📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 স্বাতন্ত্র্য ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা

📄 স্বাতন্ত্র্য ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা


ইসলামি রাষ্ট্রে আইন-কানুন, বিধিবিধান, মূলনীতি ও নীতিমালা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। বাহিরের কাউকে—যে কেউ হোক না কেন— ভেতরের বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা অনধিকার চর্চার সুযোগ দেওয়া যাবে না। কারণ, অন্যের ঘরে তো তার অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা যায় না। সেটা হবে অন্যের মালিকানায় অবৈধ হস্তক্ষেপ। তাহলে কীভাবে কোনো সাম্রাজ্যের জন্য আরেক সাম্রাজ্যে অনধিকার চর্চা করা বৈধ হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ فَإِن لَّمْ تَجِدُوا فِيهَا أَحَدًا فَلَا تَدْخُلُوهَا حَتَّى يُؤْذَنَ لَكُمْ وَإِن قِيلَ لَكُمُ ارْجِعُوا فَارْجِعُوا هُوَ أَزْكَى لَكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ

‘হে ঈমানদাগণ, তোমরা তোমাদের ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে অনুমতি নেওয়া ও তার অধিবাসীদের সালাম দেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রবেশ করো না। সেটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারো। সেখানে যদি কাউকে না পাও, তাহলে তোমাদের অনুমতি দেওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না।’

ইবনু কাসির রাহিমাহুল্লাহ এর কারণ বর্ণনা করে বলেন— ‘সেখানে তখন অন্যের মালিকানায় তার অনুমতি ছাড়া অনধিকার চর্চা করা হয়।’

সুতরাং, আমেরিকা যে আফগানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল, সেটা ছিল অন্যায় হস্তক্ষেপ, অবৈধ প্রভাব বিস্তার এবং অনধিকার চর্চা। এজন্যই আফগানের উলামায়ে কিরাম তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিয়েছেন এবং আফগানের যারা তাদের সাহায্য করবে, তাদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করার ফতোয়া দিয়েছেন। কেননা, এর মাধ্যমে তারা নিজেদের দ্বীনকে, নারী ও শিশুকে, সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করছে। আর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—

من قتل دون ماله فهو شهيد ومن قتل دون اهله أو دون دمه أو دون دينه فهو شهيد....

‘যে ব্যক্তি নিজের মাল রক্ষা করতে নিহত হয়, সে শহিদ। আর যে নিজের পরিবার বা নিজের জান বা নিজের দ্বীনকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সেও শহিদ।’

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা

📄 স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা


ইসলামি রাষ্ট্রে বাকস্বাধীনতা অবশ্যই থাকবে। অর্থাৎ, প্রত্যেক মুসলিমের এই সুযোগ থাকবে যে, সে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি তুলে ধরতে পারবে, সাধারণ মানুষের কাছে ইসলামের বিধিবিধান পৌঁছে দিতে পারবে। মোটকথা, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করতে পারবে, এমনকি রাষ্ট্রপ্রধানকেও। তবে সেটা শরিয়ত নির্দেশিত পন্থায় হতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

ادْعُ إِلى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ

‘তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রতি আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও সুন্দর কথার মাধ্যমে এবং তাদের সাথে যুক্তিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়! নিঃসন্দেহে, তোমার রব তাদের সম্পর্কে অধিক অবগত, যারা তাঁর পথ থেকে গোমরাহ হয়েছে। আর তিনিই হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে অধিক অবগত।’

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ

তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।

মোটকথা, ইসলামে বাকস্বাধীনতা আছে। আর সেটা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো— প্রত্যেকের সামনে থেকে জালিম শাসকের কাছে সুউচ্চ স্বরে সত্যের বাণী তুলে ধরা। যেমন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—

أفضل الجهادي كلمه عدل عند سلطان جائر أو أمير جاائر.

'সবচেয়ে উত্তম জিহাদ হলো জালিম শাসক বা অত্যাচারী নেতার সামনে ইনসাফের কথা বলা'।

মুসলিম শাসকরাও সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেন, যাতে তাদের সামনে সত্য বাণী তুলে ধরে এবং শাসকরাও সেটা মেনে নিতেন! আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- 'আমি তোমাদের শাসক ঠিকই, তবে তোমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নই। সুতরাং, যদি আমি সত্যের ওপর অটল থাকি, তাহলে আমাকে সাহায্য করো। আর যদি সত্য থেকে বিচ্যুত হই, তাহলে আমাকে সত্যের পথে নিয়ে আসো।'

