📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 ইসলামে আইন-কানুনের উৎস

📄 ইসলামে আইন-কানুনের উৎস


এই শেষ আয়াতটি আইন প্রণয়নের উৎসসমূহকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে যে, উৎসসমূহ শেষ পর্যন্ত এক উৎস থেকেই আহরিত হয়। আর তা হলো, আল্লাহ প্রদত্ত কুরআন।
এই উৎসগুলো চারটি:-
এক. কুরআন কারিমে যে সকল বিধিবিধান এসেছে, আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের জন্য সেগুলো বাস্তবায়ন করা অবশ্য কর্তব্য।
দুই. সুন্নাতে নববি, যা সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যার ভিত্তি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহি। সুন্নাতে নববিতে যে সকল বিধিবিধান এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যের জন্য সেগুলো কার্যকর করাও অবশ্য কর্তব্য।
তিন. সামষ্টিক ইজতিহাদ (চিন্তা ও গবেষণা) বা গবেষক সমাজের ইজমা-যারা বিশেষজ্ঞ জনগণের বিভিন্ন বিষয়ে ও কল্যাণ সম্পর্কে, তাদের দ্বীনি অথবা দুনিয়াবি প্রয়োজন উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে। অর্থাৎ শাসক, প্রশাসক, উলামায়ে কিরাম, সেনাপ্রধান, রাজনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ (যেমন: ব্যবসায়ী, কারিগর, কৃষক এবং অন্যান্য শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা)।
চার. মুজতাহিদ আলিমদের একক ইজতিহাদ।
মুজতাহিদ আলিম দ্বারা উদ্দেশ্য, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বিশ্বাসী, শরিয়তের হুকুম-আহকামের উৎস সম্পর্কে অবগত-সেগুলোর প্রকার, সেগুলো সাব্যস্ত করার পদ্ধতি, দলিলগুলোর প্রমাণিত দিক, সেই সাথে অবগত বিভিন্ন নীতিমালা ও হুকুম-আহকাম উদঘাটনের পদ্ধতি সম্পর্কে। যাদের সাথে রয়েছে বিভিন্ন উসুল। যেমন—কিয়াস, ইস্তিহসান, ইস্তিসলাহ, সমাজের প্রচলন, রীতি, বিভিন্ন মাধ্যম বা উপকরণ বন্ধ করার পদ্ধতি, সাহাবির বাণী এবং পূর্ববর্তী শরিয়তের জ্ঞান ও ইস্তিসহাব।
তৃতীয় এবং চতুর্থ উৎসটিকে 'কর্তৃত্বশীলদের আনুগত্য করো' এ কথা শামিল করে। আবু বকর জাসসাস রহ. বলেন— 'কর্তৃত্বশীল' দ্বারা কী উদ্দেশ্য, এ বিষয়ে অনেকগুলো মত রয়েছে।
জাবির ইবনু আবদিল্লাহ, ইবনু আব্বাস (এক বর্ণনায়), হাসান বসরি, আতা এবং মুজাহিদ; তারা বলেন-'কর্তৃত্বশীল' দ্বারা উদ্দেশ্য যারা ফকিহ এবং আলিম।
ইবনু আব্বাস (থেকে আরেকটি বর্ণনা) এবং আবু হুরাইরা রা. বলেন—তাদের দ্বারা উদ্দেশ্য জিহাদের অভিযানের আমিরগণ।
তবে এই আয়াতে দুটি মতই গ্রহণ করা যেতে পারে। কারণ, শব্দটি সবাইকে শামিল করে। কেননা, যারা আমির, তারা সৈন্যবাহিনী পরিচালনা, অভিযান পরিচালনা, শত্রুদের মোকাবিলা-এসব কিছুর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন; আর যারা আলিম, তারা শরিয়তের রক্ষণাবেক্ষণ, শরিয়তে কী জায়িজ হবে, কী জায়িজ হবে না-এসব বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অতএব, মানুষকে আদেশ করা হয়েছে তাদের আনুগত্য করার, তাদের কথা গ্রহণ করার যতক্ষণ পর্যন্ত শাসক ও আমিররা ইনসাফের পথে থাকেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আলিমরা 'আদিল' থাকেন, সন্তোষভাজন এবং দ্বীন ও আমানতের বিষয়ে বিশ্বস্ত থাকেন।১৯৮
উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম-ইসলামি আইন-কানুনের উৎস কী কী এবং যারা এই আইন-কানুন সুবিন্যস্ত বা সংকলন করবেন, তাদের জন্য কী কী শর্ত। যারা উম্মাহর পক্ষ থেকে এই আইন-কানুন সংকলন করেন, তাদের নির্বাচন ওই সকল গুণের ওপর নির্ভরশীল; যে সকল গুণের দিকে কুরআন কারিমের আয়াত ইঙ্গিত করেছে। অর্থাৎ ইলম, মাআরিফাত, অগ্রাধিকার দানকারী আকল, আদালত (ধার্মিকতা), তাকওয়া এবং আভিজাত্য।

টিকাঃ
*** সূরা নিসা, আয়াত: ৫৮
** সূরা নিসা, আয়াত: ৫৯
** আহকামুল কুরআন, ২/২৬৪

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 সালতাতুত তানফিজ (কার্যকরী মন্ত্রণালয়)

📄 সালতাতুত তানফিজ (কার্যকরী মন্ত্রণালয়)


সালতাতুত তানফিজ দ্বারা আধুনিক যুগের রাজনীতির পরিভাষায় উদ্দেশ্য নেওয়া হয় শাসক, প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য কর্মজীবী।
এই মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো-জীবন-ব্যবস্থার জন্য সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশে যে সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলো কার্যকর করা। অতএব, এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব হলো-নির্দেশনা বাস্তবায়িত করে দেশকে পরিচালনা করা।
এই মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট কিছু আকৃতি বা সংখ্যার মাঝে আবদ্ধ নয় যে, এছাড়া অন্য কিছু হতে পারবে না। বরং এটা স্থান, কালভেদে বিভিন্ন রকম হতে পারে। অর্থাৎ, দেখা যাবে কোনো দেশে কোনো সময়ে অনেক বৃদ্ধি হবে, আবার কোনো স্থানে অন্য সময়ে সেটা কমে যাবে। বাস্তবে সেটা দেশের একটি ক্ষণস্থায়ী রূপ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00