📄 উমার ইবনুল খাত্তাব রা. এর নির্বাচন
উমার রা. এর নির্বাচন ছিল অন্য পদ্ধতিতে। যখন আবু বকর রা. এর অসুস্থতা গুরুতর হয়ে গেল, তিনি তখন লোকদেরকে কাছে ডাকলেন। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বললেন—
‘তোমরা তো আমার অবস্থা দেখতেই পাচ্ছো। আমি হয়তো খুব শীঘ্রই এ অসুস্থতার দরুন মৃত্যুবরণ করবো। অতএব, আল্লাহ তাআলা তোমাদের কৃত প্রতিশ্রুতিকে বাইআত মুক্ত করে দিয়েছেন। তোমাদের সাথে আমার করা চুক্তি তুলে দিয়েছেন, তোমাদের দায়িত্বভার তোমাদের কাছেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং, তোমাদের যাকে ইচ্ছা তাকে আমির বানাও। আর এটা আমার জীবদ্দশাতেই হওয়া ভালো। তাহলে, আমার পর আর বিরোধিতা সৃষ্টি হবে না।’
তখন সাহাবায়ে কিরাম পরস্পর আলাপ-আলোচনা করলেন। দেখা গেল, প্রত্যেকেই নিজে আমির না হয়ে তার অপর ভাইকে আমির বানাতে চাচ্ছে, যদি তার মাঝে যোগ্যতা দেখা যায়। তাই, তারা শাসনভারের বিষয়টি আবু বকর রা. এর হাতে সোপর্দ করে বললেন—‘হে রাসুলের খলিফা, আমরা আপনার সিদ্ধান্ত চাচ্ছি।’
আবু বকর রা. বললেন— ‘তাহলে আমাকে কিছু সময় দাও, যাতে আল্লাহর জন্য, তাঁর দ্বীনের জন্য এবং তাঁর বান্দাদের জন্য চিন্তা করতে পারি (যে কাকে আমির বানানো যায়)।’
পরে আবু বকর সিদ্দিক আব্দুর রহমান ইবনু আউফকে ডেকে উমার রা. সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন— ‘আপনি আমার কাছে যা-ই জানতে চাইবেন, তার সবই তো আমার থেকে বেশ ভালো জানেন।’
আবু বকর রা. বললেন— ‘তবুও!’
তখন আব্দুর রহমান রা. বললেন— ‘আপনি যাদের ভালো মনে করেন, তিনি তো তাদের সবার চাইতে শ্রেষ্ঠ।’
তারপর উসমান ইবন আফফান রা.-কে ডেকে উমার রা. সম্পর্কে জানতে চাইলেন। উসমান রা. বললেন- 'আপনি তো তার সম্পর্কে আমার চাইতেও ভালো জানেন।'
আবু বকর রা. বললেন-'তবুও তুমি তোমার মতটা বলো!'
তখন উসমান রা. বললেন- 'হায় আল্লাহ! আমার জানামতে তার প্রকাশ্য অবস্থা থেকে অপ্রকাশ্য অবস্থা উত্তম। আমাদের সাথে তার কোনো তুলনাই হয় না।'
তখন আবু বকর রা. বললেন- 'আল্লাহ তোমার ওপর রহম করেন! যদি আমি তাকে খলিফা নাও বানাই, তাহলে তোমাকে বশ্যই বানাবো।'
তারপর উসাইদ ইবন হুজাইর রা.-কে ডেকে অনুরূপ কথা বললেন, তখন উসাইদ রা. বললেন- 'হায় আল্লাহ! আমি তো তাকে আপনার পর সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি বলে মনে করি। যেখানে সন্তুষ্ট থাকতে হয়, তিনি সেখানে সন্তুষ্ট হন। যেখানে রুষ্ট হতে হয়, সেখানে তিনি রুষ্ট হোন। তিনি প্রকাশ্যে যা করেন, তার চেয়ে অনেক ভালো করেন অপ্রকাশ্যে। এই খিলাফতের দায়িত্বভার শুধু তিনিই নিতে পারেন।'
এভাবে আবু বকর রা. সাদ ইবনু জায়িদ-সহ অনেক মুহাজির-আনসার সাহাবিদের কাছেই পরামর্শ চাইলেন। তাদের সবাই উমার রা. সম্পর্কে প্রায়ই একই মন্তব্য করলেন, শুধু তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ রা. উমার রা.-এর কঠোরতায় সংকিত হয়ে বললেন-যখন আপনাকে আপনার রব জিজ্ঞাসা করবেন, উমারের কঠোরতা সত্ত্বেও তুমি কেন তাকে খলিফা বানালে, তখন আপনি কী উত্তর দেবেন?
