📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদ

📄 আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদ


ইমাম নববি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাদের পরিচয় দিয়েছেন, তারা হলেন- উলামায়ে কিরাম, নেতৃবর্গ, গণ্যমান্য ব্যক্তি, যারা সহজে কোনো বিষয়ে একমত হতে পারেন।২৫৯
আর জুওয়াইনি রহ. বলেন—তারা হলেন স্বাতন্ত্রের অধিকারী, শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন অভিজ্ঞতা যাদের সুদক্ষ করে তুলেছে, বিভিন্ন পথ পন্থা যাদের গড়ে তুলেছে, জনগণের নেতৃত্ব কার হাতে হতে পারে। তার গুণ কী কী হতে পারে, সে সম্পর্কে তারা জ্ঞান রাখে।২৬০

টিকাঃ
২২১ মিনহাজুত তালিবিন: ২৯২
২৮০ গিয়াসুল উমাম: ৬৪

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদ হওয়ার শর্ত

📄 আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদ হওয়ার শর্ত


এই বিশেষ দলে নিযুক্ত হওয়ার জন্য যে সকল শর্ত পূর্ণাঙ্গরূপে পাওয়া আবশ্যক, সেগুলো উলামায়ে কিরাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিছু আছে, যেগুলো শাসক হওয়ার জন্য শর্ত, অর্থাৎ ইসলাম বোধবুদ্ধি, প্রাপ্তবয়স্কতা, পুরুষ হওয়া, স্বাধীনতা থাকা, এগুলো নির্দিষ্ট করেছেন। আর কিছু আছে, যেগুলো তাদের সাথে খাস। সেগুলো তিনটি, আল্লামা মাওয়ারদি বলেন-তাদের মাঝে তিনটি শর্ত পাওয়া যেতে হবে-
০১. আদালত থাকা, যা অন্যান্য শর্তকেও সন্নিবেশ করে।
০২. ইলম, যার মাধ্যমে জানা যাবে—শর্ত-শারায়েতসহ কে নেতৃত্বের বেশি হকদার..;
০৩. চিন্তা এবং প্রজ্ঞা, যার দ্বারা বোঝা যাবে—কে বেশি নেতৃত্বের যোগ্য, শাসন ব্যবস্থাপনার জন্য অধিকনিষ্ঠ এবং অভিজ্ঞ।
এই শর্তাগুলো পাওয়া গেলেই তারা নির্বাচন করবেন তাকে, যে নেতৃত্বের যোগ্য এবং মুসলিমদের জন্য উপকারী।
ইলম দ্বারা উদ্দেশ্য: দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান রাখা জাতির সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে জান রাখা রাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা তবে এই জ্ঞানের ধরন যুগের পার্থক্যের কারণে পরিবর্তন হতে পারে।
বর্তমান যুগে শাসক এবং শুরা সদস্যদের-যারা নেতৃত্বের ভিত্তি শাসন ক্ষমতার মূল-তাদের জ্ঞান রাখতে হবে রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন সম্পর্কে, চুক্তি ও সন্ধি সম্পর্কে, পার্শ্ববর্তী দেশ ও জাতি সম্পর্কে, তাদের সাথে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সম্পর্ক সম্বন্ধে, অর্থাৎ তাদের রাজনৈতিক শক্তি কেমন, তাদের থেকে কী আশা করা যায়, কী আশঙ্কা করা যায়। তাদের ক্ষতি রোধ করার জন্য, তাদের মাধ্যমে উপকার গ্রহণ করার জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন-এসব সম্পর্কেও জ্ঞান রাখা জরুরি। তবে সবার মাঝেই এসব শর্ত পরিপূর্ণভাবে থাকা জরুরি না, বরং সামষ্টিগতভাবে পাওয়া গেলেই যথেষ্ট। সদস্যের মাঝে যে শর্ত থাকতে হবে, এ সম্পর্কে যে সকল 'আসার' (সাহাবায়ে কিরামের কর্ম বা বাণী) পাওয়া যায়, সেগুলো থেকে হাফিজ ইবনু হাজারের বক্তব্য পাওয়া