📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 ইমামতে কুবরার জন্য শর্তাবলি

📄 ইমামতে কুবরার জন্য শর্তাবলি


০১. মুসলিম হওয়া। কারণ কোনো কাফির কোনো মুসলিমের ওপর কর্তৃত্ব রাখতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন

وَلَن يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلاً

আর কিছুতেই আল্লাহ মুসলিমদের ওপর কাফিরদের কর্তৃত্ব রাখবেন না। তাছাড়া আল্লাহ তাআলা আমাদের কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করতেই নিষেধ করেছেন। তাহলে আমরা কীভাবে তাদেরকে আমাদের শাসক বানাবো? আল্লাহ তাআলা বলেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَوَلَّوْا قَوْمًا غَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ

মুমিনগণ, তোমরা এমন সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করো না, যাদের ওপর আল্লাহ ক্রুদ্ধ হয়ে আছেন।

আর এটা স্পষ্ট যে, তাদেরকে শাসক বানানো বন্ধুত্বের স্তর থেকেও অনেক উপরে।
০২. স্বাধীন হওয়া। কারণ, দাসের তো নিজের ওপরই কর্তৃত্ব নেই, অন্যের ওপর কর্তৃত্ব রাখবে কী করে। অন্যের ওপর কর্তৃত্ব থাকলে হলে নিজের ওপর কর্তৃত্ব থাকতে হয়।
০৩. পুরুষ হওয়া। কারণ, নারীদেরকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, মূল অবস্থাই হচ্ছে নিজেকে আবৃত করে রাখা। এদিকে ইশারা করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—

لن يفلح قوم ولوا أمرهم امرأة

যে জাতির শাসক কোনো নারী, সে জাতি কখনো সফল হতে পারে না

আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সাল্লাম থেকে শোনা একটি হাদিস জঙ্গে জামালে আমার খুব উপকার করেছে। তখন আমি জঙ্গে জামালের যোদ্ধাদের সাথে মিলিত হয়ে লড়াই করতে চাচ্ছিলাম। (হাদিসটি হলো,) যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সংবাদ পৌঁছল যে, পারসিকরা কিসরার মেয়েকে নিজেদের শাসক বানিয়েছে, তখন তিনি বললেন—

لن يفلح قوم ولو أمرهم امرأة

'যে জাতির শাসক কোনো মহিলা, সে জাতি কখনো সফল হতে পারে না

আবু বাকরা রা. উক্ত হাদিসের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছেন যে, আয়িশা রা. যদিও তিনি উম্মুল মুমিনিন, নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো ফকিহা, উভয় জাহানে নবীজির সঙ্গিনী তবুও তিনি এই হাদিসের কারণে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য নন। তাহলে অন্যান্য নারীরা তো আরও আগেই যোগ্য নয়! তাছাড়া শাসন-ব্যবস্থা অনেক গুরুদায়িত্বের দাবি রাখে, যা নারীদের স্বভাব-প্রকৃতির বাইরে! কারণ, নারীরা বুদ্ধি ও দ্বীনের ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ যেমনটি হাদিসে আছে।

আল্লাহ তাআলা নারীদের স্থান সুরক্ষিত করে রেখেছেন। অর্থাৎ, সন্তানদের পৃষ্ঠপোষকতায় ঘরকে তার স্থান বানিয়েছেন তারই সুরক্ষার জন্য। কারণ, নারীরা খুবই দুর্বল। তারা নিজের থেকেই অন্যের ক্ষতি ঠেকাতে পারে না, তাহলে শাসক হওয়ার পর কীভাবে জনগণ থেকে অনিষ্ট রোধ করবে। এজন্যই সমস্ত আহলে ইলম একমত যে, কোনো নারীর শাসক হওয়া বৈধ নয়।

০৪. বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া: মাওয়ারদি রহ. কাজির শর্তাবলি উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন-সাধারণ জ্ঞানের মাধ্যমে অর্জিত যে বোধ-বুদ্ধি দ্বারা বান্দা মুকাল্লাফ হয়, সে বোধবুদ্ধি বা আকল কাজি হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ না সে ভালো-খারাপের মাঝে নিখুঁতভাবে পার্থক্য করতে পারে, ভালোভাবে চৌকসতা লাভ করতে পারে, ভুল-ভ্রান্তি থেকে দূরে থাকতে পারে, মেধার প্রখরতা দিয়ে বিবেচনা করতে পারে, ভুল-ভ্রান্তি থেকে দূরে থাকতে পারে, মেধার মাধ্যমে কোনো জটিল বিষয়ের সমাধান দিতে পারে, যেকোনো দুর্বোধ্য জিনিসের ফায়সালা করতে পারে (এমন বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিই কাজি হওয়ার যোগ্য)।