আবু বকর রা. বললেন-আমাকে একটু বসাও। তোমরা কি আমাকে আল্লাহর কথা বলে ভয় দেখাচ্ছ? শাসন-ব্যবস্থায় যেই জুলুম করবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি বলছি, আর আল্লাহ আপনি সর্বোত্তম ব্যক্তিকে মুসলিমদের আমির বানান। আবু বকর রা. সবার সামনে উমার রা.-এর কঠোরতার কারণ বর্ণনা করে বলেন-আমি খুব নরম ও সরল ছিলাম বলে, সে কঠোর ছিল। অন্যথায় যদি সে নিজেই শাসনভার গ্রহণ করত, তাহলে এখন তোমরা যা অন্য রকম দেখছ, তার সবকিছুই সে ছেড়ে দিত।”
📄 অসিয়তনামা
অতঃপর আবু বকর রা. জনগণের উদ্দেশ্যে একটি অসিয়তনামা লিখলেন, যা নিম্নরূপ-
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, দুনিয়ায় শেষ মুহূর্তে, আখিরাতে যাত্রার প্রথম সময়ে আবু বকর ইবনু কুহাফা এই অসিয়তনামা লিখছেন। এটা এমন একটি মুহূর্ত-যখন কাফিরও ঈমান আনতে চায়, ফাসিকও ভালো হয়ে যেতে চায়, মিথ্যুকও সত্য বলতে চায়। আমি এখন তোমাদের জন্য আমার পরবর্তী খলিফা উমার ইবনুল খাত্তাব রা.-কে বানিয়েছি। সুতরাং, তোমরা তার কথা শোনো এবং তাকে মান্য করো। আর আমি আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসুলের জন্য, তাঁর দ্বীনের জন্য এবং আমার ও তোমাদের জন্য কল্যাণ ছাড়া আর কোনোটারই ইচ্ছা করি নি। এখন যদি উমার ইনসাফ করে তাহলে তো এটা তার সম্পর্কে আমার সুধারণা ও পূর্বজ্ঞান: কিন্তু যদি ইনসাফের পরিবর্তে অন্য কিছু করে, তাহলে শুনে রাখো-প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের কর্মের ফল পাবে। তবে আমি কল্যাণটাই চেয়েছি, গায়েবের খবর তো আমার জানা নেই। 'জালিমরা অতিসত্বরই জানতে পারবে, কোন স্থানে তারা প্রত্যাবর্তন করবে।'
তিনি যখন এই অসিয়তনামা লিখে সম্পন্ন করলেন, তখন জনগণের সামনে তা পাঠ করে শোনাতে বললেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি সবাইকে ডাকলেন আর অসিয়তনামা তার আজাদকৃত গোলামকে দিলেন। তার সাথে উমার রা.-ও ছিলেন। তখন উমার রা. সবাইকে বললেন- 'তোমরা আল্লাহর রাসুলের খলিফার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং মান্য করো। কারণ, তিনি তোমাদের কল্যাণকামিতায় কোনো ত্রুটি করেন না।'
