📄 আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদ হওয়ার শর্ত
এই বিশেষ দলে নিযুক্ত হওয়ার জন্য যে সকল শর্ত পূর্ণাঙ্গরূপে পাওয়া আবশ্যক, সেগুলো উলামায়ে কিরাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিছু আছে, যেগুলো শাসক হওয়ার জন্য শর্ত, অর্থাৎ ইসলাম বোধবুদ্ধি, প্রাপ্তবয়স্কতা, পুরুষ হওয়া, স্বাধীনতা থাকা, এগুলো নির্দিষ্ট করেছেন। আর কিছু আছে, যেগুলো তাদের সাথে খাস। সেগুলো তিনটি, আল্লামা মাওয়ারদি বলেন-তাদের মাঝে তিনটি শর্ত পাওয়া যেতে হবে-
০১. আদালত থাকা, যা অন্যান্য শর্তকেও সন্নিবেশ করে।
০২. ইলম, যার মাধ্যমে জানা যাবে—শর্ত-শারায়েতসহ কে নেতৃত্বের বেশি হকদার..;
০৩. চিন্তা এবং প্রজ্ঞা, যার দ্বারা বোঝা যাবে—কে বেশি নেতৃত্বের যোগ্য, শাসন ব্যবস্থাপনার জন্য অধিকনিষ্ঠ এবং অভিজ্ঞ।
এই শর্তাগুলো পাওয়া গেলেই তারা নির্বাচন করবেন তাকে, যে নেতৃত্বের যোগ্য এবং মুসলিমদের জন্য উপকারী।
ইলম দ্বারা উদ্দেশ্য: দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান রাখা জাতির সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে জান রাখা রাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা তবে এই জ্ঞানের ধরন যুগের পার্থক্যের কারণে পরিবর্তন হতে পারে।
বর্তমান যুগে শাসক এবং শুরা সদস্যদের-যারা নেতৃত্বের ভিত্তি শাসন ক্ষমতার মূল-তাদের জ্ঞান রাখতে হবে রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন সম্পর্কে, চুক্তি ও সন্ধি সম্পর্কে, পার্শ্ববর্তী দেশ ও জাতি সম্পর্কে, তাদের সাথে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সম্পর্ক সম্বন্ধে, অর্থাৎ তাদের রাজনৈতিক শক্তি কেমন, তাদের থেকে কী আশা করা যায়, কী আশঙ্কা করা যায়। তাদের ক্ষতি রোধ করার জন্য, তাদের মাধ্যমে উপকার গ্রহণ করার জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন-এসব সম্পর্কেও জ্ঞান রাখা জরুরি। তবে সবার মাঝেই এসব শর্ত পরিপূর্ণভাবে থাকা জরুরি না, বরং সামষ্টিগতভাবে পাওয়া গেলেই যথেষ্ট। সদস্যের মাঝে যে শর্ত থাকতে হবে, এ সম্পর্কে যে সকল 'আসার' (সাহাবায়ে কিরামের কর্ম বা বাণী) পাওয়া যায়, সেগুলো থেকে হাফিজ ইবনু হাজারের বক্তব্য পাওয়া যায়। তিনি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাইআত প্রসঙ্গে বলেন-উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রশাসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার নীতি লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে, তিনি শুধু দ্বীনি যোগ্যতা দেখতেন না, বরং সাথে সাথে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও-তবে শরিয়তবিরোধী কিছু থাকলে পরিহার করতেন-দেখতেন। এজন্যই দেখা যায়, শামে আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু, কুফায় ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু, এদের মতো মহান সাহাবি দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তিনি মুআবিয়া, মুগিরা ইবনু শুবা, এবং আমরা ইবনুল আস রহ.-কে প্রশাসক বানিয়েছিলেন। ২৬১
এজন্যই সাধারণত খিলাফত সম্পর্কিত বিষয়ে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর নীতি অবলম্বন করা হয়। বিশেষ করে বড়ো বড়ো এবং দেশ ও জাতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। হুজাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
إني لا أدري ما بقائي فيكم فاقتدوا بالذين من بعدي وأشار الى أبي بكر وعمر
আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসা ছিলাম। তিনি বললেন-জানি না, আর কতদিন তোমাদের মাঝে আমি আছি। সুতরাং তোমরা আমার পর যে দুজন আসবে, তাদের অনুসরণ করবে। তখন তিনি আবু বকর এবং উমার রা.-এর দিকে ইশারা করেছেন। ২৬২
যারা রাজনীতির বা রাষ্ট্রের মূল কেন্দ্রে থাকে, অন্যদের ওপর তাদের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই সুতন্ত্র নেই। আবু ইয়ালা রহ. বলেন-যারা খলিফার শহরে থাকবে, অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর তাদের কোনো আলাদা বৈশিষ্ট্য নেই, যার মাধ্যমে তারা কোনো ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। হ্যাঁ, সর্বোচ্চ এটা হতে পারে যে, যে খলিফার শহরে থাকবে সে নেতৃত্ব বিষয়ে ব্যবস্থাপক হতে পারে। কারণ, সে খলিফার মৃত্যু সম্পর্কে আগে জানবে, তাছাড়া যারা খলিফার শহরে থাকে, সাধারণত তারাই খিলাফতের যোগ্য হয়।২৬০
আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদ ছাড়া অন্যদের বাইআত গ্রহণ: আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদ ছাড়া অন্যদের বাইআত গ্রহণ বিবেচ্য নয়।২৬৪
ইমাম জুহাইলি বলেন-সাধারণ জনগণের জন্য এতটুকুই বিশ্বাস করা যথেষ্ট যে, তারা নিযুক্ত শাসকের দায়িত্বে আছে। এর চেয়ে ভিন্ন কিছু যদি মনে করে, তাহলে তারা ফাসিক। তাদের ক্ষেত্রেও এ হাদিস প্রযোজ্য হবে-
من مات وليس في عنقه بيعة مات ميتة جاهلية যে বাইআত গ্রহণ ছাড়া মৃত্যুবরণ করল সে জাহেলিয়াতের মরা মরল। ২৬৫
টিকাঃ
২২১ মিনহাজুত তালিবিন: ২৯২
২৮০ গিয়াসুল উমাম: ৬৪
*** ফাতহুল বারি, খণ্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ১৯৭
২৬২ জামি তিরমিজি: ৩৬৬৩
২৬০ আহকামুস সুলতানিয়া: ১৯
২৬৪ নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ৪১০
২৬৫আল-ফিকহুল ইসলামিয়্য
📄 নারীদের বাইআতগ্রহণ
তদ্রুপ খলিফা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারীর বাইআত ধর্তব্য নয়। গিয়াসুল উমাম কিতাবে আছে-আমরা অকাট্যভাবে জানি যে, খলিফা নির্বাচনের বাইআতগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের কোনো অধিকার নেই। কারণ, ইসলামি উম্মাহর খিলাফতকালে তাদের কাছে এ বিষয়ে কখনো পরামর্শ চাওয়া হয় নি। যদি কোনো নারীর কাছে পরামর্শ চাওয়াই যেত, তাহলে এ বিষয়ে সবচেয়ে যোগ্য ও হকদার হতেন ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা, তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র স্ত্রীগণ; যারা ছিলেন উম্মাহাতুল মুমিনিন, তথা মুমিনদের 'মা'। অথচ আমরা সুস্পষ্টভাবেই জানি যে-এক্ষেত্রে কোনো কোনো যুগেই তাদের কোনো পদচারণা ছিল না। তেমনি যারা উলামায়ে কিরাম নন, বিচক্ষণ নন, তাদেরও এক্ষেত্রে কোনো অধিকার নেই। একইভাবে জিম্মিদেরও কোনো সুযোগ নেই খলিফা নির্বাচনের ক্ষেত্রে।
তারপর তিনি (গিয়াসুল উমামের লেখক) কয়েক লাইন পরে বলেন-নারীদের কর্তব্য তো সবসময় পর্দার ভেতর থাকা, তাদের যাবতীয় বিষয় তো পুরুষদের হাতে ন্যাস্ত। সুতরাং তারা বহিরাগত অবস্থানে মাথা ঘামাবে না, তারা পুরুষদের মতো বাহিরে কথা কাটাকাটি করবে না। তাছাড়া তারা তো বড়ো বড়ো প্রকল্প,
টিকাঃ
২৬০ আহকামুস সুলতানিয়া: ১৯
২৬৪ নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ৪১০
২৬৫আল-ফিকহুল ইসলামিয়্য
📄 শাসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী
ইসলামি ইতিহাসে কোথাও পাওয়া যায় না যে, খলিফা নির্বাচনে নারীর কোনো অধিকার ছিল। এই কথাও শোনা যায় নি যে, বনু সায়িদার সাকিফাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর খলিফা নির্বাচনের জন্য সাহাবায়ে কিরামের সাথে কোনো নারী একত্র হয়েছিলেন। এটাও শোনা যায় নি যে, নারীরা পুরুষের সাথে নির্বাচনে অংশীদার হতো, অথবা নারীদের রাষ্ট্রীয় বিষয়ে পরামর্শের জন্য ডাকা হতো; যেমনটা পুরুষদের ক্ষেত্রে হতো।
এটাও জানা যায় নি যে, কোনো নারী খলিফার সাথে সাথে রাষ্ট্রব্যবস্থার ক্ষেত্রে, যুদ্ধ-পরিচালনার ক্ষেত্রে থাকতেন। হাঁ, ইতিহাস থেকে এতটুকু জানা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের থেকে বাইআত নিয়েছেন, তাদের হাত স্পর্শ করা ছাড়া। আরও জানা যায় যে—কিছু নারী মুজাহিদদের সাথে রণাঙ্গনে যেতেন। আহতদের ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিতেন। পিপাসার্তদেরকে পান করাতেন। তাদের জন্য আলাদা একটি তাঁবু টানানো হতো, যেখানে আহতদের সেবা করা হতো। তারপর যখন কেউ আক্রান্ত হতো, তখন রাসুলুল্লাহ সা. বলতেন—তাকে যেন নারীদের তাঁবুতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ দুটো বিষয় থেকে এটা কিছুতেই বোঝা যায় না যে, নারীরাও রাজনীতিতে জড়াতে পারবে। যে এমনটা ধারণা করবে—সে মারাত্মক ভুল করল! তাছাড়া এ সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে পুরুষ নারীর মাঝে পার্থক্য করা হয়। অর্থাৎ পুরুষরা খলিফার হাতে হাত রেখে বাইআত গ্রহণ করে, নারীরা এর ব্যতিক্রম। তাছাড়া নারীরা রণাঙ্গনে আসত সেবার উদ্দেশ্যে, লড়াইয়ের জন্য নয় (প্রয়োজন হলে ভিন্ন কথা); কিন্তু পুরুষরা এর ব্যতিক্রম।
এখন যদি বলা হয়—উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তো জঙ্গে জামাল-রণাঙ্গনে উপস্থিত হয়েছিলেন; হাওদার ওপর থেকে পর্দার আড়ালে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তো এক্ষেত্রে মূল কথা হলো—আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে কেউ দেখে নি, তিনি হাউদার ভেতরে ছিলেন। সেখানে তাকে দেখাও যাচ্ছিল না, তার আওয়াজও শোনা যাচ্ছিল না। সুতরাং এই কথা বলা যাবে না যে, তিনি সে সময় মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তাছাড়া যুদ্ধ করার জন্যেও তিনি বের হন নি, যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যও বের হন নি। তিনি শুধু মুসলিমদের দুই দলের মাঝে অর্থাৎ আলি-কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু এবং মুআবিয়া রা.-এর মাঝে সন্ধি ও মিটমাট করে দেওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন। কিন্তু সেটা ঘটনাক্রমে হয়ে ওঠে নি; বরং যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল।
ইমাম আহমদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তার মুসনাদে কাইস রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যখন রাতে আমের গোত্রের জলাশয়ের কাছে পৌঁছলেন, তখন কয়েকটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করা শুরু করল। তিনি বললেন—কোন্ জলসা এটা?
উপস্থিত লোকেরা বলল—হাওআব জলাশয়।
তিনি বললেন—তাহলে তো আমার ফিরে যাওয়াটাই নিরাপদ মনে করছি।
তখন কেউ কেউ বলল—আপনি বরং আমাদের সাথে সামনে এগিয়ে যান; যাতে মুসলিমরা আপনাকে দেখে। তখন আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝে মিটমাট করে দেবেন।
তিনি বললেন—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আমাদের বলেছিলেন—
كيف بإحدى كنا تنبح عليها كلاب الحواب
তোমাদের কারও তখন কী অবস্থা হবে, যখন তার সামনে হাওআব জলাশয়ের কুকুর ঘেউ ঘেউ করবে?
