📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 উমার রা.-এর রাষ্ট্রনীতি

📄 উমার রা.-এর রাষ্ট্রনীতি


এক. আবু ফারাস রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন—'লোকসকল, দেখো, আমরা তোমাদের সম্পর্কে জানতাম যখন আমাদের সামনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন। যখন ওহি নাজিল হতো, তখন আল্লাহ তাআলা তোমাদের সম্পর্কে কিছু বলতেন। কিন্তু এখন দেখো, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় নিয়েছেন, ওহি চলে গেছে। এখন তোমাদের মুখের কথা দিয়েই তোমাদের আমরা চিনব। যে ভালো কিছু প্রকাশ করবে, তার সম্পর্কে ভালো ধারণা করবো এবং সে কারণেই তাকে ভালোবাসব। আর যে খারাপ কিছু প্রকাশ করবে, তার সম্পর্কে খারাপ ধারণাই করতে হবে এবং সে কারণেই তাকে অপছন্দ করবো। আর তোমাদের মনের ও অভ্যন্তরীণ বিষয় তোমাদের মাঝে এবং তোমাদের রবের মাঝে থাকবে। দেখো একটা সময় ছিল, যখন আমি মনে করতাম, যে কুরআনে কারিম তিলাওয়াত করত তার উদ্দেশ্য থাকত শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁর প্রতিদান। শেষ পর্যন্ত এটাই আমাদের ধারণা ছিল; কিন্তু এখন দেখছি, কিছু লোক মানুষের সন্তুষ্টির আশায় কুরআন তিলাওয়াত করে। তোমরা কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই তিলাওয়াত করবে, তাঁর উদ্দেশ্যেই আমল করবে। শোনো, আল্লাহর কসম। আমি আমার শাসকদেরকে তোমাদের কাছে এজন্য পাঠাই না যে, তারা তোমাদের মারধর করবে, তোমাদের সম্পদ আত্মসাৎ করবে; বরং এ-জন্যই পাঠাই যে, তারা তোমাদের দ্বীন ও নবীর সুন্নাহ শিক্ষা দেবে। এখন কেউ যদি ভিন্ন কিছু করে তাহলে তার বিষয়টি আমার সামনে পেশ করো। ওই সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ তার থেকে আমি কিসাস গ্রহণ করব।'

তখন আমর ইবনুল আস রা. দাঁড়িয়ে বললেন- 'আমিরুল মুমিনিন, মুসলিম শাসক হওয়ার পর কোনো জনগণকে শাস্তি দিলে তার থেকে আপনি কিসাস নেবেন?'
তিনি বললেন- 'হ্যাঁ, যার হাতে উমারের জান তার কসম করে বলছি, অবশ্যই আমি তার থেকে কিসাস নেব। কেন নেব না? অথচ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি নিজের থেকে কিসাস গ্রহণ করছেন। সুতরাং সাবধান! মুসলিমদের গায়ে হাত দিয়ো না, না তাদের অপদস্থ করবে। তাদের পরিবারের সাথে মিলিত হতে বাধা দিয়ো না, তাহলে তাদের ফিতনায় ফেলে দেবে। তাদের হক আটকে রেখো না, হয়তো এটা তাদের কুফুরির দিকে নিয়ে যাবে। তাদের নিয়ে বড়ো কোনো গাছের কাছে যাত্রাবিরতি করো না। তাহলে তাদের হারিয়ে ফেলবে (কারণ, তখন তারা ছড়িয়ে পড়বে) ।

দুই. তারিখ বা সন প্রবর্তন: তিনিই প্রথম ইসলামি সন প্রবর্তন করেন। তারিখ অর্থ সময় জানানো। তদ্রূপ তাওরিখেরও একই অর্থ। ইমাম সাইদাবি রহ. বলেন, তারিখ ২। 'আরখ' ধাতু থেকে নেওয়া হয়েছে। যার অর্থ সৃষ্টি হওয়া, যেমন: সন্তান সৃষ্টি হওয়া।

ইমাম সাগানি রহ. বলেন-কেউ কেউ বলে, তারিখ ماه وروز থেকে আরবি করা হয়েছে। যার অর্থ দিন, মাস, বছর গণনা করা। পরবর্তীতে আরবরা শব্দটিকে আরবিতে রূপান্তরিত করে। ইসলামি সন প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট নিয়ে কয়েকটি বর্ণনা আছে-

