📄 ইনসাফ কাকে বলে?
ইনসাফ বলতে বোঝায়—প্রত্যেককে তার হক দেওয়া; শরিয়ত থেকে নির্দেশ করা হয় নি—এমন কিছু তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া; অন্যায়ভাবে তার সম্পদ গ্রাস না করা; তাকে নিজের হক থেকে বাধা না দেওয়া।
আল্লামা ইবনু খালদুন বলেন—জুলুমের অর্থ খুব সীমিত নয়। শুধু অন্যের কোনো জিনিস বিনিময় বা কারণ ছাড়া নেওয়াকেই জুলুম বলে না, যেমনটা সবাই মনে করে! বরং জুলুমের অর্থ এর থেকেও অনেক ব্যাপক, কারও মালিকানাধীন জিনিস নেওয়া, কাজের ক্ষেত্রে ফাঁকি দেওয়া, অন্যায়ভাবে কারও থেকে কিছু দাবি করা, শরিয়ত আবশ্যক করে নি এমন কোনো কিছু আবশ্যক করা—এই সব কিছুকেই জুলুম বলে। এখন যারা জনগণ থেকে অন্যায়ভাবে ট্যাক্স নেয়, এরাও জালিম। যারা সে বিষয়ে বাড়াবাড়ি করে, তারাও জালিম। যারা লুট করে, তারাও জালিম। যারা জনগণের সম্পদ আটকে রাখে, এরাও জালিম। যারা বলপ্রয়োগ বা জোর-জবরদস্তি করে নেয়, তারাও জালিম। এর সবই জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। এর পরিণামও রাষ্ট্রের ওপর বর্তাবে। একসময় রাষ্ট্র জনশূন্য হয়ে থাকবে, যে জনগণ ছিল রাষ্ট্রের মূল সম্পদ। কারণ, রাষ্ট্র নিজেই তার জনগণের আশা ও আস্থা হারিয়েছে।
জুলুম নিষিদ্ধ ঘোষণা করার বড়ো একটা কারণ ও হিকমত এটাই। অর্থাৎ, জুলুমের কারণে রাষ্ট্র যে জনশূন্য হয়ে না পড়ে। কারণ, জুলুমই বলে দেয় যে, এটা আর মানুষের বসবাসের উপযোগী কোনো রাষ্ট্র না।
শরিয়ত যে মূল পাঁচটি বিষয়ের ব্যাপারে এত বেশি গুরুত্ব দেয়, সেই পাঁচটি বিষয় হচ্ছে: দ্বীন, জান, মাল, আকল, নাসল বা বংশ;— এগুলো। এই পাঁচটি বিষয় হিফাজত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণও কিন্তু উপরে যা বলা হলো, সেটাই। তো, এই জুলুমই যেহেতু মানুষকে একটি রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, একটি রাষ্ট্র জনশূন্য করে দেয়, তাই এটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা খুবই জরুরি। এর নিষিদ্ধতার বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহয় এত দলিল-প্রমাণ আছে যে, গুনে শেষ করা যাবে না।
টিকাঃ
০০ মুকাদ্দামাহ ইবনু খালদুন, ২৮০
২০৪ সহিহ বুখারি: ৩৬১২
২০৫ সহিহ বুখারি: ৩৪৭৫
ইনসাফ বলতে বোঝায়—প্রত্যেককে তার হক দেওয়া; শরিয়ত থেকে নির্দেশ করা হয় নি—এমন কিছু তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া; অন্যায়ভাবে তার সম্পদ গ্রাস না করা; তাকে নিজের হক থেকে বাধা না দেওয়া।
