📄 ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি
সহজ ভাষায় হুকুমাতুল হুদা, হিদায়াতের শাসন, ইসলামি রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার ভিত্তি হলো ৬টি বিষয়-
০১। রাষ্ট্রনেতা (এর বিস্তারিত বিবরণ ও নির্বাচনের পদ্ধতি সামনেই আসছে।)
০২। শাসন-ব্যবস্থাপনা : এখানে শুধু যোগ্যদের নির্বাচিত করা হবে। যোগ্যতা ছাড়া অন্য কিছু ধর্তব্য নয়। ইয়াজিদ ইবনু আবি সুফইয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আবু বকর রা. যখন আমাকে প্রেরণ করছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘সেখানে তো তোমার ঘনিষ্ঠজনেরা আছে। এটা খুবই সম্ভব যে, শাসন-ব্যবস্থায় তুমি তাদের অগ্রাধিকার দেবে! আমি তোমার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি এ বিষয়েই ভয় করি। কিন্তু (শোনো), রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
من ولي من أمر المسلمين شيئا فأمر عليهم أحدا محاباة فعليه لعنة الله لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا حتى يدخله جهنم ..
যে ব্যক্তি মুসলিমদের কোনো একটি দায়িত্ব গ্রহণ করল, অতঃপর অন্যদের প্রাধান্য দিয়ে কাউকে আমির বানালো, তাহলে তার ওপর আল্লাহর লানত! আল্লাহ তাআলা তার থেকে না কোনো বিনিময় গ্রহণ করবেন, আর না কোনো মুক্তিপণ, যতক্ষণ না তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন। ইবনু আব্বাস রা. থেকেও বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
من استعمل رجلا من عصابة وفي تلك العصابة من هو أرضى الله منه فقد خان الله وخان رسوله وخان المؤمنين .
যে ব্যক্তিবর্গ কোনো লোককে কোনো দলের দায়িত্বশীল নির্ধারণ করল, অথচ সে দলে তার থেকে উত্তম কেউ ছিল, তাহলে সে আল্লাহর সাথে, রাসুলের সাথে এবং মুমিনদের সাথে খিয়ানত করল।”
০৩। রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন: কুরআন-সুন্নাহর মৌলিক কিছু নীতিমালা এবং সাধারণভাবে প্রাথমিক কিছু বিষয় আছে, অবশিষ্ট বিস্তারিত আইন-কানুন প্রণয়নের দায়িত্ব উম্মাহর ফুকাহায়ে কিরামদের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
০৪। স্বয়ংসম্পূর্ণ আদালত ব্যবস্থা: এই আদালত দেশের যেকোনো ক্ষমতা থেকে মুক্ত থাকবে। রাজা, প্রজা ও জনগণ সবাই সমান! আল্লাহ তাআলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ : إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَىٰ أَن تَعْدِلُوا وَإِن تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا..
হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো; আল্লাহর জন্য ন্যায়সংগত সাক্ষ্য প্রদান করো, যদিও সেটা তোমাদের নিজের বা পিতামাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। যদি সে বিত্তশালী হয় কিংবা দরিদ্র, তবে আল্লাহ উভয়েরই ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলো কিংবা এড়িয়ে যাও, তবে তোমরা যা করো সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত।'
ইসলামি ইতিহাসের পাতা খুললে ইনসাফের বহু আশ্চর্যজনক ঘটনা দৃষ্টিগোচর হয়! আমির-ফকির, ধনী-গরিব, কোনোরূপ ব্যতিক্রম ছাড়াই নির্বিশেষে সবার সাথে ইনসাফ করা হতো! এর ভিত্তি ছিল কুরআনের আয়াত-
وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا ...
'তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচার করবে, তখন ইনসাফের সাথে বিচার করবে।'
কেননা, এখানে 'মানুষ' শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ধনী-গরিব, আমির-ফকির সবাইকেই শামিল করে!