(ক) ইবন সামারকান্দি রহ. বর্ণনা করেন, আবু মুসা আশআরি রা. উমার রা.-এর কাছে চিঠি লেখেন-আপনার যে সকল চিঠি আমাদের কাছে আসে, সেগুলোতে তারিখ লেখা থাকে না। তাই, বিভিন্ন অবস্থা ঠিক রাখার জন্য সন রচনা করলে ভালো হয়। তখন তিনি সন প্রবর্তন করলেন।

(খ) আবু ইয়াকজান রহ. বলেন—উমার রা.-এর সামনে একটি সিল পেশ করা হলে সেখানে শাবান মাস দেখতে পান। তিনি তখন বলেন—এটা কোন শাবান মাস-বর্তমান, অতীত না ভবিষ্যৎ।

(গ) ইবনু আব্বাস রা. বলেন-উমার রা. যখন সন প্রণয়নের ইচ্ছা করেন, তখন সাহাবায়ে কিরামকে একত্র করে পরামর্শ চাইলে সাদ ইবনু আব্বাস রা. বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তারিখ রচনা করেন। তালহা রা. বলেন-তাকে প্রেরণের সময়কে কেন্দ্র করে, আলি ইবনু আবি তালিব রা.-এর মত ছিল হিজরতকে কেন্দ্র করে হোক। কারণ, হিজরতের মাধ্যমেই সত্য-মিথ্যা পৃথক করা হয়েছে। অন্যরা বলল-জন্মকে কেন্দ্র করে। একদল বলল-নবুয়তকে কেন্দ্র করে।

সময়টি ছিল ১৭ হিজরির। কেউ কেউ বলেন-১৬ হিজরির। পরে তারা আলি রা.-এর মতের ওপর একমত পোষণ করেন। সহিহ বুখারির প্রখ্যাত ভাষ্যকার ইবনু হাজার রহ. ফাতহুল বারিতে বলেন, সুহাইলি রহ. বলেন, সাহাবায়ে কিরাম হিজরি সন প্রবর্তন করেছেন কুরআনে কারিমের এই আয়াতকে লক্ষ্য করে-

للمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَىٰ مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ ..

'যে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকওয়ার ওপর, প্রথম দিন থেকে।'

কারণ জানা বিষয়, এখানে অনির্দিষ্ট প্রথম দিন উদ্দেশ্য নয়; বরং নির্দিষ্ট দিনই উদ্দেশ্য। আর সেটা ওই সময় যখন ইসলাম বিজয় লাভ করেছে, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিশ্চিন্তে মহান রব্বল আলামিনের ইবাদাত করেছেন এবং প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেছেন। তাই, সাহাবায়ে কিরাম একমত হলেন যে, তারিখের সূচনা সেই দিনকে কেন্দ্র করেই হোক। তাদের এই কাজ থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, مِنْ أَوَّلُ يَوْمٍ তথা প্রথম দিন বলে উদ্দেশ্য ইসলামি ইতিহাসের প্রথম দিন।

তিনি আরও বলেন—চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সন প্রবর্তন করা যায়—নবীজির জন্ম, প্রেরণ, হিজরত এবং মৃত্যু; কিন্তু তাদের কাছে হিজরতকে কেন্দ্র করে প্রবর্তন করাই অগ্রাধিকার পেল। কারণ, জন্ম ও প্রেরণের সময়কাল বিরোধপূর্ণ। আর তারা মৃত্যুকে নির্ধারণ করেন নি। কারণ, তা শুনলেই মন দুঃখ-কষ্টে ভরে যাবে। তাই হিজরতই প্রাধান্য পেল।

মুহাররম মাস থেকে শুরু করার কারণ: ইবনু হাজার রহ. বলেন—'(হিজরতের মাস) রবিউল আউয়াল মাসে হিজরি সনের গণনা শুরু না হয়ে মুহাররম মাস থেকে শুরু করা হয়েছে। কারণ, হিজরতের পরিকল্পনা হয় মুহাররম মাসে। নবীজির হাতে (আনসারদের) বাইআত সংগঠিত হয় জিলহজের মাঝ বরাবর। আর এই বাইআতই ছিল হিজরতের মূল ভূমিকা। আর বাইআতের পর সর্বপ্রথম যে মাসের সূচনা হয়, তা ছিল মুহাররম। তাই, এই মাসকে দিয়ে সূচনা করাই যুক্তিযুক্ত ছিল। মুহাররম মাসে শুরু করার আরও যতগুলো যুক্তি আছে, তার মধ্যে এটাকেই আমার শক্তিশালী মনে হয়েছে।'