বর্ণিত আছে, এক লোক উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলল-'আল্লাহকে ভয় করেন'। তিনি খুশি হয়ে তাকে তখন কৃতজ্ঞতা জানালেন। বললেন- 'ওই ব্যক্তিদের উপর যেন আল্লাহ রহম করেন, যে আমাদের সামনে আমাদের দোষগুলো তুলে ধরে।

আবদুল্লাহ ইবনু মুসআব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার রা. একবার বললেন-তোমরা নারীদের চল্লিশ উকিয়ার বেশি মোহর দিয়ো না, যদিও সে নিও গোত্রের মেয়ে হয়। অর্থাৎ, যদিও সে ইয়াজিদ ইবনু হুসাইন হারিসির মেয়ে হোক কারণ, সে ছিল ধনী ছিল। এখন কেউ যদি বেশি মোহর দেয়, তাহলে আমি সেই অতিরিক্ত অংশ বাইতুল মালে রেখে দেব।

তখন নারীদের কাতার থেকে এক নারী দাঁড়িয়ে বললেন-কীভাবে আপনি এ কথা বললেন?

উমার রা. বললেন-কেন কী হয়েছে? নারীটি বললেন, আল্লাহ তাআলা তো বলেছেন-

وَاِنْ اَرَدْتُّمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَّكَانَ zَوْجٍ وَّاٰتَيْتُمْ اِحْدٰهُنَّ قِنْطَارًا فَلَا تَأْخُذُوْا مِنْهُ شَيْـًٔا ؕ

'আর যদি তোমরা তাদের কাউকে (স্ত্রীকে) অঢেল সম্পদও দিয়ে থাকো, তবুও তা থেকে কিছুই ফিরিয়ে নিয়ো না!'

তখন উমার রা. বললেন, এক নারী সঠিক বলল, কিন্তু একজন পুরুষ ভুল বলল। (অর্থা তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে নিলেন।)

মুহাম্মাদ ইবনু কাব কুরজি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-একবার এক লোক আলি রা.-কে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, আলি রা. তার উত্তর দেওয়ার পর লোকটি বলল, উত্তরটা আসলে এমন না, বরং এমন। তখন আলি রা. বললেন—তুমি ঠিক বলেছ, আমি ভুল বলেছি।'

কিন্তু বাক-স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে, যে যার মতো নিজের খেয়ালখুশির দিকে বা বিদআতের দিকে আহ্বান করবে। কারণ, সেটা ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ। আর কেউ যদি বিদআতের দিকে মানুষকে আহ্বান করে, তাহলে তাকে হত্যা করা হবে।

রদ্দুল মুহতারে আছে—'কোনো বিদআতি যদি মানুষকে বিদআতের কথা বলে, আর সে বিদআত ছড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকে, তাহলে যদিও তার বিষয়ে কুফুরির ফায়সালা দেওয়া হয় নি; কিন্তু রাষ্ট্রকে গতিশীল রাখার জন্য এবং জনগণকে রোধ করার জন্য সুলতান তাকে হত্যা করতে পারবে। কারণ, এই ফিতনা অনেক গুরুতর ও মারাত্মক, দ্বীনের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টিকারী। আর যদি সেই বিদআত সরাসরি কুফুরি হয়, তাহলে বিদআতিদের সবাইকে হত্যা করা হবে; কিন্তু যদি বিদআতটি কুফুরি না হয়, তাহলে অন্যদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ শুধু তাদের নেতা ও গুরুকে হত্যা করা হবে।'

আকিদাগত বা ধর্মগত স্বাধীনতা: ইসলাম জিম্মি বা চুক্তিবদ্ধ কাফিরকে ইসলামগ্রহণে বাধ্য করে না, বরং আপন ধর্মের ওপরই বহাল রাখে। উমার রা.-এর 'আশাক' নামে এক খ্রিস্টান গোলাম ছিল। সে বলে—'আমি উমার রা.-এর এক খ্রিস্টান গোলাম ছিলাম। একবার উমার রা. আমাকে বললেন—তুমি মুসলিম হয়ে যাও, যাতে মুসলিমদের কিছু কাজে সাহায্য করতে পারো। কারণ, মুসলিমদের কাজে অমুসলিমদের সাহায্য নেওয়া উচিত নয়। তখন আমি অস্বীকার করলাম!

