📄 আবু বকর রা. এর যুগ
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আবু বকর রা. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করেছেন। নবীজি যাদের প্রশাসক বানিয়েছেন, তাদের প্রশাসক হিসেবে রেখেছেন; যাদের আমির বানিয়েছেন, তাদের আমির হিসেবে রেখেছেন। আবু উবাইদা রা. অর্থনীতির বিষয়ে দেখাশোনা করতেন, উমার রা. বিচার বিষয়ে দেখভাল করতেন।
আবু বকর রা.-এর সামনে যদি কোনো সমস্যা দেখা দিত, তখন তিনি সিদ্ধান্তদাতা ও সমঝদারদের সাথে পরামর্শ করতেন।
তখন আরবকে তিনটি প্রদেশে ভাগ করা হয়, অথবা বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- মক্কা-মদিনা, তায়েফ, সানআ।
হিজাজকে তিনটি প্রদেশে ভাগ করা হয়, ইয়ামানকে আটটি প্রদেশে ভাগ করা হয়, আর বাহরাইন ও তার আশেপাশের এলাকাগুলোকে একটি প্রদেশ বানানো হয়।
আবু বকর রা. এর এই ছোট্ট খিলাফতকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল মুরতাদদের বিরুদ্ধে লড়াই করা, ইসলামের খুঁটিগুলো মজবুত করা। মুসলিমদের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে শত্রুদের সামনে রাষ্ট্রের ভিত্তিগুলোর প্রত্যেকটা ‘কোণ’কে মজবুত করা, সেই সাথে রাষ্ট্রীয় কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করতেন।
যারা রাষ্ট্রীয় কাজে (যেমন: গভর্নর, প্রশাসক ইত্যাদি) নিযুক্ত হতেন, তাদেরকে ‘আমিল’ তথা শ্রমিক বলা হতো, তাদের ক্ষুদ্রতা বোঝানোর জন্য এই কারণে যে, গভর্নরই রাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী নয়; (যাতে নিজের ক্ষুদ্রতা স্মরণে থাকে, অহংকারী হয়ে না যান)।
📄 উমার রা.-এর যুগ
রাষ্ট্রব্যবস্থার আকৃতি উমার রা.-এর যুগে আরও স্পষ্ট হয়। কারণ, তখন ইসলামি ভূখণ্ড অনেক বৃদ্ধি পায়। তিনি যোগ্য গভর্নরদের নিযুক্ত করেন এবং তাদের খুব পর্যবেক্ষণে রাখেন। তাদের সম্পদ নির্দিষ্ট পরিমাণ থাকার শর্ত যুক্ত করে দিলেন। যে সকল কাবিলা ছিল তাদের নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতেন এবং বিভিন্ন উপহার-উপঢৌকন দান করতেন। তিনি দিওয়ান রচনা করেন, যা বর্তমান সময়ের মন্ত্রণালয়ের সাথে অনেকটা সাদৃশ্য রাখে। অতএব, তিনিই ইসলামে প্রথম খারাজ ও অন্যান্য সম্পদের জন্য দামেশকে, বসরায়, কুফায় বিভিন্ন দিওয়ানের ব্যবস্থা করেন। তিনি সর্বপ্রথম কাজিদের বিচার-বিশ্লেষণ করেন, হিজরি সন প্রবর্তন করেন, প্রশাসকদের তাদের প্রয়োজন ও এলাকা অনুযায়ী ভাতা দেন, মুহাজিরদের মধ্য হতে কুরাইশ বংশের যারা বড়ো বড়ো ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন, তাদেরকে অনুমতি ও মৃত্যু ছাড়া দেশ থেকে বের হতে নিষেধ করেন। এছাড়াও আরও বহু রাষ্ট্রীয় বিন্যাস-ব্যবস্থাপনা তিনি গঠন করেন।
📄 উসমান রা. এর যুগ
উমার রা. যে সকল আইন প্রণয়ন করে গিয়েছিলেন, উসমান রা. সেগুলো বহাল রাখেন। উমার রা. যাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োজিত করেছিলেন, উসমান রা. তাদের দায়িত্ব বহাল রেখেছেন।/
📄 আলি রা. এর যুগ
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আলি রা. তার পূর্ববর্তী খলিফাদের পন্থা অবলম্বন করেছেন।১৯৯
পরবর্তী সময়ে যখন নতুন ভূখণ্ড সংযোজন, বিভিন্ন অঞ্চলের প্রচলন এবং অন্যান্য সভ্যতার সাথে যোগাযোগব্যবস্থার পরিবর্তন সাধিত হলো, তখন এ-কারণে রাষ্ট্রের ভেতর ও বাহিরের অবস্থায়ও অনেক পরিবর্তন এলো। আর সেই সাথে যুগোপযোগী নতুন কিছু বিধান প্রণয়নের প্রয়োজন দেখা দিল—যা প্রণয়ন করা হবে শরয়ি উসুলের ভিত্তিতে।