সূরা ফজরের তাফসির করতে গিয়ে ইমাম সুয়তি রহ. ইকলিল গ্রন্থে বলেন, সায়িদ ইবনু মানসুর এবং বাইহাকি রহ. ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন—মুহাররম মাসই হলো বছরের প্রভাত।

ইবনু হাজার রহ. বলেন—এর মাধ্যমে বুঝে আসে, কেন সাহাবায়ে কিরাম হিজরতের মাস রবিউল আউয়াল থেকে হিজরি সনের গণনা শুরু না করে মুহাররম মাস থেকে শুরু করেছেন।

তিন. বাইতুল মালের সূচনা;
চার. দিওয়ানের প্রবর্তন;

বাইতুল মাল হলো যেখানে রাষ্ট্রের অর্থ সঞ্চয় ও হিফাজত করে রাখা হয়। আর দিওয়ান বলে রাষ্ট্রীয় নথি ও খতিয়ানকে, যেখানে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি রেকর্ড করে রাখা হয়। ইসলামি রাষ্ট্রের প্রাথমিক যুগে প্রচলিত বাইতুল মাল ছিল না। কারণ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে যখনই কোনো অর্থ আসত, তিনি সাথে সাথেই তা বণ্টন করে দিতেন। আবু বকর রা.-ও একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। শুরুর যুগে উমার রা.-ও একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন; কিন্তু পরবর্তী সময়ে যখন ইসলামি খিলাফত পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত হলো, তখন তিনি একটি পদ্ধতি অবলম্বনের চিন্তা করলেন, যার মাধ্যমে খলিফার দায়িত্বে থাকা যাবতীয় অর্থ, এবং সৈন্যদের বিপুল সংখ্য হিসাব রাখা সম্ভব হয়। এ কারণে সৈন্য ও বিভিন্ন পদে থাকা ব্যক্তিদের নাম সংরক্ষণ করার প্রয়োজন দেখা দিল। কারণ, এছাড়া জানার উপায় নেই যে, কাকে একবার দেওয়া হলো, আবার কাকে দেওয়া হলো।

না। তখন আবার মুসলিম উম্মাহর বিজয় একটার পর একটা হতেই থাকল। ফলে এত পরিমাণ সম্পদ জমা হলো, যা ইতোপূর্বে মুসলিমদের আর কখনোই ছিল না।

তখন উমার রা. দেখলেন—এভাবে এগুলোর হিসাব রাখা খলিফা ও শাসকের পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া এত বিশাল অর্থ-সম্পদ কোনো হিসাব-কিতাব ছাড়াই ব্যক্তিবর্গের হাতে রেখে দেওয়াটাও অর্থনীতির খিলাফ। তখন তার সেই অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়নের চিন্তার ফসলই ছিল বাইতুল মাল। এখান থেকেই দিওয়ান তৈরি করা হয়। মূলত উমার রা. এই ইসলামি রাষ্ট্রে প্রথম দিওয়ান প্রণয়ন করেন।

যখন বাহরাইন থেকে অঢেল সম্পদ আসে, তখন অর্থনীতি নিয়ে তার এই চিন্তা শুরু হয়েছিল। আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—'বাহরাইন থেকে আমি পাঁচ লক্ষ দিরহাম নিয়ে উমার রা.-এর কাছে রাতে এলাম। বললাম— আমিরুল মুমিনিন! এই অর্থগুলো রাখেন।'

তিনি জিজ্ঞেস করলেন— 'কী পরিমাণ?'

আমি বললাম—'৫ লক্ষ পরিমাণ।'

তিনি বললেন—'আপনি জানেন, ৫ লক্ষ দিরহাম কী পরিমাণ?'

আমি বললাম—'হ্যাঁ, এক লক্ষ দিরহাম ৫ দিয়ে গুণ করলেই ৫ লক্ষ দিরহাম।'

তিনি বললেন—'আপনার চোখে ঘুম ঘুম ভাব, রাতে ঘুমিয়ে সকালে আসেন।'

সকাল হলে আবার তার কাছে গিয়ে বললাম—'এই সম্পদগুলো রেখে দেন।'

তিনি বললেন—'কী পরিমাণ?'

