📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা 📄 দাওলাতুল হিদায়ার উদ্দেশ্য

📄 দাওলাতুল হিদায়ার উদ্দেশ্য


অন্যদিকে দাওলাতুল হিদায়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে-মানুষকে আল্লাহ তাআলার দিকে আহ্বান করা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা। এর ভিত্তিই হলো-উত্তম গুণাবলি ধারণ, আখিরাতের প্রতি মনোনিবেশ, দুনিয়াবিমুখতা, সাধারণ জীবনযাপনে তুষ্টি, গুনাহ ও হারাম কাজ পরিহার, কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা; যদিও এতে দাওলাতুল হিদায়ার আর্থিক অবস্থার মান ও পরিমাণ বাহ্যত কম বা কোষাগার খালি থাকে।

উল্লিখিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই শাসন-ব্যবস্থা দেশের আলিমসমাজকে সাধারণ মানুষকে নামাজে ডাকার জন্য প্রেরণ করে। প্রান্তিক শ্রেণির মানুষকে অন্যায়, পাপাচার ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কথা বলতে দ্বীনপ্রচারকদের বিভিন্ন পথেঘাটে পাঠায়। তারা নিজেদের সমাজ ও দেশ রক্ষায় নেশা জাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, অশ্লীল কথা ও কাজ প্রতিরোধ করে, অনর্থক খেলাধুলা দূরে সরিয়ে রাখে, নেশাগ্রস্তদের উচ্ছেদ করে। মোটকথা, দেশ ও জাতির জন্য যা কিছু অকল্যাণকর ও ক্ষতিকারক, তা থেকে সর্বদা দেশকে মুক্ত রাখে!

দাওলাতুল হিদায়ার ছায়ায় মসজিদ-মাদরাসা আবাদ হয়, দ্বীন ও তাকওয়ার প্রভাব বিস্তৃত হয়, অন্যায়-অপকর্ম ধূলিস্যাৎ হয়, দ্বীনদার ও নেককার লোকেরা মাথা উঁচিয়ে বিনম্রভাবে চলতে পারে। ফলে পাপাচারী ও খারাপ লোকেরা আড়ালে চলে যেতে বাধ্য হয়।

এই শাসন-ব্যবস্থার কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য স্বয়ং আল্লাহ তাআলার কালামে পাক থেকেই শোনা যাক-

الَّذِينَ إِن مَّكَّتُهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَوةَ وَءَاتَوُا الزَّكَوٰةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ وَلِلَّهِ عَقِبَةُ الْأُمُورِ..

তারা এমন লোক আমি যদি তাদেরকে পৃথিবীতে শাসন-ক্ষমতা দান করি, তাহলে তারা নামাজ কায়েম করবে, জাকাত দেবে, সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করবে। আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে।

দুই প্রকার শাসন-ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি বা প্রাণও আলাদা। চাল-চরিত্র, মুআমালা- মুআশারা এবং আচার-ব্যবহারও ভিন্ন! তাই এর পরিণতি ও ফলাফলও ভিন্ন!

টিকাঃ
'সূরা হজ, আয়াত: ৪১

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা 📄 দাওলাতুল হিদায়ার শাসকশ্রেণি

📄 দাওলাতুল হিদায়ার শাসকশ্রেণি


দাওলাতুল হিদায়ার শাসকবর্গ সবসময় শরিয়তের উসুলের পাবন্দি করে, উম্মাহর খিদমতকে প্রাধান্য দেয়, দেশ ও জাতির জন্য নিজেকে কুরবান করে, আমানতদারিতা ও বিশ্বস্ততাকে নিজের ‘নিদর্শন’ বা ‘পরিচয়-চিহ্ন’ হিসাবে গ্রহণ করে। আর এসব কিছুর উদ্দেশ্য কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সন্তুষ্টি।

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা 📄 দাওলাতুল জিবায়ার শাসকশ্রেণি