আল্লামা ইবনু খালদুন বলেন—জুলুমের অর্থ খুব সীমিত নয়। শুধু অন্যের কোনো জিনিস বিনিময় বা কারণ ছাড়া নেওয়াকেই জুলুম বলে না, যেমনটা সবাই মনে করে! বরং জুলুমের অর্থ এর থেকেও অনেক ব্যাপক, কারও মালিকানাধীন জিনিস নেওয়া, কাজের ক্ষেত্রে ফাঁকি দেওয়া, অন্যায়ভাবে কারও থেকে কিছু দাবি করা, শরিয়ত আবশ্যক করে নি এমন কোনো কিছু আবশ্যক করা—এই সব কিছুকেই জুলুম বলে। এখন যারা জনগণ থেকে অন্যায়ভাবে ট্যাক্স নেয়, এরাও জালিম। যারা সে বিষয়ে বাড়াবাড়ি করে, তারাও জালিম। যারা লুট করে, তারাও জালিম। যারা জনগণের সম্পদ আটকে রাখে, এরাও জালিম। যারা বলপ্রয়োগ বা জোর-জবরদস্তি করে নেয়, তারাও জালিম। এর সবই জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। এর পরিণামও রাষ্ট্রের ওপর বর্তাবে। একসময় রাষ্ট্র জনশূন্য হয়ে থাকবে, যে জনগণ ছিল রাষ্ট্রের মূল সম্পদ। কারণ, রাষ্ট্র নিজেই তার জনগণের আশা ও আস্থা হারিয়েছে।
জুলুম নিষিদ্ধ ঘোষণা করার বড়ো একটা কারণ ও হিকমত এটাই। অর্থাৎ, জুলুমের কারণে রাষ্ট্র যে জনশূন্য হয়ে না পড়ে। কারণ, জুলুমই বলে দেয় যে, এটা আর মানুষের বসবাসের উপযোগী কোনো রাষ্ট্র না।
শরিয়ত যে মূল পাঁচটি বিষয়ের ব্যাপারে এত বেশি গুরুত্ব দেয়, সেই পাঁচটি বিষয় হচ্ছে: দ্বীন, জান, মাল, আকল, নাসল বা বংশ;— এগুলো। এই পাঁচটি বিষয় হিফাজত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণও কিন্তু উপরে যা বলা হলো, সেটাই। তো, এই জুলুমই যেহেতু মানুষকে একটি রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, একটি রাষ্ট্র জনশূন্য করে দেয়, তাই এটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা খুবই জরুরি। এর নিষিদ্ধতার বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহয় এত দলিল-প্রমাণ আছে যে, গুনে শেষ করা যাবে না।
টিকাঃ
০০ মুকাদ্দামাহ ইবনু খালদুন, ২৮০
২০৪ সহিহ বুখারি: ৩৬১২
২০৫ সহিহ বুখারি: ৩৪৭৫
📄 খলিফা যে দশটি মূলনীতি রক্ষা করবেন
০১. যখনই দেশে কোনো সমস্যা দেখা হবে, তিনি সেক্ষেত্রে নিজেকে জনগণ ভাববেন আর অপরজনকে শাসক ভাববেন, তখন যেটা নিজের কাছে ভালো লাগবে না, সেটা জনগণের কাছেও চাপাবেন না।
০২. তার দরজায় প্রয়োজনগ্রস্ত লোক এলে সেটাকে তুচ্ছ মনে করবেন না; বরং এর চিন্তা থেকেও দূরে থাকবেন। কারণ, আল্লাহ তাআলা চান না যে, জনগণের প্রয়োজন বিলম্বে পুরা করা হোক।
এই ব্যাপারে একটি ঘটনা বর্ণিত আছে। বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটল একদিন তাদের বাদশাহকে উপদেশ দিয়ে বললেন-বাদশাহ, কেউ যখন প্রয়োজনে পড়ে আপনার দরবারে আসে, আপনি তাদের প্রয়োজনপূরণে শিথিলতা করবেন না। যাতে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত বঞ্চিত না হয়ে যান।
০৩. দিনের পুরো সময় ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করবেন না; বরং চেষ্টা করবেন-কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা জনগণের দেখভাল করায় সময় বেশি ব্যয় করা যায়।