আমি বললাম—'৫ লক্ষ দিরহাম।'

তিনি বললেন— 'বৈধ উপায়ে এসেছে তো?'

আমি বললাম— 'আমার জানামতে বৈধ উপায়েই এসেছে।'

তখন তিনি লোকদের বললেন— 'দেখো, এখন প্রচুর সম্পদ এসেছে। তোমরা যদি চাও, তাহলে পাত্রে মেপে দেব, না হয় ওজন করে দেব, কিংবা চাইলে গুণেও দেব!'

তখন এক লোক বলল—'আমিরুল মুমিনিন, আপনি সবার নামগুলো একটি ফাইলে সংরক্ষণ করে রাখেন। এরপর সে অনুযায়ী বণ্টন করবেন।'

উমার রা.-এর কাছে প্রস্তাবটি বেশ ভালো লাগল।

পাঁচ. উমার রা. প্রত্যেক এলাকায় তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রশাসক নিযুক্ত করতেন। আবু ইউসুফ রহ.-এর খারাজ নামক গ্রন্থে আছে, উমার রা. কুফাবাসীর কাছে পত্র লিখে বলেন যে, তারা যেন তার কাছে তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম ব্যক্তিকে প্রেরণ করে, বসরা ও শামবাসীদের কাছেও অনুরূপ পত্র লেখেন। তখন কুফাবাসী উসমান ইবনু ফারকাদকে, শামবাসী মান ইবনু ইয়াজিদ, বসরার অধিবাসী হাজ্জাজ ইবনু গালাতকে পাঠান। তাদের প্রত্যেকেই একে অপরের সমতুল্য ছিলেন।

উমার রা. তাদের প্রত্যেককেই খারাজের (জমির রাজ্যস্ব-ভার) দায়িত্ব দিয়েছেন।

ছয়. উমার রা. যেকোনো নতুন বিষয়ে পরামর্শ করতেন। নিয়ার আসলামি রহ. থেকে বর্ণিত, উমার রা.-এর সামনে কোনো নতুন বিষয় দেখা দিলে পরামর্শ সভার সাথে, আনসারদের থেকে মুআজ ইবনু জাবাল, উবাই ইবনু কাব এবং জায়িদ ইবনু সাবিত রা.-দের সাথে পরার্মশ করতেন।

সাত. আদালতে উমার রা.-এর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ: উমার রা.-এর যুগে ইসলাম যখন চতুর্দিক ছড়িয়ে পড়ল, খিলাফত যখন চারপাশে বিস্তৃত হলো, তখন খলিফার ব্যস্ততা বেড়ে গেল, বড়ো বড়ো শহরের গভর্নরদের কাজ বেড়ে গেল, মামলা- মোকদ্দমাও বৃদ্ধি পেতে থাকল। তখন উমার রা. সবগুলো ব্যবস্থাপনা স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চিন্তা করলেন, যাতে প্রশাসক শাসনাধীন বিষয়গুলোতে ভালোভাবে সময় দিতে পারেন। সে সময় উমার রা. বিভিন্ন শহরে; যেমন: কুফা, বসরা, শাম, মিসরে কাজি নিয়োগ দেন। অতএব, উমার রা.-ই সর্বপ্রথম স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে কাজি নিযুক্ত করেন, বিচার-ব্যবস্থাকে শুধু তাদের সাথেই নির্দিষ্ট করে দেন এবং শাসক- প্রশাসকদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করেন। তিনি নিজেই তাদের নিয়োগ দিতেন, তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। তিনি বলতেন-বিচার-ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা হলে শুধু তার কাছেই যেন পেশ করে, কোনো শাসক যেন সেখানে অনধিকার চর্চা না করে।

তদ্রুপ উমার রা.-ই সর্বপ্রথম কাজিদের ভাতা আলাদাভাবে বাইতুল মাল থেকে প্রদান করতেন। তার পূর্বে এই পদ্ধতি ছিল না। কারণ, আলাদাভাবে কাজীদের ভাতা-ব্যবস্থা নববি যুগেও ছিল না, আবু বকর রা.-এর যুগেও ছিল না।

আট. তার আরেকটি রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ ছিল, তিনি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা.- কে নেতৃত্ব থেকে বরখাস্ত করেন। কারণ, মানুষ তার ব্যাপারে ফিতনায় পড়ে গিয়েছিল। সব যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার ফলে সবাই আল্লাহকে ভুলে গিয়ে তাকেই বিজয় দানকারী মনে করত।