সুতরাং, যদি কাজি হওয়ার জন্যই মেধা, চৌকসতা শর্ত হয়, শুধু বিচারবুদ্ধি যথেষ্ট না নয়; তাহলে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তো আরও আগেই এটা শর্ত করা হবে। কারণ, নেতৃত্ব কাযার অনেক ঊর্ধ্বে।

০৫. বালেগ হওয়া।

০৬. সক্ষম হওয়া। অর্থাৎ এমন সামর্থ্য থাকা, যাতে সে হুকুম-আহকাম কার্যকর করতে পারে, জালিমের বিপক্ষে এবং মাজলুমের পক্ষে ইনসাফ করতে পারে, সীমান্ত পাহারা দিতে পারে, দ্বীন ইসলামকে রক্ষা করতে পারে, ইসলামের হদ কায়েম করতে পারে। কারণ, খলিফা নির্ধারণ করার এটাই উদ্দেশ্য।

০৭. কুরাইশ বংশের হতে হবে-হাশিমি বা উলাবি কিংবা মাসুম হওয়া শর্ত না। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- )قريش من الأئمة( নেতা হবে শুধু কুরাইশ বংশ থেকে।

এ কারণে আনসারি সাহাবিগণ কুরাইশদের জন্য খিলাফত ছেড়ে দিয়েছেন। এ হাদিসের মাধ্যমে দারারিয়‍্যা এবং কা'বিয়্যা সম্প্রদায়ের একটি আকিদা বাতিল প্রমাণিত হয়। দারারিয়‍্যারা বলে-নেতৃত্ব কুরাইশ বংশ ছাড়া অন্য বংশও গ্রহণ করতে পারে। আর কা'বিয়্যারা বলে- (কুরাইশ ছাড়া অন্যান্য বংশ নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পারে, তবে) কুরাইশ বংশ বেশি হকদার। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

الناس تبع لقريش في هذا الشأن مسلمهم تبع المسلمهم وكافرهم تبع لكافرهم

নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সবাই কুরাইশের অনুসরণ করবে। তাদের মুসলিমরা মুসলিমদের এবং তাদের কাফিররা কাফিরদের।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন-

إن هذا الامر في قريش لا يعاديهم أحد إلا كبه الله على وجهه ما أقاموا الدين

এ বিষয়টি (নেতৃত্ব) শুধু কুরাইশদের মাঝেই থাকবে, যতদিন তারা দ্বীন কায়েম রাখবে। যে তাদের সাথে এ বিষয়ে শত্রুতা করবে, আল্লাহ তাকে অধোমুখে নিক্ষেপ করবেন

তবে নেতৃত্বের জন্য হাশিমি হওয়া শর্ত নয়। হাশিমি দ্বারা উদ্দেশ্য হাশিম ইবনু আবদে মানাফের বংশ। শিয়ারা আবু বকর, উমার, উসমান রা.-এর খিলাফতকে বাতিল করার জন্য এটাকে শর্ত বলে।

তদ্রুপ উলাবি হওয়াও শর্ত নয়। উলাবি দ্বারা উদ্দেশ্য আলি রা.-এর বংশধর। কিছু কিছু শিয়ারা আব্বাসিদের খিলাফতকে বাতিল করার জন্য এটাকে শর্ত বলে।

তদ্রুপ মাসুম বা নিষ্পাপ হওয়া শর্ত নয়। ইসমাঈলিয়্যারা এবং ইসনা আশারিয়‍্যারা, অর্থাৎ ইমামিয়‍্যারা এটাকে শর্ত বলে।