আরেক বর্ণনায় আছে—আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যখন হাওআব জলাশয়ের সামনে এলেন তখন কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজ শুনতে পান, তখন তিনি বললেন—আমার ফিরে যাওয়াটাই কল্যাণ মনে করছি। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বলেছেন-
ايتكن تنبح عليها كلاب الحواب
দেখো! তোমাদের কোনো একজনকে দেখে হাওআব জলাশয়ের কুকুররা ঘেউ ঘেউ করবে!
তখন তাকে জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আপনি আমাদের সাথেই আসেন। হয়তো আল্লাহ তাআলা আপনার মাধ্যমে সবার মাঝে সন্ধি করে দেবেন।২৩০
ইবনু হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি সিকাত নামক কিতাবে বলেন-জায়িদ ইবনু সুহান আয়িশা রাদিআল্লাহু আনহার কাছ থেকে কুফার প্রশাসক আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গমন করেন। তার সাথে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার দুটো পত্র ছিল। দুটোতেই লেখা ছিল-
بسم الله الرحمن الرحيم من عائشة أم المؤمنين الى عبد الله بن قيس الأشعري سلام عليك فإني أحمد إليك الله الذي لا إله إلا هو أما بعد فإنه كان من قتل عثمان ما قد علمت وقد خرجت مصلحة بين الناس من قبلك بالقرار في منازلهم والرضا بالعافية حتى يأتيهم ما يحبون من صلاح أمر المسلمين .
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার পক্ষ থেকে, আব্দুল্লাহ ইবনু কায়িস আশআরির কাছে, আপনার প্রতি সালাম।
আপনার জন্য আমি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করছি, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। পর কথা হলো-উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যার ঘটনার পর কী হলো, তা তো আপনি জানেন। আর এখন আমি মুসলিমদের মাঝে সন্ধি করার উদ্দেশ্যে বের হলাম।
সুতরাং আপনার নিজের পক্ষ থেকে সবাইকে আদেশ করেন, যাতে তারা নিজেদের ঘরে অবস্থান করে। সুস্থতা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে। যতক্ষণ না তাদের কাছে মুসলিমদের কল্যাণের সংবাদ পৌঁছে, যা তারা পছন্দ করে।১৭১
তারিখু ইবনি খালদুন কিতাবে আছে-আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু কাকা ইবনু আমরকে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং তার সাথে থাকা অন্যদের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। যাতে তিনি তার আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তো, কাকা তাকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন-আম্মাজান কী কারণে আপনি এলেন?
তিনি বললেন—প্রিয় বৎস, শুধু মুসলিমদের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে।২৭২
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আলি রা. আয়িশা রাদিয়াল্লাহার কাছে এসে বললেন- আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দেন।
তিনি বললেন- আপনাকেও। আপনি তো এখন শাসক তো আপনার কাছে সুন্দর আচরণ আশা করি। কারণ, আমি শুধু শান্তি প্রতিষ্ঠায় চেয়েছিলাম; কিন্তু এখন কী যে হয়ে গেল, আপনি তো দেখতে পাচ্ছেন।
আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন-আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দেন।
তিনি বললেন-আপনাকেও।
তারপর বসরাবাসীর বিশজন দ্বীনদার সম্মানিতা নারীকে তার সাথে থাকার আদেশ করেন। যাতে তারা আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে মদিনা পর্যন্ত যায়। তাকে অনেক ভালো একটা জায়গায় থাকার ব্যবস্থাও করে দেন। পরের দিন তাকে মদিনা শরিফের দিকে রওনা করে দিলেন। তাকে বিদায় জানিয়ে সন্তানদের (মুসলিমদের) সাথেপাঠিয়ে দিলেন।২৭৩