📄 দাওলাতুল জিবায়ার শাসকশ্রেণি


পক্ষান্তরে দাওলাতুল জিবায়ার শাসকবর্গ নিজেরাই আইন প্রণয়ন করে, আবার নিজেরাই সেটা ভঙ্গ করে। তারা সবার আগে নিজের কথা মাথায় রাখে, দেশ ও জাতির সাথে খিয়ানত ও বিশ্বাসভঙ্গ, কপটতা ও বিশ্বাসঘাতকতা করে। সকল কাজের সকল বিন্দুতে তারা মিথ্যার আশ্রয় নেয়, এমনকি সামান্য বিষয়েও ঘুষ নেয়। তারা কখনোই জনগণকে তোয়াক্কা করে না, উপরন্তু বুক ফুলিয়ে পা ফেলে! ফলে মানুষের ভাগ্যে আদল ও ইনসাফ, রাহাত ও শান্তি বলতে কিছুই জোটে না।

দাওলাতুল জিবায়াতে শাসকগোষ্ঠী নিজেকে কার্যত দেশ ও জাতির সেবক বলতে ইতস্ততবোধ করে। তারা সবসময় শুধু এই চিন্তায় থাকে যে, কীভাবে নিজের পেটের জন্য জনগণের ঘাম ঝরানো টাকা ছিনিয়ে আনা যায়। কারণ, এটাই সুযোগ। আবার কবে না কবে এই পদ ছুটে যায়, তার তো ঠিক নেই। সুতরাং, এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আগেই যা করার করে নিতে হবে।

ইতিহাস এই দুই শাসন-ব্যবস্থারই সাক্ষী হয়ে আছে। দাওলাতুল জিবায়ার উদাহরণ পেশ করে তা নতুন করে তুলে ধরার প্রয়োজন নেই। কারণ, অতীতে যেমন এর প্রাধান্য ছিল, বর্তমানেও আছে। পাশ্চাত্যে যেমন এটা বিস্তৃত, প্রাচ্যেও আছে এর যথেষ্ট উদাহরণ।

পক্ষান্তরে দাওলাতুল হিদায়ার বিস্তার খুবই সামান্য থেকে সামান্যতর, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে। কারণ, শুধু অধিকাংশ নয় বরং দুনিয়ার সকল শাসন-ব্যবস্থাই এখন বলতে গেলে দাওলাতুল জিবায়ার অন্তর্ভুক্ত।

📘 ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা 📄 দাওলাতুল হিদায়ার জন্য যা জরুরি

📄 দাওলাতুল হিদায়ার জন্য যা জরুরি


দাওলাতুল হিদায়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, সেগুলো হলো—
■ ০১। স্বয়ংসম্পূর্ণ আদালত বা বিচারব্যবস্থা;
■ ০২। ইসলামি ফোর্স/সেনাবাহিনী (যার বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসবে ইন শা আল্লাহ);
■ ০৩। আসমানি বিধান।

যেকোনো শাসন-ব্যবস্থার জন্যই ‘আইন-কানুন’ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যাকে কেন্দ্র করে এ শাসন-ব্যবস্থা আবর্তিত হয়। এই আইন দুই প্রকার—
■ ০১। আসমানি আইন—ঊর্ধ্বলোক বা আল্লাহপ্রদত্ত বিধান;
■ ০২। জাগতিক আইন—নিম্নলোক বা মানবরচিত বিধান।

দু-ধরনের আইন-কানুনের মাঝে বেশ কতগুলো পার্থক্য বিদ্যমান। বিশেষ করে নিম্নোক্ত চারটি পার্থক্য—

এক. : ঊর্ধ্বজাগতিক বিধান স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলা রচিত হয়ে থাকে। এতে মানুষের কোনো হাত নেই। পক্ষান্তরে নিম্নজাগতিক বিধান হয়ে থাকে মানবরচিত। সুতরাং, মূলগতভাবেই এই দু-ধরনের আইনে পার্থক্য রয়েছে।

দুই. নিম্নজাগতিক আইনের চেয়ে ঊর্ধ্বজাগতিক আইনের পরিধি অধিক বিস্তৃত। কারণ, ঊর্ধ্বজাগতিক আইন রবের সাথে, নিজের সাথে এবং অন্যের সাথে মানুষের আচার-ব্যবহার নীতি নিয়ে আলোচনা করে। পক্ষান্তরে নিম্নজাগতিক আইন শুধু অন্যের সাথে মানুষের আচার-নীতির মাঝেই সীমাবদ্ধ।