০৫। শক্তিশালী বাহিনী : যাদের (মোট ছয়টি) বৈশিষ্ট্য হলো-
এক. তারা শত্রুকে সন্ত্রস্ত রাখবে;
দুই. তাদেরকে সীমালঙ্ঘন থেকে বাধা দেবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رَبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ :
'আর তোমরা তাদের (মুকাবিলার) জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও সুসজ্জিত ঘোড়া প্রস্তুত রাখো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু তথা তোমাদের শত্রুকে সন্ত্রস্ত করবে এবং এরা ছাড়া অন্যদেরকে যাদের তোমরা জানো না, আল্লাহ জানেন।'
তিন. দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করবে;
চার. সীমানা পাহারা দেবে;
পাঁচ. অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক স্বাধীনতা হিফাজত করবে, যাতে দাসত্ব ও বন্দেগি একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলার জন্য হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ فَإِنِ انتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ (৩৯)
'আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো, যতক্ষণ না ফিতনার অবসান হয় এবং দ্বীন পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। তবে যদি তারা বিরত হয়, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের কার্যাবলির সম্যক দ্রষ্টা।'
ছয়. দাস ও বন্দীদের জালিম ও স্বেচ্ছাচারীদের হাত থেকে রক্ষা করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا
'আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করছো না! অথচ দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুরা বলছে, 'হে আমাদের রব! আমাদেরকে বের করুন এ জনপদ থেকে, যার অধিবাসীরা জালিম এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক নির্ধারণ করুন। আর নির্ধারণ করুন আপনার পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী।'
০৬। একদল যুবক : যাদের বৈশিষ্ট্য হলো—
এক. তারা রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন প্রয়োগ করবে;
দুই. জনগণের জন্য কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেবে;
তিন. জনগণকে পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদ থেকে রক্ষা করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত—যারা আহ্বান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভালো কাজের এবং নিষেধ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হলো সফলকাম।'
এই দলকেই ‘হাসবা’ বলা হয়। যারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
📄 বনু মাখজুমের এক নারী
উসামা ইব্ন জায়িদ যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বনু মাখজুমের এক নারীর চুরি ধরা পড়ার পর তার হদ (শরয়ি শাস্তি) মাফের জন্য সুপারিশ করতে যান, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করেন— 'তুমি কি আল্লাহ তাআলার নির্দেশকৃত হুদুদের ব্যাপারে সুপারিশ করছ?' এরপর তিনি সেখান থেকে উঠে লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দেন—
إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِيْنَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيْهِمُ الشَّرِيْفُ تَرَكُوْهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيْهِمُ الضَّعِيْفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَايْمُ اللهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا
'তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিরা ধ্বংস হয়েছে এ কারণে যে—তাদের মাঝে যখন কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন কোনো নিম্নশ্রেণির কেউ চুরি করত, তখন তার ওপর হদ কায়েম করত! আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতিমাও চুরি করত, তাহলে আমি নিজে তার হাত কেটে ফেলতাম।' খুলাফায়ে রাশিদার যুগেও এরূপ ইনসাফ কায়েম ছিল। এর একটি চিত্র দেখি।..
📄 উমার রা. এবং এক ঘোড়া বিক্রেতা
একবার উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এক লোকের সাথে ঘোড়া নিয়ে দরদাম করছিলেন। এরপর তিনি যাচাইয়ের জন্য ঘোড়ায় আরোহণ করলেন; কিন্তু এতে ঘোড়ার একটি হাড় ভেঙে গেল। তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকটিকে বললেন—'তুমি তোমার ঘোড়া নিয়ে যাও!'
লোকটি বলল—'না, না। তা হবে না!'
উমার রা. বললেন—'তাহলে আমাদের দুজনের মাঝে মীমাংসা করার জন্য একজন সালিশ নিযুক্ত করো।'
তখন লোকটি বলল—'শুরাইহ হবে আমাদের সালিশ!'
এরপর তারা দুজন ইমাম শুরাইহ রাহিমাহুল্লাহর কাছে বিচার নিয়ে গেলেন। সবকিছু শুনে ইমাম শুরাইহ উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে উদ্দেশ্য করে বললেন—'আমিবুল মুমিনিন, হয় ন্যায্যমূল্যে ঘোড়াটি কিনে নেন, অথবা ঘোড়াটি যে অবস্থায় নিয়েছেন, সে অবস্থায় ফিরিয়ে দেন!'
তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন— 'এটাই কি তোমার বিচার?' (তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে নিজের বিরুদ্ধে আসা এই নির্দেশও মেনে নেন। এবং) পরবর্তী সময়ে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু শুরাইহকে কুফায় কাজি (বিচারক) হিসেবে নিয়োগ দেন।
টিকাঃ
* সূত্র: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা
📄 মাজহাব
ইসলামি রাষ্ট্রে কোনো একটি মাজহাব থাকতে হবে, যার ওপর রাষ্ট্রের সকল বা অধিকাংশ অধিবাসী আমল করবে। সুতরাং, আফগানের অধিবাসীদের হানাফি ফিকহ ও জীবনের অন্যান্য বিষয়ে হানাফি মাজহাবের ওপর আমল করতে হবে। কারণ, তারা আদি যুগ থেকেই হানাফি। তাছাড়া ফিকহ-ফতোয়ার কিতাব, মতন, শরাহ সবই হানাফি মাজহাবের। হানাফি ছাড়া অন্য মাজহাব আফগানিস্তানে অন্যরকম দৃষ্টিতে (দোষ) দেখা হয়, বিশেষ করে সাধারণদের মাঝে!