আদি ইবনু সাহল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-উমার রা. বিভিন্ন শহরে পত্র লিখে পাঠান যে, আমি খালিদ রা.-কে কোনো অসন্তুষ্টি বা খিয়ানতের কারণে বরখাস্ত করি নি। আসলে মানুষ তার ব্যাপারে ফিতনায় আক্রান্ত হয়েছিল। তাই, আমার আশঙ্কা ছিল যে, তারা খালিদ রা.-এর ওপর নির্ভর হয়ে পরীক্ষায় পড়ে যাবে। তখন আমি চাইলাম, সবাই জানুক প্রকৃতপক্ষে সমস্ত কাজ সম্পাদনা করেন একমাত্র আল্লাহই। তারা যেন এ ব্যাপারে ফিতনায় পড়ে না যায়

টিকাঃ
১৯৮৩ উমদাতুল কারি, খণ্ড: ১৯/
১** সিয়াসাতুল মাল ফীল ইসলাম, ১৫৭
১৯৮৩ খারাজ নামক কিতাবে আবু ইউসুফ চরর্ণনা করেন। পৃষ্ঠা: ৫৬
১৮৭ কানযুল উম্মাল, ৩৭০১৯

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 উসমান রা.-এর কিছু উপদেশ

📄 উসমান রা.-এর কিছু উপদেশ


এক. তার বাইআত গ্রহণ করার পর তিনি সবার উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন, সেখানে তিনি বললেন- 'এই দুনিয়া সবুজ শ্যামলরূপে মানুষের সামনে শোভিত করে রাখা হয়েছে। ফলে বহু মানুষ তার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তোমরা কিন্তু দুনিয়ার দিকে ঝুঁকে না, তাকে বিশ্বাসও করবে না। কারণ, সে বিশ্বাসের যোগ্য নয়। মনে রাখবে, যে এই দুনিয়াকে এড়িয়ে যাবে, দুনিয়াই তার পেছনে ছুটবে।'

দুই. একবার তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে পত্র লিখে বলেন-'তোমরা অনুসন্ধান করার মাধ্যমে অনেক উপরে উন্নীত হয়েছ, তবে সাবধান! দুনিয়া যেন তোমাদেরকে তোমাদের নিজে দায়িত্ব থেকে ফেরাতে না পারে। কারণ, তিনটি জিনিস পাওয়া যাওয়ার পর এই উম্মাহ অচিরেই বিদআতের দিকে ধাবিত হবে-
* ০১. নিয়ামতের পূর্ণতা,
* ০২. মণিমুক্তার সাথে তোমাদের সন্তানদের বেড়ে ওঠা,
* ০৩. বেদুইন ও অনারবদের কুরআন পড়তে পারা।

কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-অস্পষ্টতার কারণে কুফুরি সৃষ্টি হয়। অনারবদের কাছে যখন কোনো বিষয় অস্পষ্ট হয়, তখন তারা কৃত্রিমভাবে ব্যাখ্যা করে আর বিদআত তথা নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করে।

এই খুতবার লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে-উসমান রা. সাধারণ জনগণকে অনুসরণ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং কৃত্রিমতা ও বিদআত বর্জন করার কথা বলেছেন। বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন করেছেন, যখন তিনটি অসম্পূর্ণতা বা ত্রুটি তাদের মাঝে চলে আসবে-
* ০১. নিয়ামতের পরিপূর্ণতা, যা মানুষকে অহংকারী ও কাপুরুষ করে ছাড়ে, শৌখিনতা ও বিলাসিতায় ভাসিয়ে দেয়। ফলে এক সময় তার ইচ্ছাশক্তিও দুর্বল হয়ে যায়।
* ০২. মণিমুক্তার সাথে সন্তান বেড়ে ওঠা।
* ০৩. বেদুইন ও অনারবদের কুরআন পড়তে পারা।

বেদুঈন দ্বারা উসমান রা. তাদের রুক্ষতা ও কর্কশতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। যার ফলে কুরআনের হিদায়াতের পয়গাম তাদের অন্তরে পৌঁছতে পারে না। একইভাবে অনারব দ্বারা বুঝিয়েছেন, তাদের পূর্ববর্তীদের থেকে পাওয়া স্বভাব-চরিত্র, রীতিনীতি, আচার-আচরণ, যা তাদের কুরআনে কারিমের হিদায়াতের পথ থেকে দূরে রাখে। এজন্যই দেখা যায়, অধিকাংশ বিদআতই বেদুইন ও অনারবদের থেকে সৃষ্ট।