তো, এসব থেকে এটাই বোঝা গেল যে-আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা শুধু শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই বের হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তাদের কথা প্রত্যাখ্যাত হয়ে গেল, যারা বলে-আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যুদ্ধের জন্য বের হয়েছেন। আর নেতৃত্বও তার হাতে ছিল। তদ্রুপ ইমামিয়্যা ও শিয়াদের কথাও প্রত্যাখাত হয়ে গেল। যারা বলে যে-তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আল্লাহ তাআলার আদেশের খিলাফ করেছেন। আল্লাহ তাআলা নবী-পত্নীদের ঘরে স্থির থাকার আদেশ করে বলেন- وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ আর তোমরা ঘরে স্থির থাকো জাহিলি যুগের মতো সৌন্দর্য প্রকাশ করে বেড়িও না।২৭৪
তাদের কথা প্রত্যাখ্যাত, এ কারণে যে আনুগত্য বা নেক কাজের উদ্দেশ্যে সফর করাটা ঘরে স্থির থাকা বা ঘর থেকে বের না হওয়ার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তাছাড়া তার সাথে তার মাহরাম অর্থাৎ তার বোন আসমা রা. এর ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনু জুবায়ের ছিলেন। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
টিকাঃ
*** গিয়াসুল উমাম, ইমামুল হারামাইন, মৃত: ৪৭৮ হিজরি : ৬২-৬৩
*** আল-ইমামাতুল উজমা: ১
হাওদা এক ধরনের পর্দাকে বলা হয়, যা উটের ওপর রাখা গদির চারদিকে বেষ্টিত থাকে।
হাওআব মক্কা এবং বসরার মধ্যবর্তী একটি জায়গার নাম, যেখানে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সন্ধি করার জন্য নেমেছিলেন; কিন্তু সেটা করার সুযোগ হয় নি। ফলে জঙ্গে জামাল সৃষ্টি হয়ে যায়।
২০০ মুসনাদু আহমাদ, প্রথম বর্ণনা: ২৪২৫৪; দ্বিতীয় বর্ণনা: ২৪৬৫৪
২০১ আস-সিকাত, ইবনু হিব্বান,
২৭২ তারিখে ইবনু খালদুন, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫৯১
** মিরআতুল জানান, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা:
২৭৪ সূরা আহযাব
📄 নারীদের রাজনৈতিক কাজে জড়ানো
বর্তমান রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ করা বৈধ নয়। কারণ, নারীদের আলাদা কাজ রয়েছে; আল্লাহ তাআলা তাদের যে উদ্দেশ্য সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ, সন্তান ধারণ করা, তাদের জন্ম দেওয়া ও লালন-পালন করা। এগুলো হচ্ছে নারীদের বিশেষ কাজ। পুরুষরা এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। পুরুষদের কাজ বাহিরে। অর্থাৎ নিজের জন্য, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য, বৃদ্ধ ও দুর্বল মা-বাবার জন্য উপার্জন করা; তাদের কাজ হচ্ছে-চাষাবাদ করা, তৈরি করা, ব্যবসা করা, অথবা রাষ্ট্রীয় কাজ করা। এগুলোই পুরুষের দিন-রাতের কাজ। আর এটাই প্রকৃতির রীতি। আল্লাহ তাআলার বিধানও।
এক্ষেত্রে কাফির ও মূর্খরা কী বলল, সেদিকে তাকানোই যাবে না! আফসোসের বিষয়-মুসলিমবিশ্বের প্রায় সবাই এভাবেই চলছে। যদি-না আল্লাহ তাআলা কাউকে কুফর বা নাস্তিকতা থেকে রহম করেন। যেমন আফগানিস্তানের ইমারতে ইসলামিয়া-আল্লাহ যেন তাকে রক্ষা করেন।
এখন নতুন আরেকটা ফিতনা বের হয়েছে ঐশী বিধানের বিরুদ্ধে যাকে বলা হয়-শিক্ষা ও নারী অধিকার! আফসোসের বিষয় হচ্ছে, এখন মুসলিম দেশগুলোতেও এটা ছড়িয়ে পড়েছে। সুতরাং সকল মুসলিমের কর্তব্য, বিশেষ করে আলিমদের কর্তব্য হলো-কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে নারী-পুরুষের যৌথ অধিকার এবং বিশেষ অধিকার ব্যাখ্যা করা।
রাষ্ট্রের প্রত্যেকটা ব্যক্তি ও সমাজের কাছে এর বার্তা পৌঁছে দেওয়া। চাই তা মুখের মাধ্যমে হোক বা কলমের মাধ্যমে। হোক লেখার মাধ্যমে হোক কিংবা জিহাদের মাধ্যমে। কারণ, এটাই প্রত্যেক মুসলিমের ওপর কর্তব্য। কুরআন কারিমে ঘোষিত হয়েছে-
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ
তোমরা হলে উত্তম জাতি, যাদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে, অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে। আর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখবে।২৭৫