ঘটনা বর্ণিত আছে যে-গ্রিসের এক দার্শনিক তাদের এক শাসককে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিলেন-গাফেলদের মতো ঘুমিয়ে থাকবেন না, যাতে আপনার আদালত থেকে সুবিচারপ্রার্থীরা বঞ্চিত হয়ে আল্লাহর দরবারে বিচার না দিয়ে বসে। তখন আপনার রাষ্ট্র ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যাবে। কারণ, রাষ্ট্র তো একটা সূর্যের মতো, যার আলো সকালে এক দেওয়ালে পড়ে, বিকালে অপর দেওয়ালে পড়ে। তদ্রুপ রাষ্ট্রক্ষমতা শাসকের নাফরমানির কারণে (সূর্যের আলোর মতো) এক শাসক থেকে অপর শাসকের কাছে হস্তান্তিরিত হয়।
০৪. প্রত্যেকটা কাজ সহজে কোমলভাবে সমাধানের চেষ্টা করবেন, কঠোরভাবে করবেন না। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাসকদের জন্য দুআ করে বলেন-
اللهم ارفق على كل وال رفق على رعيته واعنف على كل وال عنف على فعلى رعيته
আয় আল্লাহ, যে সকল শাসকরা জনগণের সাথে কোমল আচরণ করে, আপনিও তাদের সাথে কোমল আচরণ করেন। আর যারা জনগণের সাথে কঠোর আচরণ করে আপনিও তাদের সাথে কঠোরতা করেন।
হিশাম ইবনু মালিকের ঘটনা: তিনি অনেক বড়ো একজন খলিফা ছিলেন। বর্ণিত আছে, তিনি একবার আবু হাজিম রহ.-কে যিনি ওই যুগের একজন প্রসিদ্ধ আলিম ও জাহিদ ছিলেন-জিজ্ঞাসা করেন শাসনকার্যে জুলুম না করার উপায় কী। তখন আবু হাজিম রহ. বলেন, আপনি যদি আসলেই জুলুম থেকে মুক্ত হতে চান তাহলে আপনার কর্তব্য, নির্দিষ্ট স্থান থেকেই শুধু কর নেবেন। আবার শরিয়ত নির্দেশিত খাতেই সেগুলো ব্যয় করবেন। তখন হিশাম বলেন-সেটা কার পক্ষেই বা সম্ভব? আবু হাজিম রহ. বলেন—তাঁর পক্ষেই সম্ভব যে জাহান্নামের আগুন সহ্য করতে পারে না।
০৫. তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন, যাতে অধিকাংশ জনগণ তাঁর প্রতি খুশি থাকে। তবে সেই খুশিটা শরিয়তসম্মত কারণেই হতে হবে। ঘটনা: একবার একজন শ্রেষ্ঠ আলিম এক বাদশাহকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন—আপনি যদি চান, আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকুক, তাঁর রহমত আপনার ওপর বর্ষিত হোক, তাহলে কোনো সাধারণ কারণ বা শরয়ি কারণ ছাড়া জনগণের সমালোচনাও করবেন না, তাদের মারবেনও না, জনগণের সন্তুষ্টি অর্জনের ক্ষেত্রে যেন শুধুই আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য হয়।
০৬. আল্লাহ তাআলার হুকুমের বিরোধিতা করে অন্য কারও সন্তুষ্টি অর্জনের পেছনে ছুটবেন না, নিজের ইচ্ছার ওপর শরিয়তের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেবেন। তিনি শরিয়তের বিধি মোতাবেক কারও বিরুদ্ধে রায় দিলে যদি কেউ তার সাথে শত্রুতা পোষণ করে, তাহলে তাঁর কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ, এটাই তো তাঁর দায়িত্ব।
০৭. জনগণ যদি শাসকের পক্ষ থেকে শাসকের কাছে বিচার চান, তাহলে তিনি ইনসাফ করবেন। যদি দয়া চান, তাহলে তিনি মাফ করে দেবেন। যদি তাদের সাথে কোনো বিষয়ে ওয়াদা দেন, তাহলে তিনি এর খিলাফ করবেন না।