কাসিম ইবনু কুতলুবুগা (৮৭৯ হি.) যিনি ফকিহ ও মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি (الكفاءة فى النكاح) নামক রিসালায় বলেন— 'হানাফি মাজহাব অনুসরণকারী ব্যক্তির উচিত নয়, তার মেয়ে বিপরীত মাজহাবের ছেলের কাছে বিবাহ দেওয়া। সেটা তাদের কাছে কোনো ত্রুটির কারণে দূষণীয় নয়, বরং প্রচলনের কারণে দূষণীয়।'
'যদি কোনো মুকাল্লিদ নিজের মাজহাব ছেড়ে নতুন মাজহাব গ্রহণ করে'- ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়্যাতে আছে, এটা নিছক দ্বীন নিয়ে তামাশা। আর এটা নাজায়েজ। ইসলামি রাষ্ট্রে বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো দল/ফোর্স/বাহিনীকে বিশেষ রকম সুযোগ সুবিধা দেওয়া যাবে না। কারণ, এতে রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে যায়। যেমন উসমানি সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে গিয়েছিল; যখন বিচারব্যবস্থায় বিভিন্ন সম্পর্ক প্রাধান্য পেয়েছিল, অপরিচিত নানা নিয়মনীতি অনুপ্রবেশ করেছিল এবং ভিন্ন রকম শাসন-ব্যবস্থা ও বিশেষ দলের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
তাছাড়া অনেক আগে থেকেই প্রসিদ্ধ ও জগৎসেরা অধিকাংশ কাজি ও মাশায়েখ হানাফি ছিলেন!
রদ্দুল মুহতারে আছে, অধিকাংশ ইসলামি দেশে বরং প্রায় সব জনপদে হানাফি মাজহাব ছাড়া অন্য কোনো মাজহাবের নামই জানে না। যেমন: রোম, হিন্দুস্তান, সিন্ধু, মা ওয়ারাউন নাহর ও সমরকন্দ। বর্ণিত আছে, সেখানে 'তুরবাতুল 'মুহাম্মাদিন' বা মুহাম্মাদের কবরস্থান আছে। সেখানে প্রায় ৪০০ জনকে দাফন করা হয়েছে। প্রত্যেকের নাম মুহাম্মাদ, প্রত্যেকেই বড়ো বড়ো মুসান্নিফ বা লেখক এবং ফতোয়াশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। প্রত্যেকরই বিরাট সংখ্যক ছাত্র আছে! হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব হিদায়ার গ্রন্থকার যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন সেখানে দাফন করতে বাধা দিলে তার পাশেই দাফন করা হয়। বর্ণিত আছে, ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহর মাজহাব প্রায় চার হাজার বড়ো বড়ো ব্যক্তি গ্রহণ করেছেন, যাদের প্রত্যেকরই বহু শাগরেদ আছে—ইবনু হাজার রাহিমাহুল্লাহ (যিনি শাফিয়ি মাজহাবের আলিম ছিলেন, তিনি) বলেন— 'কোনো কোনো ইমাম বলেছেন, ইমাম আবু হানিফার যে পরিমাণ শাগরেদ ছিল, সে পরিমাণ আর কোনো প্রসিদ্ধ ইমামের ছিল না!'
তদুপরি, ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর শাগরেদদের ইলম দ্বারা উপকৃত হয়েছেন, সেটা অন্য কারও মাধ্যমে হয় নি। বিশেষ করে সাদৃশ্যপূর্ণ অর্থাৎ একই রকম বিভিন্ন হাদিসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে, নতুন নতুন মাসআলা উদঘাটনের ক্ষেত্রে, বিচারব্যবস্থা ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে! আল্লাহ তাআলা তাদেরকে পূর্ণাঙ্গ জাযা দান করুন। আমিন! পরবর্তী সময়ে কোনো কোনো মুহাদ্দিস ইমাম আবু হানিফার জীবনীতে ৮০০ শাগরিদের কথা তাদের নাম ও নসবসহ উল্লেখ করেছেন, যার আলোচনা অনেক দীর্ঘ!
আব্বাসি খলিফাদের মাজহাব যদিও তাদের পূর্বপুরুষ ইবনু আব্বাস রা.-এর মাজহাব ছিল, কিন্তু তাদের অধিকাংশ কাজি ও মাশাইখ ছিলেন হানাফি! ইতিহাসের পাতা উল্টালে এমনই দেখা যায়। আব্বাসি খিলাফত প্রায় ৫০০ বছর ছিল।
সেলজুকি শাসন এবং খাওয়ারিজম সাম্রাজ্যের সকল শাসক ও কাজিই হানাফি ছিলেন। আর বর্তমান (রদ্দুল মুহতারের লেখকের সময়কাল) উসমানি সাম্রাজ্যের শাসকরা তো ৯০০ হিজরি থেকে আজ পর্যন্ত (আল্লাহ তাদের সাম্রাজ্যকে কিয়ামত পর্যন্ত শক্তিশালী রাখুন) শাসন-ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিষয়াদির দায়িত্ব শুধু হানাফিদের হাতেই সোপর্দ করেন—এমনটাই কিছু গবেষক বলেছেন।