এ যুগে রাজনীতিতে যে নারীদের অংশগ্রহণ করা নিষেধ, এর একটা দলিল হচ্ছে-সর্বাবস্থার জন্য এখন নারীদের মসজিদে যাওয়া নিষেধ। হাফিজ ঝাইলায়ি রহ. বলেন-আমাদের যুগে এখন এটাই গ্রহণযোগ্য মত। সর্বাবস্থার জন্য নারীদের মসজিদে যাওয়া নিষেধ। যুগ পরিবর্তনের কারণে এ দলিল আরও শক্তিশালী করে ওই হাদিস, যা আম্মাজান আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন-
لو أدرك رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أحدث النساء لمنعهن كما منعت نساء بني اسرائيل
নারীরা পরবর্তী সময়ে যা কিছু করেছে, এগুলো যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখতে পেতেন, তাহলে তাদেরকেও বাইরে যেতে নিষেধ করতেন। যেমন বনি ইসরাইলের নারীদের নিষেধ করা হয়েছিল। ২৭৬
তো, যখন নারীদের মসজিদে যাওয়াই নিষিদ্ধ, যা দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ জায়গা, যেখানে নেককার লোকেরাই শুধু থাকে, তাহলে রাস্তায় বা বাজারে বের হওয়ার বিধান, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যোগদানের বিধান কী হতে পারে!
নারীরা যে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না, এর আর আরেকটি দলিল হচ্ছে-আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ঘরে অবস্থান করার আদেশ করেছেন। সৌন্দর্য প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ নারী পুরুষের সংমিশ্রণ থেকে নিষেধ করেছেন। চাই সেটা কোনো কাজের কারণে হোক, অথবা সফরের কারণে হোক, কিংবা অন্য যে কোনো কারণ হোক। কেননা, এই ময়দানে আসাটাই নারীকে খারাপ কাজে নিয়ে যাবে। যার ফলে আল্লাহ তাআলার আদেশ লঙ্ঘিত হবে, একজন মুসলিম নারীর কাছে আল্লাহ তাআলা যে সকল দাবি পূরণের আশা করেন, সেটাও বিফলে যাবে। কুরআন কারিম স্পষ্ট করে প্রমাণ করে, নারী পুরুষ সংমিশ্রণ ও তার আরও যত উপায় আছে সবই হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ (۳۰) وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ ٣١ ( النور )
আপনি মুমিন পুরুষদের বলে দেন, যেন তারা নিজেদের দৃষ্টি অবনত রাখে, লজ্জাস্থান হিফাজত করে রাখে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্রদায়ক। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অধিক অবগত। আর মুমিন নারীদের বলে দেন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি অবনত রাখে, লজ্জাস্থান হিফাজত করে রাখে। আর যেন নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। সাথে, তারা যেন নিজের বক্ষদেশের ওপর ওড়না দিয়ে রাখে।
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আদেশ করেছেন-তিনি যেন মুমিন নর নারীদের একথা পৌঁছে দেন, তারা যেন আবশ্যকীয়ভাবে দৃষ্টি অবনত রাখে, জিনা থেকে লজ্জাস্থানকে হিফাজত করে। তারপর সুস্পষ্ট করে এটাও বলে দিয়েছেন যে—এটাই তাদের জন্য উত্তম।
এটা সবার জানা কথা যে, অশ্লীল কাজ থেকে লজ্জাস্থান তখনই হিফাজত করা সম্ভব, যদি তার সহায়ক উপায় ও মাধ্যমগুলো থেকে বেঁচে থাকা যায়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কর্মক্ষেত্র বা অন্যান্য অঙ্গনে নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ বা পুরুষ নারী সংমিশ্রণই অশ্লীল কাজের সবচেয়ে বড়ো সহায়ক এবং উপায়। আর এই দুটো বিষয় (অর্থাৎ দৃষ্টি অবনত রাখা ও লজ্জাস্থান হিফাজত রাখা) তখনই কখনোই সম্ভব নয়, যদি পুরুষ-নারী একই সাথে একই জায়গায় কাজ করে।
মোটকথা, তখন নিজেকে পবিত্র রাখা অসম্ভব। এজন্যই আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদের আদেশ করেছেন দৃষ্টি অবনত রাখতে, লজ্জাস্থান হিফাজত করতে, সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে (তবে যা সাধারণত প্রকাশ পেয়েই যায় তার কথা ভিন্ন) বুকের ওপর ওড়না দিয়ে আবৃত করে রাখতেন। তাহলে কীভাবে সম্ভব দৃষ্টি অবনত রাখা, লজ্জাস্থান হিফাজত রাখা, সৌন্দর্য প্রকাশ না করা, যদি নারীরা পুরুষদের সাথে যুক্ত হয়, তাদের সাথে কর্মক্ষেত্রে মিশে যায়?