টিকাঃ
১৮৮ তারিখুত তাবারি, খণ্ড: ৭
১৮৯ তারিখুত তাবারি, সব্দ

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 উসমান রা.-এর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ

📄 উসমান রা.-এর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ


প্রশাসক ও গভর্নরদের ক্ষেত্রে তার একটি রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ ছিল, তিনি তার প্রশাসকদের কাছে পত্র লিখে বলেন- 'দেখো, আল্লাহ তাআলা শাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেন রক্ষক হয়। তাদের এ-কথা বলেন-তারা যেন রক্ষক হয় (কর আদায়কারী) এই উম্মাহর অগ্রভাগ জামাআত রক্ষক ছিল, ভক্ষক ছিল না। তবে খুবই আশঙ্কা যে, শাসকরা ভক্ষক হয়ে যাবে, (শুধু রাজস্ব নিয়েই চিন্তা করবে) রক্ষক থাকবে না (প্রজাদের দেখভাল করবে না)। যদি তারা এমনটাই করে, তাহলে লজ্জা উঠে যাবে, আমানতদারিতা ও আনুগত্য চলে যাবে। শোনো, সবচেয়ে উত্তম পন্থা হচ্ছে-তোমরা মুসলিমদের বিষয়াদির দেখভাল করবে, একই সাথে তাদের কর্তব্যেরও খেয়াল রাখবে। তাদের প্রাপ্য তাদের দেবে। তাদের কর্তব্য তাদের থেকে আদায় করবে। জিম্মিদের ক্ষেত্রেও দুটো বিষয় খেয়াল করবে-তাদের প্রাপ্য তাদের দেবে এবং তাদের দায়িত্ব তাদের থেকে বুঝে নেবে। তারপর যে সকল শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, তাদের সাথে আনুগত্যের সাথে বিজয় লাভ করো。

এখান থেকে বোঝা যায় যে, উসমান রা. প্রশাসকদের কাছে পাঠানো এই পত্রে জনগণের ওপর তাদের দায়-দায়িত্বের বিষয়ে খুব জোর দিয়েছেন। তিনি তাদের ভালো করে বুঝিয়েছেন যে-তাদের দায়িত্ব সম্পদ জমা করা নয়, বরং তাদের কর্তব্য হচ্ছে জনগণের দেখভাল করা। এ কারণে তিনি সুস্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, কীভাবে মানুষদের শাসন করবে। অর্থাৎ, জনগণ থেকে তাদের কর্তব্য আদায় করা এবং তাদের তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া। তারা যদি এমনটা করে, তাহলে এই উম্মাহ ঠিক থাকবে। আর তারা যদি রক্ষক হয়ে যায়, শুধু সম্পদ নিয়েই চিন্তা করে, তাহলে লজ্জা-শরম উঠে যাবে, আমানতদারিতা ও বিশ্বস্ততা চলে যাবে।

টিকাঃ
১৯০ তারিখুত তাবারি, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ২৪৪৮

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 আলি রা. এর কিছু উপদেশ

📄 আলি রা. এর কিছু উপদেশ


০১. আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলি রা. বলেছেন- 'কিছু উপদেশ এমন আছে, সে অনুযায়ী যদি তোমরা কোনো পশুকেও চালাতে থাকো, তাহলে তার মতো আরেকটা পশুর নাগাল পাওয়ার আগেই সেটাকে ক্লান্ত করে ফেলবে। তাই, একজন বান্দার উচিত হলো: * (ক) বান্দা যেন তার রবের কাছেই শুধু আশা করে; * (খ) তার গুনাহকেই যেন ভয় করে;

(গ) যে জানে না সে যেন জানতে লজ্জাবোধ না করে; (ঘ) যখন কোনো আলিমকে তার অজানা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন যেন এ কথা বলতে লজ্জাবোধ না করে—'আল্লাহই ভালো জানেন'।

শুনে রাখো—ঈমান থেকে সবরের স্থান হলো শরীর থেকে মাথার স্থানের মতো। যদি মাথাই না থাকে, তাহলে শরীরের কোনো মূল্য নেই। তদ্রূপ যদি সবর না থাকে, তাহলে ঈমানের কোনো মূল্য নেই।