তিন. : ঊর্ধ্বজাগতিক আইনের মধ্যে পার্থিব জীবন অন্তর্ভুক্ত, পক্ষান্তরে নিম্নজাগতিক আইন শুধু পার্থিব জীবনের মাঝেই সীমাবদ্ধ।

চার. : ঊর্ধ্বজাগতিক বিধান সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রচিত। আর আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের ছোটো-বড়ো, ক্ষুদ্র-বৃহৎ প্রতিটি বিষয়েই সম্যক অবগত। কাজেই, এই আইন সবসময়ই ইনসাফপূর্ণ এবং মানুষের জন্য কল্যাণকর। আর নিম্নজাগতিক আইন মানবরচিত; মানুষ যেহেতু ত্রুটি-বিচ্যুতিতে ভরা, দৃশ্যমান বস্তুর ওপর নির্ভরশীল, নির্দিষ্ট সীমা-পরিসীমায় আবদ্ধ, তাই এটা খুবই সম্ভব, বরং বাস্তবেই তা অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ বা অপূর্ণাঙ্গ।

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, মানুষের জীবনব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালিত হতে পারে শুধুই ইসলামি আইনের মাধ্যমে, যা অবতীর্ণ হয়েছে বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে, সৃষ্টিজগতের আমিরের মাধ্যমে জগতের বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে। মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলার সুরক্ষায় এই আইন সুরক্ষিত। আর প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তাআলার নিকট এই আইনই কেবল গ্রহণযোগ্য। কারণ, এর মাধ্যমেই মানুষকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং তার অধিকার সংরক্ষণ করা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন-

إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ

নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার কাছে মনোনীত গ্রহণযোগ্য দ্বীন শুধুই ইসলাম।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন-

وَ مَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَ هُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَسِرِينَ

আর যে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করবে, তার থেকে সে ধর্ম কিছুতেই গ্রহণ করা হবে না। আর সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইমাম রাজি রাহিমাহুল্লাহর তাফসির: প্রথম আয়াতের তাফসিরে ইমাম রাজি রাহিমাহুল্লাহ বলেন- 'আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে সুস্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, যে লোক ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম পালন করবে, সে ধর্ম যেমন আল্লাহ তাআলার কাছে অগ্রহণযোগ্য, তেমনি সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত। আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অর্থ হলো, সাওয়াব ও প্রতিদান থেকে বঞ্চিত হওয়া। আর সেই সাথে শাস্তি ভোগ করা। এছাড়া দুনিয়াতে যে নেক আমলগুলো করেছে, তা হাতছাড়া করা। যে ব্যক্তি ইসলাম না মেনে, বাতিল ধর্ম গ্রহণ করে দুনিয়ায় কষ্ট ও দৌড়ঝাঁপ করেছে, তার জন্য আফসোস ও আক্ষেপ তো থাকবেই।' আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— 'ধোঁকাবাজ জাহান্নামে যাবে; যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল, যা আমাদের শরিয়ত-বহির্ভূত, তার কাজ প্রত্যাখ্যাত হবে।'”

মূলত পূর্ণাঙ্গ ধর্ম ও আকিদার নামই হচ্ছে ইসলাম! মানুষের প্রত্যেকটি প্রয়োজনীয় বিষয়াদি ইসলাম সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ..

আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম, এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। সাথে তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম। এ আয়াতে পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছেন। মানে কিয়ামত পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ! এখানে, একটি পার্থক্য বোঝা দরকার—পূর্ববর্তী আসমানি ধর্মগুলোও কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ছিল, কিন্তু সেটা ছিল নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। পক্ষান্তরে দ্বীন ইসলামও পূর্ণাঙ্গ, তবে এই দ্বীনের পূর্ণাঙ্গতা কিয়ামত পর্যন্ত। সুতরাং, দ্বীন ইসলামে না কখনো পরিবর্তন হবে, আর না কখনো পরিবর্তিত হবে। তাতে যুগ যত অগ্রসর বা পরিবর্তন হোক না কেন! বরং, পৃথিবীর যেকোনো সময়ে যেকোনো স্থানে মানুষের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে শুধু চৌদ্দশ বছর আগের এই দ্বীন ইসলাম!

