📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 জোর-জবরদস্তি করে শাসনের হুকুম

📄 জোর-জবরদস্তি করে শাসনের হুকুম


হজরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি রহ. 'ইজালাতুল খাফা' নামক কিতাবে বলেছেন-“খলিফা হওয়ার চতুর্থ পদ্ধতিটি হলো জবরদখল।” যেমন: কোনো খলিফা মারা গেল। এরপর যদি কেউ বাইআত বা প্রতিনিধি বানানো ছাড়াই খিলাফতের দায়িত্ব নেয়; জনগণের মনোতুষ্টি বা কোনো প্রকার বল প্রয়োগ, অথবা কোনো লড়াই ছাড়াই সবাইকে নিজের ওপর একত্র করে, তখন সে খলিফা হয়ে যাবে। আর মানুষের ওপর আবশ্যক হয়ে পড়বে তার আদর্শ অনুসরণ করা, যদি তার আদেশ শরিয়তসম্মত হয়।

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 জবরদখলকারী খলিফা দুই প্রকার

📄 জবরদখলকারী খলিফা দুই প্রকার


১ম প্রকার : প্রথম প্রকার এমন জবরদখলকারী খলিফা, যার মাঝে খলিফা হওয়ার সকল শর্ত বিদ্যমান এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে কোনো প্রকার হারামে জড়িত হওয়া ছাড়াই সে কোনো ব্যবস্থাপনা বা সন্ধির মাধ্যমে মিটমাট করে নেয়। এ প্রকার জবরদখল জায়িজ এবং ইসলামে এর সুযোগও রয়েছে।

আলি রা.-এর মৃত্যুর পর, মুআবিয়া রা. এর সাথে হাসান রা.-এর সাথে সন্ধি স্থাপন এবং পরবর্তী সময়ে মুয়াবিয়া রা.-এর খিলাফত সংগঠিত হওয়া এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দ্বিতীয় প্রকার : যার মধ্যে সকল শর্ত বিদ্যমান নেই এবং সে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে যুদ্ধবিদ্রহ ও হারামে জড়িত হওয়ার মাধ্যমে সমঝোতা করে। তাহলে এই প্রকার জবরদখল জায়িজ হবে না; বরং সে গুনাহগার হবে। তবে তার আদেশ-নিষেধ মেনে নেওয়া মানুষের ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যক হয়ে যাবে, যদি তার আদেশ-নিষেধ শরিয়তসম্মত হয়। তার জাকাত উসুলকারীরা যদি ধনীদের থেকে যাকাত উসুল করে, তাহলে জাকাত রহিত হয়ে যাবে; অর্থাৎ জাকাতদাতার জাকাত আদায় হয়ে যাবে। তার নিযুক্ত করা কাজি কোনো হুকুম দিলে তার হুকুম কার্যকর হবে। আর সে (খলিফা) জিহাদের ডাক দিলে তার সঙ্গী হয়ে জিহাদ করা যাবে।

আর এই প্রকার খিলাফত সংগঠিত হওয়ারও প্রয়োজন থাকে। কেননা, তার অপসারণে সাধারণ মুসলিমদের প্রাণনাশ ও বিশৃঙ্খলার উদ্ভব ঘটবে। আর যেহেতু এ বিষয়টি নিশ্চিত নয় যে, আদৌ এই বিশৃঙ্খলার কোনো মীমাংসা হবে কি না? হতে পারে, প্রথমজনের থেকে অন্যজন আরও বেশি খারাপ। সুতরাং, যার ফলাফল খারাপ হওয়াটা নিশ্চিত, তা একটা ফিতনার মতো। আর এমন ফিতনায় জড়িত হওয়া কীভাবে সমচিত হবে? খলিফা আব্দুল মালিক ইবনু মারওয়ান এবং বনু আব্বাসের প্রথমদিকের খলিফাদের সংগঠিত খিলাফত এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দেহলভি রহ.-এর কথা থেকে জানা যায়, প্রাধান্য বিস্তারের বৈধতার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে-