কুরাইশদের মাঝে নেতৃত্ব সীমাবদ্ধ থাকার কারণ উল্লেখ করে দেহলভি রহ. বলেন-'আল্লাহ তাআলা নবীজির সামনে যে 'হক' তুলে ধরেছেন, সেটা কুরাইশদের ভাষা, রীতিনীতি অনুযায়ীই তুলে ধরেছেন। শরিয়তের আহকাম ও হুদুদের অধিকাংশই তাদের মাঝে আগে থেকেই ছিল। ফলে তারা এই দ্বীন ইসলামের ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য এবং ইসলামের শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে তারাই বেশি দৃঢ়। তাছাড়া কুরাইশ বংশ হলো নবীর বংশ, শুধু নবীজির নিসবতেই তারা গৌরবান্বিত। তদ্রুপ তাদের মাঝে দ্বীনি গাইরত ও বংশীয় চেতনা দুটোই বিদ্যমান। তাই, তারা শরিয়ত কায়েম করা এবং তা ধরে রাখার প্রাণকেন্দ্র। তাছাড়া খলিফা হওয়ার জন্য আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন। যেমন-
(ক) এমন বংশের হতে হবে, যার বংশীয় প্রতাপ দেখেই মানুষ তার আনুগত্য করতে বাধ্য। কারণ, যার কোনো বংশ নেই মানুষ তাকে খুবই নিম্নশ্রেণির মনে করে।

(খ) এমন বংশের হতে হবে, যারা পূর্ব থেকে নেতৃত্ব আঞ্জাম দিচ্ছে।

(গ) তার বংশ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে, যেকোনো শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অভ্যস্ত।

(ঘ) তার বংশধরকে এত শক্তিশালী হতে হবে, যাতে তাকে যেকোনো বিপদে রক্ষা করতে পারে, এমনকি তার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে পারে।

বলাবাহুল্য যে, এ সকল গুণ শুধু কুরাইশ বংশের মাঝেই সমানভাবে বিদ্যমান ছিল। বিশেষ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে আগমনের পর আবু বকর রা. এদিকে ইঙ্গিত করেই বলেছিলেন—এই নেতৃত্ব কুরাইশ বংশের মাঝে পাওয়া যাবে। কারণ, বাসস্থানের দিক থেকে তারাই আরবের শ্রেষ্ঠ।

উপরোল্লিখিত সকল শর্ত আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সবার শর্ত। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সবার কাছে মানিত ‘কুরাইশ’ ছাড়া। কারণ, এক্ষেত্রে কিছু উলামায়ে কিরাম, যেমন—আবু বকর বাকিল্লানি-সহ আরও অনেকের কাছে কুরাইশ বংশের হওয়া শর্ত না। বিস্তারিত আলোচনা খিলাফত ও আকিদার কিতাবসমূহে আছে।

০৮. অধিকাংশ উলামায়ে কিরামের নিকট আদেল বা নেককার হওয়া শর্ত। সুতরাং তাদের মতে—আদিল (ন্যায়পরায়ণ) পাওয়া গেলে ফাসিককে খলিফা বানানো যাবে না। তবে হানাফিদের নিকট এটা অগ্রাধিকার পাওয়ার শর্ত, নেতৃত্ব সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত নয়। সুতরাং, ফাসিককে শাসক বানানো জায়িজ তবে মাকরুহ। আর যদি কোনো আদিলকে শাসক বানানোর পর ফاسিকও জালিম হয়ে যায়, তাহলে সে বরখাস্ত হবে না। তবে উত্তম হচ্ছে, ফিতনা সৃষ্টি না হলে বরখাস্ত করে দেওয়া। তবে (ফিতনার ভয় থাকলে) তার বিরুদ্ধে করা যাবে না। বরং, তার আনুগত্যের দিকে মানুষকে ডাকা হবে।

০৯. মুজতাহিদ হওয়া। এটাও প্রায় সবার কাছে নেতৃত্বের শুদ্ধতার জন্য শর্ত। কিন্তু হানাফিদের নিকট অন্যের ওপর অগ্রাধিকার পাওয়ার শর্ত। তবে এই যুগে যেহেতু কোনো মুজতাহিদ নেই, তাই মুকাল্লিদ (অন্যের মাজহাব অনুসরণকারী) আলেম হওয়াই যথেষ্ট।

ইমাম শাতিবি ইতিসাম-এ (২/১৫২) বলেন-উলামায়ে কিরাম একমত যে, ইমামতে কুবরার জন্য মুজতাহিদ ও মুফতি হওয়া শর্ত, যেভাবে তারা সবাই কিংবা প্রায় সবাই একমত যে, কাজি হওয়ার জন্য মুজতাহিদ হওয়া শর্ত।

