📄 শাসন-ব্যবস্থার প্রকারভেদ
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 শাসন-ব্যবস্থা দুই প্রকার
সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বলতে পারি, শাসন-ব্যবস্থা মূলত দুই প্রকার—
■ ০১। এমন শাসন-ব্যবস্থা, যার মূল লক্ষ্যই হলো প্রজাদের থেকে নেওয়া; একে বলা হয়—দাওলাতুল জিবায়া।
■ ০২। অন্যদিকে যে শাসন-ব্যবস্থার ভিত্তিই হলো প্রজাদের দেওয়া, তাকে বলা হয়—দাওলাতুল হিদায়া।
এই দুই শাসন-ব্যবস্থার যেমন ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ ও বৈশিষ্ট্য, তেমনি এর পরিণতি ও ফলাফলও ভিন্ন ভিন্ন।
📄 দাওলাতুল জিবায়ার উদ্দেশ্য
দাওলাতুল জিবায়ার উদ্দেশ্য হলো—শাসন-ব্যবস্থার আয়তন বৃদ্ধি, ব্যাংক ব্যালেন্স পূর্ণ রাখা, শাসকগোষ্ঠীর সৌখিন হওয়া, দেশ ও সভ্যতাকে জাঁকজমকপূর্ণ করা। চাই সেটা হোক অসহায় ও নিঃস্বদের রক্ত চুষে, বা গরিবের পেটে লাথি মেরে, অথবা নিম্নশ্রেণির মানুষের সর্বস্ব লুট করে, কিংবা সেটা হোক অন্যায় কর ও চড়া ট্যাক্স দিয়ে। এ ধরনের শাসন-ব্যবস্থা শুধু তাদের সাথেই সম্পর্ক রাখে (তাদেরকেই গুরুত্ব দেয়)—যারা দেশের বাহ্যিক খ্যাতি ও মিথ্যা সুনাম এনে দিতে সক্ষম; যারা জনগণের রক্ত চুষে নিতে সাহায্য করে যাতে মন্ত্রী-সচিব এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভোগবিলাসে মত্ত থাকতে পারে, দেশের ভেতর ও বাইরে জায়গা-জমি কিনে বড়ো বড়ো ভবন তৈরি করতে পারে।
পক্ষান্তরে অসহায় জনগণের কথা যত কম বলা যায়, ততই মঙ্গল। এ-ধরনের শাসকরা দ্বীন, সচ্চরিত্র, সৎ ও উন্নত চারিত্রিক অবস্থা তো বটেই, এমনকি তারা আর্থিক ও পারিবারিক উন্নত মেজাজের ব্যাপারেও বেখবর থাকে। এর চেয়েও ভয়ংকর কথা হলো—এরা কখনো কখনো হারাম বা অন্যায় কাজকে বৈধ বলে ঘোষণা দিতেও দ্বিধাবোধ করে না, যদি তারা সেখানে বাহ্যত নিজেদের কোনো লাভ দেখে। আবার, কখনো কখনো সুস্পষ্ট বৈধ কাজ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতেও তারা বিন্দুমাত্র চিন্তাভাবনা করে না, যদি সেখানে তাদের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কোনো স্বার্থ জড়িত থাকে।
📄 দাওলাতুল হিদায়ার উদ্দেশ্য
অন্যদিকে দাওলাতুল হিদায়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে-মানুষকে আল্লাহ তাআলার দিকে আহ্বান করা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা। এর ভিত্তিই হলো-উত্তম গুণাবলি ধারণ, আখিরাতের প্রতি মনোনিবেশ, দুনিয়াবিমুখতা, সাধারণ জীবনযাপনে তুষ্টি, গুনাহ ও হারাম কাজ পরিহার, কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা; যদিও এতে দাওলাতুল হিদায়ার আর্থিক অবস্থার মান ও পরিমাণ বাহ্যত কম বা কোষাগার খালি থাকে।
উল্লিখিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই শাসন-ব্যবস্থা দেশের আলিমসমাজকে সাধারণ মানুষকে নামাজে ডাকার জন্য প্রেরণ করে। প্রান্তিক শ্রেণির মানুষকে অন্যায়, পাপাচার ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কথা বলতে দ্বীনপ্রচারকদের বিভিন্ন পথেঘাটে পাঠায়। তারা নিজেদের সমাজ ও দেশ রক্ষায় নেশা জাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, অশ্লীল কথা ও কাজ প্রতিরোধ করে, অনর্থক খেলাধুলা দূরে সরিয়ে রাখে, নেশাগ্রস্তদের উচ্ছেদ করে। মোটকথা, দেশ ও জাতির জন্য যা কিছু অকল্যাণকর ও ক্ষতিকারক, তা থেকে সর্বদা দেশকে মুক্ত রাখে!
দাওলাতুল হিদায়ার ছায়ায় মসজিদ-মাদরাসা আবাদ হয়, দ্বীন ও তাকওয়ার প্রভাব বিস্তৃত হয়, অন্যায়-অপকর্ম ধূলিস্যাৎ হয়, দ্বীনদার ও নেককার লোকেরা মাথা উঁচিয়ে বিনম্রভাবে চলতে পারে। ফলে পাপাচারী ও খারাপ লোকেরা আড়ালে চলে যেতে বাধ্য হয়।
এই শাসন-ব্যবস্থার কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য স্বয়ং আল্লাহ তাআলার কালামে পাক থেকেই শোনা যাক-
الَّذِينَ إِن مَّكَّتُهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَوةَ وَءَاتَوُا الزَّكَوٰةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ وَلِلَّهِ عَقِبَةُ الْأُمُورِ..
তারা এমন লোক আমি যদি তাদেরকে পৃথিবীতে শাসন-ক্ষমতা দান করি, তাহলে তারা নামাজ কায়েম করবে, জাকাত দেবে, সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করবে। আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে।
দুই প্রকার শাসন-ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি বা প্রাণও আলাদা। চাল-চরিত্র, মুআমালা- মুআশারা এবং আচার-ব্যবহারও ভিন্ন! তাই এর পরিণতি ও ফলাফলও ভিন্ন!
টিকাঃ
'সূরা হজ, আয়াত: ৪১