তখন সবাই স্থির হলো। পরে যখন উক্ত অসিয়তনামা জনগণকে পড়ে শোনানো হলো, তখন তারা বিষয়টি মেনে নিল। আবু বকর রা. তখন সামনে এসে বললেন, 'আমি যাকে তোমাদের জন্য খলিফা বানিয়েছি, তোমরা তাকে মেনে নিচ্ছ? দেখো, আমি নিজের কোনো আত্মীয়কে তোমাদের খলিফা বানাই নি; বরং, উমারের মতো ব্যক্তিকে খলিফা বানিয়েছি। সুতরাং, তোমরা তার কথা শোনো এবং মান্য করো। কারণ, আমি তোমাদের কল্যাণ সাধনে প্রাণপণ চেষ্টা করেছি।'
তখন সবাই বলল- 'আমরা শুনলাম ও মানলাম।'
তারপর আবু বকর রা. উমার রা.-কে উপস্থিত করে বললেন- 'দেখো, আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবায়ে কিরামের আমির বানালাম!' তিনি তাকে তাকওয়ার অসিয়ত করলেন। তারপর বললেন- 'দেখো, উমার, আল্লাহ তাআলার কিছু হক আছে রাতের, যা তিনি দিনে কবুল করেন না। আবার কিছু হক আছে দিনের, যা রাতে আদায় করলে কবুল করেন না। তদ্রূপ ফরজ আদায়ের আগ পর্যন্ত কোনো নফল ইবাদাতও কবুল করেন না। তুমি তো জানো, কিয়ামতের দিন যাদের নেক আমলনামার পাল্লা ভারী হবে, তা শুধু হককে অনুসরণ করার কারণেই ভারী হবে। সেদিন যে আমলনামায় হক থাকবে, সে আমলনামা ভারী হওয়া অপরিহার্য। তুমি এটাও জানো, যাদের আমলনামার পাল্লা হালকা হবে, তা শুধু বাতিলকে অনুসরণ করার কারণেই হালকা হবে। তুমি কি জানো না যে, কুরআন কঠোরতার সাথে নমনীয়তার কথাও বলেছে। আবার নমনীয়তার সাথে কঠোরতার কথাও বলেছে, যাতে মুমিন ভয় ও আশার মাঝে থাকে। এমন যেন না হয় যে, আল্লাহ তাআলার কাছে এত আশা রাখে, যার যোগ্যতা তার নেই। আবার এত ভয়ও যেন না পায় যে, সে তার ভয়ের মাঝেই মারা যাবে।
দেখো উমার, তুমি তো জানো, আল্লাহ তাআলা জাহান্নামিদের কথা আলোচনা করেছেন, তাদের বদ আমলগুলো উল্লেখ করেছেন। তাদের কথা মনে পড়লে ভয় হয়। না-জানি আমিও তাদের একজন হয়ে যাই। আবার, জান্নাতবাসীর কথা আলোচনা করেছেন, তাদের উত্তম আমলগুলো উল্লেখ করেছেন। কারণ, তাদের গুনাহগুলো তিনি মাফ করে দিয়েছেন। তাদের আলোচনা যখন স্মরণে আসে, তখন ভাবতে থাকি, তাদের আমল কোথায় আর কোথায় আমার আমল?