* ০১। প্রাধান্য বিস্তারকারীর মাঝে খলিফা হওয়ার সমস্ত যোগ্যতা লাগবে।
* ০২। সময়টা এমন হতে হবে যে, তখন কোনো খলিফা ছিল না।
* ০৩। প্রাধান্য বিস্তার কোনো হারাম কাজ করার মাধ্যমে হওয়া যাবে না।

কিন্তু তখন যদি কোনো খলিফা থেকে থাকেন, তাহলে প্রাধান্য বিস্তার দুই প্রকার-

০১. প্রাধান্য বিস্তার অপর প্রাধান্য বিস্তারকারীর ওপর হবে। যদি এমনই হয়, তাহলে দ্বিতীয় প্রাধান্য বিস্তারকারী সুলতান হয়ে যাবে, প্রথমজন বরখাস্ত হবে। ইবনু আবিদিন রহ. বলেন- 'কেউ যদি পূর্বের কোনো প্রভাব বিস্তারকারীর ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এবং তার আসনে বসে, তাহলে প্রথমজন বরখাস্ত এবং দ্বিতীয়জন সুলতান হয়ে যাবে। আর সুলতানের আনুগত্য করা ওয়াজিব-চাই তিনি ন্যায় হোক বা জালিম, যতক্ষণ না শরিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক হয়।'

০২. আগে থেকেই একজন খলিফা জীবিত আছেন, যার হাতে সবাই বাইআতও গ্রহণ করেছে-যদি এমন খলিফার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তাহলে পূর্বের খলিফা বরখাস্ত হবে না; বরং যতক্ষণ পর্যন্ত ফিরে আসার (বা পুনরায় ক্ষমতা দখলের) সম্ভাবনা থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত মূলত খলিফা হয়েই থাকবেন।

খতিব শারবিনি রহ. বলেন— ‘যদি কোনো জীবিত সুলতানের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করা হয়, তাহলে যদি জীবিত সুলতানও প্রাধান্য বিস্তারকারী হন; তখন দ্বিতীয় প্রাধান্য বিস্তারকারীর ক্ষমতা সাব্যস্ত হবে। আর জীবিত সুলতান যদি বাইআত বা অসিয়তের মাধ্যমে সুলতান হন, তাহলে প্রাধান্য বিস্তারকারীর ক্ষমতা গ্রহণযোগ্য হবে না।’

জাকারিয়া আনসারি রহ. বলেন— ‘যার নেতৃত্ব বাইআত বা অসিয়তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার ওপর প্রভাব বিস্তার করলে সেটি ধর্তব্য হবে না, পর্যুদস্ত সুলতান বরখাস্তও হবেন না।’

শত্রুদের হাতে সুলতানের বন্দী হওয়ার বিষয়টি সামনেই আলোচিত হবে।

এখন যদি প্রভাব বিস্তারকারী শাসকের মাঝে নেতৃত্বের শর্তাবলি না থাকে, তাহলে সাথে সাথেই বিরোধিতা করা উচিত নয়। তবে সে যদি কাফির হয়, তাহলে তাকে উৎখাত করতে হবে। খতিব শারবিনি রহ. বলেন— ‘হ্যাঁ, যদি কোনো কাফির আধিপত্য বিস্তার করে, তাহলে তার নেতৃত্ব গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَن يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلاً

‘আল্লাহ তাআলা কিছুতেই মুমিনদের ওপর কাফিরদের জন্য কোনো ক্ষমতা (প্রতিষ্ঠিত) রাখবেন না।’

কিন্তু শাইখ ইজুদ্দিন যে কথা বলেছেন যে—কাফিররা যদি কোনো ভূখণ্ডে আধিপত্য বিস্তার করে কোনো মুসলিমকে সে ভূখণ্ডের কাজি বানায়, তাহলে তাদের আধিপত্য গ্রহণযোগ্য হবে। তার এ কথা থেকে যা বোঝা যায় (কাফিরদের আধিপত্য গ্রহণযোগ্য হওয়া), সেটা সঠিক নয়। কারণ, তিনি আরেক জায়গায় বলেছেন—যদি বড়োদের মতো বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো শিশু বা নারীকে নেতৃত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তাদের কোনো নির্দেশ—যেমন, কাউকে ওলি বা কাজী বানানো—গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং, তাদের এ নির্দেশ স্থগিত রাখা হবে। অতএব, যদি তাদের ক্ষেত্রে স্থগিত রাখতে হয়, তাহলে তো কাফিরের ক্ষেত্রে আরও আগেই স্থগিত রাখা উচিত।