যায়। তিনি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাইআত প্রসঙ্গে বলেন-উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রশাসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার নীতি লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে, তিনি শুধু দ্বীনি যোগ্যতা দেখতেন না, বরং সাথে সাথে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও-তবে শরিয়তবিরোধী কিছু থাকলে পরিহার করতেন-দেখতেন। এজন্যই দেখা যায়, শামে আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু, কুফায় ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু, এদের মতো মহান সাহাবি দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তিনি মুআবিয়া, মুগিরা ইবনু শুবা, এবং আমরা ইবনুল আস রহ.-কে প্রশাসক বানিয়েছিলেন। ২৬১
এজন্যই সাধারণত খিলাফত সম্পর্কিত বিষয়ে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর নীতি অবলম্বন করা হয়। বিশেষ করে বড়ো বড়ো এবং দেশ ও জাতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। হুজাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
إني لا أدري ما بقائي فيكم فاقتدوا بالذين من بعدي وأشار الى أبي بكر وعمر
আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসা ছিলাম। তিনি বললেন-জানি না, আর কতদিন তোমাদের মাঝে আমি আছি। সুতরাং তোমরা আমার পর যে দুজন আসবে, তাদের অনুসরণ করবে। তখন তিনি আবু বকর এবং উমার রা.-এর দিকে ইশারা করেছেন। ২৬২
যারা রাজনীতির বা রাষ্ট্রের মূল কেন্দ্রে থাকে, অন্যদের ওপর তাদের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই সুতন্ত্র নেই। আবু ইয়ালা রহ. বলেন-যারা খলিফার শহরে থাকবে, অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর তাদের কোনো আলাদা বৈশিষ্ট্য নেই, যার মাধ্যমে তারা কোনো ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। হ্যাঁ, সর্বোচ্চ এটা হতে পারে যে, যে খলিফার শহরে থাকবে সে নেতৃত্ব বিষয়ে ব্যবস্থাপক হতে পারে। কারণ, সে খলিফার মৃত্যু সম্পর্কে আগে জানবে, তাছাড়া যারা খলিফার শহরে থাকে, সাধারণত তারাই খিলাফতের যোগ্য হয়।২৬০
আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদ ছাড়া অন্যদের বাইআত গ্রহণ: আহলুল হিল্লি ওয়াল আকদ ছাড়া অন্যদের বাইআত গ্রহণ বিবেচ্য নয়।২৬৪
ইমাম জুহাইলি বলেন-সাধারণ জনগণের জন্য এতটুকুই বিশ্বাস করা যথেষ্ট যে, তারা নিযুক্ত শাসকের দায়িত্বে আছে। এর চেয়ে ভিন্ন কিছু যদি মনে করে, তাহলে তারা ফাসিক। তাদের ক্ষেত্রেও এ হাদিস প্রযোজ্য হবে-
من مات وليس في عنقه بيعة مات ميتة جاهلية যে বাইআত গ্রহণ ছাড়া মৃত্যুবরণ করল সে জাহেলিয়াতের মরা মরল। ২৬৫

টিকাঃ
২২১ মিনহাজুত তালিবিন: ২৯২
২৮০ গিয়াসুল উমাম: ৬৪
*** ফাতহুল বারি, খণ্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ১৯৭
২৬২ জামি তিরমিজি: ৩৬৬৩
২৬০ আহকামুস সুলতানিয়া: ১৯
২৬৪ নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ৪১০
২৬৫আল-ফিকহুল ইসলামিয়্য