উমার রা. বললেন—ইসলামে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই! যখন তার মৃত্যুর সময় হলো, তখন তিনি আমাকে মুক্ত করে দিয়ে বললেন—তোমার যেখানে ইচ্ছা যাও।'

ফুকাহায়ে কিরাম এ ব্যাপারে একমত যে, জিম্মিরা নিজেদের ধর্মের রীতিনীতি চর্চা করতে পারবে। তাদের এ-সব করতে নিষেধও করা হবে না, যতক্ষণ না তারা সেগুলো প্রকাশ্যে করে! এখন যদি তারা সেগুলো প্রকাশ্যে করতে চায়, যেমন—রাস্তায় বের হয়ে করতে চায়, তাহলে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা ও শহরে এগুলো করা ও বসবাসের ব্যাপারে তাদের নিষেধ করা হবে, তবে তাদের নিজেদের এলাকায় নিষেধ করা হবে না।

ইসলামে স্বাধীনতা দ্বারা উদ্দেশ্য এটাই। এর অর্থ এই না যে, প্রত্যেকে প্রত্যেকের বিশ্বাসে স্বাধীন—হোক সে ইহুদি বা খ্রিস্টান বা অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। আবার, সে চাইলে এক ধর্ম বাদ দিয়ে অন্য ধর্ম গ্রহণ করবে। বরং, ইসলামে স্বাধীনতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহ তাআলার সত্তা, সিফাত, ইবাদাত, ইস্তিআনাতের ক্ষেত্রে একত্ববাদিতার বিশ্বাস। কারণ, ইসলামি রাষ্ট্রের বড়ো একটি উদ্দেশ্য হলো, দ্বীনকে হিফাজত করা। আর সেটা সম্ভব দ্বীনের মৌলিক বিষয়কে হিফাজত করার মাধ্যমে, মানুষকে সঠিক আকিদার ওপর রাখার মাধ্যমে, যার ওপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মাহকে রেখে গিয়েছেন, যার জন্য ভ্রান্তদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, মুনাফিকদের বেড়াজাল মূলোৎপাটন করেছেন-যারা মানুষের মাঝে বিভ্রান্তিকর আকিদা, শয়তানের বানানো ও প্রত্যাখ্যাত অলিক ধ্যানধারণা ছড়ায়, আর ভাবে-তারা ভালো কাজই করছে। আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

أحب الدين إلى الله الحنيفية السمحة

'আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় দ্বীন হলো উদার একনিষ্ঠ সরলধর্ম।'

আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

وايم الله لقد تركتكم على مثل البيضاء ليلها ونهارها سواء

'আল্লাহর কসম! তোমাদের আমি শুভ্রতুল্য দ্বীনের ওপর রেখে গেলাম, যার দিন-রাত এক সমান (অর্থাৎ, উজ্জ্বল পরিষ্কার)।

আবু দারদা রা. বলেন-আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্যই বলেছেন। তিনি আমাদের উজ্জ্বল ধর্মের ওপর রেখে গিয়েছেন, যার রাত-দিন সমান।

এই সহজ-সরল, উজ্জ্বল দ্বীন পরিবর্তন করার নামই হলো ইরতিদাদ ও কুফুরি। আর এটা ইসলামে মারাত্মক অপরাধ। এর শাস্তি হলো হত্যা এবং ইসলামের ফিরে আসার আগ পর্যন্ত আজীবন কারাদণ্ড।

কানজুল উম্মালে আছে-'মুরতাদের সামনে ইসলামকে পেশ করা হবে, তার সন্দেহ দূর করা হবে, তিন দিন তাকে আটকে রাখা হবে, যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে তো হলোই। অন্যথায়, তাকে হত্যা করা হবে। তবে মুরতাদ নারীকে হত্যা করা হবে না। বরং, ইসলামগ্রহণের আগ পর্যন্ত আটকে রাখা হবে।' মূলত, ইসলাম মানুষের দ্বীন-দুনিয়ার বিষয়-আশয় খুব গুরুত্ব সহকারে দেখে। এ কারণেই যে মুফতি মানুষকে বিভিন্ন হিলা বা কৌশল শেখায়, অজ্ঞতাবশত বা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য বা খেয়াল-খুশির কারণে শরিয়তের সাথে বিরোধপূর্ণ ফতোয়া দেয়, যার ফলে জিজ্ঞাসু ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন মুফতিকে ফতোয়া দিতে শরিয়ত নিষেধ করেছে।

একইভাবে ওই ডাক্তারের জন্য ডাক্তারি হারাম, যে মানুষের চিকিৎসা করে অথচ চিকিৎসা কী, সেটাও জানে না। ফলে তাদের অসুস্থতা আরও গুরুতর হয়। তদ্রুপ যে ব্যক্তি মানুষকে গাড়ি ভাড়া দেয় এবং ভাড়াও নিয়ে নেয়, পরবর্তী সময়ে যখন ভাড়াটে ব্যক্তি আসে তখন দেখে যে, তার কাছে কোনো গাড়িই নেই; ফলে ভাড়াটে ব্যক্তি সঙ্গীসাথি থেকে পিছিয়ে পড়ে, এমন নিঃস্ব ব্যক্তির জন্য মানুষের কল্যাণের জন্যই গাড়ি ভাড়া দেওয়া নিষিদ্ধ। কারণ, এদের মাধ্যমে মানুষের সম্পদ ও সময়ের ক্ষতি হয়।

