📄 অযোগ্য শাসককে উৎখাত করা
যদি অযোগ্যকে শাসককে উৎখাত করা এবং যোগ্যকে শাসন ক্ষমতায় বসানোর ক্ষেত্রে ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাকে উৎখাত করা যাবে না। তদ্রুপ যদি যোগ্য ব্যক্তি না থাকায় অযোগ্য ব্যক্তিকে শাসন ক্ষমতায় বসানো হয়, সাথে সাথে তার ক্ষমতা পাকাপোক্তও হয়ে যায়, তারপর যোগ্য ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে; তাহলে তাকে উৎখাত করা, অথবা তার পরিবর্তে অন্য কাউকে শাসন ক্ষমতায় বসানো মুসলিমদের জন্য বৈধ নয়, যদি তাতে ফিতনা ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
ইমাম শাতিবি রহ. ইতিসাম গ্রন্থে (২/১৫৩) লিখেছেন— 'ইমাম গাজালি রহ. বাইআতুল মাফযুল মাআ উজুদিল আফজাল কিতাবে বলেন, মুজতাহিদ আর গাইরে মুজতাহিদের মাঝে যদি শাসন-পদের বিচার করা হয়, তাহলে মুজতাহিদকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। কারণ, মুজতাহিদ নিজের ইলমের ওপর সুনির্ভর, আর গাইরে মুজতাহিদ পরনির্ভর; আর সুনির্ভরতা একটি গুণ। মূলনীতি হলো, বৈশিষ্ট্য বা গুণকে বিবেচনা করার সুযোগ থাকলে সেটাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।'
অপরদিকে, যদি বাইআত বা পূববর্তী শাসকের অসিয়তনামার মাধ্যমে কোনো গাইরে মুজতাহিদকে শাসক বানানো হয়, অতঃপর তার শক্তি ও প্রতাপ পাকাপোক্ত হয়ে যায়, সবাই তার আনুগত্যও স্বীকার করে নেয়, তাহলে তাকে বহাল রাখা হবে, যদি তখন কুরাইশ, ইজতিহাদ ও অন্যান্য শর্তাবলি কারও মাঝে না পাওয়া যায়।
আর যদি পরবর্তী সময়ে খিলাফতের শর্তাবলি আছে এমন কাউকে পাওয়া যায়, কিন্তু অযোগ্যকে অপসারণ করলে অনেক ফিতনা ও সমস্যা সৃষ্টি হয়, তাহলে তাকে অপসারণ করা যাবে না, তার পরিবর্তে অন্য কাউকে আনা যাবে না; বরং তার আনুগত্য আবশ্যক থাকবে, তার শাসন চালিয়ে নেওয়া হবে।
মোটকথা, তার নেতৃত্ব সহিহ থাকবে। কারণ, ইজতিহাদের উদ্দেশ্য অতিরিক্ত ফায়দা। অর্থাৎ, অন্যের অনুসরণে অমুখাপেক্ষিতা এবং নিজের জ্ঞানের ওপর সুনির্ভরতা লাভ। আর খিলাফতের উদ্দেশ্য মতপার্থক্যের দরুন যেন ফিতনা সৃষ্টি না হয়, সবাই যাতে এক পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়। এখন ক্ষুদ্র কিছু লাভের চিন্তা এবং নিছক অপ্রয়োজনীয় ফায়দা লাভের জন্য ফিতনা সৃষ্টি করে, আইন-কানুনের ধার না ধরে গোলমাল করে বৃহৎ এবং মূল ফায়দা বিসর্জন দেওয়া কীভাবে বৈধ হতে পারে?