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 নারীদের বাইআতগ্রহণ

📄 নারীদের বাইআতগ্রহণ


তদ্রুপ খলিফা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারীর বাইআত ধর্তব্য নয়। গিয়াসুল উমাম কিতাবে আছে-আমরা অকাট্যভাবে জানি যে, খলিফা নির্বাচনের বাইআতগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের কোনো অধিকার নেই। কারণ, ইসলামি উম্মাহর খিলাফতকালে তাদের কাছে এ বিষয়ে কখনো পরামর্শ চাওয়া হয় নি। যদি কোনো নারীর কাছে পরামর্শ চাওয়াই যেত, তাহলে এ বিষয়ে সবচেয়ে যোগ্য ও হকদার হতেন ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা, তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র স্ত্রীগণ; যারা ছিলেন উম্মাহাতুল মুমিনিন, তথা মুমিনদের 'মা'। অথচ আমরা সুস্পষ্টভাবেই জানি যে-এক্ষেত্রে কোনো কোনো যুগেই তাদের কোনো পদচারণা ছিল না। তেমনি যারা উলামায়ে কিরাম নন, বিচক্ষণ নন, তাদেরও এক্ষেত্রে কোনো অধিকার নেই। একইভাবে জিম্মিদেরও কোনো সুযোগ নেই খলিফা নির্বাচনের ক্ষেত্রে।
তারপর তিনি (গিয়াসুল উমামের লেখক) কয়েক লাইন পরে বলেন-নারীদের কর্তব্য তো সবসময় পর্দার ভেতর থাকা, তাদের যাবতীয় বিষয় তো পুরুষদের হাতে ন্যাস্ত। সুতরাং তারা বহিরাগত অবস্থানে মাথা ঘামাবে না, তারা পুরুষদের মতো বাহিরে কথা কাটাকাটি করবে না। তাছাড়া তারা তো বড়ো বড়ো প্রকল্প,

টিকাঃ
২৬০ আহকামুস সুলতানিয়া: ১৯
২৬৪ নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ৪১০
২৬৫আল-ফিকহুল ইসলামিয়্য

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 শাসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী

📄 শাসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী


ইসলামি ইতিহাসে কোথাও পাওয়া যায় না যে, খলিফা নির্বাচনে নারীর কোনো অধিকার ছিল। এই কথাও শোনা যায় নি যে, বনু সায়িদার সাকিফাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর খলিফা নির্বাচনের জন্য সাহাবায়ে কিরামের সাথে কোনো নারী একত্র হয়েছিলেন। এটাও শোনা যায় নি যে, নারীরা পুরুষের সাথে নির্বাচনে অংশীদার হতো, অথবা নারীদের রাষ্ট্রীয় বিষয়ে পরামর্শের জন্য ডাকা হতো; যেমনটা পুরুষদের ক্ষেত্রে হতো।
এটাও জানা যায় নি যে, কোনো নারী খলিফার সাথে সাথে রাষ্ট্রব্যবস্থার ক্ষেত্রে, যুদ্ধ-পরিচালনার ক্ষেত্রে থাকতেন। হাঁ, ইতিহাস থেকে এতটুকু জানা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের থেকে বাইআত নিয়েছেন, তাদের হাত স্পর্শ করা ছাড়া। আরও জানা যায় যে—কিছু নারী মুজাহিদদের সাথে রণাঙ্গনে যেতেন। আহতদের ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিতেন। পিপাসার্তদেরকে পান করাতেন। তাদের জন্য আলাদা একটি তাঁবু টানানো হতো, যেখানে আহতদের সেবা করা হতো। তারপর যখন কেউ আক্রান্ত হতো, তখন রাসুলুল্লাহ সা. বলতেন—তাকে যেন নারীদের তাঁবুতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ দুটো বিষয় থেকে এটা কিছুতেই বোঝা যায় না যে, নারীরাও রাজনীতিতে জড়াতে পারবে। যে এমনটা ধারণা করবে—সে মারাত্মক ভুল করল! তাছাড়া এ সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে পুরুষ নারীর মাঝে পার্থক্য করা হয়। অর্থাৎ পুরুষরা খলিফার হাতে হাত রেখে বাইআত গ্রহণ করে, নারীরা এর ব্যতিক্রম। তাছাড়া নারীরা রণাঙ্গনে আসত সেবার উদ্দেশ্যে, লড়াইয়ের জন্য নয় (প্রয়োজন হলে ভিন্ন কথা); কিন্তু পুরুষরা এর ব্যতিক্রম।
এখন যদি বলা হয়—উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তো জঙ্গে জামাল-রণাঙ্গনে উপস্থিত হয়েছিলেন; হাওদার ওপর থেকে পর্দার আড়ালে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তো এক্ষেত্রে মূল কথা হলো—আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে কেউ দেখে নি, তিনি হাউদার ভেতরে ছিলেন। সেখানে তাকে দেখাও যাচ্ছিল না, তার আওয়াজও শোনা যাচ্ছিল না। সুতরাং এই কথা বলা যাবে না যে, তিনি সে সময় মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তাছাড়া যুদ্ধ করার জন্যেও তিনি বের হন নি, যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যও বের হন নি। তিনি শুধু মুসলিমদের দুই দলের মাঝে অর্থাৎ আলি-কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু এবং মুআবিয়া রা.-এর মাঝে সন্ধি ও মিটমাট করে দেওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন। কিন্তু সেটা ঘটনাক্রমে হয়ে ওঠে নি; বরং যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল।
ইমাম আহমদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তার মুসনাদে কাইস রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যখন রাতে আমের গোত্রের জলাশয়ের কাছে পৌঁছলেন, তখন কয়েকটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করা শুরু করল। তিনি বললেন—কোন্ জলসা এটা?
উপস্থিত লোকেরা বলল—হাওআব জলাশয়।
তিনি বললেন—তাহলে তো আমার ফিরে যাওয়াটাই নিরাপদ মনে করছি।
তখন কেউ কেউ বলল—আপনি বরং আমাদের সাথে সামনে এগিয়ে যান; যাতে মুসলিমরা আপনাকে দেখে। তখন আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝে মিটমাট করে দেবেন।
তিনি বললেন—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আমাদের বলেছিলেন—
كيف بإحدى كنا تنبح عليها كلاب الحواب
তোমাদের কারও তখন কী অবস্থা হবে, যখন তার সামনে হাওআব জলাশয়ের কুকুর ঘেউ ঘেউ করবে?
আরেক বর্ণনায় আছে—আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যখন হাওআব জলাশয়ের সামনে এলেন তখন কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজ শুনতে পান, তখন তিনি বললেন—আমার ফিরে যাওয়াটাই কল্যাণ মনে করছি। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বলেছেন-
ايتكن تنبح عليها كلاب الحواب
দেখো! তোমাদের কোনো একজনকে দেখে হাওআব জলাশয়ের কুকুররা ঘেউ ঘেউ করবে!
তখন তাকে জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আপনি আমাদের সাথেই আসেন। হয়তো আল্লাহ তাআলা আপনার মাধ্যমে সবার মাঝে সন্ধি করে দেবেন।২৩০
ইবনু হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি সিকাত নামক কিতাবে বলেন-জায়িদ ইবনু সুহান আয়িশা রাদিআল্লাহু আনহার কাছ থেকে কুফার প্রশাসক আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গমন করেন। তার সাথে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার দুটো পত্র ছিল। দুটোতেই লেখা ছিল-