০২. হারিস থেকে বর্ণিত, তিনি আলি রা. থেকে বর্ণনা করেন—'যে ঈমান আনার পর কুরআন শিখবে, তার উদাহরণ হচ্ছে এমন ফলের মতো, যার ঘ্রাণও সুন্দর, স্বাদও মিষ্ট। আর যে ঈমানও আনে নি, কুরআনও শেখে নি, তার উদাহরণ হলো এমন টক ফলের মতো, যার ঘ্রাণও অসুন্দর, স্বাদও তিতা।'

০৩. বনু আমির গোত্রের একজন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলি রা. বলেছেন— 'আমি তোমাদের ব্যাপারে দুটো জিনিসের আশঙ্কা করি— এক. দীর্ঘায়ুর আকাঙ্ক্ষা; ও দুই. খাহেশাতের অনুসরণ। দীর্ঘায়ু কামনা আখিরাতকে ভুলিয়ে দেয়, আর খাহেশাতের অনুসরণ সত্য থেকে বিমুখ করে। দুনিয়া পশ্চাতে চলে গেছে, আর আখিরাত সামনেই আসছে। দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টিরই অনেক গোলাম আছে, তোমরা আখিরাতের গোলাম হও। কারণ আজ আমলের সুযোগ আছে, কিন্তু হিসাব নেওয়া হবে না। আর আগামীকাল হিসাব হবে, কিন্তু আমলের সুযোগ হবে না।”

০৪. হাসান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলি রা. বলেছেন—'এমন ব্যক্তি বড়োই সৌভাগ্যবান যে গুমনাম—সবাইকে চেনে, কিন্তু সবাই তাকে চেনে না। তবে আল্লাহ তাআলা তাকে সন্তোষজনক হিসাবে জানেন। তারাই হলো হিদায়াতের প্রদীপ, যাদের মাধ্যমে প্রতিটি অন্ধকারও যেন দূরীভূত হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা তাদের আপন রহমতে দাখিল করবেন। তারা মানুষের গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করে বেড়ায় না, রূঢ় ব্যবহার করে না, মানুষকে দেখিয়ে আমল করে না।
ইবনু হাজার হাইতামি রহ.-এর সাওয়াইক গ্রন্থে আছে, আলি রা. এর নীতিবাক্য—
০১. মানুষ এতটাই অসচেতন যে, মৃত্যুর আগে তার চেতন ফিরে পাবে না।

> মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা
** মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা
১৯০ মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইব

০২. যে নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে খেয়াল রাখে, সে ব্যর্থ হয় না। মানুষকে যা সুন্দর করে তোলে সেটার বিচারেই তাকে মূল্য দেওয়া হবে।

০৩. যে নিজেকে ভালো করে চেনে, সে তার রবকেও চিনতে পারে।

০৪. মানুষ তার জিহ্বার কাছে লুক্কায়িত। (অর্থাৎ, নিজের খারাপ অবস্থা সম্পর্কে বলে না, বরং অন্যের ব্যাপার নিয়ে মুখ চালু রাখে..)

০৫. যে নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করে, তার অনেক সঙ্গী তৈরি হয়।

০৬. ইহসান ও সদাচারের মাধ্যমে স্বাধীন ব্যক্তিকেও দাস ও গোলাম বানানো যায়।

০৭. বিপদের সময় ছটফট করলে বিপদ মহাবিপদে পরিণত হয়।

০৮. বিদ্রোহ করে বিজয় অর্জন করাকে বিজয় বলে না।

০৯. অহংকারী কখনো প্রশংসার যোগ্য নয়।

১০. অতিভোজন স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

১১. বেয়াদবের কোনো সম্মান নেই।

১২. হিংসুকের শান্তি নেই।

১৩. প্রতিশোধের ইচ্ছা থাকলে নেতৃত্ব দেওয়া যায় না।

১৪. পরামর্শ ব্যতীত কোনো কাজ করলে সেটা সঠিক হতে পারে না।

১৫. মিথ্যুক কখনো অভিজাত হতে পারে না।

১৬. মুত্তাকির সম্মানের চেয়ে আর কোনো মর্যাদাপূর্ণ সম্মান হয় না।

১৭. তাওবার চেয়ে সফল কোনো সুপারিশকারী নেই।

১৮. পবিত্রতার চাইতে সুন্দর কোনো লিবাস (আবরণকারী) হতে পারে না।

১৯. মূর্খতার চাইতে ভয়ংকর কোনো রোগ নেই।

২০. মানুষ যা জানে না, তাকে শত্রু মনে করে।

২১. যে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন থাকে, সীমানা অতিক্রম করে না-এমন ব্যক্তিকে আল্লাহ রহম করুন।