০৮. শাসকের কর্তব্য মুত্তাকি একনিষ্ঠ আমলি আলিমদের সোহবত গ্রহণ করা, তাদের ওয়াজ নসিহত শোনা, সাথে সাথে ওই সব আলিমদের থেকে বিরত থাকবেন, যাদের অভ্যাসই হলো শাসকের প্রশংসা করা, তাঁর চাহিদানুযায়ী নসিহত করা, যাতে শাসক তাদের উপহার-উপঢৌকন দেন; চাই হালাল হোক বা হারাম।
০৯. তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন যাতে গর্ব, অহংকার না চলে আসে, বিশেষ করে ক্রোধ। কারণ, এই ক্রোধই আকল-বুদ্ধির শত্রু। তাছাড়া এর এত এত ক্ষতি আছে যে, বলে শেষ করা যাবে না।
১০. তিনি নিজে জুলুম থেকে বিরত থাকবেন না, বরং তাঁর কর্তব্য হলো—তাঁর সৈন্য, নায়িব, কাতিব, খাদিমসহ আরও যারা অধীনে থেকে কাজ করছে, সবাইকে জনগণের ওপর জুলুম করা থেকে বিরত রাখবেন। কারণ, এই জুলুমই সুলতানদের নেতৃত্ব শেষ করে দেয়。
টিকাঃ
আদ দুররাতুল গারবা, ফি নাসিহাতিম
০১. যখনই দেশে কোনো সমস্যা দেখা হবে, তিনি সেক্ষেত্রে নিজেকে জনগণ ভাববেন আর অপরজনকে শাসক ভাববেন, তখন যেটা নিজের কাছে ভালো লাগবে না, সেটা জনগণের কাছেও চাপাবেন না।
০২. তার দরজায় প্রয়োজনগ্রস্ত লোক এলে সেটাকে তুচ্ছ মনে করবেন না; বরং এর চিন্তা থেকেও দূরে থাকবেন। কারণ, আল্লাহ তাআলা চান না যে, জনগণের প্রয়োজন বিলম্বে পুরা করা হোক।
এই ব্যাপারে একটি ঘটনা বর্ণিত আছে। বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটল একদিন তাদের বাদশাহকে উপদেশ দিয়ে বললেন-বাদশাহ, কেউ যখন প্রয়োজনে পড়ে আপনার দরবারে আসে, আপনি তাদের প্রয়োজনপূরণে শিথিলতা করবেন না। যাতে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত বঞ্চিত না হয়ে যান।
০৩. দিনের পুরো সময় ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করবেন না; বরং চেষ্টা করবেন-কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা জনগণের দেখভাল করায় সময় বেশি ব্যয় করা যায়।
ঘটনা বর্ণিত আছে যে-গ্রিসের এক দার্শনিক তাদের এক শাসককে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিলেন-গাফেলদের মতো ঘুমিয়ে থাকবেন না, যাতে আপনার আদালত থেকে সুবিচারপ্রার্থীরা বঞ্চিত হয়ে আল্লাহর দরবারে বিচার না দিয়ে বসে। তখন আপনার রাষ্ট্র ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যাবে। কারণ, রাষ্ট্র তো একটা সূর্যের মতো, যার আলো সকালে এক দেওয়ালে পড়ে, বিকালে অপর দেওয়ালে পড়ে। তদ্রুপ রাষ্ট্রক্ষমতা শাসকের নাফরমানির কারণে (সূর্যের আলোর মতো) এক শাসক থেকে অপর শাসকের কাছে হস্তান্তিরিত হয়।
০৪. প্রত্যেকটা কাজ সহজে কোমলভাবে সমাধানের চেষ্টা করবেন, কঠোরভাবে করবেন না। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাসকদের জন্য দুআ করে বলেন-
اللهم ارفق على كل وال رفق على رعيته واعنف على كل وال عنف على فعلى رعيته
আয় আল্লাহ, যে সকল শাসকরা জনগণের সাথে কোমল আচরণ করে, আপনিও তাদের সাথে কোমল আচরণ করেন। আর যারা জনগণের সাথে কঠোর আচরণ করে আপনিও তাদের সাথে কঠোরতা করেন।