بسم الله الرحمن الرحيم من عائشة أم المؤمنين الى عبد الله بن قيس الأشعري سلام عليك فإني أحمد إليك الله الذي لا إله إلا هو أما بعد فإنه كان من قتل عثمان ما قد علمت وقد خرجت مصلحة بين الناس من قبلك بالقرار في منازلهم والرضا بالعافية حتى يأتيهم ما يحبون من صلاح أمر المسلمين .
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার পক্ষ থেকে, আব্দুল্লাহ ইবনু কায়িস আশআরির কাছে, আপনার প্রতি সালাম।
আপনার জন্য আমি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করছি, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। পর কথা হলো-উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যার ঘটনার পর কী হলো, তা তো আপনি জানেন। আর এখন আমি মুসলিমদের মাঝে সন্ধি করার উদ্দেশ্যে বের হলাম।
সুতরাং আপনার নিজের পক্ষ থেকে সবাইকে আদেশ করেন, যাতে তারা নিজেদের ঘরে অবস্থান করে। সুস্থতা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে। যতক্ষণ না তাদের কাছে মুসলিমদের কল্যাণের সংবাদ পৌঁছে, যা তারা পছন্দ করে।১৭১
তারিখু ইবনি খালদুন কিতাবে আছে-আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু কাকা ইবনু আমরকে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং তার সাথে থাকা অন্যদের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। যাতে তিনি তার আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তো, কাকা তাকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন-আম্মাজান কী কারণে আপনি এলেন?
তিনি বললেন—প্রিয় বৎস, শুধু মুসলিমদের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে।২৭২
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আলি রা. আয়িশা রাদিয়াল্লাহার কাছে এসে বললেন- আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দেন।
তিনি বললেন- আপনাকেও। আপনি তো এখন শাসক তো আপনার কাছে সুন্দর আচরণ আশা করি। কারণ, আমি শুধু শান্তি প্রতিষ্ঠায় চেয়েছিলাম; কিন্তু এখন কী যে হয়ে গেল, আপনি তো দেখতে পাচ্ছেন।
আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন-আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দেন।
তিনি বললেন-আপনাকেও।
তারপর বসরাবাসীর বিশজন দ্বীনদার সম্মানিতা নারীকে তার সাথে থাকার আদেশ করেন। যাতে তারা আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে মদিনা পর্যন্ত যায়। তাকে অনেক ভালো একটা জায়গায় থাকার ব্যবস্থাও করে দেন। পরের দিন তাকে মদিনা শরিফের দিকে রওনা করে দিলেন। তাকে বিদায় জানিয়ে সন্তানদের (মুসলিমদের) সাথেপাঠিয়ে দিলেন।২৭৩
তো, এসব থেকে এটাই বোঝা গেল যে-আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা শুধু শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই বের হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তাদের কথা প্রত্যাখ্যাত হয়ে গেল, যারা বলে-আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যুদ্ধের জন্য বের হয়েছেন। আর নেতৃত্বও তার হাতে ছিল। তদ্রুপ ইমামিয়্যা ও শিয়াদের কথাও প্রত্যাখাত হয়ে গেল। যারা বলে যে-তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আল্লাহ তাআলার আদেশের খিলাফ করেছেন। আল্লাহ তাআলা নবী-পত্নীদের ঘরে স্থির থাকার আদেশ করে বলেন- وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ আর তোমরা ঘরে স্থির থাকো জাহিলি যুগের মতো সৌন্দর্য প্রকাশ করে বেড়িও না।২৭৪
তাদের কথা প্রত্যাখ্যাত, এ কারণে যে আনুগত্য বা নেক কাজের উদ্দেশ্যে সফর করাটা ঘরে স্থির থাকা বা ঘর থেকে বের না হওয়ার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তাছাড়া তার সাথে তার মাহরাম অর্থাৎ তার বোন আসমা রা. এর ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনু জুবায়ের ছিলেন। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

টিকাঃ
*** গিয়াসুল উমাম, ইমামুল হারামাইন, মৃত: ৪৭৮ হিজরি : ৬২-৬৩
*** আল-ইমামাতুল উজমা: ১
হাওদা এক ধরনের পর্দাকে বলা হয়, যা উটের ওপর রাখা গদির চারদিকে বেষ্টিত থাকে।
হাওআব মক্কা এবং বসরার মধ্যবর্তী একটি জায়গার নাম, যেখানে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সন্ধি করার জন্য নেমেছিলেন; কিন্তু সেটা করার সুযোগ হয় নি। ফলে জঙ্গে জামাল সৃষ্টি হয়ে যায়।
২০০ মুসনাদু আহমাদ, প্রথম বর্ণনা: ২৪২৫৪; দ্বিতীয় বর্ণনা: ২৪৬৫৪
২০১ আস-সিকাত, ইবনু হিব্বান,
২৭২ তারিখে ইবনু খালদুন, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫৯১
** মিরআতুল জানান, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা:
২৭৪ সূরা আহযাব

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00