📄 পতাকার ওপর কী লেখা হবে?
ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধের পতাকা কালো ছিল, আর সাধারণ নেতৃত্বের পতাকা সাদা ছিল। সেখানে লেখা ছিল: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।
মোটকথা, পতাকার রং, ধরন, পরিমাপ, তার ওপর কী লেখা হবে-এগুলো সব যুগের প্রচলন হিসাবে হবে। তবে হাদিসে যেভাবে বর্ণিত আছে, সেভাবেই উত্তম। মুসলিমদের কর্তব্য হলো-তারা ওই সব চিহ্ন পরিহার করবে, যেগুলো কাফিররা ব্যবহার করে।
মোল্লা আলি কারি রহ. তার প্রখ্যাত ব্যাখ্যা গ্রন্থ মিরকাতে ‘যে কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের মধ্য থেকেই গণ্য হবে’– এই হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন-‘যে কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে; যেমন: পোশাক-পরিচ্ছদে, কিংবা ফাসিক-ফাজিরদের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, অথবা নেককারদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে; তাহলে সে তাদের মধ্য হতে গণ্য হবে। অর্থাৎ, গুনাহ বা সাওয়াবের ক্ষেত্রে।
আল্লামা কারي রহ. আরও বলেন- ‘এই সাদৃশ্য অবলম্বন ব্যাপক; চাই চারিত্রিকভাবে হোক, কিংবা বৈশিষ্ট্যগতভাবে।
তিনি একটি অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক ঘটনাও উল্লেখ করেছেন-আল্লাহ তাআলা যখন ফিরাউন ও তার গোষ্ঠীকে পানিতে ডুবিয়ে দেন, তখন তার এক দাস ও অনুচরকে ডুবিয়ে দেন নি। সেই দাস চলনে-বলনে ও পরনে মুসা আলাইহিস সালামের অনুকরণ করত তাকে উপহাস করার জন্য। আর ফিরাউন ও তার সভাসদবর্গ তার আচরণ ও চলাফেরা দেখে হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠত! (ওই লোকটির পানিতে না ডোবার কারণে) মুসা আ. আল্লাহ তাআলাকে বললেন-হে আমার রব, এ তো সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিত।
আল্লাহ তাআলা তাকে বললেন-আমি তাকে ডুবিয়ে দিই নি। কারণ, সে তোমার মতো পোশাক পরেছিল। আর আল্লাহ তাকে কষ্ট দেন না, যে তাঁর প্রেমাষ্পদের মতো।
লক্ষ্য করেন-খারাপ ইচ্ছা পোষণ করেও যদি কেউ আহলে হকের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, বাহ্যত দুনিয়াবি আজাব থেকে মুক্তি পায়; তাহলে যে খাঁটি নিয়তে, সত্যিকার অর্থেই আম্বিয়ায়ে কিরামের অনুসরণ করবে, তার অবস্থা কেমন হবে?
টিকাঃ
*প্রাগুক্ত
**প্রাগুক্ত