মূলত, সংমিশ্রণই সকল খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ার কারণ। কিছুতেই দৃষ্টি অবরোধ রাখা সম্ভব নয়, যদি নারী পুরুষের ডানে বামে চলাফেরা করে এই যুক্তিতে যে, সেও পুরুষের কাজে অংশীদার হবে, বা সমান অধিকার পাবে।
ইসলাম হারামকে যেমন হারাম বলেছে, তদ্রুপ হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার উপায় উপকরণ বা সহায়ককেও হারাম বলেছে। এজন্যই নারীদেরকে পুরুষের সাথে নরম কণ্ঠে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, নরম কথার মাধ্যমেই তাদের দিকে পুরুষদের মন আকৃষ্ট হয়ে যায় যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا (۳২)
হে নবীপত্নীগণ, তোমরা সাধারণ কোনো নারীদের মতো নও, যদি তোমরা তাকওয়াবান হও। আর তোমরা কোমলভাবে পরপুরুষদের সাথে কথা বলো না। তাহলে যার মনে ব্যধি আছে, সে আকৃষ্ট হয়ে যাবে।
ব্যাধি দ্বারা উদ্দেশ্য, খাহেশাত ও প্রবৃত্তির ব্যাধি। এখন একসাথে মিশে থাকলে কীভাবে এটা থেকে রক্ষা পাবে? কারণ, এটা তো স্পষ্ট যে, কোনো নারী যদি পুরুষদের কর্মক্ষেত্রে যোগ দেয়, তাহলে তাকেও পরপুরুষদের সাথে কথা বলতে হবে, তাদেরকেও তার সাথে কথা বলতে হবে, শয়তান তাদের কথা আরও চাকচিক্য করে তুলবে, অশ্লীল কাজের দিকে ডাকবে। আর একসময় তারা শয়তানের শিকারে আটকে পড়ে যাবে!
আল্লাহ তাআলা বড়োই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞানী। এজন্য তিনি নারীদের পর্দা ব্যবহারের আদেশ করেছেন। এর কারণ হচ্ছে— স্বভাবতই কিছু মানুষ নেককার; তবে কিছু মানুষ কিছু বদকারও। কিছু মানুষ পবিত্র আর কিছু অপবিত্র। তো, এ পর্দাই আল্লাহ তাআলার রহমতে ফিতনা থেকে তাদের রক্ষা করবে। ফিতনার সহায়ক বিষয়গুলো থেকে তাদের দূরে রাখবে। আর এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের পবিত্রতা রক্ষা পাবে। অপবাদের আশঙ্কা থেকেও বেঁচে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন— وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ
আর যখন তোমরা তাদের কাছে (নবী-পত্নীগণ) কিছু চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাও। এই বিধানই তোমাদের অন্তর এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিক পবিত্রদায়ক।
কাপড় দিয়ে চেহারা ও শরীর ঢাকার পর নারীদের জন্য সবচেয়ে উত্তম পর্দা হচ্ছে তাদের ঘর। ইসলাম নারীর জন্য পুরুষদের সাথে মেলামেশাকে হারাম করেছে। যাতে নারী সরাসরি বা অন্য কোনোভাবে ফিতনার সম্মুখীন না হয়। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন— المرأة عورة فإذا خرجت استشرفها الشيطان
নারী হলো আবরণীয় সত্তা। সে যখন বের হয়, তখন শয়তান তার দিকে উঁকি দেয়।২৭৯
