📄 ষষ্ঠ উৎস: মাসলাহাতে মুরসালা
উসুলবিদদের পরিভাষায় 'মাসলাহাতে মুরসালা' বলে ওইসব কল্যাণময় বিষয়কে যা বাস্তবায়নের জন্য কোনো হুকুম প্রণয়ন করা হয় নি। তদ্রুপ তার স্বপক্ষে বা বিপক্ষে কোনো শরয়ি দলিলও পাওয়া যায় নি।
আর এটাকে মুতলাক বা মুরসাল বলা হয় এজন্য যে, এটা দলিলমুক্ত। পক্ষের হোক বা বিপক্ষের! এর উদাহরণ হলো-কারাগার এবং রাজস্ব কর প্রভৃতি, যা সাহাবায়ে কিরাম বিভিন্ন প্রয়োজনে বানিয়েছেন; কিন্তু তার কোনো বিধিবিধানও নেই। সেই সাথে তার পক্ষে বা বিপক্ষে প্রণয়ন করার কোনো দলিলও নেই। মাসলাহাতে মুরসালা দিয়ে প্রমাণ পেশ করার জন্য শর্ত হলো-
* ০১। বাস্তবেই কল্যাণ আছে, শুধু ধারণাভিত্তিক নয়। অর্থাৎ মাসলাহাতে মুরসালা দিয়ে হুকুম প্রণয়নের পর যেন তা দিয়ে কল্যাণ লাভ করা যায়, অথবা ক্ষতি রোধ করা যায়।
* ০২। কল্যাণটি ব্যাপক হতে হবে, ব্যক্তিগতভাবে সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না।
* ০৩। এই কল্যাণ কুরআন-হাদিস বা ইজমার বিপরীত হতে পারবে না। সুতরাং, কুরআন-হাদিস বা ইজমার মোকাবিলায় ওই কল্যাণ ধর্তব্য নয়।
📄 সপ্তম উৎস: প্রচলন
এর পরিচয়, হুকুম, প্রকার উসুলের কিতাবে বর্ণিত আছে।
📄 অষ্টম উৎস: ইসতিসহাব
উসুলবিদদের পরিভাষায় ইস্তিসহাব হলো-কোনো জিনিসের ওপর পূর্বের অবস্থার বিচারে হুকুম প্রয়োগ করা, যতক্ষণ না পূর্বের অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার ওপর দলিল পাওয়া যায়। মূলত ইস্তিসহাব আমাদের হানাফিদের নিকট কোনো প্রাণ বা উৎস নয়, বরং একটি জিনিসকে পূর্বের অবস্থায় বহাল রাখা। কারণ, পূর্বের অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার কোনো দলিল পাওয়া যায় নি। বিস্তারিত বিবরণ উসুলের কিতাবে আছে।
📄 নবম উৎস: পূর্ববর্তী ধর্ম
কুরআন কারিম বা সুন্নাতে সহিহাতে যদি পূর্ববর্তী ধর্মের কোনো বিধান পাওয়া যায় এবং এটাও স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকে যে-তাদের মতো আমাদের ওপরও ফরজ, তাহলে সবার মতেই তাদের বিধান আমাদের শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যদি তাদের বিধান রহিত হওয়ার ওপর কোনো শরয়ি দলিল পাওয়া যায়, তাহলে সবার মতেই তা আমাদের শরিয়ত-বহির্ভূত বিষয় বলে গণ্য হবে।
আর যদি দুটোর কোনোটাই না পাওয়া যায়, অর্থাৎ ফরজ হওয়া বা রহিত হওয়ার ওপর কোনো দলিল না পাওয়া যায়; তাহলে অধিকাংশ উলামায়ে কিরামের মতে-আমাদের শরিয়ত বলে বিবেচিত হবে এবং সে অনুযায়ী আমল করা আমাদের ওপর কর্তব্য। আর কোনো কোনো আলিম বলেন—তা আমাদের শরিয়তের মধ্যে গণ্য হবে না। অবশ্য প্রথমটাই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত, যেমনটি উসুলের কিতাবে বিদ্যমান।