টিকাঃ
** সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০
* আবু দাউদ, ৪৩৪১। আদেশ-নিষেধ অধ্যায়।
** সূত্র: খিলাফত: ১৪৮
*** সূরা নিসা, আয়াত: ২০
** প্রাগুক্ত, ৮৬৫
** তাবারানি, আওসাত, ৭৩৫১
** সুনানু ইবনি মাজাহ, ৫

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 ভূমির স্বাধীনতা-রক্ষা

📄 ভূমির স্বাধীনতা-রক্ষা


ইসলামি রাষ্ট্রের ভূমির ক্ষয়ক্ষতি থেকে ও স্বাধীনতা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। কারণ, দেশের ভূমি সমগ্র দেশবাসীর সম্পদ। সুতরাং, অন্য কেউ এর বিন্দু পরিমাণও দখল করতে পারবে না, যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে—কারও অনুমতি ছাড়া তার সম্পদে হস্তক্ষেপ করা অবৈধ।

দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে দেশের ভূমি রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা একটি প্রাকৃতিক ও বাস্তবসম্মত অধিকার। কারণ, সীমানা রক্ষা করার মাধ্যমেই দেশ নিরাপদ থাকতে পারে। এ জন্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু সালামাকে নিজেদের জায়গামতো থাকতে বলেছেন, যাতে মদিনা সুরক্ষিত থাকে। আনাস রা. বলেন— একবার বনু সালামা মসজিদের কাছে চলে আসতে চাচ্ছিল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চান নি যে, মদিনা অরক্ষিত হয়ে যাক। তাই তিনি বললেন— ‘বনু সালামা। তোমরা কি (মসজিদে আসার) পদচিহ্নসমূহে সাওয়াবের আশা করো না?’ তখন তারা পূর্বের জায়গাতেই থেকে গেলেন।

তাছাড়া দ্বীন হিফাজত করতে চাইলেও সীমান্ত নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে শত্রুরা কোনো নারীকে ইজ্জত হারা না করতে পারে, অথবা কোনো মুসলিমকে জিম্মি বা তার জানের ক্ষতি করতে না পারে।

সাম্রাজ্য যেন বিভক্ত না হয় সে ব্যাপারেও সুলতানের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কেননা, এতে সাম্রাজ্যই দুর্বল হবে। কারণ, কোনো সাম্রাজ্য ধ্বসে যাওয়ার প্রথম লক্ষণই হচ্ছে সাম্রাজ্যভাগ হওয়া। অতীতে ইসলামি সাম্রাজ্য ততদিন স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল, যতদিন পুরো সাম্রাজ্য এক সাথে এক জোট হয়ে ছিল। পরবর্তী সময়ে যখন শাসন-ব্যবস্থা বনু উমাইয়্যা থেকে আব্বাসিদের হাতে চলে এলো, তখন আন্দালুসও ভাগ হয়ে গেল। এটাই মূলত ইসলামি সাম্রাজ্যে প্রথম বিভক্তি। তারপর বিভক্তি হতে হতে মুসলিমরা পরাস্ত ও পরাজিত হয়ে গেল। শাসক না হয়ে শাসিত হলো, যেমন: বর্তমানের অবস্থা। কারণ, সাম্রাজ্য বিভক্ত না হলেই দেশ স্থিতিপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। আর দেশ রক্ষার মাধ্যমে জনগণও রক্ষা পাবে। এ জন্যই এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

টিকাঃ
সহিহ বুখারি ১১১০

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা > 📄 ইসলামি সাম্রাজ্যের নামকরণ

📄 ইসলামি সাম্রাজ্যের নামকরণ


মুসলিম রাষ্ট্রের নামকরণের ক্ষেত্রে ইসলামের নাম অবশ্যই থাকতে হবে। সেটা হোক—

* (০১) ইমামতে ইসলামিয়া,
* (০২) ইমারাতে ইসলামিয়া,
* (০৩) খিলাফতে ইসলামিয়া,
* (০৪) দাওলাতে ইসলামিয়া,
* (০৫) সালতানায়ে ইসলামিয়া,
* (০৬) হুকুমাতে ইসলামিয়া,

ইতিহাসের অধিকাংশ পাতায় 'দাওলাতে ইসলামিয়া'র উল্লেখ রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00