📄 নারীরা শাসক হলে যে সকল সমস্যা দেখা দেবে
প্রথমত: রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে বের হতে হবে। আর এজন্য পুরুষদের সাথে আবশ্যিকভাবেই মিলতে হবে। অথচ ইসলাম নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ থেকে নিষেধ করেছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
لا يخلون رجل بامرأة إلا كان ثالثهما الشيطان
যখনই কোনো পুরুষ কোনো (গাইরে মাহরাম) নারীর সাথে মিলিত হয়, তখন শয়তানের তাদের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত হয়。
তাছাড়া এরকমভাবে বাহিরে থাকলে নিজের ঘরে স্থির থাকা সম্ভব হয় না। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন— 'আর তোমরা নিজেদের ঘরে স্থির থাকো।'
এখানে 'তোমরা' বলে যদিও নবীপত্নীদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে, কিন্তু এই বিধান সমস্ত নারীর জন্যই কার্যকর। আল্লামা আলুসি রহ. বলেন-'এই আয়াতের উদ্দেশ্য নবীপত্নীদের রা. ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া। আর ঘরে থাকার বিষয়টি প্রত্যেক নারীর কাছ থেকেই কাম্য।
ইবনু মাসউদ রা. থেকে ইমাম তিরমিজি এবং বাজ্জার রহ. বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
إِنَّ الْمَرْأَةَ فَإِذَا خَرَجَتْ مِنْ بَيْتِهَا اِسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ وَأَقْرَبُ مَا تَكُونُ مِنْ رَحْمَةِ رَبِّهَا وَهِيَ فِي قَعْرِ بَيْتِهَا
নারী হচ্ছে আবরণীয় সত্ত্বা। যখন সে (ঘর থেকে) বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষদের চোখে শোভামণ্ডিত করে তোলে। আর যখন সে ঘরে অবস্থান করে, তখন তার রবের অধিক নিকটবর্তী থাকে।
বাজ্জার রহ. আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—নারীরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, পুরুষরা তো ভালো ভালো কাজ ও জিহাদ করতে পারছে। অতএব, আমাদের কি এমন আমল করার সুযোগ আছে, যার মাধ্যমে মুজাহিদদের সাওয়াব অর্জন করতে পারি?'
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন— 'তোমাদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকবে, তারাই আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদদের সাওয়াব অর্জন করতে পারবে。
তাফসিরে কুরতুবিতে (১৪/১৭৯) আছে— 'এই আয়াতে ঘরে অবস্থান করার আদেশ করা হয়েছে। যদিও এখানে বাহ্যিকভাবে নবীপত্নীদেরকে রা. সম্বোধন করা হচ্ছে, তবে পরোক্ষভাবে অন্যান্য নারীরাও শামিল। কারণ, এখানে এমন কোনো নির্দেশনা নেই, যা নির্দিষ্ট বোঝায়। তাছাড়া নারীদের ঘরে থাকা এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে শরিয়তে বহু প্রমাণাদি রয়েছে, যেমনটি অনেক জায়গায় আলোচনা করা হয়েছে। এখানে আল্লাহ তাআলা নবীপত্নীদের রা. ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর তাদের সম্মানার্থে কেবল তাদেরকে সম্বোধন করেছেন।'
দ্বিতীয়ত: রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজ করতে গেলে কখনো অনেক কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়, কখনো বিশাল বড়ো দায়িত্ব এবং গুরুভার বিষয় নিয়ে অগ্রসর হতে হয়, শক্তিধর পুরুষরা ছাড়া অন্য কেউ এক্ষেত্রে আগে বাড়তেই পারে না। তাহলে একজন দুর্বল নারী কীভাবে এ দায়িত্ব কাঁধে নেবেন।
তৃতীয়ত: কর্তৃত্ব শুধু পুরুষদের জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন-
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ
'পুরুষরা নারীদের ওপর কর্তৃত্ববান।'
টিকাঃ
১৪৪ জামি তিরমিজি, ২১৬৫
১৪৫ সূরা আহজাব, আয়াত: ৩৩
১৪৬ রুহুল মাআনি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা