয়ে তার নেতৃত্ব স্বীকার করে নেন, ওই অঞ্চলের যাবতীয় বিষয় পরিচালনা করার দায়িত্ব তাকে দেন, তবে বিধিবিধানের ক্ষেত্রে খলিফাকে অনুসরণ করতে হবে।
সুতরাং, প্রাধান্য বিস্তারকারী শাসক-যেমন মাওয়ারদি বলেন-যদিও জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে গেছে, কিন্তু দ্বীনি বিধিবিধানের ক্ষেত্রে তাকে খলিফার অনুসরণ করতে হবে, যাতে তার নেতৃত্ব সহিহ, শুদ্ধ হয় এবং অবৈধ অবস্থা থেকে বৈধ অবস্থায় শাসনকার্য পরিচালনা করা যায়।
এটা মূলত প্রয়োজনের কারণে দুনিয়াবি ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব মেনে নেওয়া হচ্ছে। তাই বলে দ্বীনি বিষয়ের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা করা হবে এমনটা বৈধ নয়। ইমাম মাওয়ারদি একটু আগে উল্লেখ করা বাক্যের পর বলেন-এটা যদিও শর্ত শারায়েত, হুকুম-আহকামের ক্ষেত্রে প্রচলিত সাধারণ নিয়োগ করা থেকে ভিন্ন; তবে এক্ষেত্রে শরয়ি আইন-কানুন, দ্বীনি বিধিবিধান রক্ষা করতে হবে; সেগুলো এলেমেলো, অচল করে ফেলে রাখা যাবে না।
মোটকথা, রাষ্ট্র খণ্ডিত হয়ে যাওয়া, নতুন শাসন-ব্যবস্থা শুরু হওয়া দ্বারা ফুকাহায়ে কিরাম চেয়েছেন নতুন শাসন-ব্যবস্থা যেন মূল কেন্দ্রের সাথে জুড়ে থাকে এবং ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা যেন অনুভব করে যে, তারা শরয়ি শাসন-ব্যবস্থার ছায়ায় আছেন।
ফলে সবার মাঝে সকল ক্ষেত্রে ঐক্যের চেতনা থাকবে, সাহায্য করার মানসিকতা থাকবে। এ শাসন-ব্যবস্থার স্বীকারোক্তির জন্য সাতটি শর্ত জরুরি, যার অধিকাংশ প্রাধান্য বিস্তারকারী শাসকের জন্য আবশ্যক। আর কিছু খলিফার জন্য লাজিম। সেগুলো হলো-
১। খিলাফতের আলোকে খলিফার পদ রক্ষা করা, যাবতীয় ধর্মীয় বিষয় পরিচালনা করা, যাতে শরিয়তের বিধিবিধান, হদ, কিসাস এবং এ জাতীয় সমস্ত হুকুম-আহকাম রক্ষা করা যায়।
২। দ্বীন ইসলামের আনুগত্য করা, যার মাধ্যমে হঠকারিতা ও বিচ্ছিন্ন হওয়ার চিন্তা-চেতনা দূর হয়ে যাবে।
৩। সাহায্য-সহযোগিতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া, যাতে কুফফারদের শক্তির ওপর মুসলিমদের শক্তি দৃঢ় ও মজবুত হয়।
৪। বৈধ পন্থায় দ্বীনি বিষয় পরিচালনা করা এবং বিধিবিধান, বিচার-ফায়সালা কার্যকর হওয়া।
৫। শরয়ি সম্পদ বৈধ পন্থায় এমনভাবে উসুল করা, যাতে সেগুলো আদায়কারীদের হক নষ্ট না হয়।
৬। হকদারদের জন্য তা গ্রহণ করা হালাল হয়ে যায়। হদ, কিসাস প্রয়োগ করা এবং সেটা হদের সাজা যোগ্য ব্যক্তির ওপরই হয়।
৭। শাসককে দ্বীন হিফাজতের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বিষয় থেকে পরহেজ করা। তার আনুগত্য করা হলে আদেশ করবে, অবাধ্যতা করলে আনুগত্যের দিকে মানুষকে ডাকবে।
এই হচ্ছে খলিফার পক্ষ থেকে সীকারোক্তির জন্য কিছু শর্ত, যার মাধ্যমে ইমারত বা নেতৃত্ব রক্ষা পাবে।

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 ইমারতে ইসতিলা ও ইমারতে ইসতিকফা—এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য

📄 ইমারতে ইসতিলা ও ইমারতে ইসতিকফা—এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য


এখানে চারটি পার্থক্য রয়েছে-
০১. ইমারতে ইসতিলা সংঘটিত হয় খলিফা ও শাসকের মাঝে চুক্তি ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে এবং তা স্বেচ্ছায় হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে ইমারতে ইসতিকফা সংঘটিত হয় বাধ্যবাধকতার সাথে।
০২. ইমারতে ইসতিলা ওই দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেগুলোর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করা হয়েছে। আর ইমারতে ইসতিকফা সকল দেশের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ, যেগুলোর দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে।
০৩. ইমারতে ইসতিলা সাধারণ-অসাধারণ যাবতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রেই সাব্যস্ত হয়। আর ইমারতে ইসতিকফা শুধুই খলিফার নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে।
০৪. প্রাধান্য বিস্তারকারী শাসকের জন্য উজিরে তাফবিজ, উজিরে তানফিজ উভয়কেই নিযুক্ত করা বৈধ। পক্ষান্তরে খলিফার পক্ষ থেকে নিযুক্ত শাসকের জন্য খলিফার অনুমতি ছাড়া উজিরে তাফবিজ নিযুক্ত করা বৈধ নয়, তবে উজিরে তানফিজ নিযুক্ত করতে পারেন।

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 ব্যাপক নেতৃত্ব

📄 ব্যাপক নেতৃত্ব


ব্যাপক নেতৃত্ব দ্বারা উদ্দেশ্য যেখানে শাসকের নির্দিষ্ট কয়েকটি দায়িত্ব থাকবে। ওই দায়িত্বকে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রতিরোধব্যবস্থার মাঝে সীমাবদ্ধ করে ইমাম মাওয়ারদি বলেন-সীমাবদ্ধ নেতৃত্বের অর্থ হলো, শাসকের নেতৃত্বে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় থাকবে। যেমন: মুজাহিদ বাহিনী পরিচালনা করা, জনগণের নেতৃত্ব দেওয়া, লঙ্ঘনীয় ও লাঞ্ছনাকর বিষয় থেকে দেশকে রক্ষা ও প্রতিহত করা। এছাড়া তিনি অন্যান্য বিষয়; যেমন: বিচারব্যবস্থা, হুকুম-আহকাম, খারাজ ও সাদাকা উসুল করা-এসবের ক্ষেত্রে তিনি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00