এখন তুমি যদি আমার অসিয়ত রক্ষা করো, তাহলে আশা করছি তুমি তাদের মধ্যে হবে না, যাদের উপস্থিতির চেয়ে মৃত্যুই পছন্দ করে সবাই।
পরে উসমান রা. আবু বকর রা. এর মৃত্যুর আগেই উমার রা. এর জন্য জনগণ থেকে বাইআত নিয়ে নেন, যাতে বিষয়টি সুদৃঢ় হয়ে যায় এবং কোনো প্রকার জোর-জবরদস্তি ছাড়াই এর ফায়সালা হয়ে যায়।
টিকাঃ
>> মাউসুআতস সিয়ার, খণ্ড: ৪
** সূরা শুআরা, আয়াত: ২২৭; ইবনে কাসীর ও কুরতুবী তাফসীর, মদিনা
📄 উসমান ইবনু আফফান রা. এর নির্বাচন
উমার ফারুক রা. যখন মৃত্যুশয্যায় খলিফা নির্বাচন করতে চাইলেন, তখন বললেন— দেখো, যদি আমি খলিফা নির্বাচন না করি, আদতে তাতে কোনো আপত্তি নেই। কারণ, আমার থেকে উত্তম ব্যক্তি আবু বকর রা. খলিফা নির্বাচন ছাড়াই রেখে চলে গেছেন। এছাড়া আমার থেকে আরও শতগুণ উত্তম ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও নির্বাচন না করেই বিদায় নিয়েছেন। তবে এখন, আমি মনে করি, এই ছয়জনের মাঝে খিলাফত সীমাবদ্ধ, যাদের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্তুষ্ট থেকে মৃত্যুবরণ করেছেন..
সহিহ মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, আবদুল্লাহ ইবন উমার রা. বলেন—যখন তিনি (উমার) রাসুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা বললেন, তখনই আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি নির্দিষ্ট করে কাউকে নির্বাচন করবেন না।
আমর ইবনু মাইমুন রা.-এর এক দীর্ঘ হাদিসে এসেছে, উমার ইবনুল খাত্তাবকে সাহাবায়ে কিরাম অনুরোধ করলেন—আমিরুল মুমিনিন, পরবর্তী খলিফা নির্বাচনের বিষয়ে অসিয়ত করেন!
তখন তিনি বললেন—এই ছয়জনের চেয়ে আর কাউকে এ শাসনভারের উপযুক্ত দেখি না, যাদের ওপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্তুষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। (অতঃপর তিনি সেই ছয়জনের নাম বললেন) তারা হলেন—(১) আলি, (২) উসমান, (৩) জুবাইর, (৪) তালহা, (৫) সাদ, এবং (৬) আব্দুর রহমান। সাথে এও বললেন—পক্ষান্তরে আবদুল্লাহ ইবনু উমার রা. মজলিসে উপস্থিত থাকবে, সে শাসনভার গ্রহণ করতে পারবে না। তিনি তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য এ কথা বলেছেন।
এখানে উমার রা. ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছেন, যা কালোপযোগী ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর সময় সবাই আবু বকর রা. এর শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রবর্তিতায় একমুখ ছিলেন। তাই, বিরোধিতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা খুব কমই ছিল। বিশেষ করে যেহেতু নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কথাবার্তায় উম্মাহকে এই ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছেন যে—তাঁর পরে খলিফা হওয়ার সর্বাধিক উপযুক্ত আবু বকর রা.।
এদিকে আবু বকর রা. যখন উমার রা.-কে খলিফা মনোনীত করেছেন, তখন তিনি জানতেন, সাহাবায়ে কিরাম সবাই একমত যে, শাসনভার গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ও শ্রেষ্ঠ। তাই, তিনি বড়ো বড়ো সাহাবায়ে কিরামের পরামর্শক্রমে তাকে খলিফা বানান। কেউ এর বিরোধিতাও করে নি। এভাবে উমার রা.-এর ব্যাপারে ইজমা সাব্যস্ত হয়।