হিশাম ইবনু মালিকের ঘটনা: তিনি অনেক বড়ো একজন খলিফা ছিলেন। বর্ণিত আছে, তিনি একবার আবু হাজিম রহ.-কে যিনি ওই যুগের একজন প্রসিদ্ধ আলিম ও জাহিদ ছিলেন-জিজ্ঞাসা করেন শাসনকার্যে জুলুম না করার উপায় কী। তখন আবু হাজিম রহ. বলেন, আপনি যদি আসলেই জুলুম থেকে মুক্ত হতে চান তাহলে আপনার কর্তব্য, নির্দিষ্ট স্থান থেকেই শুধু কর নেবেন। আবার শরিয়ত নির্দেশিত খাতেই সেগুলো ব্যয় করবেন। তখন হিশাম বলেন-সেটা কার পক্ষেই বা সম্ভব? আবু হাজিম রহ. বলেন—তাঁর পক্ষেই সম্ভব যে জাহান্নামের আগুন সহ্য করতে পারে না।
০৫. তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন, যাতে অধিকাংশ জনগণ তাঁর প্রতি খুশি থাকে। তবে সেই খুশিটা শরিয়তসম্মত কারণেই হতে হবে। ঘটনা: একবার একজন শ্রেষ্ঠ আলিম এক বাদশাহকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন—আপনি যদি চান, আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকুক, তাঁর রহমত আপনার ওপর বর্ষিত হোক, তাহলে কোনো সাধারণ কারণ বা শরয়ি কারণ ছাড়া জনগণের সমালোচনাও করবেন না, তাদের মারবেনও না, জনগণের সন্তুষ্টি অর্জনের ক্ষেত্রে যেন শুধুই আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য হয়।
০৬. আল্লাহ তাআলার হুকুমের বিরোধিতা করে অন্য কারও সন্তুষ্টি অর্জনের পেছনে ছুটবেন না, নিজের ইচ্ছার ওপর শরিয়তের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেবেন। তিনি শরিয়তের বিধি মোতাবেক কারও বিরুদ্ধে রায় দিলে যদি কেউ তার সাথে শত্রুতা পোষণ করে, তাহলে তাঁর কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ, এটাই তো তাঁর দায়িত্ব।
০৭. জনগণ যদি শাসকের পক্ষ থেকে শাসকের কাছে বিচার চান, তাহলে তিনি ইনসাফ করবেন। যদি দয়া চান, তাহলে তিনি মাফ করে দেবেন। যদি তাদের সাথে কোনো বিষয়ে ওয়াদা দেন, তাহলে তিনি এর খিলাফ করবেন না।
০৮. শাসকের কর্তব্য মুত্তাকি একনিষ্ঠ আমলি আলিমদের সোহবত গ্রহণ করা, তাদের ওয়াজ নসিহত শোনা, সাথে সাথে ওই সব আলিমদের থেকে বিরত থাকবেন, যাদের অভ্যাসই হলো শাসকের প্রশংসা করা, তাঁর চাহিদানুযায়ী নসিহত করা, যাতে শাসক তাদের উপহার-উপঢৌকন দেন; চাই হালাল হোক বা হারাম।
০৯. তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন যাতে গর্ব, অহংকার না চলে আসে, বিশেষ করে ক্রোধ। কারণ, এই ক্রোধই আকল-বুদ্ধির শত্রু। তাছাড়া এর এত এত ক্ষতি আছে যে, বলে শেষ করা যাবে না।
১০. তিনি নিজে জুলুম থেকে বিরত থাকবেন না, বরং তাঁর কর্তব্য হলো—তাঁর সৈন্য, নায়িব, কাতিব, খাদিমসহ আরও যারা অধীনে থেকে কাজ করছে, সবাইকে জনগণের ওপর জুলুম করা থেকে বিরত রাখবেন। কারণ, এই জুলুমই সুলতানদের নেতৃত্ব শেষ করে দেয়。
টিকাঃ
আদ দুররাতুল গারবা, ফি নাসিহাতিম