📄 কুরআনে বর্ণিত কার্যত বিধিনিষেধ দুই প্রকার
এক. ইবাদাত তথা নামাজ, রোজা, হজ্জ, জাকাত, মান্নত, কসম সংক্রান্ত বিধান! এই বিধিবিধানের মাধ্যমে রবের সাথে মানুষের বন্ধন তৈরি হয়।
দুই. ইবাদাত ব্যতীত পারস্পরিক লেনদেন তথা চুক্তি করা, চুক্তি ভঙ্গ করা, হদ ও শাস্তি ইত্যাদি সংক্রান্ত বিধিবিধান। এর মাধ্যমে পরস্পরের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা হয়, হোক সেটা ব্যক্তিগতভাবে অথবা সামাজিকভাবে। ইবাদাত ছাড়া অন্যান্য বিধিবিধানকে শরিয়তের পরিভাষায় 'আহকামুল মুআমালাত' বলা হয়। অবশ্য বর্তমানে মুআমালাত তথা লেনদেন সংক্রান্ত বিধিবিধান উদ্দেশ্যভেদে বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত হয়েছে-
০১। ব্যক্তিগত বিধান: এই প্রকার বিধিবিধানের মাঝে বৈবাহিক সম্পর্ক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান। যার উদ্দেশ্য ঘর সুসংগঠিত করে রাখা।
০২। নাগরিক বিধিবিধান: এই প্রকার বিধিবিধানের মাঝে পারস্পরিক লেনদেন, আদান-প্রদান তথা বেচাকেনা, ভাড়া দেওয়া, বন্ধক রাখা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। যার উদ্দেশ্য পারস্পরিক সম্পর্ক সসংগঠিত রাখা এবং হকদারের হক রক্ষা করা।
০৩। শাস্তি-সংক্রান্ত বিধিবিধান: বান্দা যে সকল অপরাধ করে, বা অন্যের সে সকল অপরাধের সম্মুখীন হয় সেগুলো এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। যার উদ্দেশ্য মানুষের জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু ও তার সমস্ত প্রাপ্যের হিফাজত করা।
০৪। মীমাংসা-সংক্রান্ত বিধিবিধান: আদালতের ফায়সালা, সাক্ষ্য, কসম ইত্যাদি এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। যার উদ্দেশ্য প্রবর্তিত এবং প্রণয়নকৃত বিষয়গুলো চালু করা, যাতে মানুষের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা যায়।
০৫। সংবিধান-সংক্রান্ত বিধিবিধান: শাসন-ব্যবস্থার নিয়মনীতি এবং মৌলিক বিষয়সমূহ এর অন্তর্ভুক্ত! যার উদ্দেশ্য শাসক ও মাষিক ব্যক্তির মাঝে সংযোগ স্থাপন।
০৬। রাষ্ট্র-সংক্রান্ত বিধিবিধান: অন্য রাষ্ট্রের সাথে ইসলামি রাষ্ট্রের লেনদেন, আদান-প্রদান এবং ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমদের সাথে মুসলিমদের সম্পর্ক রক্ষা করা।
০৭। অর্থনৈতিক বিধিবিধান: রাষ্ট্রের আয়, রাজস্ব এবং ব্যাংকিং বিষয়াদি এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। যার উদ্দেশ্য রাষ্ট্র ও জনগণের মাঝে লেনদেনের সম্পর্ক রক্ষা করা।