পক্ষান্তরে, উমার রা. সম্পূর্ণ ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করলেন। অর্থাৎ শাসন-ব্যবস্থার বিষয়টিকে নির্দিষ্ট কয়েকজন সাহাবির মাঝে সীমাবদ্ধ করে দিলেন। যারা সবাই শাসনভারের উপযুক্ত। একই সাথে তিনি নির্বাচন-পদ্ধতিও নির্দিষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে—তারা সবাই একত্রে এক ঘরে পরামর্শ করবেন, তাদের সাথে আবদুল্লাহ ইবনু উমার শুধু পরামর্শক হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারবে। এর বাইরে সেস আর কিছুই করতে পারবে না। আর এই পুরো বিষয়টা শেষ করার জন্য তিনদিনের সময় সীমাবদ্ধ করে দিলেন। তিনি আরও বলেন—চতুর্থ দিন যেন তোমাদের একজন আমির অবশ্যই থাকে। এর কারণ সম্ভবত এমন যে, তিন দিনের বেশি হলে বিরোধিতা সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে।
টিকাঃ
* আল কামিল ফিত তারিখ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৬৭
* মাউসুআতুস সিয়ার, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৬৮
১০০ মুসনাদু বায্যার, ১৫৩
১০১ মুসলিম, ৪৬০৪
১০২ বুখারি, ৩৯০০
১০০ মাউসুআতুস সিয়ার, খণ্ড : ৫ পৃষ্ঠা : ৫৪
📄 আলি ইবনু আবি তালিব রা. এর নির্বাচন
আলি রা.-এর বাইআত নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছে। এর আগে যে ঘটনা ঘটেছিল, তা হচ্ছে : ৩৫ হিজরির জিলহজ মাসের ১৮ তারিখ শুক্রবার, বিভিন্ন এলাকা ও গোত্রের বহিরাগত ধর্মত্যাগী অপরিচিত লোকেরা অন্যায়ভাবে উসমান ইবনু আফফান রা.-কে শহিদ করে। এরপর মদিনায় অবস্থানরত সমস্ত সাহাবায়ে কিরাম আলি রা.-এর হাতে বাইআত গ্রহণ করেন। কারণ, শাব্দিক অর্থেই ওই সময়ে তার থেকে শ্রেষ্ঠ আর কেউ ছিল না। এজন্যই সাহাবায়ে কিরামের অনেক পীড়াপীড়ির পর তিনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কোনো কোনো আহলে ইলম আলি রা.-এর সেই নির্বাচনের পদ্ধতিটা বর্ণনা করেছেন। আবু বকর খল্লাল মুহাম্মাদ ইবনু হানাফিয়্যার সনদে মুহাম্মাদ রহ. বর্ণনা করেন—
(সেদিন) আমি, আলি ও উসমান রা.-এর সাথে অবরুদ্ধ ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে বলল— আমিরুল মুমিনিনকে অতিসত্বরই হত্যা করা হবে। তারপর আরেকজন এসে বলল— এখনই হত্যা করা হবে। তখন আলি রা. দাঁড়িয়ে গেলেন। মুহাম্মাদ রহ. বলেন— আলি রা. উসমান রা. এর ঘরে এসে দেখেন, তিনি শহিদ হয়ে গেছেন। তখন আলি রা. নিজের ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে দেন। তখন লোকেরা এসে দরজায় করাঘাত করলে তিনি দরজা খোলেন। তারা তার সামনে এসে বলে— উসমান রা.-কে তো শহিদ করা হয়ে গেছে, আর সবার একজন খলিফাও দরকার, কিন্তু আমরা আপনার চেয়ে আর কাউকে এই বিষয়ের যোগ্য মনে করি না।
আলি রা. তাদেরকে বললেন— তোমরা আমাকে খলিফা বানাতে চেয়ো না। কারণ, তোমাদের আমির হওয়ার চাইতে পরামর্শদাতা বা সাহায্যকারী হওয়াই উত্তম। তারা বলল, না, আল্লাহর কসম! আপনি ছাড়া আর কেউ এর হকদার হতে পারে না। তখন তিনি বললেন— তাহলে তোমরা যদি আমাকে খলিফা বানাতেই চাও, তাহলে আমার বাইআত গোপনে হলে চলবে না। বরং, আমি মসজিদে যাব, তখন যার ইচ্ছা আমার হাতে বাইআত গ্রহণ করবে। তখন লোকজন তার হাতে বাইআত গ্রহণ করে