জাহাইলি রহ. বলেন-কোনো শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না তিনি স্পষ্টভাবে কুফুরির ঘোষণা করেন। তিনি যদি দ্বীনের একটি বা সুস্পষ্ট কোনো বিষয় অস্বীকার করার মাধ্যমে কুফুরি করেন, তাহলে তাকে হত্যা করা বৈধ। বরং, তার ফিতনা-ফাসাদ থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য তাকে হত্যা করা ওয়াজিব; যেহেতু তাকে মনোয়নের ফায়দা বা উদ্দেশ্য পাওয়া যায় নি। আর যদি কুফুরি না করেন, তাহলে বৈধ নয়-যাতে উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট না হয়, বিশৃঙ্খলাও সৃষ্টি না হয়। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

السمع والطاعة على المرء المسلم فيما أحب وكره ما لم يامر بمعصية فاذا أمر بمعصية فلا سمع ولا طاعته

'একজন মুসলিমের ওপর কর্তব্য শাসকের নির্দেশকৃত বিষয় শোনা এবং মানা-চাই তার পছন্দনীয় হোক বা অপছন্দনীয়; যতক্ষণ না তাকে অবাধ্যতার আদেশ করা হয়। যখন অবাধ্যতার নির্দেশ করা হবে, তখন সেটা শোনাও যাবে না, মানাও যাবে না।'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শাসকদের উৎখাত করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে- 'আমরা কি তাদের উৎখাত করবো না?'

তিনি বলেন- 'না, যদি তারা নামাজ কায়েম করে। যতক্ষণ না তোমরা স্পষ্ট কুফুরি দেখতে পাও, যার ব্যাপারে তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রমাণ রয়েছে।'

শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি রহ. বলেন- 'যদি এমন কেউ প্রাধান্য বিস্তার করে, যার মাঝে নেতৃত্বের শর্তাবলি পাওয়া যায় নি, তাহলে তার বিরোধিতা করা উচিত নয়। কারণ, তাকে উৎখাত করতে হলে অনেক যুদ্ধ-হাঙ্গামা করতে হবে। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতি অনেক বেশি। ফলে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। তাছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যখন তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে- 'আমরা কি তাদেরকে উৎখাত করবো না?' তিনি বলেন-'না, যদি তারা নামাজ কায়েম করে। যতক্ষণ না তোমরা স্পষ্ট কুফুরি দেখতে পাও, যার ব্যাপারে তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রমাণ রয়েছে।'

মোটকথা, খলিফা যদি দ্বীনের কোনো অকাট্য বিষয়কে অস্বীকার করে, তাহলে তার সাথে লড়াই করা বৈধ, বরং ওয়াজিব। অন্যথায় নয়। কারণ, তখন তার খলিফা হওয়ার ফায়দা-ই হাতছাড়া হয়ে যায়। তখন মুসলিমজাতির ওপর তার ফিতনা-ফাসাদের সমূহ আশঙ্কা থাকে। তাই, তার বিরুদ্ধে লড়াই করাও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

ইমাম বদরুদ্দিন আইনি রহ. বলেন, দাউদি বলেছেন-জালিম শাসকদের ব্যাপারে উলামায়ে কিরামের মত হলো-যদি ফিতনা ও কোনো প্রকার জুলুম ছাড়া তাদের বরখাস্ত করা সম্ভব হয়, তাহলে বরাস্ত করা ওয়াজিব, অন্যথায় সবর করা কর্তব্য। কারও কারও থেকে এ-রকম মতও বর্ণিত আছে-কোনো ফাসিকের নেতৃত্ব গ্রহণ শুরুতে জায়িজ নয়। তবে ন্যায়পরায়ণ হওয়ার পর জুলুম করলে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ব্যাপারে ইখতিয়ার আছে। সঠিক মত হলো-বিরত থাকতে হবে। তবে কাফির হয়ে গেলে বিদ্রোহ করা ওয়াজিব।