তাদের এ কথা একদিক থেকে ঠিক আছে। কিন্তু আমরা যখন চিন্তা করি যে, বর্তমান যুগে কোনো মুজতাহিদ নেই, অথচ মুসলিমদের একজন ইমাম প্রয়োজন-যিনি হুকুম-আহকাম পরিচালনা করবেন, বিদ্রোহীদের বিদ্রোহ দমন করবেন, মুসলিমদের জান-মালের নিরাপত্তা দেবেন, তাহলে একজন যোগ্য ব্যক্তিকেই নেতা বানানো হবে; যদিও সে মুজতাহিদ না হয়। কারণ, এখানে দুটো অবস্থা হয়-মানুষকে শাসকবিহীন রেখে দেওয়া হবে, যা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, অথবা একজন যোগ্য ব্যক্তিকে শাসক বানানো হবে, যাতে বিশৃঙ্খলা দূর হয়। সত্যি বলতে, একজন মুজতাহিদ শাসকও হয়তো খুঁজলে এমন পাওয়া যাবে না-যার কি না কোনো খুঁত বা সমস্যা নেই। কারণ, বিধিবিধান আবশ্যক হয় সাধ্যের বিবেচনায় (যা বর্তমানে আমাদের নেই)। (মুজাহিদের স্থানে) মুকাল্লিদ আলিমকে শাসক বানানো একটি কল্যাণমূলক চিন্তা, যার প্রয়োজনীয়তা খিলাফতের মূল উদ্দেশ্য থেকেই বুঝে আসে! এটা এতটাই সুনিশ্চিত যে, তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কোনো প্রমাণের প্রয়োজন নেই।

এ বিষয়টি যদি বাহ্যত 'ইজমার' বিপরীত, কিন্তু বস্তুত ইজমা সাব্যস্ত হয়েছে এ কথা চিন্তা করে যে, সব যুগেই মুজতাহিদ থাকবেন (কিন্তু আমাদের যুগটা মুজতাহিদ শূন্য)। তাই বিষয়টি এমন হয়ে গেল যে, যেন এ বিষয়ে কোনো আলোচনা বা বিধানই পাওয়া যায় নি। (কারণ, তাদের ইজমা ছিল মুজতাহিদ-যুক্ত যুগের ক্ষেত্রে, মুজতাহিদ-মুক্ত যুগের জন্য কেউ কোনো আলোচনাই করেন নি)। সুতরাং, এখানে প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করা হবে।

১০. চোখ, কান, হাত ও পা সুস্থ থাকতে হবে। অধিকাংশ ফুকাহায়ে কিরামের অভিমত এই যে, এসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভালো থাকা নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য শর্ত। সুতরাং, তাদের কাছে অন্ধ, বধির, হাত-পা কাটা লোক শাসক হতে পারবে না। আবার যদি পরবর্তী সময়ে এসব দেখা যায়, তাহলেও বরখাস্ত হয়ে যাবে। কারণ, তখন সে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দিতে পারবে না। সুতরাং, এ সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অচল হয়ে গেলে সে নেতৃত্বের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলবে।

কোনো কোনো ফকিহ বলেন-এগুলো শর্ত না। সুতরাং, শাসকের শরীর কাঠামোতে যদি শারীরিক অসুস্থতা বা অসম্পূর্ণতা থাকে; যেমন: অন্ধত্ব, বধিরতা, হাত-পা, নাক কাটা, কুষ্ঠরোগ থাকে, তাহলে তাদের মতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ, কুরআন-হাদিস বা ইজমার কোথাও এগুলোকে নিষেধ করা হয় নি? 'খলিফা অপসারণ করা' শিরোনামে এর কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

টিকাঃ
১৪০ রদ্দুল মুহতার।
১৪২ সহিহ বুখারি: ৪৪২৫
১৪৩ সহিহ বুখারি: ৪৪২৫
১৪৭ সূরা নিসা, আয়াত: ৩৪
১৪৮ শরিয়তের বিধিবিধান পালন করা যায় ওপর আবশ্যক
১৪৯ আল আহকামুস সুলতানিয়াহ
১০০ সহিহ বুখারি, ৩৪৯৫
১০১ সহিহ বুখারি, ৩৫০০
১৫২ রদ্দুল মুহতার
১** হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ, ২/২৩১

