📄 ইরবাজ ইবনু সারিয়া রা.-এর হাদিস
তিনি বলেন-একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নামাজ পড়িয়ে বেশ আবেগপূর্ণ ভাষায় ওয়াজ করলেন। যার ফলে আমাদের চোখ থেকে অশ্রু ঝরেছে, হৃদয় প্রকম্পিত হয়েছে। সেসময় সেখানে উপস্থিত একজন বলল-
'আল্লাহর রাসুল, মনে হচ্ছে, এটি বিদায়ের ভাষণ। তো, আপনি আমাদেরকে আর কীসের আদেশ করবেন?' নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
আমি তোমাদের অসিয়ত করছি আল্লাহ তাআলাকে ভয় করার, আমিরের কথা শোনার এবং তার আনুগত্য করার, যদিও সে হাবশি গোলাম হয়। তোমাদের মধ্য থেকে যে আমার পরে বেঁচে থাকবে, সে অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদিনের সুন্নাহ আঁকড়ে ধোরো। তোমরা সেই সুন্নাহ দাঁত দিয়ে কামড়ে ধোরো। তোমরা প্রত্যেক নবউদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে সতর্ক থেকো। কারণ, প্রত্যেক নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর বিদআতের পরিণام ভ্রষ্টতা।
সুতরাং, এখানে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, তার সুন্নাহ এবং খুলাফায়ে রাশিদার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার, যা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। আর খুলাফায়ে রাশিদার একটি সুন্নাহ হলো খলিফা নির্বাচনের পদ্ধতি।
ইবনু রজব হাম্বলি রহ. বলেন-এখানে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমে শাসকদের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন, তারপর আলাদাভাবে তার সুন্নাহ ও খুলাফায়ে রাশিদার সুন্নাহ অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই বিষয়ে এটাই একটি বড়ো দলিল যে, শুধু খুলাফায়ে রাশিদার সুন্নাহ নবীজির সুন্নাহর পর অবশ্য পালনীয়। পক্ষান্তরে, পরবর্তী অন্যান্য শাসকদের কথা ভিন্ন।
📄 হুজাইফা রা.-এর হাদিস
তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন-
إني لا أدري ما بقى فيكم فاقتدوا باللذين من بعدي
'আমি জানি না, আর কতদিন তোমাদের মাঝে বাকি থাকবে। সুতরাং, তোমরা আমার পর যে দুজন আছে, তাদের অনুসরণ করো!'
দুজন বলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু বকর ও উমার রা. এর দিকে ইশারা করেছেন।
📄 ইজমা
ইতঃপূর্বে আলোচিত হয়েছে-ইজমা বা উলামায়ে উম্মাতের একমত হওয়াও একটি শরয়ি দলিল। আর সেই ইজমা যদি সাহাবায়ে কিরামের ইজমা হয়, খাইরুল কুরুনের প্রথম যুগে হয়, তাহলে কত শক্তিশালী ইজমা হবে! কারণ, খুলাফায়ে রাশিদার যুগেই ইসলাম পরিপূর্ণভাবে কার্যকর ও বাস্তবায়িত হয়েছিল। তারাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে থেকে জিহাদ করেছেন, নিজেদের জান-মাল আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করেছেন, সেই সাথে ওহি নাজিলের প্রত্যেকটি সময়ে তারা উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং, তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ইজমা শরয়ি দলিল হওয়াতে কী বাধা আছে?