এ-জন্যেই আল্লাহ তাআলা নারীকে ঘরে স্থির থাকার আদেশ করেছেন, ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেছেন। তবে গ্রহণযোগ্য প্রয়োজন থাকলে শরয়ি বিধান রক্ষা করে বের হতে পারবে। আল্লাহ তাআলা নারীর ঘরে অবস্থান করাকে -- قرار কারার- তথা ‘স্থির থাকা’ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন। কারণ, ঘরই হলো তার মূল বাসস্থান; যা তার সৃষ্টিগত স্বভাবের উপযোগী। এখানেই তার হৃদয়ের তৃপ্ততা, মনের উন্মুক্ততা। ঘর থেকে বের হলেই তার অস্থিরতা শুরু হয়ে যায়। হৃদয়ের তৃপ্তি হারিয়ে যায়। মন সংকীর্ণ হয়ে যায়। কখনো কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতিরও সম্মুখীন হতে হয়।
আশ্চর্য হয়ে যখন দেখি-কিছু নামধারী মুসলিম, বরং কোনো কোনো আলিমও, যাদের চিন্তাচেতনা পাশ্চাত্য দ্বারা প্রভাবিত, বলতে শুনি-নারী-পুরুষ সবার সমান অধিকার চাই, জীবনের প্রত্যেকটা অঙ্গনে, ঘরের বাইরে ও ভেতরে, শাসন-ব্যবস্থা ও রাজনীতিতে নেতৃত্ব ও মন্ত্রীতে, মোটকথা, কাজ করার যতগুলো ক্ষেত্রে আছে, সবগুলোতে। তখন বলতেই হবে-এটা স্রেফ অন্ধকারচ্ছন্ন মূর্খতা; যা কুরআন-সুন্নাহরও বিরোধী, যুক্তিরও বিরোধী, এটা আসমান জমিনের মহান সৃষ্টিকর্তার হুকুমের বিপরীত। আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং সকল মুসলিমকে এই ধরনের অহেতুক চিন্তা, ভ্রান্ত আকিদা থেকে রক্ষা করেন। আমিন।
প্রশ্ন করতে পারেন, যুক্তিবিরোধী কেন?
বলতে হবে, এর কারণ আছে। কারণ হলো, নারী-পুরুষের মাঝে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, যা কোনো সমঝদার ব্যক্তি অস্বীকার করবে না। কত বিষয়ই তো এমন আছে, যা পুরুষের তবিয়তের উপযোগী, আর নারীদের সাথে সাংঘর্ষিক। আবার কত বিষয় এমন আছে, যা নারী প্রকৃতির সাথে খাপ খায়, কিন্তু পুরুষদের স্বভাবের বিরোধী! তাহলে যুক্তি কীভাবে সমান অধিকারের কথা বলে!
আর এটি কুরআনের বিরোধী যুক্তি। কেন? কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন- وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوا وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ: وَاسْأَلُوا اللَّهَ مِن فَضْلِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا (۳۲) আল্লাহ তাআলা তোমাদের কাউকে অপরের ওপর যে বিষয় দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, সেটা তোমরা (পাওয়ার) আকাঙ্ক্ষা করো না। পুরুষদের জন্য রয়েছে তাদের কৃতকর্মের অংশ, আর নারীদের জন্য রয়েছে তাদের কৃতকর্মের অংশ। আর তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সবকিছু সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।৮০
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ পুরুষরা নারীদের ওপর কর্তৃত্ববান। এ কারণে যে, আল্লাহ তাআলা তাদের কাউকে (পুরুষদের) কারও (নারীদের) ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। এবং এ কারণে যে, পুরুষরা তাদের ধনসম্পদ থেকে (নারীদের জন্য) খরচ করে।২৮১
টিকাঃ
২৭৫ সূরা আলে ইমরান, আয়াত :
* সহিহ বুখারি: ৮৬৯
"সূরা নূর, আয়াত: ৩০-৩১
*** সূরা আহঝাব, আয়াত: ৩৯
২০১ জামি তিরমিজি: ১১৭৩
২৮০ সূরা নিসা, আয়াত: ৩২
২৮১ সূরা নিসা, আয়াত: ৩৪