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 নারীরা শাসক হলে যে সকল সমস্যা দেখা দেবে

📄 নারীরা শাসক হলে যে সকল সমস্যা দেখা দেবে


প্রথমত: রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে বের হতে হবে। আর এজন্য পুরুষদের সাথে আবশ্যিকভাবেই মিলতে হবে। অথচ ইসলাম নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ থেকে নিষেধ করেছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—

لا يخلون رجل بامرأة إلا كان ثالثهما الشيطان

যখনই কোনো পুরুষ কোনো (গাইরে মাহরাম) নারীর সাথে মিলিত হয়, তখন শয়তানের তাদের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত হয়。

তাছাড়া এরকমভাবে বাহিরে থাকলে নিজের ঘরে স্থির থাকা সম্ভব হয় না। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন— 'আর তোমরা নিজেদের ঘরে স্থির থাকো।'

এখানে 'তোমরা' বলে যদিও নবীপত্নীদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে, কিন্তু এই বিধান সমস্ত নারীর জন্যই কার্যকর। আল্লামা আলুসি রহ. বলেন-'এই আয়াতের উদ্দেশ্য নবীপত্নীদের রা. ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া। আর ঘরে থাকার বিষয়টি প্রত্যেক নারীর কাছ থেকেই কাম্য।

ইবনু মাসউদ রা. থেকে ইমাম তিরমিজি এবং বাজ্জার রহ. বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—

إِنَّ الْمَرْأَةَ فَإِذَا خَرَجَتْ مِنْ بَيْتِهَا اِسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ وَأَقْرَبُ مَا تَكُونُ مِنْ رَحْمَةِ رَبِّهَا وَهِيَ فِي قَعْرِ بَيْتِهَا

নারী হচ্ছে আবরণীয় সত্ত্বা। যখন সে (ঘর থেকে) বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষদের চোখে শোভামণ্ডিত করে তোলে। আর যখন সে ঘরে অবস্থান করে, তখন তার রবের অধিক নিকটবর্তী থাকে।

বাজ্জার রহ. আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—নারীরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, পুরুষরা তো ভালো ভালো কাজ ও জিহাদ করতে পারছে। অতএব, আমাদের কি এমন আমল করার সুযোগ আছে, যার মাধ্যমে মুজাহিদদের সাওয়াব অর্জন করতে পারি?'

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন— 'তোমাদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকবে, তারাই আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদদের সাওয়াব অর্জন করতে পারবে。

তাফসিরে কুরতুবিতে (১৪/১৭৯) আছে— 'এই আয়াতে ঘরে অবস্থান করার আদেশ করা হয়েছে। যদিও এখানে বাহ্যিকভাবে নবীপত্নীদেরকে রা. সম্বোধন করা হচ্ছে, তবে পরোক্ষভাবে অন্যান্য নারীরাও শামিল। কারণ, এখানে এমন কোনো নির্দেশনা নেই, যা নির্দিষ্ট বোঝায়। তাছাড়া নারীদের ঘরে থাকা এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে শরিয়তে বহু প্রমাণাদি রয়েছে, যেমনটি অনেক জায়গায় আলোচনা করা হয়েছে। এখানে আল্লাহ তাআলা নবীপত্নীদের রা. ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর তাদের সম্মানার্থে কেবল তাদেরকে সম্বোধন করেছেন।'

দ্বিতীয়ত: রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজ করতে গেলে কখনো অনেক কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়, কখনো বিশাল বড়ো দায়িত্ব এবং গুরুভার বিষয় নিয়ে অগ্রসর হতে হয়, শক্তিধর পুরুষরা ছাড়া অন্য কেউ এক্ষেত্রে আগে বাড়তেই পারে না। তাহলে একজন দুর্বল নারী কীভাবে এ দায়িত্ব কাঁধে নেবেন।

তৃতীয়ত: কর্তৃত্ব শুধু পুরুষদের জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন-

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ

'পুরুষরা নারীদের ওপর কর্তৃত্ববান।'

টিকাঃ
১৪৪ জামি তিরমিজি, ২১৬৫
১৪৫ সূরা আহজাব, আয়াত: ৩৩
১৪৬ রুহুল মাআনি, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00