📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 ভূমির স্বাধীনতা-রক্ষা

📄 ভূমির স্বাধীনতা-রক্ষা


ইসলামি রাষ্ট্রের ভূমির ক্ষয়ক্ষতি থেকে ও স্বাধীনতা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। কারণ, দেশের ভূমি সমগ্র দেশবাসীর সম্পদ। সুতরাং, অন্য কেউ এর বিন্দু পরিমাণও দখল করতে পারবে না, যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে—কারও অনুমতি ছাড়া তার সম্পদে হস্তক্ষেপ করা অবৈধ।

দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে দেশের ভূমি রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা একটি প্রাকৃতিক ও বাস্তবসম্মত অধিকার। কারণ, সীমানা রক্ষা করার মাধ্যমেই দেশ নিরাপদ থাকতে পারে। এ জন্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু সালামাকে নিজেদের জায়গামতো থাকতে বলেছেন, যাতে মদিনা সুরক্ষিত থাকে। আনাস রা. বলেন— একবার বনু সালামা মসজিদের কাছে চলে আসতে চাচ্ছিল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চান নি যে, মদিনা অরক্ষিত হয়ে যাক। তাই তিনি বললেন— ‘বনু সালামা। তোমরা কি (মসজিদে আসার) পদচিহ্নসমূহে সাওয়াবের আশা করো না?’ তখন তারা পূর্বের জায়গাতেই থেকে গেলেন।

তাছাড়া দ্বীন হিফাজত করতে চাইলেও সীমান্ত নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে শত্রুরা কোনো নারীকে ইজ্জত হারা না করতে পারে, অথবা কোনো মুসলিমকে জিম্মি বা তার জানের ক্ষতি করতে না পারে।

সাম্রাজ্য যেন বিভক্ত না হয় সে ব্যাপারেও সুলতানের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কেননা, এতে সাম্রাজ্যই দুর্বল হবে। কারণ, কোনো সাম্রাজ্য ধ্বসে যাওয়ার প্রথম লক্ষণই হচ্ছে সাম্রাজ্যভাগ হওয়া। অতীতে ইসলামি সাম্রাজ্য ততদিন স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল, যতদিন পুরো সাম্রাজ্য এক সাথে এক জোট হয়ে ছিল। পরবর্তী সময়ে যখন শাসন-ব্যবস্থা বনু উমাইয়্যা থেকে আব্বাসিদের হাতে চলে এলো, তখন আন্দালুসও ভাগ হয়ে গেল। এটাই মূলত ইসলামি সাম্রাজ্যে প্রথম বিভক্তি। তারপর বিভক্তি হতে হতে মুসলিমরা পরাস্ত ও পরাজিত হয়ে গেল। শাসক না হয়ে শাসিত হলো, যেমন: বর্তমানের অবস্থা। কারণ, সাম্রাজ্য বিভক্ত না হলেই দেশ স্থিতিপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। আর দেশ রক্ষার মাধ্যমে জনগণও রক্ষা পাবে। এ জন্যই এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

টিকাঃ
সহিহ বুখারি ১১১০

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 ইসলামি সাম্রাজ্যের নামকরণ

📄 ইসলামি সাম্রাজ্যের নামকরণ


মুসলিম রাষ্ট্রের নামকরণের ক্ষেত্রে ইসলামের নাম অবশ্যই থাকতে হবে। সেটা হোক—

* (০১) ইমামতে ইসলামিয়া,
* (০২) ইমারাতে ইসলামিয়া,
* (০৩) খিলাফতে ইসলামিয়া,
* (০৪) দাওলাতে ইসলামিয়া,
* (০৫) সালতানায়ে ইসলামিয়া,
* (০৬) হুকুমাতে ইসলামিয়া,

ইতিহাসের অধিকাংশ পাতায় 'দাওলাতে ইসলামিয়া'র উল্লেখ রয়েছে।

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 খলিফার দায়-দায়িত্ব

📄 খলিফার দায়-দায়িত্ব


মানুষ সামাজিক প্রাণী। মানুষ সমাজ ছাড়া চলতে পারে না। ফলে বিভিন্ন সময় মতভিন্নতা ও বিরোধিতা সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। তাই, এমন কিছু আইন-কানুন প্রণয়ন করা প্রয়োজন-যা সবাই মেনে নেবে। সবাই এসব বিধিবিধান পালন করবে। এ সকল বিধিবিধানের মাধ্যমে তাদের মধ্যকার ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা করা হবে। এখন যদি এসব বিধিবিধান রাষ্ট্রের কর্ণধারদের থেকে প্রণয়ন করা হয়, তাহলে সেগুলো হয় ধর্মহীন কিছু দর্শন। আর এসব বিধিবিধান যদি সৃষ্টিকর্তা মহান রব্বল আলামিনের পক্ষ থেকে প্রণয়ন করা হয়, তাহলে সেগুলো হয় মানুষের দ্বীন-দুনিয়া উভয় জাহানের জন্য কল্যাণকর, ধর্মযুক্ত আইন-কানুন যা জীবনের প্রতিটি প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট। এসব বিধিবিধান বাস্তবায়নের জন্যই আল্লাহ তাআলা রাসুলদের এবং তাদের খলিফা হিসেবে ইসলামি রাষ্ট্রের শাসকদের প্রেরণ করেছেন। সুতরাং খলিফার কর্তব্য হলো এই বিধিবিধানগুলো জনগণের মাঝে বাস্তবায়ন করা। এখানে আমরা সংক্ষিপ্তভাবে খলিফার কিছু মৌলিক দায়িত্ব তুলে ধরছি। বড়ো বড়ো কিতাবে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00