২২. বার বার ওজর পেশ করা ব্যক্তির গুনাহের দিকে ইঙ্গিত করে।

২৩. সভাসদবর্গকে উপদেশ দেওয়ার অর্থ নিন্দা করা।

২৪. কোনো জাহেলের ওপর ইহসান করার অর্থ হলো আবর্জনার ওপর বাগান তৈরি করা।

২৫. অস্থিরতা সবরের চেয়েও বেশি কষ্টকর।

২৬. জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি (উত্তরের) ওয়াদা দেওয়ার আগ পর্যন্ত সুাধীন।

২৭. যার ষড়যন্ত্র যত বেশি গোপনীয়, সেই তত বড়ো শত্রু।

২৮. হিকমত ও প্রজ্ঞা মুমিনের হারানো সম্পদ।

২৯. কৃপণতা সব ধরনের দোষের মূল।

৩০. যখন তাকদির নেমে আসে, তখন চেষ্টা-তদবির ব্যর্থ হয়ে যায়। প্রবৃত্তির দাস গোলামির দাসের চেয়েও লাঞ্ছিত।

৩১. যার কোনো দোষ নেই, হিংসুক তার ওপরও বেজার।

৩২. অপরাধের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে কোনো অপরাধীর সুপারিশ করে।

৩৩. সে-ই সৌভাগ্যবান, যে অনেক নসিহত গ্রহণ করে।

৩৪. ইহসান ও সদাচার শত্রুর মুখ বন্ধ করে দেয়।

৩৫. সে-ই সবচেয়ে দরিদ্র, যার বুদ্ধি নেই।

৩৬. যার জ্ঞান আছে, সে-ই সেরা ধনী।

৩৭. লোভী অপদস্থতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ।

৩৮. অধিকাংশ সময় লোভের বেড়াজালে আটকা পড়েই মানুষ পরাস্ত হয়।

৩৯. যখন তোমাদের কাছে অনেক নিয়ামত আসে, তখন না-শোকরি করে সেগুলোকে বিলুপ্ত করে দিও না।

৪০. যখন শত্রুকে নাগালে পাও, তখন নাগালে পাওয়ার শুকরিয়া হিসেবে তাকে ক্ষমা করে দাও।

৪১. কৃপণতা মূলত দারিদ্র্যকেই ডেকে নিয়ে আসে। দুনিয়াতে গরিবদের মতো বসবাস করে, অথচ আখিরাতে ধনীদের কাতারে হিসাব নেওয়া হবে।

৪২. জ্ঞানী ব্যক্তির মুখ অন্তরের পেছনে থাকে, আর মূর্খ ব্যক্তির অন্তর মুখের পেছনে থাকে।

৪৩. ইলম সাধারণকেও অসাধারণ করে তোলে, আর মূর্খতা উচ্চকেও অনুষ্ঠ করে ছাড়ে।

৪৪. ইলম সম্পদের চেয়ে শতভাগ শ্রেষ্ঠ।

৪৫. ইলম তোমাকে রক্ষা করে, অথচ তুমি সম্পদকে রক্ষা করো।

৪৬. ইলম বিচার করে, আর সম্পদের বিচার করা হয়।

৪৭. আমাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে রাখে নির্লজ্জ আলিম এবং অজ্ঞ আবেদ। নির্লজ্জ আলিম মানুষকে ফতোয়া দেয়, আর তার নির্লজ্জতা দিয়ে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখে। আর অজ্ঞ আবেদ তার ইবাদতের মাধ্যমে মানুষকে ভ্রষ্ট করে।

৪৮. যার ইলম কম, সে-ই সবচেয়ে কম মূল্যবান। কারণ, প্রত্যেক মানুষের মূল্যমান নির্ধারণ করা হয় ওই জিনিসের মাধ্যমে, যা তাকে উত্তম করে তোলে。

টিকাঃ
** মুসান্নাফ ইবনি আরি নাট

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00