এতক্ষণ বিভিন্ন কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে যে সকল কথা বলা হলো, সেখান থেকে ফিসক এবং কুফুরির মাঝে পার্থক্য পরিষ্কার হয়ে গেল। সুলতান যদি ফাসিক হন, তখন কোনো ফিতনা বা রক্তপাত ছাড়াই যদি তাকে উৎখাত করা যায়, তাহলে উৎখাত করা ওয়াজিব; অন্যথায় সবর করতে হবে। আর সুলতান যদি কাফির হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ওয়াজিব।

কাজি ইয়াজ রহ. বলেন-ন্যায়পরায়ণ খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা কারও মতেই বৈধ নয়। আর যদি ফাসিক বা জালিম হয়, তাহলে তার ফিসক যদি কুফুরির স্তরে চলে যায়, তাহলে তাকে উৎখাত করা ওয়াজিব; আর যদি কুফুরি ছাড়া অন্যান্য গুনাহ হয়, তাহলে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতে, তাকে বরখাস্ত করা হবে না। তারা এ মতের স্বপক্ষে অনেকগুলো হাদিস প্রমাণস্বরূপ পেশ করেছেন। তাছাড়া তাকে উৎখাত করতে হলে অনেক রক্ত ঝরাতে হয়, নারীদের বেরিয়ে আসতে হয়। তখন সুলতানের ক্ষতির চেয়ে আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হয়।

কিন্তু মুতাজিলাদের মতে-তাকে উৎখাত করা হবে। কিন্তু আমরা যে কুফুর ও ফিসকের মাঝে পার্থক্য করি, সেটাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস সমর্থন করে-'তবে যদি তোমরা সুস্পষ্ট কোনো কুফুরি দেখতে পাও।' ইতোপূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সাল্লাম তাদের উৎখাত করতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু এখানে তিনি সুস্পষ্ট কুফুরিকে পূর্বের হুকুম থেকে বাদ দিয়েছেন। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা 'জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা' বিষয়ে আসবে।

ফায়দা: আল্লামা ইবনুল হুমাম রহ. বলেন- 'বিদ্রোহীরা যদি দারুল হারবের লোকবল সাহায্য হিসাবে আনে, আর বিদ্রোহীরা পরাজিত হয়; তাহলে দারুল হারবের লোকদের সাহায্য নেওয়াটা বিদ্রোহীদের জন্য 'আমান' বলে বিবেচিত হবে না। তাদের নিরাপদ রাখা আমাদের জন্য আবশ্যক হবে না। যেমনটা আমরা পূর্বে বলে এসেছি। কারণ, 'নিরাপত্তাপ্রত্যাশী' তাকেই বলা হয়, যে যুদ্ধের ইচ্ছা ত্যাগ করে (পাসপোর্ট, ভিসা সহকারে) দারুল ইসলামে প্রবেশ করে। অথচ এদের উদ্দেশ্যই ছিল মুসলিমদের সাথে লড়াই করা。

টিকাঃ
১১০ নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক
রদ্দুল মুহতার
১১৮ মুগনিল মুহতাজ, ৫/৪৩৩
১১৯ আসনাল মাতালিব, ৪/১১০
১২০ সূরা নিসা, আয়াত: ১৪১
১২১ মুগনিল মুহতাজ, ৫/৪২৫
১২২ আল ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু, ২৮/৬১৯৬
১২৩ হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ, ২/১৭৯
১২৬ উমদাতুল কারী, ২৪/১৭৯
১২৭ ইকমালুল মুসলিম বি ফাওয়াইদি মুসলিম শরাহিনওয়াবিয়্যিলমহাজ আলা মুসলিম পষ্ঠা: ২৩৬
১২৬ ফাতহুল কাদির, ৬/১০৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00