দ্বিতীয় আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে ইমাম রাজি রাহিমাহুল্লাহ বলেন— 'পূর্ববর্তী শরিয়ত ওই যুগে ওই সময় পর্যন্ত যথেষ্ট ছিল। আল্লাহ তাআলা ওই শরিয়ত প্রেরণ করার পূর্বেই জানতেন, এই শরিয়ত যদিও বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ, কিন্তু ভবিষ্যতে তা আর পূর্ণাঙ্গ থাকবে না। এমনকি তার গ্রহণযোগ্যতাও থাকবে না। সুতরাং, ওই শরিয়ত প্রণয়ন করার পর রহিত করা হলেও এতে কোনো আপত্তি নেই। একইভাবে পরবর্তী ধর্মে যদি কোনো নতুন বিধান প্রণয়ন করা হয়, যা পূর্ববর্তী ধর্মে ছিল না, এতেও কোনো সমস্যা নেই। আর শেষ যুগে যখন আল্লাহ তাআলা এই দ্বীন ইসলাম প্রেরণ করেছেন, তখন সেটাকে পূর্ণাঙ্গ করেই পাঠিয়েছেন এবং সেই পূর্ণাঙ্গতাকে কিয়ামত পর্যন্ত স্থির করে দিয়েছেন।

মোটকথা, প্রথমটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ এবং দ্বিতীয়টি কিয়ামত পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ। আর এটি বোঝানোর জন্যই আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেছেন।' সুতরাং, কোনো ইসলামি রাষ্ট্র কেবল তখনই সফল হতে পারে, যখন শাসকবর্গ রাষ্ট্রে সালাফে সালিহিন ও মুজতাহিদিনে কিরামের বুঝ অনুযায়ী কুরআন-সুন্নাহর বিধিবিধান ও আইন-কানুন কায়েম করে! মূলত এটাই আফগানের ইসলামি ইমারতের জিহাদের উদ্দেশ্য!

আফগানবাসীর রুচি-অভিরুচির চাহিদাও এটাই যে, তারা ইসলামি আইন-কানুনকে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিজেদের জীবনব্যবস্থার মাপকাঠি হিসাবে গ্রহণ করবে। কারণ, তারা পূর্ববর্তীদের থেকেই ইসলামকে ওয়ারিস-সূত্রে পেয়ে এসেছে। তাছাড়া ইসলামের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রসরতা থাকার ফলে ইসলামের স্বাদ ও মিষ্টতা তাদের রক্ত-মাংসে মিশে আছে।

তাই, তারা জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই ইসলামের আইন-কানুন ও বিধিবিধান ছাড়া অন্য কোনো কিছুর সামনে মাথা নত করে না। করতে পারেও না। আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত যুগ পরস্পরায় তাদের মাঝে এ বিরল গুণ অব্যাহত রাখুন। আমিন! আল্লাহ তাআলার রহমতে ইসলামি ইমারতের বীর মুজাহিদ মুসলিম ভাইয়েরা এই দৃষ্টান্ত পেশ করতে পেরেছেন। এই আধুনিক যুগে, 'অনুর্বর' পৃথিবীতেও যে ইসলামকে শরিয়ত বা মডেল হিসাবে পেশ করা যায়, তারা এটা প্রমাণ করেছেন। তারা এটাও প্রমাণ করেছেন যে, অতীতের মতো মুসলিমদের হারানো গৌরব এখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তারা অপর মুসলিম ভাইদের এই বার্তা দিতে পেরেছেন যে, বিজাতি শক্তির সামনে মাথানত করে কোনো জাতিই কখনো অগ্রসর হতে পারে না। বরং, তখন তাদের গোলামি ও তোষামোদ করা ছাড়া আর কোনো উপায়ই থাকে না।

ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহর বাণীই সত্য— لن يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح أولها 'এ উম্মতের শেষ জামাআতের সংশোধন ওই পথেই হতে পারে, যে পথে এ উম্মতের শুরুর জামাআতের সংশোধন হয়েছিল।'

টিকাঃ
* সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯
* সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫
১০ তাফসিরে কাবির, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২৮২
* সূত্র: সহিহ বুখারি
১২ সূরা মায়িদা, আয়াত: ৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px